শুভ দুপুর বন্ধুরা,
আজকের বিষয়টি হয়তো আপনার কাছে অন্যরকম বিষয় হতে পারে, কারন আমাদের চারপাশের অধিকাংশ মানুষই সবচেয়ে বেশী উপভোগ করেন শপিং এ। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন করাটা একদমই অনুচিত। না হলে বিষয়টি মামলা হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে, তাই আমি কোন রিস্ক নিতে চাই না, হি হি হি। তবে হ্যা, এ বিষয়ে নিজের কিছু অনুভূতি ভাগ করে নিতে চাই।
কারন এ যাবতকাল পর্যন্ত আমার অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো মোটেও সুখকর না। আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো শপিং করাটা। শুরু হতে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আমার কাছে বড়ই অদ্ভুত লাগে। নিজের পছন্দের জন্য দোকানদারকে ইচ্ছেমতো খাটুনি দেয়া, এটা না ওটা নামান দেখি, এটার রংটা এই রকম কেন? এটা মনে হচ্ছে আমাকে মানাবে না, আরো ভালো কিছু নামান দেখি। নাহ আপনার দোকানের একটা জিনিষও পছন্দ হলো না, সরি ভাই অন্য দোকানে কিছু দেখার চেষ্টা করি।

এগুলো কোন গল্প কিংবা সিনেমার ডায়ালগ না, এগুলো বাস্তব এবং নির্মম কিছু সত্য, যা প্রতিনিয়ত আমরা ঘটাচ্ছি এবং আমাদের দ্বারা ঘটছে। তারপর যদি কোন একটা কিছু যদি পছন্দ হয়েই যায়, শুরু হয় অন্যরকম কিছু। দাম নিয়ে চলে সেই রকমের দর কষাকষি। কেউ কারো চেয়ে কম না, প্রয়োজনে আট/দশটা মিথ্যে বলা লাগলে বলবে কিন্তু জিততে আমাকে হবেই। এ যেন নির্মম কোন প্রতিযোগিতা, উভয়ই চায় বিজয়ী হতে।
আবার আমি অনেককেই দেখেছি, পছন্দ হওয়ার পরও বলে আরো দুই একটা দোকান ঘুরে দেখি। এই ঘুরে দেখাটা যে কি যন্ত্রণা যা আমি বোঝাতে পারবো না। কারণ ভাষা বিদ্যায় আমার অতো বেশী দক্ষতা নেই। উপর নিচ তলার কিছু দোকান ঘেটে দেখার পর বলে, নাহ সেই ড্রেসটাই বেশী সুন্দর ছিলো। সেটা নিলেই বেশী মানানসই হবে। এইবার বুঝেন অবস্থা না অনুভূতিটা কি রকম হতে পারে, কারণ তাহলে এতোক্ষন ঘোরাঘুরির প্রয়োজনটা কি ছিলো?



সত্যি বলছি, ক্লাশ টেন অবদি আমি কখনো আব্বু কিংবা আম্মুর সাথে মার্কেট যেতে চাই নাই, আর যদিও গিয়েছি আমার পছন্দের কোন কথা কোনদিনও বলি নাই। বরং শান্তভাবে তাদের পছন্দগুলোকে আপন করে নেয়ার চেষ্টা করেছি, শুধুমাত্র এই ধরনের যন্ত্রণার অনুভূতি হতে দ্রুত রক্ষা পাওয়ার আশায়। আমি শুরুতেই বলে দিতাম, যা খুশি তোমাদের পছন্দের একটা নিয়ে আসলেই আমি হাসি মুখে গ্রহণ করবো। কারন এটাই ছিলো আমার জন্য বেষ্ট অপশন, হি হি হি।
এবার আসি বর্তমান সময় প্রসঙ্গে। এখনতো আমার অবস্থা আরো বেশী কাহিল, শুধু কাহিল না পুরাই কাহিল বলতে পারেন। কারণ এখন শুধু পুরনো যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি গুলোই কার্যকর থাকে না বরং তার সাথে আরো কিছু যোগ হয়েছে, যেমন তার পছন্দের বিষয়টির খুব প্রশংসা করা নইলে ভাবভে আমি তাকে নিয়ে মোটেও চিন্তা করি না। শপিং ব্যাগগুলো সব আমাকেই বহন করতে হবে তার সাথে ফ্রি যোগ হবে ছেলে-মেয়েকে পাহারা দেয়াটা। না না আমি কিন্তু কোন অভিযোগ করছি না, কারন আমরা শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করতে চাই না বরং সব সময় একটা শান্তি ভাব বজায় রাখতে ইচ্ছুক, হি হি হি।



