বকুল

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

heart-gc2af9290e_1280.jpg
সোর্স

"হ্যালো",

আমার বাংলা ব্লগ বাসি, সবাই কেমন আছেন? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন।আমিও আপনাদের দোয়াই এবং আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সবার সময় ভালো কাটুক এই কামনাই করছি।

বকুল মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে বকুল ছিল তৃতীয়। দেখতে শুনতে সব দিক থেকেই বকুল অনেক ভালো ছিল। এবং পরিবারের সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসতো। বকুল দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। বকুলের বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় দুলাভাই আরমিতে চাকরি করে এবং মেজ দুলাভাই প্রবাসী। বকুলের এক মামাতো ভাই আছে নাম মমিন। মমিন পড়াশোনা শেষ করে ডিফেন্সে চাকরির জন্য টাকা দিয়েছে। বকুলের পরিবারের এবং মমিনের পরিবারের সবাই চায় বকুলের সাথে মমিনের বিয়ে হোক।কিন্তু বকুল মমিনকে পছন্দ করত না।

বকুলকে তার পরিবারের সবাই বোঝাতে থাকে যে মমিন ভালো ছেলে। তুই তো ওকে চিনিস।তাহলে না করার কারণ কি? তখন বকুল বলে তাকে আমি ভাই হিসেবে দেখি আর ভাইকে কিভাবে বিয়ে করবো। তখন তার বোনেরা খুব জোর করে তার ওপরে যে মমিনের সাথে এখন থেকে কথা বলতে হবে এবং তার সাথে যোগাযোগ ভালো রাখতে হবে। এক পর্যায়ে বকুল ও বাধ্য হয় মমিনের সাথে ফোনে টুকটাক কথা বলতে। এভাবে কথা বলতে বলতে কখন যে তাদের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি হয়ে গেছে বকুল সেটা বুঝতেই পারেনি। বকুল মমিনের সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারত না।

হঠাৎ একদিন খবর আসে মমিনের চাকরিটা হবে না। তারপর থেকেই তাদের জীবনটা যেন এলোমেলো হয়ে যায়। বকুলের পরিবার তখন বেঁকিয়ে বসে। যে তারা বেকার ছেলের সঙ্গে তাদের মেয়ের বিয়ে কিছুতেই দেবেন না। তাইতো বকুলকে একদম না করে দেয় যাতে সে আর কথা না বলে। কিন্তু বকুলের তো মমিনকে ভালো লেগে গেছে। তাই সে লুকিয়ে লুকিয়ে মমিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলতো।

একদিন তার পরিবার বুঝতে পারে যে বকুল মমিনের সঙ্গে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলে।তারপর থেকে তার হাতে যেন ফোন না যায় সেই ব্যবস্থা করে তার পরিবার। গোপনে গোপনে তার পরিবার তার জন্য পাত্র দেখা শুরু করে। কোন আয়োজন ছাড়াই একদিন সকালবেলা হঠাৎ করে বকুলকে বলে যে আজ তার বিয়ে। বকুল কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সমানে কান্না করা শুরু করে দিয়েছে। বকুল তখন তার মাকে বোঝাতে শুরু করে যে তার ভাইয়ের ছেলে এবং সে তার মেয়ে তাহলে এই অন্যায়টা কেনো হতে দিচ্ছে। তখন বকুলের মা অঝোরে কাঁদতে থাকে। হয়তো পরিবারের চাপ ছিলো।

এরপর সেদিন বকুলের বিয়ে হয়ে যায়।এভাবেই কেঁটে গেছে ৫ টি বছর।বকুলের এখন একটি ছয় মাসের মেয়ে আছে।এদিকে মমিন বিয়ে করে ছেলের বাবা হয়েছেন।হয়ত তারা দুজনেই সংসার করছে।কিন্তু আদৌও কি তারা কেউ কারো মন থেকে দূরে যেতে পেরেছে।যেহেতু তার আত্মীয় এখনো মাঝেমধ্যেই তাদের দেখা হয়। তাদের ভেতরে তোলপাড় হয, তছনছ হয়ে যায় কিন্তু কেউ কিছু মুখ ফুটে বলতে পারে না। কারণ তারা বাস্তবের কাছে হেরে গেছে। এভাবেই বাকিটা জীবন তাদের কাঁটাতে হবে।

এভাবেই শেষ হয়ে গেল একটি পবিত্র প্রেমের গল্প। সত্যি কথা বলতে ঘটনাটি আমার খুব কাছের বান্ধবী সঙ্গে ঘটেছিল। যার সঙ্গে আমার এখনো মাঝে মধ্যে কথা হয়। এই ঘটনাটা আমি নিজের চোখে দেখেছি আমার সামনে ঘটে যেতে দেখেছি। আসলে কিছু কিছু পরিবারের জন্য অনেক সময় ছেলেমেয়েদের জীবন কষ্টের হয়ে যায়। সারা জীবন দোটানার মাঝে চলতে হয়। হয়তো বকুল খুব মন দিয়ে সংসার করছে কিন্তু মনের মধ্যে তার প্রিয় মানুষটি এখনো রয়ে গিয়েছে।

