"ও আমার বোন না" নাটক রিভিউ
08-05-2022
২৫ বৈশাখ ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
আশা করছি সবাই ভালোই আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তো চলে এলাম আপনাদের সাথে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য। এবার ঈদে অনেক নাটকই রিলিজ হয়েছে। সবগুলো নাটকই ভালো দর্শকজনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এ পর্যন্ত আমি কিছু নাটক দেখেছি। আপনাদের সাথে ধারাবাহিকভাবে নাটকের রিভিউ নিয়ে হাজির হবো। তো আজকে যে নাটকটটি নিয়ে হাজির হলাম সেটি হচ্ছে ও আমার বোন না। নাটকটি দেখে যা মনে হলো একদম বাস্তব প্রেক্ষাপট রিলেটেড। আশা করি আপনাদের কাছে নাটকের রিভিউটি পড়ে ভালো লাগবে।
নাটকের কিছু তথ্য
| নাম | ও আমার বোন না । |
|---|---|
| গল্প | মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ । |
| মূল কাহিনীচিত্র, সংলাপ ও পরিচালনা | মাবরুর রশীদ বান্নাহ । |
| নির্বাহী প্রযোজক | জুয়েল মোর্শেদ। |
| অভিনয়ে | ফারহান আহমেদ জোভান, সাবেরী আলম মোতাহার, অনামিকা ঐশী, রাইফ রহমান, সাগর হূদা, নিপুণ আহমেদ । |
| দৈর্ঘ্য | ৫২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড । |
| মুক্তির তারিখ | ৫ই মে, ২০২২ ইং |
| ধরন | সামাজিক , বাস্তবধর্মী । |
| ভাষা | বাংলা। |
| দেশ | বাংলাদেশ |
মূল চরিত্রেঃ-
ফাহিম → ফারহান আহমেদ জোভান
ফারিয়া → অনামিকা ঐশী
কাহিনী সারসংক্ষেপ
নাটকের শুরুতে দেখা যায় ফারিয়া তার ভাইয়াকে ডাকে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ফারিয়ার ভাইয়া ফাহিম প্রতিদিন স্কুলের সামনে নামিয়ে দিয়ে আসে। আজকে একটু দেড়ি হয়ে হয়ে যাওয়ায় ফারিয়া তার ভাইয়াকে ঘুম থেকে উঠতে ডাক দেয়। ফাহিম যথারীতি রেডি হয়ে পড়ে। এদিকে ফাহিমের মা সকালের নাস্তা তৈরি করা আছে কিন্তু ফারিয়ার দেড়ি হয়ে যাবে এজন্য মা কে বলে টিফিন বক্সে দিয়ে দিতে। ফারিয়া ফাহিমের আদরের ছোট বোন। পরিবারের বড় ছেলে ফাহিম। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের দায়িত্ব ফাহিম নিয়েছে। ফাহিম দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় তার বাবা মারা যায়। তার মা সেলাই কাজ করে তখন কোনোরকম সংসার চালাতো। তার মধ্যে ফাহিমের মা এর শরীরে একসাথে তিনটি রোগ ধরা পরে। ডাক্তার না করে দেয় সেলাই কাজ না করার জন্য। ঠিক দুইটা বছর পর ফাহিমের একটি ঔষধ কোম্পানিতে জব হয় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে। ফার্মেসী তে ঔষধ বিক্রি করা। তো ফাহিমের ছোট আয় দিয়ে ভালোই সংসার চলছিল। কিন্তু হঠাৎ যেন সব ওলটপালট হয়ে যায়। কারণটা শুনুন তাহলে -
ফাহিমের বোন ফারিয়া যে স্কুলে পড়তো সেই স্কুলের পাশে কিছু বখাটে ছেলে স্কুল থেকে আসার পথে ফারিয়াকে প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করত। ফারিয়াকে বাজে সব কথা বলতো।
তো একদিন ফারিয়া রেগে গিয়ে বখাটে ছেলেটাকে জুতা দিয়ে মাইর দেয়। তারপর ফারিয়া বাসায় চলে আসে। ঠিক পরের দিন ফারিয়া স্কুলে যাওয়ার সময় তার ক্লাসমেট তায়িফ তাকে বলে যে সে তাকে পছন্দ করে। ফারিয়া সেটাও পাত্তা দেয়নি। ফারিয়া বলে যে আমরা এখনো ছোট। এসব করার সময় নেই। তারপর তায়িফ আর ফারিয়া ক্লাসে চলে যায়। ক্লাসে যাওয়ার পর তায়িফের পাশে বসে তার এক ফ্রেন্ড নোট ভিডিও দেখা শুরু করে। তায়িফ তাকে বারণ করে যে নোট ভিডিও ক্লাসে বসে না দেখার জন্য। তায়িফের বন্ধু তখন বলে যে এটা ফারিয়ার নোট ভিডিও! তায়িফ তখন নোট ভিডিও দেখে হতবম্ভ হয়ে যায়। ফারিয়া এমন কাজ করতে পারলো! তারপর ক্লাসের সবাই বিষয়টা জেনে যায়। ফারিয়ার বান্ধবীরা সবাই ঘৃণার চোখে দেখা শুরু করে। তায়িফও তখন ফারিয়াকে বিশ্বাস করতে পারতেছিল না।
