নাটক রিভিউঃ " টিউবলাইট "
25-04-2025
১২ বৈশাখ , ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
🌼আসসালামুআলাইকুম সবাইকে🌼
কেমন আছেন সবাই?আশা করছি আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আপনি ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো দিনশেষে সুস্থ্যতা অনেক বড় একটা ফ্যক্ট। নিজেকে সুস্থ্য রাখার জন্য মাঝে মাঝে বিনোদনের প্রয়োজন হয়। তো আমি চেষ্টা করি মাঝে মাঝে ইউটিউব এ বাংলা নাটক দেখার। আজকে একটি নাটক দেখেছিলাম। সেটির নাম হচ্ছে টিউবলাইট। আশা করছি নাটকের রিভিউটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
| নাম | টিউবলাইট। |
|---|---|
| পরিচালনা | মেহেদী রনি |
| স্ক্রিপ্ট | রাজীবুল ইসলাম রাজীব |
| প্রযোজক | তাসনিম হাসান খান। |
| সিনেমাটোগ্রাফি | ফুরকান উদ্দিন |
| অভিনয়ে | জোভান, কেয়া পায়েল, নাইমা আলম মাহা, অনিক সহ আরও অনেকে। |
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
| দৈর্ঘ্য | ৪৭ মিনিট ০৭ সেকেন্ড। |
| মুক্তির তারিখ | ১৩ই ফেব্রুয়ারি , ২০২৫ ইং |
| ধরন | রোমান্টিক, সামাজিক । |
| ভাষা | বাংলা |
চরিত্রেঃ
শুভঃ
ফারহান আহমেদ জোভান।জুইঃ
কেয়া পায়েল।কাহিনী সারসংক্ষেপ
নাটকের শুরুতে দেখা যায়, শিশু পার্কে টেডিবিয়ার সেজে খেলা দেখাচ্ছিল। কিন্তু তখন দুজন বাচ্চা টেডিবিয়ার দেখে মনে হচ্ছিল এটা আসল নাকি নকল। একটা বাচ্চা গিয়ে ডিরেক্ট লাথি মেরে বসে! লাথি খেয়ে টেডিবিয়ার ডিরেক্ট মাটিতে পরে যায়। তারপর শুভ বাচ্চা দুইটাকে ধরে কতোক্ষণ ভয় দেখায়। বাচ্চার গার্ডেইয়ান তখন পার্কের কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আসে। তারপর পার্কে একজন কর্মকর্তা আসার পর বলে আপনাকে আর চাকরি করতে হবে না। তবে কর্মচারী জানতে চেয়েছিল কি করেছে বাচ্চাটি। এমন জায়গায় লাথি দিয়েছে যে মুখ দিয়ে বলতেও পারছিল না শুভ। তারপর শুভ ঐ কর্মচারীকে লাথি মেরে চলে আসে। শুভর মা মারা গিয়েছে এক বছর হলো! ঢাকা শহরে আপন বলতে তার কেউ নেই। তার এক মামা শুভর জন্য পাত্রী খুজঁছে। কিন্তু শুভর কোনো ইচ্ছেই নেই এখন বিয়ে করার!
এদিকে জুই একদিন ঝালমুড়ি খেতে গিয়ে শুভর ছবি পেয়ে যায়। যে কি না একসময় জুইয়ের টিচার ছিল। এবার একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। শুভ যখন জুইকে পড়াতো জুই তখন থেকেই শুভকে অনেক ভালোবাসতো। শুভ শুরুতে পাত্তা না দিলেও একসময় শুভ ঠিকই জুইকে ভালোবেসে ফেলে। তারপর একে অপরের প্রতি কেয়ারিং বাড়তে থাকে। কিন্তু জুইয়ের পাগলামী ছিল মাত্রাতিরিক্ত! শুভকে কারো সাথে কথা বলতে দিতো না! কারো সাথে কথা বললেই ভাবতো সে প্রেম করছে। এসব সহ্য না করে শুভ চলে আসে। শুভর সাথে যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এদিকে একদিন শুভর বন্ধু শৈবালের ফোনে ফোন দেয় জুই! শুভ তখন দেখতে পায় যে জুই তাকে ফোন দিয়েছে! শৈবাল শুভকে সত্যিটা লুকায়। শুভকে জুইয়েরা সাথে দেখা না করতে বলে। কারণ যে মেয়ে বিষ খাইয়ে তার বয়ফ্রেন্ডকে মেরে ফেলতে চাই সে আর যায়হোক মানুষ মারতে দ্বিধা করবে না।
তারপর শুভ একদিন জুইয়ের সাথে দেখা করতে যায়। দেখা করতে নিয়ে যায় শৈবালকেও। জুইয়ের প্রচন্ড রাগ ছিল শুভর উপর। কারণ সে তার জন্মদিনেও উইশ করেনি। কিন্তু তার আগে উইশ করেছে তার বন্ধু শৈবাল! এসব শোনার পর শুভর মেজাজ গরম হয়ে যায়। বন্ধুর এমন বেইমানি শুভ নিতে না পেরে তার সাথেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে জুইয়ের সাথেও সম্পর্কটাও নষ্ট হয়ে যায়। তারপর বছর কয়েক আর দেখা হয়নি শুভর সাথে। আজ হঠাৎ করেই জুইয়ের শুভর কথা মনে পরছে। তখন সে শৈবালের কাছে ফোন দেয়। একটাবার যেন তার সাথে দেখা করার সুযোগ করে দেয়। তারপর জুইয়ের সাথে দেখা হয় শুভর! শুভ রাগ করে আছে। কিন্তু জুই তাকে কনভেন্স করে। সে এখন ম্যাচিউর হয়েছে। ল প্র্যাকটিস করে। কিন্তু শুভর ধারণা জুই এখনও ম্যাচিউর হয়নি। এদিকে জুইয়ের কাছে কোনো মামলা নিয়ে কেউ আসে না। তারপর শুভ প্লেন করে চুরি করার কথা বলে। শুভ জেলে যাবে আর জুই তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবে।
