হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো এবং সুস্থ্য আছেন? যদিও বেশ খারাপ অবস্থা বিড়াজ করছে চারপাশে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে সব কিছু কেমন জানি স্থবির হয়ে পড়েছে। গতকাল ঝুম বৃষ্টির মাঝে বেশ কষ্ট করে বাড়িতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলাম, যদিও কাকভেজা ভিজতে হয়েছিলো। এই কাকভেজটা যে কি জিনিষ সেটা গতকাল বেশ ভালোই টের পেয়েছিলাম আমি হি হি হি। তবে বাড়িতে এসে পত্রিকার নিউজ দেখে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলাম। কারন ব্যাপক যান-জটে শহরের মানুষ বেশ দূর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছিলো। যদিও এটা আমাদের দেশের একটা কমন সমস্যা, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই শহরের সব কিছু কেমন জানি স্থবির হয়ে যায়।
বাস্তবতা সত্যি আমাদের অনেক কিছু শেখায় কিন্তু আমাদের উপরের দায়িত্বশীল হয়ে যারা বসে থাকেন তাদের কিছুই শেখায় না। কি অবাক করার বিষয় না? সত্যি স্বাধীনতার এতো বছর পাড়ি দেয়ার পরও আমাদের দায়িত্ববোধ এখনো সচল কিংবা গতিশীল হলো না, সামান্য বৃষ্টিপাতেই আমাদের শহরের গাড়িগুলো কেমন নৌকায় পরিনত হয়ে যায়, দায়িত্বশীল কর্তারা মনে হয় সেটা দেখে পিকনিকের ভিন্ন দৃশ্য কল্পনায় উপভোগ করেন আর সাধারণ মানুষ জলের পানিতে কাকভেজা হয়ে বাড়িতে ফেলেন। ঐ যে বলে না কারো পৌষ মাস আর কারো কারো হয়ে যায় সর্বনাশ।

যাইহোক, সত্যি কথা বেশী বলতে নেই তাহলে আবার কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙ্গে যায়, আর ঘুম ভেঙ্গে গেলে তারা পিকনিকের আশায় মানুষের পকেট কাটা শুরু করে দেন, কারণ বৃষ্টির শীতলতায় তাদের আবার বেশী খিদা লেগে যায়। ঐ যে বলে না অলস মস্তিস্ক বুদ্ধিমানদের আকাম করার কারখানা হা হা হা। অবশ্য বাঙালীরা বৃষ্টির দিনগুলোতে ভিন্নভাবে ভিন্ন কিছুর মাধ্যমে হৃদয়কে তৃপ্ত করার চেষ্টা করে, সেটা বহুকাল ধরেই ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে।
রিমঝিম বৃষ্টির কলতানে
হৃদয় নাচে স্বাদের কিছুর লোভে,
খিচুড়ির সাথে ইলিশ ভাজা
হৃদয় তৃপ্ত নির্মল ভালোবাসা।
না না না, বৃষ্টির সাথে ইলিশের কোন সম্পর্ক নেই, তারা কেউ কারো শত্রু পক্ষ না। তবে স্বাদের একটা বৈরিতা আছে সেই অতীতকাল হতেই যার সুবাদে বৃষ্টির শীতলতায় সবাই কেমন ইলিশ বধ করার প্রচেষ্টায় থাকে। রসিক মানুষজন যেমন রসের চিন্তায় নতুন নতুন রেসিপির ছক কষে, ঠিক তেমনি প্রিয়তমার উষ্ণ স্পর্শতার কামনায় কবিরা কবিতায় সাজার হৃদয়ের আকাশ, আর বাকিদের কথা নাই বা বললাম হি হি হি। অবশ্য বৃষ্টির দিনে কবিদের সংখ্যাটা দ্বিগুন হয়ে যায় সেটার দারুণ একটা প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিগুলোতে।

