ছোটগল্পঃ- তুমি রবে নীরবে
30-09-2023
১৫ আশ্বিন , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। যাক, ভালো থাকতে পারাটাই বড় বিষয়। আমি আপাতত ভালো খারাপ মিলিয়েই আছি। এসব মিলিয়েই আমাদের জীবন। যাক, আজকে চলে এলাম গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
বাহিরে ঝিরঝিরি বৃষ্টি! হিমশীতল পরিবেশ। আজ ছাতা আনতেও মনে নেই মিলির! রাস্তার পাশে মস্তবড় সেই বটগাছ! ঠিক সেই আগের মতোই আছে। এই বটগাছটার নিচেই কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আবিরের সাথে কতো গল্প, কতো আড্ডা হয়েছে। হাতে দু টাকার বাদাম নিয়ে সারাদিন গল্প করেই কাটিয়ে দিতো। মিলি আনমনে এক পলকে তাকিয়ে ভাবছে! ঠিক কিছুক্ষণ পর টুম্পা এসে হাজির! শরীরে টাচ করতেই মিলির যেন হুশ ফিরল!
' কিরে, তুই এখানে কি করছিস? '
' ভার্সিটির দিকেই যাচ্ছিলাম। আজ তো রিইউনিয়ন! তুই যাবি না? '
' আমিও তো ভার্সিটির দিকেই যাচ্ছি! '
' ছাতা নিয়ে এসেছিস? আমি ভুল করে রেখে এসে পরেছি! '
' সমস্যা নেই। আমিও ছাতা নিয়ে বের হয়নি। রিকশা পেলে একসাথে চলে যাওয়া যাবে! '
তারপর তোর কি অবস্থা বল! অনেকদিন পর দেখা হলো। আজ ভার্সিটিতে অনেকের সাথেই দেখা হবে।
হুমম! তোর আবিরের খবর কি? মনে আছে তোর আবিরের কথা!
মিলি কোনো কথা বলছে না। কথা বলবেই বা কেমন করে। যাকে নিয়ে শত স্বপ্ন দেখেছিল সে কি না ক্যারিয়ারের অযুহাত দেখিয়ে তার জীবন থেকে চলে যায়। আবির হয়তো এখন অনেক ভালো আছে। ভালো কোনো জব করছে। সে ভালো থাকলেই আমি খুশি!
কিছুক্ষণ পর একটা রিকশা পায়। রিকশা নিয়ে সোজা চলে যায় টিএসসি মোড়ে! সেখানে কিছুক্ষণ বসে তারপর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া যাবে। আজ পাচঁ বছর পর ভার্সিটির প্রাঙ্গনে পা দিয়েছে। টি এস সি এর মোড়ে রহিম মামার চায়ের দোকানটাও নেই। এখন অনেক ফুচকার দোকান হয়েছে।
'মিলি, তুই কিছু খাবি? '
' না রে! তুই কিছু খেয়ে নে! '
' আচ্ছা, তুই কি এখানে বসবি কিছুক্ষণ? '
' হুমম, কিছুক্ষণ বসে তারপর যাবো! '
' ঠিক আছে আমি ভার্সিটির দিকটায় যাচ্ছি! '
টুম্পা এই বলে চলে যায়। মিলি একা দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক তখন দেখতে পায় আবিরকে। পরনে সাদা পাঞ্জাবী ও পায়জামা, মুখে যেন চিন্তার ছাপ! যেন বিষণ্ণতায় কালো মেঘ জমে আছে অনেক।
মিলি, আবিরের এমন অবস্থা দেখে কেন জানি অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করলো। আবিরের ভালোর জন্যই তো ছেড়ে এসেছিল তার জীবন থেকে।
আবির, মিলিকে দেখে থমকে দাড়াঁয়! ভালোবাসার ছাড়াছাড়ির পর তাদের যেন অনাকাঙ্ক্ষিত দেখা। মিলি যেন এ দিনটার অপেক্ষায় ছিল! আবির মিলির দিকে এগিয়ে আসছে, মাথা নিচুঁ করে। ঠিক আগের মতোই আছে আবির!
কাছে আসতেই মিলি বলে উঠলো -
কেমন আছো?
সময় পেরিয়ে গেলে আমরা চেনা মানুষের সাথেও অচেনা আচরণ করে বসি। সে হিসেবে কেমন আছো বলাটা ভীষণ ন্যায্য!
আবির হেসে উত্তর দিল -
ভালো আছি!
