ভালো থাকার অভিনয়
আপনাকে যদি আমি জিজ্ঞেস করি কেমন আছেন? তাহলে আপনি কি বলবেন? আপনি হাসিমুখে বলে দিবেন "ভালো আছি। " অথচ আপনার ভিতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও আপনি বলছেন ভালো আছি। এর কারণটা কি আসলে? আমরা কেন আমাদের সত্যিকারের অবস্থানটা মানুষকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি না! এর সবচেয়ে বড় কারণ বর্তমানে সমাজে অনুভূতির কোনো মূল্য নেই। আপনার অনুভূতির দাম এ সমাজ দিতে শেখেনি। আপনি ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও এ সমাজ বলবে না কেন ভালো নেই!
বর্তমানে আমাদের অনুভূতির কোনো দাম দেয়া হয় না। আমরা প্রতিনিয়ত অভিনয় করে যাচ্ছি নিজের সাথে। কতো রাত নির্ঘুম কেটেছে কেউ জানে না। জানতেও চাইনি কেউ। যদি কেউ জেনে যায় অনুভূতির দাম দিবে না। বরং মানুষ খারাপ সময়ে উপহাস করতে পছন্দ করে। আপনি খারাপ সময়ে আছেন জানতে পারলে আপনাকে নিয়েই হাসি তামাশায় মেতে উঠবে। আপনার চোখের নিচের কালির দাগের কারণ কেউ জানতে চাইবে না। যদি বলেন আপনি ভালো নেই। দেখবেন হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলবে কেন ভালো নেই?
এজন্য সমাজের মানুষ শিখে গিয়েছে কিভাবে ভালো থাকার অভিনয় করে যেতে হয় প্রতিনিয়ত। আপনি যদি এ সমাজে ভালো থাকার অভিনয় করতে না জানেন তাহলে আপনি টিকতে পারবেন। কারণ সমাজ আপনার দুঃখের অংশীদার নিবে না। আপনার দুঃখ আপনাকেই বহন করে বেড়াতে হবে। তবে আমরা মাঝে মাঝে ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। ভেঙে পরি, মনে হয় সবকিছুই যেন শেষ। কিন্তু আসলেই কি সবশেষ!
খারাপ সময়ে যেমন ভালো থাকার অভিনয় করতে হয় তেমনি ভালো সময়েও অভিনয় করতে হয়। কারণ মানুষ যদি বুঝে যায় আপনি অনেক ভালো আছেন তাহলে মানুষ চাইবে আপনার সুখ যেভাবেই হোক কেড়ে নিতে। সমাজে এটা একধরনের অপসংস্কৃতি হিসেবেই। মূল কথা হলো বর্তমান সমাজে কেউ কারো ভালো দেখতে পারে না। এজন্য মানুষ অভিনয় করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আমিও কিন্তু একজন অভিনেতা। কারণ হাসিমুখে সবাইকে বলে বেড়ায় আমি ভালো আছি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছি এই সমাজ তা জানে না। জানলেও তারা হাসি তামাশায় করে কাটিয়ে দিবে। কতো রাত নির্ঘুম কেটে যায় কেউ জানে না। কেন নির্ঘুম কাটে কারো প্রশ্ন করার প্রয়োজন মনে হয়নি। তবে দিনশেষে আপনি বুঝতে পারবেন! খারাপ সময়টা যেমন আপনার, ভালো সময়টাও ঠিক আপনারই।
এই প্রশংসনের মধ্যেও আপনার মনের কষ্টকে স্বীকৃতি
জি ধন্যবাদ আপনাকে