মকবুল কাকার খড় চুরি!
21-12-2022
০৭ পৌষ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? নিশ্চয় খুব ভালো আছেন! আমি ভালো খারাপ মিলিয়েই আছি। তবে মাঝে মাঝে ভালো থাকাটাও কঠিন হয়ে পড়ে! যখন দেখি আশেপাশের মানুষগুলোর রূপ পরিবর্তন হয়ে যায়! সুখের জন্য কি অবলীলায় তারা স্বার্থান্বেষী মানুষু হয়ে যায়। দিন শেষে স্বার্থান্বেষী এই মানুষগুলোই কিন্তু ভালো থাকে। তবে সে ভালো থাকাটা কতটা দীর্ঘস্থায়ী আমার জানা নেই! যায়হোক, আজ এসব কথা বলবো না। এতো রাতে একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল! তাই চলে এলাম আপনাদেী সাথেও শেয়ার করে নেয়ার জন্য!
শীতের ঠিক এই সময়টাতে! ডিসেম্বরের পনেরো তারিখের মধ্যে ছয় সাবজেক্টের পরীক্ষা শেষ! মাথা থেকে সব চিন্তা একদম বাদ। এবার শুধু ঘুরাঘুরি! তখন ধানের ক্ষেত সব কাটা হয়ে যেত। কৃষকেরা ধান ঘরে তুলে নিত। আর ধানের জমি পরে থাকতো এভাবেই। ধান তোলা শেষ হয়ে গেলে খড় শুকানোর জন্য জমিতেই ছড়ায় দিত! খড় শুকিয়ে গেলে তারপর বাড়িতে ফুঞ্জি দিতো। আমাদের দিকে আঞ্চলিক ভাষায় এটাকে খড়ের ফুঞ্জি বলেই ডাকে। আর কি নামে ডাকে সঠিক জানা নেই। তো খড় শুকিয়ে গেলে জমিও খালি হয়ে যেত!
শীতের সময় কৃষকেরা খড় জমিতে ছড়ায় রাখতো। কিন্তু কুয়াশার কারণে আবার সকাল সকাল কুয়াশা জমে ভিজে যেত। ৫-১০ দিন এভাবেই রেখে দিতো। একদিন সন্ধ্যাবেলা! তখন অনেক শীত গ্রামে! আমরা পাড়ার কিছু ছেলে মিলে প্লেন করি খড় চুরি করে আগুন ধরিয়ে আমরা তাপ নিবো। যেই কথা সেই কাজ। বন্দের একদম মাঝে। ঘনকুয়াশা। আগুন ধরালেও দেখা যাবে না! আমরা কয়েকজন মিলে চলে যায় একদম মাঝ জমিতে। পাশে ছিল মকবুল কাকার জমি! ব্যাটা খড় শুকিয়ে রেখেছে দশদিন হয়ে গেছে! এখনও নেয়ার কোনো নাম নেই!
আমরা কয়েকজন চলে গেলাম মকবুল কাকার জমিতে! মাঝের খড় অনেক শুকনা! হাত তখন ছোট ছোট, হাহাহা! বেশি করে খড় নিয়েও আসতে পারেনা কেউ! অল্প অল্প করে এনে জমানো হলো। মাঝে থেকে আনা হলো, যাতে বুঝতে না পারে! আমরা খড় এনে উঁচু করে জমা করলাম। কিন্তু আমরা তো ম্যাচই আনতে ভুলে গেছি! পাশেই একজনের বাড়ি ছিল! সোজা দৌড় দিয়ে চলে গেল বাড়িতে। ডলফিনের এক টাকা দামের দিয়াশলাই ম্যাচ নিয়ে এসে পড়লো। আনতেই আগুন ধরিয়ে দেয়া হলো। আমরা সবাই আরামছে ঠান্ডার মধ্যে আগুনে তাপ নিতে লাগলাম।
আমাদের শরীর গরম হয়ে গেলে সবাই যার যার মতো বাড়ি চলে এলাম। কিন্তু বিপত্তিটা হলো সকালে! খড়ের কয়লা যে জমিতে পরে আছে! মকবুল কাকা আমাদের সন্দেহ করে। পরদিন বাড়িতে নোটিশ দিয়ে যায়। খড় দিয়ে আগুন লাগিয়েছি আমরা। তারপর মায়ের হাতে মারের কথা তো এখনও মনে পড়ে! এর পর থেকে আর কখনো এসব আকাম করা হয়নি! আসলে ভুল থেকেই শিক্ষা নিতে হয়! আপনি বারবার ভুল করলেন কিন্তু সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলেন না তাহলে কিন্তু পস্তাবেন। সো, জীবনে ভুল করার দরকার আছে! না হয় সেইম কাজ আবার করা হতো! তাই নয় কি?
