আবোল-তাবোল জীবনের গল্প [ শেখার আগ্রহ ]
হ্যালো বন্ধুরা,
আজ একটু ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবো, কারন অনেক দিন হয়ে গেলো আবুল তালোব জীবনের গল্প নিয়ে কিছু লেখা হচ্ছে না, আসলে অফিস পরিবর্তন নিয়ে খুব বেশী সময় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাই খুব একটা সময় করতে পারছি না। তবে হ্যা, লেখার আগ্রহ কিন্তু যথারীতি আমার মাঝে রয়েছে কারনটাও আপনারা জানেন আমি বাস্তবতা এবং বাস্তব জীবন নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভালোবাসি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমার কাছে ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি লেখার মাঝে সকলের উদ্দেশ্যে ছোটখাটো হলেও একটা মেসেজ রাখার।
আমরা আসলে নতুন কিছু শেখার কিংবা জ্ঞান বৃদ্ধি করার ব্যাপারে খুবই অলস আর এই বিষয়টি আমাদের বাঙালিদের মাঝে সবচেয়ে বেশী দেখা যায়। আমি নিজেও একজন বাঙালি যার কারনে এই রোগটা সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানি। আচ্ছা বলেই দিচ্ছি আমার মাঝেও অল্প বিস্তর রয়েছে এই রোগের বংশ হা হা হা। তবে এই কথাও সত্য যে, আমি যখনই সুযোগ পেয়েছি সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি এবং নিজের জ্ঞানের সীমানা বৃদ্ধি করার চেস্টা করেছি। না জবর দখল করে না বরং পড়াশুনা করার মাধ্যমে। কারন আমি বিশ্বাস করি জ্ঞানের সীমানা যত বেশী বৃদ্ধি পাবে, বাস্তব জীবনে কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ততোবেশী সুসংহত হবে।
এখন হয়তো আগের মতো ততোবেশী সময় কিংবা সুযোগ পাই না, তবে এখনো কোন বিষয়ে খটকা লাগলে সাথে সাথে গুগল মামার সহযোগিতা নিয়ে নেই, কারন প্রযুক্তি জানার বিষয়টি এখন আরো বেশী সহজ করে দিয়েছে। আচ্ছা আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, কয়টি বিষয়ে জানার জন্য আপনি গুগল এর সার্চ করেছেন? আমি জানি না আপনার উত্তরটি কি হবে, তবে যদি পজিটিভ কিছু হয় তাহলে আপনার জন্য শুভ কামনা আর যদি নেগেটিভ কিছু হয় তাহলে আপনার জন্য শুধুই হতাশা। কারন আপনি সুযোগ পেয়েও কিছু শিখতে পারেন নাই এবং সুযোগের স্বদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন নাই।
আচ্ছা একটু অন্য দিকে যাই এবার, কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে ভিবিন্ন কোম্পানী তাদের নামের নিচে অথবা বিজ্ঞাপনে কেন লিখেন ISO 9001 সার্টিফাইড? যদিও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক মাত্র কিন্তু তথাপিও এই ধরনের প্রশ্ন জাগা উচিত মনে। কারন আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি সবগুলোর ব্যাপারে অভিজ্ঞ নই কিন্তু তথাপিও সে বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাদের মাঝে কিছুটা হলেও কৌতুহল থাকা উচিত। যদি এই কৌতুহলটা না থাকে তাহলে কোন কিছু জানার ব্যাপারে আপনার মাঝে কখনোই আগ্রহ তৈরী হবে না এবং জ্ঞান বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে না, এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।
যাইহোক, ISO এটা হলো সংক্ষিপ্ত রূপ যার পুরোটা এই রকম ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অর্গানাইজেশন’। আরো একটু সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয় এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আর তাদের একমাত্র এবং প্রধান কাজ হলো পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মানের সনদপত্র প্রদান করা বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত হয়ে। এখনতো অনেক কিছুর ব্যাখ্যই বাংলায় পাওয়া যায়, যা আমাদের জানার ক্ষেত্রেটাকে আরো বেশী সহজ করে দিয়েছে। এটা তারই একটা উদাহরণ দিলাম।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন এখানে