এদিকে ফারিয়া যখন জানতে পারে তার নোট ভিডিও ভাইরাল হয়েছে কিন্তু সে সেটা দেখে বিশ্বাস করতে পারতেছিল না। ফারিয়ার নেট ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ফারিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ফাহিমও জানতে পারে যে তার বোনের নোটভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু ফাহিমের বিশ্বাস ছিল যে তার বোন এমন কাজ কখনোই করতে পারেনা। ফাহিম তখন বাড়িতে এসে ফারিয়াকে বুঝানোর চেষ্টা করে যে এই ভিডিওতে তার বোন না। সম্পূর্ণ এডিট করা হয়েছে। এদিকে সমাজের মানুষ নানান ধরনের কথা শুনাতে থাকে ফাহিমকে। ফাহিমদের আত্নীয়-স্বজন সবাই ভুল বুঝতে শুরু করে। ফাহিম বাহিরে গেলেই মানুষ ভিডিও নিয়ে আজে-বাজে কথা শুরু করে দেয়। কিন্তু ফাহিম চায় তার বোন পড়ালেখা চালিয়ে যাক। কারণ এই ভিডিওতে ফারিয়া না এটা তারা জানে। সামনে ফারিয়ার মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলে আসে। স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে বিষয়টি বলে ফাহিম। প্রিন্সিপ্যাল তখন বিষয়টি দেখে এবং ফারিয়াকে স্কুলে এসে ক্লাস করতে বলে। তারপর ফারিয়া ক্লাস করতে আসে কিন্তু সব বন্ধু-বান্ধব আড়চোখে দেখে। তায়িফ শুধু তাকে বলে এসব কথায় কান না দিতে। কিন্তু ফারিয়া এসব আজে-বাজে কথা নিতে পারতেছিল না। স্কুল থেকে বাসায় চলে আসে। যারা তাকে নিয়ে এসব নোংরা ভিডিও তৈরি করেছে তারা ফারিয়ার বাসায় এসে ফারিয়াকে আবার হুমকি দিয়ে যায়।
ধীরে ধীরে ফারিয়া নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। তারপর ফাসিঁ দিয়ে আত্নহত্যা করে ফারিয়া। এভাবেই একজন মানুষ নিজের জীবনের কাছে হেরে গিয়ে আত্নহত্যার মধ্যে দিয়েই নাটকের সমাপ্তি ঘটে।
নাটকটি থেকে শিক্ষা
নাটকটটি একদম বাস্তব ভিত্তিক। আমাদের সমাজে এমন অনেক বখাটে ছেলে আছে যারা নারীর আত্নসম্রম নিয়ে খেলা করে। যার ফলশ্রুতিতে একটি মেয়ের জীবন পর্যন্ত চলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে খুব সহজেই একটি ভিডিও করে ভাইরাল করে ফেলা যায়। যেটা এই নাটকটির মধ্যে দেখা গেছে। আমাদের বুঝা উচিত তাদের পরিবারের কেমন অবস্থা হয়েছিল। আর যেন এমন নোংরা কাজ কেউ করতে না পারে। যারা করবে তাদেরকে অবশ্যই যথাযথ শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থায় আনা উচিত আমি মনে করি।
ব্যক্তিগত মতামত
নাটকটি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। জোভান ভাইয়ার নাটক নরমালি রোমান্টিক টাইপের হয়ে থাকে। নাটকের শেষ মোমেন্ট এতো কষ্টের হবে না দেখলে বুঝতে পারবেন না। ভাই বোনের থেকে সুন্দর ভালোবাসা আর কি হতে পারে। আর যারা পশুত্বের মতো আচরণ করে একটি পরিবারকে ভালোবাসার বন্ধন থেকে আলাদা করতে চাই তাদের শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা উচিত। জোভান ভইয়া একজন বড় ভাি হিসেবে যথার্থ অভিনয় করেছে। আর ঐশী ভালো অভিনয় করেছে। পরিচালককে ধন্যবাদ না দিলেই নয় যিনি এত সুন্দর একটি নাটক আমাদের উপহার দেয়ার জন্য।
