ছোট ভাইয়ের স্কুলে ক্লাস পার্টি সেলিব্রেট
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে ভিন্ন ধরনের পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। আজ আমার ছোট ভাইয়ের স্কুলে ক্লাস পার্টি ছিল। আজকের দিনের কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। আশা করছি ভালো লাগবে।
বর্তমানে প্রায় সব স্কুলগুলো তে বছরের শেষ দিকে ক্লাস পার্টি করে থাকে। খুব বেশিদিন হয়নি অবশ্য এই নিয়ম গুলো দেখা যাচ্ছে। আর এগুলো প্রাইভেট স্কুলগুলোতেই বেশি দেখা যায়। এটার জন্য আবার এক্সট্রা ফি ও নেয়। আমার ভাই মাত্র নার্সারি ক্লাসে পড়ে। বার্ষিক পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। পরীক্ষার আগেই এমন একটা আয়োজন করেছে তারা। আমি আমার প্রাইমারি স্কুল জীবনের প্রায় দুই বছর এই স্কুলে পড়াশোনা করেছি। এখন আমার ছোট ভাইও এই স্কুলে পড়ছে। আবার আমি আমার হাই স্কুল জীবন যেখানে কাটিয়েছে সেখানে আমার ছোট বোন এখন পড়াশোনা করছে। যার কারণে এই জায়গাগুলোতে আমার এখনো যাওয়া হয়। ছোটবেলার কম বেশি স্মৃতি গুলো সবারই থাকে। সেখানে গেলে এগুলো মনে করে ভালোই লাগে।
বেশ কয়েকদিন ধরেই আমার ছোট ভাই বলছিল ওর ক্লাস পার্টির কথা। আর গতকাল রাতে বলছিল," কালই আমাদের পার্টি হবে আমি তোমার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসবো"। সকালে আমার পড়াশুনা আর কিছু কাজ ছিল। তাই সকালে যেতে পারিনি। আম্মু সকালে ওকে স্কুলে দিয়ে এসেছে। অনুষ্ঠান বেশ কিছুক্ষণ চলেছে। আমি গিয়েছিলাম প্রায় দুপুরের দিকে ওকে নিয়ে আসার জন্য। আমি তো ভেবেছিলাম অনুষ্ঠান শেষ। পরে গিয়ে দেখি এখনো চলছে সবকিছু। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন সবেমাত্র কেক কাটা শেষ হয়েছে।
ক্লাস পার্টি উপলক্ষে মাঠের মধ্যে বেশ ছোটখাটো একটা প্যান্ডেল করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ড বক্সও এনেছে। বাচ্চা রা দেখলাম ভালোই এনজয় করেছে। আসলেই স্কুলগুলোতে পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো করলে বাচ্চাদের মন ভালো থাকে এবং স্কুলে যেতে আরো উৎসাহিত হয়।
স্কুলের একজন শিক্ষক প্যান্ডেলে গিয়ে ২ টি গান গেয়েছে। সাথে একজন গিটারও বাজিয়েছে। গানগুলো বেশ ভালই লাগছিল শুনতে। গান শেষ হওয়ার পর ছোট কিছু বাচ্চা প্যান্ডেলে উঠে নেচেছে। কোনরকম প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়াই খুব সুন্দর ভাবে তারা পারফর্ম করেছে দেখলাম। স্যার তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আরো উৎসাহিত করছিলেন।
বেশ কয়েকটি নাচের পারফরম্যান্স দেখলাম। সবগুলোই দারুন ছিল। পারফরম্যান্স কেমন হলো সেটার তুলনায় তারা সাহস করে সবার সামনে গিয়ে প্যান্ডেলে উঠে দাঁড়াতে পারে এটাই অনেক। ছোটবেলায় আমি এই জিনিসটা অনেক বেশি ভয় পেতাম। অনুষ্ঠান শেষে স্কুলের স্টুডেন্টদের কে খাবার দেওয়া হয়। আমরা খাবারের প্যাকেট নিয়ে বাসায় চলে আসি প্রায় দুপুর ২ টায়।