বৃষ্টির বর্ষণমুখর শীতলতায়
অলস মস্তিস্ক ঘুমের আলসেমীতে
ছন্দময় ভাবনায় কবিতার কল্পনায়
কাব্য কথায় প্রেমের প্রকাশ পায়।
বৃষ্টির শীতলতায় বন্দী
চার দেয়ালের আঙ্গিনায়,
হৃদয়ের সীমানায় তার ছবি
দোলা দেয় ভিন্ন কামনায়।
না না না আমি মোটেও কবি নই, তবে বৃষ্টির শীতলতায় কিছু একটা লেখার চেষ্টা করেছি মাত্র। হৃদয়ের মাঝে কারো স্পর্শের আকাংখায় শব্দগুলো পূর্নতা পায় নতুন ছন্দ পাতায়। হয়তো এটাই সকলের ক্ষেত্রে হয় আর নতুনভাবে নতুন কাব্যে কবিতার চর্চায় নিজেকে হারায়। দুর্ভোগ করে বৃষ্টির ভালোবাসায় সুখের ছোঁয়া আসুক সকলের দোরগোড়ায় এই প্রত্যাশায় শেষ করলাম আজ।
Image from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah



আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

বাইরে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে পোস্টটি পড়ছি।এত বৃষ্টি আর ভাল লাগছে না। আমাদের দেশে খুবই পরিকল্পনার অভাব,আবার অনেক সময় ইচ্ছা করেই ভুল পরিকল্পনা করা হয়। ভাল লিখেছেন ভাইয়া। ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটির জন্য।
আসলে ভাইয়া বৃষ্টি হলে প্রতিটা গাছপালা সতেজ রুপ ধারণ করে এবং গাছপালা তারা তাদের নতুন জীবন ফিরে পায় । আর বৃষ্টিময় দিনে আপনি খুবই দারুণ একটা পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো। ভাইয়া ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটা বৃষ্টিময় দিনের অনুভূতিটি পোস্ট করে শেয়ার করার জন্য।
ঢাকা শহরের অবস্থা আর কি বলবো! একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যায়। আর প্রাইভেট কার চালককরা তখন মনে করে তাদের নিজস্ব রাস্তা, মনে করে সমুদ্র দিয়ে নৌকা চালিয়ে যাবে। কিন্তু এতে যে আরেকজন ভিজে যেতে পারে তাদের বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই! যাক, বৃষ্টির দিনে কাব্যিক ছোয়া পেলাম ☘️
হা হা এই কথাটা অসাধারণ লেগেছে আমার ভাই। যে বৃষ্টি হলেই আমাদের দেশের কিছু মানুষ ইলিশ বধ করে পিকনিক শুরু করে দেয় হা হা। আর এদিকে আমাদের মতো মানুষেরা শহরে থেকেও কক্সবাজারের ফিল পাচ্ছে। তাহলেই ভাবেন কতটা সূদুরপ্রসারি চিন্তা তাদের। সবমিলিয়ে দারুণ লিখেছেন ভাই।।
প্রথমদিকে যখন বৃষ্টি হয়েছিল, মিরপুর এরিয়াতে অনেকগুলো মানুষ মারা গিয়েছিল। আসলে দায়িত্বশীল মানুষেরা দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছে না,
আপনার কবিতার ছন্দগুলো কিন্তু বেশ দারুণ, কবি না হয়েও আপনি কিন্তু কবিতার মাধ্যমে সকল ইউজারের মন জয় করেছেন।
তিন দিন ধরে প্রায় সারাদিনই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে গিয়েছে। এগুলো কর্তৃপক্ষের দেখার সময় নাই ভাই। তারা তো দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি দিয়ে চলাফেরা করে। বৃষ্টির পানি দিয়ে হেঁটে চলাফেরা করতো, তাহলে হাড়ে হাড়ে টের পেতো। যাইহোক এগুলো বলে আর লাভ নেই। বৃষ্টির মধ্যে বাসায় থেকে শুধু মজার মজার খাবার খাচ্ছি এবং উপভোগ করছি বৃষ্টি। বেশ ভালোই লাগছে আমার কাছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারণ করছে। এটা ভেবে সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। যাইহোক পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।