তাই যতটা সম্ভব যন্ত্রণাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব যন্ত্রণাকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করি। কারন আর যাই হোক অশান্তি তৈরী করা যাবে না, তাহলে বুঝতেই পারছেন কি কি নতুন সমস্যা আমার উপর পতিত হতে পারে। দাঁড়ান দাঁড়ান এক মিনিট, আপনি যদি অবিবাহিত হোন তাহলে পুরো বিষয়টি আপনার কাছে বাজে একটি গল্পের মতো লাগবে কিন্তু বিবাহিত হলে আমার কষ্ট কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারবেন। থাক, আজ এখানেই থামি নইলে বাতাস আবার উল্টে দিকে বইতে পারে, দেয়ালের কানের কথাও শুনি আজকাল, হি হি হি।


W3W Location Code: https://what3words.com/lectured.muffin.seducing
Device: Redmi 9, Xiaomi
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah



আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।


হাহাহা, ভাইয়া আপনার লিখা গুলো পড়ছি আর হাসছি আল্লাহ, এতো সুন্দর করে কথা বলেন আপনি হাহা। এটা একদম সত্যি কথা আমরা এই কাজ টায় করি সবসময়, এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু না। তবে এই কাজটা কিন্তু আপনারাই করবেন। কিছু করার নাই। যাই হোক দারুণ কিছু কথা বলেছেন ভাইয়া, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মজা পান নাই ফ্রিতে, দেন এখন টাকা দেন এতো বেশী হাসলেন কেন, হি হি হি হি
ভাইয়া,ছেলেদের ক্ষেত্রে এটি একটি যন্ত্র নয় এযেনো মহা যন্ত্রনা।আমাদের মানি মেয়েদের😁 অনেকের পছন্দের জিনিস এক দোকানে দেখার পরেও। আরো কয়েক দোকান ঘুরে আগের দোকানের জিনিস টা নেয়। কিন্তুু কেনো আগের দোকানে টা নিলে কি হতো?
সত্যি বলতে কি ভাইয়া,আমি এইসব ঝামেলায় ভিতরে নেই।আমি একদম সাদাসিদা ঝামেলামুক্ত।যেটা পছন্দ হবে এক দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসি।আমার উনাকেও কষ্ট দেই না আমি নিজেও কষ্ট করতে চাইনা।
ভাইয়া আপনার এই লেখাটি খুবই খুবই ভালো লেগেছে এবং হাসিও পাচ্ছে।
"মেয়েদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন করাটা একদমই অনুচিত। না হলে বিষয়টি মামলা হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে"
ধন্যবাদ ভাইয়া।
হাসি মিশিয়ে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেছি, একটু মজাতো লাগবেই, হি হি হি । ধন্যবাদ
ভাইয়া আমার ক্ষেত্রে কিন্তু একদম ব্যতিক্রম, আমি শপিং মোটেও পছন্দ করিনা, শপিংয়ে গিয়ে ঘোরাঘুরি আমার খুবই বিরক্তিকর লাগে আপনার মত। কিন্তু মাঝে মাঝে কি আর করা, বাধ্য হয়ে করতে হয়, সময়ের পর সময় লেগে যায় পছন্দ করতে করতে, তবে এক্ষেত্রে আমার হাজবেন্ডের অনেক ধৈর্য্য রয়েছে তিনি মোটেও বিরক্ত হননা।
এটা আমার দৃষ্টিতে ভালো, শপিং এ যত কম সময় ব্যয় করা যায় হি হি হি। ধন্যবাদ