বর্তমানে এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো প্রায় সব স্কুলেই দেখা যাচ্ছে। তবে আমাদের সময় এত কিছু করা হতো না। পুরো বছর জুড়ে একটা দুটো অনুষ্ঠান থাকতো। আসলে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। একই জায়গা যেখানে আমরাও ছিলাম অথচ সময়ের পরিবর্তনে মানুষও যেমন পরিবর্তন হয়েছে তেমনি নিয়ম-কানুন গুলোও পরিবর্তন হচ্ছে।
এই ছিলো আমার আজকের পোস্ট। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। পোস্ট টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং সবার জন্য অনেক শুভকামনা রইল 💕💕
ধন্যবাদান্তে
@isratmim
আমাদের সময় এ ধরনের অনুষ্ঠান হতো না।দু'টো অনুষ্ঠান হত এক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আর এস,এস,সি আপুদের বিদায়ের অনুষ্ঠান। এখন প্রায় প্রতিটি স্কুলে এ ধরনের ক্লাস পার্টি হয়। বচ্চারা বেশ খুশি হয় এ ধরনের পার্টিতে । যা বাচ্চাদের স্কুলে যেতে উৎ্সাহিত করে। আর এটা আপনি ঠিক বলেছেন আজকাল বাচ্চারা বেশ স্মার্ট। সহজেই স্টেজে উঠে পারফর্ম করে। বেশ ভালো লাগলো আপনার লেখাটি পড়ে । ধন্যবাদ সুন্দর মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য।
ঠিকই বলেছেন আমাদের সময়ও দু তিনটে অনুষ্ঠান হতে বেশি হত না কিন্তু এখন কার সময়ে অনুষ্ঠান বেশি হয়ে থাকে। আর এখনকার বাচ্চারাও এই অনুষ্ঠানগুলো বেশ ইনজয় করে।
আমাদের সময় এগুলো ছিল না।এখনকার বাচ্চারা কত মজা করে।তবে আমাদের এদিকে প্রাইভেট, সরকারি সব স্কুলেই ক্লাস পার্টি হয়।বার্ষিক পরীক্ষার আগে বাচ্চাদের চাপ কিছুটা কমে। ভাল লাগল আপনার পোস্টটি পড়ে। ধন্যবাদ মুহুর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য।
ঠিকই বলেছেন আমাদের সময়ও ক্লাস পার্টি হত না। এখনকার বাচ্চারা খুব ভালোই এনজয় করে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফটোগ্রাফি দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনার ছোট ভাই ক্লাস পার্টিতে বেশ মজাই করেছে। আমাদের সময় আসলে এই ধরনের ক্লাস পার্টি হত না। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো বাচ্চাদের অনেক উৎসাহিত করে। এতে বাচ্চাদের মেধার বিকাশ ঘটে। আপনার পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
এটা ঠিক পড়ালেখার পাশাপাশি আসলে বাচ্চাদেরকে একটু আনন্দ দিলে তারাও পড়া লেখাতে আরো খুবই উৎসাহিত হয়। এবং বাচ্চাদের মেধার বিকাশ ঘটে। সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বাহ দারুন তো যেই প্রাইমারি স্কুলে আপনি পড়েছেন এখন সেখানে আপনার ছোট ভাই পড়ে আবার যেই হাই স্কুলে আপনি পড়েছেন সেই স্কুলে এখন আপনার ছোট বোন পড়ে বেশ মজার বিষয়। তাহলে তো সেসব প্রতিষ্ঠানে আপনার প্রায় সময় যাওয়া হয় আর পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে। যাই হোক আপনার ছোট ভাইয়ার ক্লাস পার্টির অনুষ্ঠান তো অনেক বড় করে করা হয়েছে। আমাদের সময়ে আমরা শুধু ক্লাসের সবাই মিলে চাঁদা উঠিয়ে পার্টি করতাম। কিন্তু এখন শিক্ষক সহ সবাই করে দেখে ভালো লাগলো। সত্যিই সময়ের সাথে সাথে সবকিছুর পরিবর্তন হয়ে যায়। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
