মন খারাপ গুলো
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন।শরীরের হাল কেমন যেন খারাপ। বাবার শরীরও ঠিক নেই। বিশেষত বাবাকে নিয়ে চিন্তায় আছি। সব কিছুর মধ্যে থেকেও মানুষকে কাজ করে যেতে হয়। আর সেটাই করে যাচ্ছি। কাল কলকাতা এসছি। আসার পথে বাবা ঠিক থাকলেও, আমার মেস অব্দি পৌঁছে বাবার আবার শরীর খারাপ করছিল। বুঝতে পারছি খুব চিন্তা করছে আজকাল।
বাবা মায়ের চিন্তা তো লেগেই থাকে। তবুও অতিরিক্ত চিন্তা শরীরে যে কত ক্ষতি করে তা আমি এই আগের মাসে বুঝে গিয়েছিলাম। বাবাও যে খুব চিন্তা করছে আর এর জন্য প্রেসার ফ্রাকচুলেট করছে। ওষুধ চলছে , খাওয়া দাওয়া ও নিয়ম করে চলছে। এবার আশা করি কিছু মাস নিয়ম করে চললে সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রায় ২৪ দিন পর মেস বাড়ি এসেছি। এতদিন গ্যাপ আগে হয়নি। ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছিল দু সপ্তাহ আগে।কিন্তু আমার শরীর ,বাবার শরীর ভালো না থাকায় এখানে আসতে দেরি হলো।বাবা মা ভাই সবাই মিলে গাড়ি করে কাল দিতে এসেছিল। দুই ঘণ্টা রেস্ট নিয়ে আবার ব্যাক করেছে কালকেই।
পরশুদিন শরীর ভালো ছিলনা, ভাবলাম যে আসতে পারবো না। পোস্ট লিখতে পারিনি সেদিনও। কালকেও ওই শরীর নিয়ে ৪ ঘণ্টা জার্নি করে এসেছি। ট্রেনে আসলে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে।কিন্তু অনেকদিন পর আসছি তাই জিনিসপত্র অনেক থাকায় গাড়ি করেই আসতে হলো। আর ওই জন্য লেট হলো। রাস্তায় কিছু সেভাবে খাইনি । ঘরে এসেই কুপোকাত। মা বাবা যখন চলে যাচ্ছিলো, সেই ফাস্ট বারের মত কান্না করে ফেলেছিলাম কাল।
আসলে বাড়ী তো বাড়ী ই হয়। রোজ মা রান্না করে দেয়। মা এর হাতের রান্নার স্বাদ আলাদা। পৃথিবীর সব থেকে সুস্বাদু খাবার মা এর থেকে ভালো কেও করতে পারেনা।একসাথে খেতে বসি চারজন মিলে, আমার বাড়ীতে শুধু আমরা চার জন থাকি। তাই আমরা একে ওপরের ওপর খুব খুব নির্ভরশীল। আর চার জনেই চার জনকে ভীষন চোখে চোখে রাখি। খেয়াল রাখি।
আমি এখানে আসলে বন্ধুদের জন্য পড়ার জন্য বাড়ির প্রতি মন খারাপটা কমে গেলেও। বাড়িতে আমার অভাব কেও মেটাতে পারে না। ওই তিন জন খুব একা হয়ে যায়। মা বাবা দুজনেই বলে - তুই ছাড়া বাড়ি খুব ফাঁকা লাগে। আমার পরিবারের এই আশ্চর্য বন্ডিংটা আমার খুব ভালো লাগে। আমিও বাবা মার সাথে ঝগড়া করি, ভাই এর সাথে মারপিট করি, মা বাবার মধ্যেও ঝগড়া হয়। কিন্তু দিন শেষে আমরা চারজন চারজনকে খুব খুব ভালোবাসি আর খুব খুব কেয়ার করি।
কাল রাতে এসে রেস্ট নিতেই সময় পেরিয়েছি।আজ সকাল থেকে কত কাজ ছিল। রুমের হাল ভীষণ খারাপ ছিল।রুম পরিষ্কার করলাম আমি আর মেসের খালা মিলে। তারপর স্নান সেরে রেডি হয়ে ইউনিভার্সিটি। পর পর ক্লাস। বাড়ি এসে কুপোকাত। ব্যস্ততার পরে এই ফাঁকা সময় বাড়ির জন্য মনটা খুব খারাপ করে।
মায়ের সাথে দিনে অনেকবার ফোনে কথা হলেও নাগালের বাইরে থাকা এই দূরত্ব সহ্য হয়না। এখন আমি বাড়িতে থাকলে মা এর পাশে বসে থাকতাম ।একটু পরেই হয়তো মা খেতে দিত আদর করে। এখানে তো সব নিজে করতে হয়।এই সংসারে আমি আমার বই পত্র আর গান ছাড়া কিছু নেই। তাও মেসের মধ্যে দুজন আমার বোনের মত বান্ধবী আছে। তারা থাকাতে আমার একটু মন আনন্দে থাকে।
মনের নানান কথা আবোল তাবোল ভাবে বলে গেলাম। সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
@isha.ish
বাইরে কোথাও নিয়মিত থাকলে পরিবেশের সাথে এক সময় ঠিকই খাপ খাইয়ে নেওয়া যায় । কিছু দিন পর বাড়ি ফিরবো এই আনন্দে এমনিতেই দিন পনের মন ভালো থাকে বাড়ি আসার পুর্বে । বাড়িতে এসে কয়দিন থাকা সে যেন নিজ বাড়িতে অতিথির মত । তবে সমস্যা বাধে তখন, যখন বাড়ি থেকে আবার মেসের পথে পাড়ি জমাতে হয় । কয়েক সপ্তাহ যেন লেগেই যায় মন খারাপ কাটিয়ে উঠতে ।
তার পরেও যে উদ্দেশ্য নিয়ে এত দূরে থাকা তা যেন আপনার পুরণ হয় ।
মন ভাল হয়ে উঠুক দ্রুত । আপনার আব্বাকে পরম করুণাময় সুস্থতা দান করুন ।
শেষের দুটো লাইনই আসল। খুব ভালো করে মন্তব্য করেছেন।