"থানকুনি পাতার মজার ঝোল রেসিপি"(10% বেনিফেসিয়ারী লাজুক খ্যাককে)
নমস্কার
বন্ধুরা,কেমন আছেন আপনারা সবাই?আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন।আজ আমি সকলের প্রিয় অন্য স্বাদের একটি রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে।সেটি হলো-"থানকুনি পাতার মজার ঝোল রেসিপি"।
আমি এই রেসিপিটি কয়েকদিন আগে করেছিলাম।কিন্তু আমার এক্সাম থাকায় শেয়ার করতে পারেনি।আজ অবশ্য ছুটি পেয়েছি,কাল আবার একটা এক্সাম হয়েই শেষ।তারপর প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার পালা।কারণ তারিখের পর তারিখ এটা ওটাই পিছাতে পিছাতে শেষমেশ পরীক্ষাটা শুরু হলো।যাইহোক আজ আমি অন্য স্বাদের একটি রেসিপি চিংড়ি মাছ দিয়ে করেছি থানকুনির সঙ্গে।আর এটি মাঝে মাঝেই খাওয়া চলবে গরমের দিনে আমাদের বাড়িতে।কারণটা বলে দিই----
●গরম পড়া শুরু হয়েছে, আর গরমে নানান সমস্যা।তাই আগে আমাদের পেট ঠিক রাখতে হবে।পেট ঠিক তো সব ঠিক😊😊 তাইনা!এইজন্য গরমের দিনে বেশি বেশি শাক সবজি খাওয়া শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।
●আমাদের প্রত্যেকের বিশেষ করে তেতো ধরনের শাক-সবজি খেতে হবে।যেমন -লাউ সুক্ত, বেগুন সুক্ত থানকুনি পাতা দিয়ে কিংবা নিম পাতা দিয়ে।এটি খেলে পেট ঠান্ডা থাকে ,ফলে পেটের গ্যাস্ট্রিক জাতীয় সমস্যা ও কম দেখা দেয়।
●এই তেতো জাতীয় শাকের মধ্যে আমি কোনো ঝাল বা মরিচ ব্যবহার করবো না।কারণ এতে তেতো জাতীয় শাক-সবজির যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থাকে তা নষ্ট হয়ে যায়।
●এছাড়া থানকুনি পাতা কাঁচা অবস্থায় ও খালি পেটে খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায় কিংবা এভাবে বেঁটে নিয়ে লবণ ও তেলের সঙ্গে হালকা মেখে ও খাওয়া যায়।কিন্তু আমি এটি রান্না করেছি হালকা পাকে।কারন এইসব শাক হালকা পাকেই বেশি ভালো লাগে খেতে।থানকুনি পাতা দিয়ে বিভিন্ন রেসিপি করা যায়।যাইহোক আমি থানকুনি পাতার একটু মাখা মাখা ঝোল রেসিপি বানিয়েছি।তো চলুন শুরু করা যাক---
★উপকরণসমূহ★
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| থানকুনি শাক | 1 ঝুড়ি |
| চিংড়ি মাছ | 100 গ্রাম |
| লবণ | 1/2 টেবিল চামচ |
| হলুদ | 1/3 টেবিল চামচ |
| গোটা জিরা | 1/2 টেবিল চামচের কম |
| পেঁয়াজ কুচি | 2 টি |
| সরিষার তেল | 2 টেবিল চামচ |
| জল | 1 কাপ |
★প্রস্তুতপ্রণালি★
➤এই জো,আমার থানকুনি পাতার বাগান।আমি প্রায় দেড় বছর আগে শহরের এক মাসীদের বাড়ি থেকে বড়ো জাতের কয়েকটি থানকুনি পাতা গাছ এনে লাগিয়েছিলাম।সেখান থেকেই ধীরে ধীরে একটি বাগান হয়ে গিয়েছে ।আর থানকুনি পাতার সাইজও বেশ বড়ো ও একদম টাটকা।
➤যাইহোক আমি এখন কিছু থানকুনি পাতা এখান থেকে সংগ্রহ করে তুলে নিলাম।
➤ তো আমি এক ঝুড়ি থানকুনি পাতা তুললাম।
➤থানকুনিগুলির পাতাতে যেহেতু বাসনা থাকে সেহেতু আমি ভালোভাবে বেছে নিয়ে জল দিয়ে ধুয়ে নিলাম 2-3 বার।