হ্যাঁ এখনকার ক্লাস পার্টি গুলো শিক্ষকসহ সবাই করে দেখে আমার কাছেও এ ব্যাপারটি বেশ ভালো লাগে। আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রকাশ করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ঠিকই বলেছেন এখনকার দিনে প্রায় সব স্কুলগুলোতে এরকম শেষের দিকে এসে ক্লাস পার্টি করে আর বাচ্চারা এই অনুষ্ঠানে করে খুবই মজা পায় । গান ও হইহুল্লোড় হয় বাচ্চারা খুব বেশি খুশি হয় । আমার ছেলের স্কুলেও ক্লাস পার্টি করেছিল ওরা খুব এনজয় করেছিল । আজকে আবার আপনাদের টাও দেখে ভালো লাগলো । আমাদের অবশ্য কোন টাকা পয়সা নেয়নি স্কুল থেকেই পুরো আয়োজনটা করেছে ।
আমার ছোট ভাইদের স্কুলে আবার টাকা নিয়ে সবাই মিলে এই আয়োজন করেছেন। তবে ব্যাপারটি আমার কাছে বেশ ভালই লেগেছে। গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এটা ঠিক কথা আমাদের সময় বছরে এক দুইটা প্রোগ্রাম থাকতো।আর এখন প্রোগ্রামের অভাব নেই।আর এই ক্লাস পার্টিগুলো ফাইনাল এক্সামের আগেই হয়।আপনি আপনার ভাইকে আনতে গিয়ে দেখলেন তখনও অনুষ্ঠান চলছে।খুব সুন্দর গান, নাচ হলো। এরপর ২ টার দিকে বাসায় চলে এলেন।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু।
আমার অনুভূতিগুলো পড়ে আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমিও খুবই আনন্দিত হলাম। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
সত্যি বলেছেন আপু আমাদের সময় এই ধরনের ক্লাস পার্টির কোন আয়োজন ছিল না। তবে এটা সত্য এ ধরনের আয়োজন করলে বাচ্চাদের পড়ালেখার পাশাপাশি মন মানসিকতা অনেক ভালো থাকে। আপনি অনেক ভাল ইনজয় করেছেন ছোট ভাইয়ের ক্লাস পার্টিতে গিয়ে। অনেক ভালো লেগেছে আপনার পোস্টটি পড়ে ধন্যবাদ আপু।
আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রকাশ করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
কিছুদিন আগে আমার ভাগ্নীর স্কুলেও দেখলাম পার্টি হলো। আসলে বিষয়টা ভালোই লেগেছিল। শিশুরা এখন থেকেই সাংস্কৃতিক মনা হিসেবে বড় হয়ে উঠছে। যাক, আপনার ভাইয়ের স্কুলেও ভালোই পার্টি হলো। আসলে শিশুরা এখন স্টেজে উঠে গান পরিবেশন করতে পারে এটাই অনেক। আমি তো লজ্জায় উঠতেই পারতাম না 😁
আমাদের সময় আর এখনকার সময় বেশ ব্যবধান। এখনকার সময়ের বাচ্চারা খুব স্মার্ট তারা সবকিছুই নিজের মন থেকে করতে পারে এত বেশি লজ্জা পায় না। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আসলে এখন অনেক স্কুলে এই অনুষ্ঠান গুলো করা হয়। আর এমন অনুষ্ঠান দেখে কিন্তু ছেলেমেয়েরা বেশ আনন্দই পায়। এতে করে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশও ঘটে। আর আপনার মুখে আপনার ভাইয়ের স্কুলের এমন অনুষ্ঠানের কথা শুনে তো বেশ মজা পাইলাম।
আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রকাশ করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে ক্লাস পার্টি খুব সুন্দর করে করা হয়েছে। এবং আপনার ভাই ও নিশ্চয় অনেক ইনজয় করেছে। ঠিক বলেছেন এখন প্রায় সব স্কুলগুলোতে সব ক্লাস গুলোতেই বছর শেষে একটা ক্লাস পার্টি করা হয়, যেগুলোতে বাচ্চারা খুব এনজয় করে। পার্টি তে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা দেখেও খুব ভালো লাগলো।