কিন্তু শুভর ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। ভেবেছিল হয়তো জুই তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবে। কিন্তু জেলে শুভর তিন বছর কেটে গেল। তারপর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জুইয়ের সাথে আর দেখা হয়না! হঠাৎ একদিন জুইয়ের সাথে দেখা হয় শুভর! তখন জুই তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে যে তার বাবা তাদের বিয়ের কথা জেনে গিয়েছিল। তার জন্য তাকে লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিল। লন্ডন থেকে আসার পর জুইয়ের জন্য অনেক পাত্র দেখেছে তার বাবা কিন্তু জুই শুভকে ছাড়া বিয়ে করবে না। তারপর তাদের দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার জীবন যেন দূর্বিষহ হয়ে পরে। শুভর মা বলেছিল সে একটা তার মনের মতো বউ পাবে। কিন্তু তার মনের মতো বউ পাইলেও সে যেন টিউবলাইটের মতো রাখছে!
ব্যক্তিগত মতামত
নাটকটি আমার কাছে ভালোই লেগেছে। শুরুর দিকে নাটকটি দেখে ফানি মনে হয়েছিল। তবে যতই নাটকটি দেখছিলাম ততই বেশ কিছু বিষয় উঠে আসলো। আসলে বর্তমানযুগে প্রেমিকার জন্য প্রেমিক কত কিছু করে! নাটকটিতে শুভ তার প্রেমিকার জন্য চুরি পর্যন্ত করেছিল। তবে ভালো লাগার বিষয় ছিল কেউ কাউকে ছাড়েনি। শুভর মায়ের ইচ্ছেছিল শুভ তার মনের মতো কাউকে বিয়ে করবে। বিয়ে করেছে ঠিকই কিন্তু সে তার মতো করে বউকে সাজাতে পারেনি। বর্তমানে রিলেশন করে বিয়েগুলোতে এমন দেখা যায়। বিয়ের পরে সংসারের সব ক্ষমতার উৎস বউয়ের কাছে চলে যায়। তবে তাকে সম্মান করে আজীবন সংসার করে যাওয়ার নামই জীবন। পরিচালক বিষয়টি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
ব্যক্তিগত রেটিং
৮/১০
নাটকটির লিংক
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
বাহ আজকে তো আপনি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন। আমি কিছুদিন আগে এই নাটকটি দেখেছিলাম নাটকের কাহিনীটি আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগলো। মাঝেমধ্যে সময় পেলে এরকম নাটক প্রায়ই আমার দেখা হয়। টিউবলাইট নাটকটি আসলেই দেখার মত ছিল। আপনার রিভিউ পোস্টটি পড়ে আরো ভালো লাগবে।
আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
Twitter share
Puss tweet
নাটকের নামটা শুনে মনে হল খুব মজার একটা নাটক। তবে সুন্দর একটা মেসেজ দেওয়া হয়েছে দেখে ভালো লাগলো। আপনি খুব সুন্দর ভাবে পুরো নাটকের গল্পটা আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটা নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
হুমম নাটকটি ভালোই ছিল। দেখতে পারেন।
এরকম সুন্দর সুন্দর নাটকগুলো দেখতে আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। আর যখনই সময় পাই তখনই নাটক দেখার জন্য চেষ্টা করি। আজকে আপনি দারুন একটা নাটকের রিভিউ নিয়ে সবার মাঝে হাজির হয়েছেন। পুরো কাহিনীটা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ রিভিউ টা শেয়ার করার জন্য।
এত মিনিটের একটা নাটক মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই পড়ে নেওয়া যায়। আমি তো মনে করি দেখার থেকে রিভিউ পড়ে নেওয়াই ভালো। তাহলে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনীটা মাত্র ২ মিনিটেই জেনে নেওয়া যায়। বেশি সময় আর অপচয় করা লাগে না দেখে। আমি তো এখন সব সময় চেষ্টা করি নাটকের রিভিউর মাধ্যমেই কাহিনীটা জেনে নেওয়ার জন্য। আর ঠিক তেমনি এখনো চেষ্টা করলাম। ভালো লাগলো এই রিভিউ টা।
নাটকটির নাম শুনে মনে হচ্ছে নাটকটি অনেক মজার হবে এবং এখানে যেভাবে আপনি আজকে সুন্দর নাটক এর রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তা দেখে খুবই ভালো লাগছে৷ একই সাথে এখানে নাটকের রিভিউ শেয়ার করার পদ্ধতি মধ্য দিয়ে আপনার কাছ থেকে খুবই সুন্দর একটি নাটক সম্পর্কে জানতে পারলাম৷ আমি অবশ্যই সময় করে নাটকটি দেখে নেব৷