বন্ধুরা, কেমন আছেন আপনারা সবাই?আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন।আমিও মোটামুটি ভালোই আছি।আজ আমি একটি ভিন্নধর্মী রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।আশা করি রেসিপিটা ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে।
টক-ঝাল-মিষ্টি শুকনো কুলের আচার রেসিপি:

বন্ধুরা,অনেকদিন হলো কোনো রেসিপি পোষ্ট শেয়ার করা হয়নি।তাই আজ ভিন্ন কিছু নিয়ে চলে আসলাম আপনাদের সামনে।লোভনীয় এবং জিভে জল আনার মতো শুকনো কুলের আচার নিয়ে।অনেকেই যেটাকে বরই বলে চিনে থাকেন।গতবছর আমাদের গাছের অনেক পাকা কুল ধুয়ে রোদে শুকিয়ে রাখা হয়েছিল।কিন্তু সময়ের অভাবে সেগুলো খাওয়ায় হচ্ছিল না।তাই এই রেসিপিটি আমি কয়েকদিন আগেই করেছিলেন।আচার তৈরির পর খেতে অসাধারণ স্বাদের হয়েছিল জিভে লেগে থাকার মতো।অসময়ের জিনিসগুলো খেতে একটু বেশি মজাই লাগে।তো কথা না বাড়িয়ে চলুন রেসিপিটি শুরু করা যাক----

★★উপকরনসমূহ:

| উপকরণ | পরিমাণ |
| শুকনো কুল | 1বাটি |
| চিনি | 1 কাপ |
| লবণ | 1/2 টেবিল চামচ |
| হলুদ | 1/2 টেবিল চামচ |
| গোটা শুকনো লঙ্কা | 3 টি |
| লাল মরিচ গুঁড়া | 1/2 টেবিল চামচ |
| জিরা গুঁড়া | 1.5 টেবিল চামচ |
| পাঁচফোড়ন গুঁড়া | 2 টেবিল চামচ |
| সরিষার তেল | 1.5 টেবিল চামচ |
| জল |
★★প্রস্তুতপ্রণালী:
ধাপঃ 1

প্রথমে আমি শুকনো কুলগুলি কিছুক্ষণ জলের মধ্যে ভিজিয়ে রেখে দেব।
ধাপঃ 2

এরপর পাঁচফোড়নগুলি চুলার লো আঁচে নেড়েচেড়ে ভেজে নেব একটি পরিষ্কার কড়াইয়ে।
ধাপঃ 3

ভেজে নেওয়া পাঁচফোড়নগুলি শীল-পাটার সাহায্যে গুঁড়া করে নেব।
ধাপঃ 4

এখন আমি হাতে বেঁটে মিহি করে গুঁড়া করে নিয়েছি পাঁচফোড়নগুলি।
ধাপঃ 5

এরপর কড়াইতে হালকা সরিষার তেল দিয়ে গরম করে নিলাম তার মধ্যে গোটা শুকনো লঙ্কা দিয়ে দিলাম।
ধাপঃ 6

লংকাগুলি নেড়েচেড়ে ভেজে নিলাম ভালোভাবে।
ধাপঃ 7

এখন ভাজা লঙ্কার মধ্যে কুলগুলি ধুয়ে নিয়ে দিয়ে দিলাম।
ধাপঃ 8

এরপর স্বাদ মতো লবণ, হলুদ ও শুকনো মরিচ গুঁড়া দিয়ে দিলাম।
ধাপঃ 9

কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ভেজে নিলাম কুলগুলি।
ধাপঃ 10

এবারে স্বাদ মতো চিনি দিয়ে দিলাম।
ধাপঃ 11

চিনিগুলি ভালোভাবে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ জল দিয়ে দিলাম কুলের মধ্যে।
ধাপঃ 12

কুলগুলি আরো কিছুক্ষণ জ্বালিয়ে সেদ্ধ হয়ে এলে ভাজা জিরে ও পাঁচফোড়ন গুঁড়া ছড়িয়ে দিলাম।
ধাপঃ 13

গুঁড়া মসলাগুলি ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে নেড়েচেড়ে অল্প কিছুসময় আবারো ভেজে নিতে হবে।
শেষ ধাপঃ

সবশেষে আচারটি হয়ে গেলে এখন একটি পাত্রে তুলে নেব।তো তৈরি করা হয়ে গেল আমার "টক-ঝাল-মিষ্টি শুকনো কুলের আচার রেসিপি"।
পরিবেশন:


এখন এটি গরম কিংবা ঠান্ডা যেকোনো অবস্থায় পরিবেশন করতে হবে।এটা খেতে অনেক সুস্বাদু ও মজাদার হয়েছিল।তাছাড়া চাইলে এটি 15-20 দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করেও পরিবেশন করা যাবে।

| শ্রেণী | রেসিপি |
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |

আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি
@green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।
Posted using SteemPro Mobile
টুইটার লিংক
আমরা কুল কে বড়ই বলেই ডাকি। তবে কুল নামটিও পরিচিত। আপনাদের গাছের পাকা বড়ই গুলো রোদে শুকিয়ে পরে সেগুলো দিয়ে আচার তৈরি করেছেন। বড়ই এর আচার কখনো তৈরি করিনি তবে আমার কাছে খেতে খুব ভালো লাগে। বেশির ভাগ সময় কিনে খাওয়া হয়। আজকে আপনার কাছ থেকে রেসিপিটি দেখে ভালো লাগলো। খুবই লোভনীয় লাগছে দেখতে। খেতেও নিশ্চয়ই খুব সুস্বাদু হয়েছে।
আচার আমাদের মেয়েদের অনেক পছন্দের একটি খাবার আর আচার পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন।আপনার আচারের কালারটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক মজাদার ছিল এবং দেখে এখনই খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে।এতো সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ দিদি।
প্রতিটা মানুষকে যদি জিজ্ঞাসা করা যায় আচার কাদের প্রিয় খাবার সবাই একবাক্যে বলবে মেয়েদের। তবে এই কথাটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণে আচার আমারও অনেক প্রিয় একটি খাবার। টক ঝাল মিষ্টি শুকনো ফুলের আচার এ তো আরো সুস্বাদু। আচার তৈরি পুরো প্রসেসিংটা আপনি চমৎকারভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
অনেকদিন পর কুলের আচার দেখতে পারলাম। এখন অবশ্য কূল ধরার সময়। প্রত্যেক গাছে গাছে কুল ধরে গেছে। যাই হোক খুব সুন্দরভাবে আপনি টক ঝাল আচার তৈরি করে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আর এই জাতীয় রেসিপিগুলোর কথা মনে আসলেই যেন জীবেতে জল এসে যায় এমনিতে। খুবই ভালো লাগলো সুন্দর আচার দেখতে পেয়ে।
এ বছর নতুন কুল ওঠার সময় হয়ে গেল আর আপনি গত বছরের কুলগুলো দিয়ে আচার বানানোর সময় পাচ্ছিলেন না। যাই হোক শেষমেষ নতুন কুল ওঠার আগেই সময় পেয়ে গিয়েছেন। বড়ই এর আচার আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আপনার আচার দেখেই মুখে পানি চলে এসেছে। এত লোভনীয় লাগছে দেখতে।
কুলই বলেন আর বড়ই বলেন খাবারটা যে লোভনীয় হয়েছে সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না । আচারটা দেখে মনে হচ্ছে আপনার বাটি ধরে নিয়ে আসি । ভালোই হয়েছে নিজেদের একটি গাছ থাকলে এভাবে শুকিয়ে রেখে যখন তখন খাওয়া যায়। কেনা বড়ই কি আর শুকিয়ে খাওয়া সম্ভব । আচারটি দেখে মনে হচ্ছে খুবই টেস্টি হয়েছে ।
অনেকদিন পর একটি লোভনীয় রেসিপি নিয়ে আপনি আমাদের মাঝে হাজির হলেন। টক-ঝাল-মিষ্টি শুকনো কুলের আচার রেসিপি দেখে ইতিমধ্যে লোভ লেগে গেল। এই আচারগুলো খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এত লোভনীয় আচারের রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
আপনি প্রথমে এখানে যে কুলের রেসিপিটি শেয়ার করেছেন প্রথমে সেটা চিনতে পারলাম না। পরে দেখতে পারলাম এই জিনিসটা আসলে কি৷ এই জিনিসটা আমাদের দেশে বরই নামে পরিচিত৷ আর আপনি যেভাবে এর আচারটি তৈরি করে ফেলেছেন এটি এখনি এখান থেকে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে৷ আর আপনি অনেক মজাদারভাবে এগুলো বানিয়েছেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ৷
কুল অর্থাৎ বড়ই। আমরা এটাকে বড়ই বলে থাকি। কুলটা দেখছি একেবারে শুকনা। কুলের আচার টা বেশ চমৎকার তৈরি করেছেন আপু। কুলের আচার আমার অনেক পছন্দের। দেখেই লোভনীয় মনে হচ্ছে। কুলের আচার তৈরির প্রতিটা ধাপ উপস্থাপন করেছেন বেশ দারুণ। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে এটা শেয়ার করে নেওয়ার জন্য আপনাকে।।