আসলে এই কথাটা খুবই সত্য যে জীবনের জানার এবং শেখার কোন শেষ নেই তবে সেখানেও আগ্রহ নামক বিষয়টি উপস্থিতি থাকাটা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের মাঝে যদি সেই আগ্রহটা না থাকে, কোন কিছুর ব্যাপারে যদি আমাদের কৌতুহল কাজ না করে, তাহলে কি? কি আর হবে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী সেই কাজটিই করে যাবো যেটা পরীক্ষার হলে শিক্ষকদের ফাঁকি দিয়ে করে থাকি। জ্বী ভাই আমি নকলের কথাই বলছি, আপনি ঠিক ধরেছেন। আর এই বিষয়টির দারুণ উপস্থিতি রয়েছে আমাদের এই স্টিম ব্লকচেইনেও। যত কথাই বলা হোক না কেন, এটা পরিবর্তন হবে না এবং সেই বিশিষ্ট লোকরা কিছু জানার চেষ্টা করবে না বরং বার বার নানাভাবে ফিরে সেই কাজটাই করতে থাকবে।
তবে আমি মনে করি, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে এবং দারুণ সকল সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে না পারাটা খুবই দুঃখজনক এবং বোকামী। আমি পজিটিভ মনের মানুষ তাই সব সময়ই এটা বিশ্বাস করি, আমাদের পরিবর্তন হবে, আমাদের সঠিক বোধোদয় হবে এবং একটা সময় নিজেদের দারুণভাবে ফিরে পারো। পরিবর্তনের সেই বাতাসটা দ্রুত আসুক এবং আমাদের মাঝে পরিবর্তনের সূচনা করুক, এই প্রত্যাশায় শেষ করছি আজ।
Image taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||



আপনার আবোল-তাবোল সিরিজের যেকয়টি পোস্ট পড়ছি সব গুলোতে শেখার মতো অনেক কিছু ছিলো। সুন্দর লেখা পড়তে সবারই ভালো লাগে। যা আপনার লেখার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়।
আমাদের কোনো কিছু জানার জন্য অবশ্যই আগ্রহ থাকতে হবে। তা ছাড়া আমরা কিছুই বুঝতে পারবো না। যেমনঃ আমি যদি আপনার পোস্টে দায় এড়ানোর জন্য কমেন্ট করি তাহলে কিছুই বুঝতে পারবো না। তখন আমার চিন্তাই থাকবে আমাকে কিছু একটা কমেন্ট করতে হবে। কিন্তু আমি যদি ভাবি হাফিজ ভাই অনেক ভালো লিখেন দেখি কি লিখছে তাহলে সেই পোস্ট পড়তে যেমন ভালো লাগবে তেমন কিছু হলেও শিখতে পারবো।
আপনার আবোল-তাবোল সিরিজটি আমার অনেক ভালো লাগে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো ভাই।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন ভাই । পড়ে খুবই ভালো লাগলো । আপনার লেখনী সবসময়ই দিল কে ছুয়ে দেওয়ার মতনই হয় । আসলেই আমাদের শেখার কোন আগ্রহ নেই । আগ্রহ থাকলেও ইচ্ছা করে না এখনকার বর্তমান সময়ে । শর্টকাটে নেওয়ার ধান্দা করি সব সময় ।তাই আগ্রহ নামক বিষয় মুছেই গেছে ।ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য
আমিও আশা রাখি একদিন মানুষ এতো এতো লুকোচুরি,এতো ঝামেলা,এতো নকল করা এসব থেকে বের হয়ে আসবে।আর নিজের মধ্যে শেখার আগ্রহটি আনবে।
দেখা যাক আমাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূর্ণতা পায়। ধন্যবাদ
আপনার লেখাগুলো পড়ে খুবই ভালো লাগলো। আপনি একদম ঠিক বলেছেন জ্ঞানের সীমানা যত বৃদ্ধি পাবে আমাদের বাস্তব জীবনের কর্মক্ষেত্রে আমরা ততো বেশি উন্নতি করতে সক্ষম হব। তবে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রথমেই আমাদের প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও আগ্রহ। আমাদের ভিতর যদি জ্ঞান অর্জনের ক্ষুধা না থাকে তাহলে আমরা কখনই জ্ঞান অর্জন করতে পারব না। শিক্ষার কোন শেষ নাই আমরা প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন আমাদের মানসিকতা। কারণ আমরা শিক্ষা অর্জন করতে চাইনা। এটাই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমাদের বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপট গুলো যদি ভালো ভাবে বুঝতাম এবং বাস্তব জীবন থেকে শিক্ষা লাভ করার চেষ্টা করতাম তাহলে আমাদের জীবনে চলার পথ আরো বেশি সুন্দর হতো। নিজের জ্ঞানের সীমানা বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই জানার আগ্রহ তৈরি করতে হবে। আমাদের মাঝে জানার আগ্রহের খুবই অভাব রয়েছে। আমরা কখনোই কোন কিছু জানার ইচ্ছা পোষণ করি না। কারণ অনেক সময় আমরা ভাবি আমরা যদি কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করি তাহলে হয়তো তার কাছে আমরা ছোট হয়ে যাব। এই ধারণা একদমই ঠিক নয়। আমরা প্রতিটি মুহূর্তে ও প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারি। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির যুগে আমরা খুব সহজেই সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। সেজন্য সর্বপ্রথম আমাদের প্রয়োজন জানার ক্ষুধা এবং আগ্রহ। শেখার আগ্রহ হচ্ছে নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর মূলমন্ত্র। অনেক সুন্দর একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