আজকে এখানেই শেষ করছি। দেখা হবে পরবর্তীতে নতুন কোন বিষয় নিয়ে। ততক্ষণে সবাই ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

24QmLBi2hi5sxeF4rfhXesN4Z3rEWTikWPFADtR6zyMx1EmYRYsQvFLAH72WL1voB5Qv1bAb8AZSXixgFjhiMWAnz2UA9cMfriUVJ7ctL7...nSLVWX5o43xBXmLDdwhihbXiBhaPqShV2SFRHcKYd8CXKMs5RdPFoVngFzUPZy735MKSBrn82U6bCmY9F8MzT3ucNgZ2hGFcSdZg7fSmWifdcnibPP7TB2AbsL.png

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPoodq7ohHzgKQKDmTRgamvrYaPc7Ny9oprPnjvKn4VVe31vKbu8vULt4CSQiq...cEsB7YzR4dFY16BsyLqmXyeeZ2dhcb9AiCRGv2QxRYEMWZK3MDWeaSUjuhffVgn2MrpTTHy4GCQWsyHzxiX6fnrryY4Qy1KBvyqWRwNXsKgUJjVhnUhL1YukxN.png

Xaey6XUsuMsULyX7cP1nbTWJzYmPAgo7FUiwufHRk6Jy2gyG1Db2Jf3F8zDR4enXrGJXJVY8zjUpsz8r7ybb4LRV5UxeCYiYK1QPL3cJGf...AYxpdPLKDUL7U8qu4Pikt2pYsm5FijpvHVGxLifJJPzqmZNKMNA2z45a46JW8rG61eode8Q5PXFhQEQKZCgnKP8ynSwFBAExhqvJUM7KDLc3AeqHmeUQyR5QSZ.gif

Sort:  
 3 years ago 

সত্যিকারের ঘটনা হলো কিন্তু বেশ সুন্দর হয়েছে। বকুল আর মুমিনের মত শত শত যুবক যুবতীদের প্রেম এভাবে ভেঙ্গে যায়। আসলে পরিবারগুলো যদি মনের কথা বুঝতো আর ভালোলাগার মানুষের সাথে সারা জীবন একসাথে পথ চলার ব্যবস্থা করে দিত তাহলে কত সুন্দর হতো। হয়তো মমিন আর বকুলরা ভালোই থাকবে। শুধু বুক ভরা রয়ে যাবে না পাওয়ার বেদনা।

 3 years ago 

ধন্যবাদ আপু পুরো ঘটনাটি পড়ে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

আপনার খুব কাছের একটা বান্ধবীর সাথে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। আসলে কিছু কিছু পরিবার রয়েছে প্রথমে একটা কথা বলে, কিন্তু পরবর্তীতে অন্য একটা ডিসিশন নেয়। প্রথমে বকুল রাজি ছিল না তার মামাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে করতে, কিন্তু পরে যখন তার মামাতো ভাইয়ের প্রতি প্রতি মন বসে, তখন তার পরিবার মেনে নেয় না তাদের এই সম্পর্ক। দেখতে দেখতে একটা পবিত্র ভালোবাসা অপূর্ণ থেকে গিয়েছে এবং দুজনের আলাদা জায়গায় বিয়ে হয়েছে। হয়তো তারা দুজনে মন দিয়ে সংসার করছে, কিন্তু ভালোবাসার মনের মধ্যে এখনো রয়ে গিয়েছে।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া হয়তো তারা মন দিয়ে সংসার করছে কিন্তু মনে মনে তাদের একে অন্যের জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা রয়ে গিয়েছে। যা কখনো শেষ হবার নয়। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো আপু বকুল এবং মমিনের। আসলে তারা প্রথমে মমিনকে চাকরির লোভে মেয়ে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু যখন চাকরিটা হলো না তখন আবার মেয়েকে ফিরিয়ে আনলো। এইরকম লোভী মানুষ আমাদের সমাজে অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। শেষমেষ দুজনে প্রেমে পড়লো কিন্তু তাদের প্রেমের মিলন হলো না। অবশেষে দুইজন দুই প্রান্তে চলে গেল। গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো অনেক কিছু শিখার ছিল।

 3 years ago 

আপনার সুন্দর মন্তব্য পেয়ে অনেক ভালো লাগলো আপু। অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্যের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

বর্তমান সমাজের ঘটে চলেছে এমন নানান ঘটনা। যেখানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে কিন্তু অনেক সময় লক্ষ্যনিয় যে চাকরি না হয়ে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে অথবা হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে অনেক ছেলেরা আমাদের সমাজে লক্ষ্য করেছি চাকরির নাম দিয়ে বিবাহ করানো হয়ে যায় কিন্তু চাকরি হয় না। যাই হোক এই জাতীয় ঘটনা আজ আমাদের দেশের সর্বস্থানে লক্ষণীয়। তবে বকুলের এই ঘটনাটা সত্যি ঠিক তেমন। খুব সুন্দর ভাবে আপনি ঘটনাটি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু

 3 years ago 

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63963.21
ETH 1857.18
USDT 1.00
SBD 0.39