যাক, আর কথা বাড়ালাম না। হঠাৎ করেই কথাগুলো মনে পড়ে গেল। আপনাদের সাথেও শেয়ার করে নিলাম। আপনাদেরও এমন সব মজার ঘটনা থাকলে শেয়ার করতে পারেন। আপনাদের সু্স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ 🌼
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Twitter share link
আপনি ছোটকালের শীতকালের বেশ সুন্দর একটি অনুভূতি শেয়ার করেছেন আমাদের সাথে।শীতকালের অনেক মজার ঘটনার স্মৃতি আমার মনে পড়ে গেছে আপনার গল্পটি পড়ে।সবার জীবনে কম বশি এমনই ঘটনা আছে ছোট কালের।পড়ে বেশ মজা পেয়েছি।
জি আপু, হঠাৎ মনে পড়ে গেল! 😁 তাই আপনাদের সাথেও শেয়ার করে নিলাম।
দুষ্টু মিষ্টি এ ধরনের ঘটনা আসলে আমাদেরও অনেক ঘটেছে। অনেক মজা করতাম শীতকালে মানুষের খড় এবং অনেক সময় ছোটখাটো লাকড়ি নিয়ে এসে জ্বালিয়ে আগুন পোহাতাম। যাক অনেক ভালো লাগলো আপনার স্মৃতিগুলো সবার মাঝে উন্মুক্ত করে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।
আপনার ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম ভাইয়া। শৈশবে এমন ঘটনা সবার কমবেশি থাকেই 😁
একদম ঠিক বলেছেন শৈশবে এই ধরনের ঘটনা কম বেশি সবারই থাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য।
শীতের সময় আগুনের তাপ নেওয়ার জন্য এইরকম কাজ আমরাও করেছি। তবে কখনো মায়ের হাতে মার খাওয়া লাগেনি কারণ কেউ নালিশ করতো না। আহারে মকবুল চাচার খড় শেষমেশ ছাই হয়ে গেল।।
কথাগুলো একেবারে সঠিক বলেছেন ভাই।। ধন্যবাদ আপনাকে।।
হাহাহা! মকবুল কাকা রেগে পুরাই আগুন! এমন ঘটনা সবার লাইফে কমবেশি থাকেই
সত্যিই শীতকালের মাঝে আমাদের ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। যেমন আপনার খড চুরির স্মৃতি আপনার মাঝে জড়িয়ে আছে এছাড়াও বিভিন্ন স্মৃতি রয়েছে। সকল বন্ধুরা মিলে শীতকালে আগুন পোহানোর মজাটাই ছিল আলাদা। সত্যি আমাদের মাঝে মাঝে ভুল করা উচিত সেই ভুল থেকে আমরা একটা না একটা জিনিস শিক্ষা পাই। খুবই ভালো লাগলো আপনার খড় চুরির গল্পটি পড়ে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।
জি ভাইয়া আপনি একদম ঠিক বলেছেন। ভুল থেকেই আমাদের শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
মকবুল কাকা যখন আপনার মায়ের কাছে বিচার দিয়েছিল তখন মনে হয় অনেক বকাবকি করেছিল আপনার মা আপনাকে। সত্যি ই অনেক মজা করেছিলেন এমনিতে মনে হয় খড় যখন জ্বালিয়েছিলেন। এরকম ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়লে এখনো ভীষণ ভালো লাগে। আমাদের সবার জীবনে ভালো খারাপ মিলে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এমনিতে কিন্তু অনেক মজা পেয়েছি আপনার এই গল্পটি পড়ে। এমনিতেই খড় চালাতে কিন্তু খুবই মজা হয়। মাঝখান থেকে খড় নিয়েছেন যেন কেউ বুঝতে না পারে। কিন্তু কয়লা গুলো ফেলে দিতে ভুলেই গিয়েছিলেন না হলে তো ধরা পড়তেন না।
জি আপু! মাইর পর্যন্ত খেয়েছিলাম,, 😁। এসব তো এখন শুধুই স্মৃতি!