ছোটগল্পঃ- প্রাক্তন
23-09-2023
০৮ আশ্বিন , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
শুভ বিকেল সবাইকে 🍀🦋। আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। যাক, আবারো হাজির হয়ে গেলাম আপনাদের মাঝে। আজকে আপনাদের সাথে আমার লেখা প্রথম কোনো ছোট গল্প শেয়ার করতে চলেছি। আশা করছি পড়ে ভালো লাগবে আপনাদের।
মধ্যরাত, চারিদিক নিস্তব্ধ। বাতাসের শো শো শব্দ ছাড়া কিছুই কানে আসছে না। রাস্তার কোণে হলুদ রঙের ল্যাম্পপোস্ট। মধ্যরাত হলেই অপার সেই ল্যাম্পপোস্টের দিকে তাকিয়ে থাকে। অজানা কোনো এক কারণে। আজ অফিস নেই। ব্যাচেলর মানুষ। জীবন নিয়ে কোনো সমস্যাও নেই। বালিশের কোণ থেকে এক প্যাকেট গোল্ডলিফ সিগারেট হাতে নেয়। এক হাতে সিগারেটের প্যাকেট আর এক হাতে একটি সিগারেট! অপার লাইটার খুজঁছে। কিন্তু পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর মনে পরলো টেবলের উপরে রাখা। সিগারেট টানতে টানতে বেলকনিতে এসে দাড়াঁয় অপার। রাত্রি তখন একটা বাজে তখন। গভীর রাত জাগার অভ্যাসটা এখনও যায় নি অপারের । সিগারেট টানতে টানতে শেষ পর্যায়ে। বেলকনিতে দাড়িঁয়ে অপার সেই হলুদ ল্যাম্পপোস্টের দিকেই তাকিয়ে আছি। সিগারেট শেষ! আরেকটা সিগারেট প্যাকেট থেকে বের করতেই তখনই টুং করে একটি মেসেজের শব্দ কানে আসে অপারের! বেডের পাশেই অপারের ফোনটি রাখা ছিল।
অপার ভাবতে থাকে প্রয়োজনীয় কোনো নোটিফিকেশন হবে না। কিন্তু তার পরেও কেন জানি অপার তার ফোনের কাছে গেল। ফোনটা হাতে নিতেই স্ক্রিনে দেখতে পেল একটি মেয়ের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট! কিছুটা আগ্রহ নিয়েই ফোনের লকটা খুলে ফেইসবুকে প্রবেশ করলো অপার। মেয়েটির প্রোফাইলে প্রবেশ করতেই দেখে প্রোফাইল লক করা! কিছুটা বিরক্ত বোধই করলো অপার। কিন্তু প্রোফাইলের ছবিটা দেখে অনেকটা চেনা চেনা মনে হচ্ছিল অপারের। পড়নে সাদা-নীল শাড়ি, ঘাসের উপরে বসে আছে। মাথায় ফুলের খোঁপা। অপার সিগারেট টানতে থাকে। হঠাৎ করে আবারও টুং শব্দ দিয়ে উঠে। হাতে ফোন টি নিতেই দেখে সেই মেয়েটি, যার প্রোফাইল দেখছিল, সে মেয়েটি মেসেজ দিয়েছে!
' হ্যালো '
অপার তেমন পাত্তা দিল না। মেসেজ সিন করে রেখে দিল। ঠিক কিছুক্ষণ পর আবার সেই একই মেসেজ!
'হ্যালো'
অপার কিছুটা বিরক্ত হয়েই মেসেজের রিপ্লাই দিল!
' আপনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন আবার বার বার হ্যালো হ্যালো করছেন কেন? '
নীলাম্বরী নীল! নামটিও অপারের চেনা নেই। তারপর মেয়েটি তার পরিচয় দিয়েই দিল!