ঠিক বলেছেন সমস্যা আমাদের মনে, যতক্ষন না আমরা কিছু অর্জন করতে চাইবো, নতুন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে চাইবো ততোক্ষন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হবে না এবং শেখার আগ্রহ জন্ম নিবে না। ধন্যবাদ
ভাইয়া আপনার লেখা মানেই অসাধারণ কিছু। আপনি একজন বাস্তব চিন্তা ধারার মানুষ। আপনি সব সময় আমাদের বাস্তবের চিন্তা ধারা গুলোকে অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেন। আপনার লেখার মাধ্যমে আপনি সবসময় শিক্ষামূলক বিষয় উপস্থাপন করেন। আপনার পোষ্ট পড়ার মাধ্যমে সব সময় অনেক কিছু সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে সক্ষম হই। যেমন আজ আপনি যে বিষয়টির উপর উপস্থাপন করেছেন সেই বিষয়টি আসলে আমাদের জন্য খুবই উপকারী। আপনি একদম ঠিক বলেছেন আমাদের মধ্যে শেখার আগ্রহের খুবই অভাব। তবে প্রত্যেকটি ব্যক্তির মধ্যেই শেখার আগ্রহ থাকা উচিত। আমাদের মাঝে যদি শেখার আগ্রহ থাকে তাহলে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়বে। আমাদের জীবনের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হলে শিখার আগ্রহ তৈরি করতে হবে। অনেক সুন্দর একটি বিষয় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
ভাই বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে সব শিখিয়ে দেয় কিন্তু আফসুস আমরা বুঝেও সেগুলোকে বুঝতে চাই না। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
এটাইতো আমাদের ভুল পথে নিয়ে যায় আমরা ভালো কিছুর জন্য কষ্ট করতে চাই না, বরং সহজ উপায় খুজি। ধন্যবাদ
ঠিক বলেছেন ভাইয়া, এই রোগ সবার মধ্যে রয়েছে কমবেশি।তাছাড়া কৌতূহল থাকাটা খুবই জরুরি তাহলেই জানার ও শেখার আগ্রহ সৃষ্টি হবে মনে।কিন্তু আমরা বাঙালিরা খুব বেশি গভীরে যেতে চাই না কোনো বিষয় জানার ক্ষেত্রে।তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে হবে আমাদেরকে।আপনার আবোল-তাবোল গল্পের বিষয়টি দারুণ শিক্ষণীয়।আমি মনে করি সকলের এটি পড়া উচিত।ধন্যবাদ ভাইয়া।
এটাই সমস্যা কেন জানি বাঙালিদের মাঝে অলসতা নামক শব্দটির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে একটু বেশী।
একদম ঠিক ভাইয়া, তবে আশা করি সবার মধ্যে নতুন বিষয়ে শেখার আগ্রহ জন্মাবে।
আবোল-তাবোল জীবনের গল্প
লেখনি অসাধারন
শিখতে হবে জীবনভর
কে করেছে বারণ
ভাইয়া তোমার চেষ্টা কভু
যাবেনা বিফলে
অনেক জনেই শিখবে ভাইয়া
আসবে তোমার দলে
জানার, শেখার, বোঝার,
নেইত বয়স কোন
সব বাঙালি ভাই বন্ধুরা
এই কথাটি যেনো
♥♥
দিনশেষে সুযোগ সবার কাছে বারবার আসেনা আর যারা সুযোগ পেয়ে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারবে না তাদের জন্য আসলে ভবিষ্যতে সবসময় অন্ধকার অপেক্ষা করে। আপনার এই সিরিজের লেখাগুলো অনেক চমৎকার হয় এবং খুব শিক্ষনীয় বিশেষ করে কমিউনিটির সবার জন্য। ধন্যবাদ
ভাইয়া,ঠিক বলেছেন শেখার কোন শেষ নেই এবং শিখতে কোন বয়স লাগে না।কোন কিছু শিখার জন্য আমাদের আগ্রহ কৌতুহল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আগ্রহী এবং কৌতূহল না দেখাই তাহলে কোন কিছু আমাদের পক্ষে শেখা সম্ভব না। ভাইয়া,আপনার প্রতিটা পোস্টে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো থাকে যা পড়লে সত্যিই অনেক ভালো লাগে। এই ছাড়াও অনেক কিছু শিখতে পারি। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি পোষ্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।