খারাপ অভিজ্ঞতা

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

16-07-2022

১ শ্রাবণ ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ


আসসালামুআলাইকুম সবাইকে


কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো আছেন। আমি আপনাদের দোয়াই ভালো। তবে গরমের তীব্রতা যেন অসহনীয় হয়ে পরছে। মেঘ আসবে বলেও আসে না। আকাশে বিজলী চমকায় তবুও মেঘের দেখা নাই। দেশের কয়েকটি জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

hands-1838658__480.jpg

copyright free image from pixabey

তীব্র গরমে মানুষের জীবন দূর্বিষহ হয়ে পরছে। তীব্র রোদের মধ্যে বাহিরে না যাওয়ায় ভালো। কারণ দুপুর বারোটা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত আল্ট্রাভয়োলেট রশ্মি নির্গত হয়। যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে স্কিনের জন্য। যায়হোক, খারাপ একটি অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য চলে এলাম।

জীবনের প্রথম স্মার্টফোন এর দেখা পেয়েছিলাম ২০২০ সালের দিকে। সেটাও আবার অনেক কষ্টে। আমার ফুফু স্যামসাং ফোন ব্যবহার করতো। ফুফা বিদেশ থাকে এজন্য ইমুতেই কথা বলতো। কথায় থাকেনা, স্বামী বিদেশ মানেই ইমু এপস! হাহাহা। আমার ফুফু স্যামসাং ফোনটা প্রায় পাচঁ বছর ধরে ব্যবহার করেছিল। নতুন ফোন পাওয়ায় ফোনটি আমাকে দিয়েছিল। আমাকেও দিতোনা যদিনা বলতাম যে পরীক্ষার কথা। কারণ পরীক্ষার সময় নোট শেয়ার করা যায়। আবোল-তাবোল বলে ফুফুকে রাজি করলাম। তারপর আমাকে ফোনটি দিলো। প্রথম ফোনটি পেয়ে কতো এক্সাইটেড ছিলাম। যদিও ফোনটি পুরাতন ছিল। কয়েকদিন ব্যবহার করার পর দেখি ফোন হ্যাং করছে বারবার। তখন ফোনকে একদম রিসেট দিয়ে দিলাম। ফোনে যা ছিল সব ডিলেট হয়ে গেল। যাক, এবার ফোন তাহলে একটু ভালো করে ব্যবহার করা যাবে। ফোনের ক্যামেরা মোটামোটি ভালো ছিল। তখন বাড়ি থেকেই কলেজে গিয়ে ক্লাস করতাম। রেগুলার বাসে করে ক্লাস করতে যেতাম। আমাদের বাড়ি থেকে বাসে গেলে তেমন দূরে না। তবে যাওয়া আসা কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু কি আর করার আছে ক্লাস না করলে কিছু বুঝাও যাবেনা। কলেজে যাওয়ার পথে সাগরকে নিয়ে যেতাম। সাগরের বাড়ি আবার আমাদের বাড়ি থেকে কাছেই। বাসস্ট্যান্ডে আগেই সে দাড়িঁয়ে থাকতো। কিশোরগঞ্জ নেমে প্রতিদিনের মতো অটো করে চলে আসতাম কাচাসবজির বাজারের মোড়ে। সেখান থেকে লেকের পাড় দিয়ে হেটেঁ কলেজে চলে যেতাম। দুজনে একসাথে কথা বলতে বলতে চলে যেতাম। লেকের পাড়ে দেখতাম অনেকেই গল্প করছে বসে। অনেকেই আবার হাটাহাটিঁ করছে। কিশোরগঞ্জ শহরটা তেমন ভালোকরে চেনাও ছিল না।

একদিন বাড়ি থেকে ফোনটা নিয়ে যাবো ভাবছি কলেজে। আমি নরমালি কলেজে ফোন নিয়ে যেতাম না। প্রতিদিনের মতো লেকের পাড় দিয়ে হেটেঁ কলেজে চলে গেছিলাম। সাথে বন্ধু সাগর ছিল। কলেজের ক্লাস শেষ করে লেকের পাড় দিয়েই আসছিলাম। ঠিক কিছুক্ষণ পরেই কিছু ছেলে এসে আমাদের গায়ে হাত তুলে। আমরা কিছু না বুঝে উঠার আগেই হাত তুলে। আমি আর সাগর বললাম আমাদের শরীরে হাত তুলা হয়েছে কেন? তখন তারা আমাদের হুমকি দেয়। লেকের পাড়ে তখন তেমন মানুষ জন ছিল না। আমি আর সাগর কি করবো বুঝতেও পারতেছিলাম না। আমাদের দুজনকে একটা পর্যায়ে বাসার চিপায় নিয়ে আমাদের সাথে যা যা আছে সব দিয়ে দিতে বলে। সবার হাতে ধারালো ছুড়ি ছিল। আমি আর সাগর কিছু উপায় না পেয়ে পকেট থেকে মোবাইল ফোন আর কিছু টাকা দিয়ে দেয়। মোবাইল ফোনের আবার সিমটা খুলে দিয়ে দেয়। আমি আর সাগর রীতিমত অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। জোরে চেঁচামেচি করবো এমন সাহস পর্যন্ত পাচ্ছিলাম না। এক পর্যায়ে আমাদের ছুড়ি বের করে চলে যেতে বলে। আমি আর সাগর সেখান থেকে চলে আসি। তবে খুব খারাপ লাগতেছিল কারণ জীবনের প্রথম ফোনটা এভাবে দিয়ে দিলাম। কিন্তু জীবনের ভয় তো সবারি থাকে। মোবাইল গেলে মোবাইল পাওয়া যাবে কিন্তু জীবন চলে গেলে জীবন পাওয়া যাবে না।

এটা আমার জীবনের খারাপ এক অভিজ্ঞতা। আমি চাই কখনো যেন আমার মতো কেউ এমন অবস্থায় পড়ুক। এখন অবশ্য আইন শৃঙ্খালা বাহিনী সারাক্ষণ টহল দিয়ে থাকে। তবে এর পরে আমি লেকের পাড় দিয়েই যাওয়া আসা করতাম। তখন আর ভয় পেতাম না। কারণ কিশোরগঞ্জ এর প্রায় সব কিছুই চেনা হয়ে গিয়েছিল। তবে এ ঘটনাটা আমি কখনো ভুলতে পারেনি। যায়হোক, আপনারা অবশ্যই সাবধানে থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।



10% beneficary for @shyfox ❤️



ধন্যবাদ

WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg



আমি কে?

IMG20210908180509.jpg

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64599.23
ETH 1911.76
USDT 1.00
SBD 0.37