আপনে অনেক সুন্দর একটা বিষয় আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। শপিং মানে হলো অনেকটা ধৈর্য পরিক্ষা। যা বেশির ভাগ ছেলেদের থাকে না। পরিবারের মেয়েদের সাথে যেদিন শপিং করতে যাওয়া হয় সেদিন যেন জীবনের উপর দিয়ে একটা বড় সর ঝড় বয়ে যায়। কারণ, তাদের পছন্দ মেলা ভাড়ী দায়।
তবে আমি এতো ঘুরাঘুরি করে জিনিস পছন্দ ভালো লাগে না। আমার কথা হলো, কয়েকটা দেখে কিনবো,কয়েকদিন ব্যবহার করব। ভালো না লাগলে আবার কিনবে। তবুও ওতো ঘুরে শপিং করা যাবে না।
অনেক সুন্দর ভাবে বিষয়টা উপস্থাপনার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। শুভ কামনা রইল।
এইডা আপনি ঠিক বলেছেন, শপিং মানেই হলো আমাদের ধৈর্য পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় আমি সরাসরি ফেইল, হি হি হি ।
মামলার ব্যবস্থা মনে হচ্ছে করতেই হবে। তবে তার আগে পুলিশ তো লাগবে। দেখি সুমন ভাই আছেন কিনা।😜🤭
এতো গুলো যে যন্ত্রণায় কেচ্ছাকাহিনী শুনালেন ভাবি জানে তো?,🤭🤭
তবে যাই বলেন না কেনো শপিং এর মতো মজা আমি আবার কোনো কিছুতেই পাই না।শপিং মানেই তো আনন্দ আর এক্সাইটমেন্ট।
হে হে হে সুমন ভাই আনবো পুলিশ, তাইলেই হইছে। ভাবি তো ভাবির জায়গায় এখানে আসবে কিভাবে?
কোনো একদিন পাই।
সব সুদে আসলে শোধ করবো।
হজম করতে পারবেন তো? স্যালাইন রেডি রাইখেন, হে হে হে
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
ভাইয়া আমিও বিবাহিত তাই আমি আপনার অভিজ্ঞতা তা অনুভব করতে পারছি। যেদিন বউ আমাকে বলে যে, চলো শপিং করতে হবে শপিংয়ে যাব। সেই দিন আমার কাছে মনে হয় যে শপিং-এ যাচ্ছি না আমি কোন যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছি তাই সেই রকম প্রস্তুতি নিয়েই যায়। তবে বিষয়গুলো আমি খুব উপভোগ করি। ভাইয়া শপিং নিয়ে আপনি আপনার অভিজ্ঞতা টা খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। পড়ে খুব ভালো লাগলো। শুভকামনা রইল আপনার জন্য ভাইয়া।
ধন্যবাদ ভাই আমার দুঃখগুলো বুঝতে পারার জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাই,, শপিং বিষয়টা আমার কাছে খুবই বিরক্ত লাগে। আমি বেশিরভাগ সময় যে কোন একটা দোকানে গিয়ে প্রথম দুই একটা জিনিস দেখার পরে সেটা কিনে ফেলি। কারণ শপিং এ ঘুরাঘুরি টা আমার কাছে মোটেও পছন্দ নয়।
ধন্যবাদ ভাই সহমত পোষণ করার জন্য।
খুব ভালো বিষয়ে লিখেছেন ভাই। ছোটবেলাতেই ভালো ছিলাম আম্মু আমার জামা প্যান্ট পছন্দ করে দিত। এখন বুঝছি নিজের জিনিস পছন্দ কতটা কঠিন। এবং আমি ভূল করেও মহিলাদের সাথে শপিং এ যায় না😂।
এই কাজটা মেয়েরা বেশি করে। ছেলেরা দুই একটা দেখে নিয়ে নেয়।
খালি বেশী না ভাই খুব বেশী করে, আজ কাল তো এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েগেছে। ধন্যবাদ
ঠিক ঠিক ঠিক 👏👏
ভাই আপনার সাথে আমিও একমত।এই সপিং ও মার্কেটিং আমারও পছন্দ নয়।আমি সপিং গেলে এক দোকানে ঢুকবো,ওখান থেকে সপিং শেষ করে উঠবো।বেশি ঘোরা ঘোরা পছন্দ করি না।
সব মিলে ভালোই ছিল আপনার পোস্টটি ধন্যবাদ আপনাকে।