' আমি কেমন আছি জানতে চাইবে না! '
' ভালো থাকবে বলেই তো ফিরিয়ে দিয়েছিলাম সেদিন। আশা করছি ভালোই আছো! '
' যদি বলি ভালো নেই! '
' হয়তো এখন ভালো নেই। কিন্তু একটা সময় ঠিকই ভালো থাকবে! '
' ওহ! জানতে চাইলে না আমার দিনগুলো কিভাবে কাটছে? '
' না! আজকাল কোনো কিছু জানতে ইচ্ছে করে না। জীবনের খারাপ লাগা জুড়ে যে আমি ছিলাম! '
' সব কিছু আগের মতো করা যায় না! '
' ভাঙ্গা কাচঁ কি জুড়ানো লাগা যায়! চাইলেই এখন আগের মতো হবে না। কিন্তু তোমাকে আজ সুন্দর লাগছে নীল শাড়িতে। আমি ভার্সিটির দিকটায় যাচ্ছি। তুমি থাকো তাহলে। '
মিলি কাদঁছে। গাল বেয়ে টলমলিয়ে পানি ঝরছে। তার কান্না দেখার মানুষ নেই! বাহিরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি এখনও থামেনি! মিলি তার হৃদয়জুড়ে এখনও আবিরের জায়গাটাই রেখে দিয়েছে। সেখানে আবির ছাড়া আর আনাগোনা নেই। মিলি ব্যাগ থেকে পকেট টিস্যু বের করে। চোখের জল মুছে ভার্সিটির দিকে হাটঁতে থাকে। কিন্তু আবির কখনো জানবেই না সে ছিল হৃদয় জুড়ে!
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
সত্যি বলতে গেলে কিছু কিছু স্মৃতি আছে যা সব সময় আমাদের বয়ে বেড়াতে হয়। হাজারো খুশির মাঝে একবার এই স্মৃতিগুলো মনে হয়ে গেলে সবকিছুই শেষ হয়ে যায়। তেমনি মিলি আজও তার মনের ভেতরে আবিরের জায়গাটা রেখে দিয়েছে। আজকের ছোট গল্পটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো ধন্যবাদ ভাইয়া।
জি আপু! আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🌼
বেশ সুন্দর গল্প আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন ভাই। আপনার গল্প পড়ে খুব ভালো লাগলো। গল্পের মাঝে মিলির চরিত্র বেশ অসাধারণ হয়েছে। নিশ্চয়ই মিলি আবিরকে সত্যি ভালোবাসে । এত দুর্দান্ত গল্প আমাদের মাঝে সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম ভাইয়া। আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি 🦋
অনেক সুন্দর ছিল আপনার ছোট গল্পটি। ঠিক বলছেন এমন কিছু কিছু সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু আবার জোড়া লাগানো খুবই কষ্টের হয়। যদি একবার মন ভেঙ্গে যায় সে মন জোড়া লাগানো যায় না। যা হয়েছে আবির এবং মিলির ক্ষেত্রে। তবে দুইজন কিন্তু দুইজনের মনের মধ্যে এখনো জায়গা করে আছে। অসাধারণ ছিল ধন্যবাদ আপনাকে।
জি আপু । ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার মন্তব্যের জন্য 🦋
আপনার লেখা ছোট গল্পটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো ভাইয়া। কিছু কিছু সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেলে আর জোরা লাগানো সম্ভব হয়না।মিলির মনের মাঝে আবির রয়ে যাবে সব সময়। আর আবিরের মনে রয়ে যাবে মিলি।খুব সুন্দর লিখেছেন গল্পটি।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর এই গল্পটি শেয়ার করার জন্য।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম আপু। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🦋
বাহ্! আপনি তো দারুণ গল্প লিখেন। গল্পটি পড়ে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। যারা নিজের ক্যারিয়ার গড়তে প্রিয় মানুষকে ছেড়ে দেয়, তারা কখনো কাউকে মন থেকে ভালোবাসতে পারে না। আবির মিলির সাথে খুব অন্যায় করেছে। কিন্তু মিলি কোনো অন্যায় না করেও প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছে আবিরের জন্য। আসলে সম্পর্ক ভেঙে গেলে জোড়া লাগানো যায় না। যাইহোক এতো চমৎকার একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
চেষ্টা করে যাচ্ছি ভাইয়া। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার একটি মন্তব্য করে উৎসাহ দেয়ার জন্য ☘️