ব্যক্তিগত রেটিং
নাটকটির লিংক
আশা করি নাটকটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। নাটকটি দেখে না থাকলে লিংকে প্রবেশ করে দেখতে পারেন। আমি চেষ্টা করেছি মূল কাহিনীটা শেয়ার করার জন্য। আশা করি বুঝেছেন। সকলের সু্স্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।
10% beneficiary for @shyfox❤️
ধন্যবাদ
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Link
আপনার নাটকের রিভিউ দেখে আমি সবসময়ই উৎসাহিত হই নাটক দেখার জন্য।
আজকের নাটকটি বেশ চমৎকার এবং বোঝার রয়েছে অনেক কিছু।
দেখবো ইনশাআল্লাহ পুরোটা 🤗
হ্যা ভাইয়া দেখলে উপভোগ করতে পারবেন আশাকরি। আপনার মন্তব্য দেখে খুশি হলাম ভাইয়া ❤️🌼
আপনার নাটকের ভিডিওটা দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। বর্তমানে ব্যস্ততার কারণে নাটক দেখার সময় পাইনা কিন্তু সময় করে আপনার নাটক দেখে নিব। সুন্দর নাটক তৈরি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
সময় করে দেখতে পারেন ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য 🌼❤️
এই মেয়ে দেখি টিকটক থেকে এখন নাটক করে হা হা 😀। সেটি আদৌ অভিনয় টভিনয় কিছু পারে।এরে দেখেই তো নাটক দেখার সাধ মিটে গেল।তবে যাইহোক নাটকের কনসেপ্ট টা দারুন ছিল।আর আপনার রিভিউ অনেক সুন্দর ছিল।🤟
হাহা ভাই! টিক টক থেকেই এখন সবাই নাটকে চলে আসতেছে। মেয়েটির এই নাটকটি দেখতে পারেন। ইউনিক এবং বাস্তবধর্মী। ধন্যবাদ আপনাকে ভাই ❤️🌼
এই নাটকটি আমার এখনো দেখা হয়নি ।।তবে রিভিউটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো ।নাটক দেখার প্রতি উৎসাহ জেগে উঠলো ।।আর মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত নাটক খুব ভালো লাগে ।।ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।।
জি ভাইয়া মাবরুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত সবগুলো নাটক এ সুপারহিট বলা চলে। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকেও ❤️
এই নাটকটি আমার এখনো দেখা হয়নি ভাইয়া, তবে কিছুটা কাহিনী পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আমি চেষ্টা করব এই নাটকটি একবার দেখার। জোভানের নাটক আমার কাছে অনেক ভালো লাগে আমি সব সময় এর নাটক দেখি। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে এত সুন্দর একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপু আপনাকেও ধন্যবাদ রিভিউটি পড়ে আপনার নাটক দেখার ইচ্ছে জাগার জন্য। আশা করি দেখবেন নাটকটি 🌼
নাটকটির মধ্যে অনেক তোলপাড় রয়েছে নাটকটি অনেক সুন্দর মনে হচ্ছে। আপনি আমাদের মাঝে নাটকটি চমৎকারভাবে রিভিউ করেছেন এখন আমি নাটকটি দেখে বেশ মজা পাবো। আমি সময় পেলে অবশ্যই এই নাটকটি একবার দেখার চেষ্টা করবো আমার কাছে বেশ ইউনিক একটা কাহিনী লেগেছে এই নাটকটির।
হ্যা ভাই! একদম ইউনিক একটি নাটক। দেখতে পারেন ভালো লাগবে
নাটকটির ছোট্ট একটি এড আমি দেখেছিলাম। ঐশী খুব সুন্দর ও অসাধারণ অভিনয় করেছে। আর জোভান আহমেদের অভিনয় নিয়ে কিছু বলার নেই। তার অভিনয়ের প্রশংসা করতে হয়। নাটকটি খুব তাড়াতাড়ি দেখবো।
প্রথমে ধন্যবাদ জানাই আপনাকে এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করার জন্য। আসলে আমি মনে করি এই নাটকের মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় উপস্থাপন করেছে নাট্যকাররা। তাই খুবই ভালো লেগেছে নাটকটি।