' আমি শ্রাবণী! চিনতে পেরেছো আমাকে! ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলে খুশি হবো! '
অপার নামটি শুনতেই যেন একটা বড়সর ধাক্কা খেল! পাচঁ বছর আগে যে মেয়েটি তার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, সেই মেয়েটি আবার তাকে নক দিল! অনেক অভিমান জমে ছিল শ্রাবণীর উপর। একটা সময় এসে সব অভিমান ঝেরে ফেলে দেয় অপার!
অপার মেসেজ দেখে রেখে দেয়। আনমনে সিগারেট টানতে থাকে। সিগারেট খাওয়ার পিছনের কারণটাও শ্রাবণী। অপার কখনো সিগারেট এর ধোয়ার গন্ধ পর্যন্ত নিতে পারতো না। আর অপার এখন শ্রাবণীকে ভুলার জন্যই সিগারেট খায়। শ্রাবণী এখন তার জীবনে শুধুই একজন প্রাক্তন।
এতো বছর পর কেনই-বা শ্রাবণী তাকে নক দিল! সব অভিমান ভুলে অপার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে।
' আমি ভালো আছি। এতোদিন পর কেন আবার নক দিলে? '
' তোমাকে খুব মিস করছিলাম! '
' এসব কথা বলার জন্য আমাকে নক দিয়েছো তুমি? '
' আসলে আমি ভালো নেই। শোয়েবকে বিয়ে করে আমি পরে বুঝতে পেরেছি কত বড় ভুল করেছি। '
' এসব কথা শোনার সময় আমার নেই। তুমি ভালো থাকলেই ভালো! '
ঠিক পাচঁ বছর অপার চেয়েছিল শ্রাবনীর সাথে বাকিটা জীবন পার করে দেয়ার জন্য। কিন্তু শ্রাবনীর মিথ্যে মায়া সেদিন বুঝেনি অপার। কঠিন মুহূর্তে ঠিকই একা করে চলে যায় শ্রাবনী। আর তখন অপারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল রেনু। যে মেয়েটা এখন অপারকে অনেক ভালোবাসে। অপারও তার জীবনের সঠিক মানুষকেই পেয়েছে।
ঘড়িতে তখন রাত দুটো! শ্রাবনী যেন ভুলের প্রায়শ্চিত্ত এখন করছে। অপার চাইলেই আর শ্রাবণীর কাছে ফিরে যেতে পারবে না। প্রকৃতি কখনো খালি হাতে ফেরায় না। অপার সিগারেট টানতে টানতে শ্রাবনীর সাথে সব স্মৃতি ভুলতে থাকে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অপার বলে,
' তুমি ভালো থেকো। '
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।Posted using SteemPro Mobile
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
হা হা এটাই বাস্তবতা ভাই। একসময় শ্রাবণী যেমন অপার ভালোবাসার দাম দেয়নি। পাঁচবছর পর সে তার ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এসেছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কারণ ততদিন অপা একা থাকা শিখে নিয়েছে। শেষমেশ অপার ভালো থেক কথাটা যেন শ্রাবণীর আক্ষেপ বহুগুণে বাড়িয়ে দিল।।
প্রকৃতি কখনো কাউকে ছাড় দেয় না। ঠিকই প্রকৃতির আসল রূপ দেখিয়ে দেয়।
ছোটগল্পটি পড়ে আসলেই খুব ভালো লাগলো ভাই। অপার একেবারে উচিত কাজ করেছে শ্রাবণীকে প্রশ্রয় না দিয়ে। শ্রাবণীর মতো মেয়েরা প্রচুর স্বার্থপর হয়। নিজের স্বার্থের জন্য অপারকে রেখে শোয়েবকে বিয়ে করেছে। কিন্তু প্রকৃতি আমাদেরকে ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না। যে যেমন করে, সে তেমন পায়। শ্রাবণী ভালো নেই বলে অপারকে নক করেছে। ভালো থাকলে কখনোই খোঁজ নিতো না অপারের। যাইহোক অপার রেনুকে নিয়ে সুখে থাকুক সেই কামনা করছি। গল্পটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।