➤এবারে আমি শীল-নোরার সাহায্যে অল্প অল্প থানকুনি পাতা নিয়ে হালকা জল দিয়ে বেঁটে নেব মিহি করে।
➤ঠিক এইভাবে সবপাতা বেঁটে নেব ।
➤তো আমার থানকুনি পাতাগুলো বেঁটে নেওয়া হয়ে গেলে একটি পাত্রে তুলে নেব।
➤এবারে আমি কিছু ভেঁজে রাখা চিংড়ি মাছ নিয়ে নিলাম।চিংড়ি মাছগুলি আমি সামান্য লবণ, হলুদ ও জল দিয়ে ভেঁজে রেখেছিলাম শুকনো করে।
➤এবারে আমি বাকি উপকরণগুলি যেমন, পেঁয়াজ কুচি, লবণ ও হলুদ নিয়ে নিলাম পরিমাণ মতো।
➤এরপর মিডিয়াম আঁচে একটি পরিষ্কার কড়াই বসিয়ে দিয়ে হালকা গরম করে নিলাম।কড়াইটি গরম হয়ে গেলে তেল দিয়ে দিলাম আর সঙ্গে অল্প গোটা জিরা।তারপর ভেঁজে নিলাম নেড়েচেড়ে।
➤এবারে তেলের মধ্যে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিলুম ।তারপর নেড়েচেড়ে ভেঁজে নিতে হবে বাদামি রঙের করে।
➤পেঁয়াজ ভাজির মধ্যে চিংড়ি মাছগুলি দিয়ে হালকা নেড়েচেড়ে নিলাম।
➤এবারে আমি বেঁটে রাখা থানকুনি কড়াইতে দিয়ে ,তার মধ্যে লবণ ও হলুদ দিয়ে মিশিয়ে নেব নেড়েচেড়ে ।এছাড়া বাকি উপকরণগুলিও একত্রে মিশিয়ে নেব।
➤এবারে আমি থানকুনি পাতার মধ্যে 1 কাপ পরিমাণ জল দিয়ে দিলাম ,তারপর নেড়েচেড়ে নিয়ে ফুটিয়ে নেব 5-7 মিনিট ধরে।
➤তো আমার রেসিপিটা ফুটে উঠেছে।এবার এটি নেড়েচেড়ে একটি পাত্রে নামিয়ে নেব।
➤তো তৈরি করা হয়ে আমার"থানকুনি পাতার মজার ঝোল রেসিপি"।এবার এটি গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।এটি খেতে খুবই উপকারী ও মজার।
আশা করি আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের রেসিপিটা ভালো লাগবে।সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ও সাবধানে থাকবেন।
টুইটার লিংক
দিদি,ঠিক কথা বলেছেন এই গরমে বেশি বেশি শাকসবজি খেলে পেটের জন্য খুবই ভালো। দিদি, আপনার তৈরি করা থানকুনি পাতার রেসিপিটি কিন্তু আমার কাছে একদম ইউনিক লাগছে। কারণ আমি থানকুনি পাতা দিয়ে ঝোল ভর্তা ডাল দিয়ে রান্না করে খেয়েছি। তবে কখনো চিংড়ি মাছ দিয়ে এইভাবে রান্না করে খাওয়া হয়নি। দিদি, ভালোই হয়েছে আপনি এতো সুস্বাদু এবং উপকারী একটি রেসিপি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।আমি কালকেই আপনার তৈরি করা রেসিপিটি ঘরে তৈরি করে খেয়ে দেখব। অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি এতো সুস্বাদু এবং ঔষধি গুনে ভরপুর রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অবশ্যই তৈরি করবেন আপু,বেশ মজার খেতে।😊অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য।
আপু আমার কাছে আপনার রেসিপিটি একবারে নতুন মনে হইতেছে, থানকুনি পাতার রেসিপি আমি কখনো খাইনি, তবে আপনার রেসিপিটি দেখে মনে হইতেছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে, অনেক সুন্দর করে উপস্থাপনা করেছেন আপু, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।
হ্যাঁ, অনেক মজার খেতে এটি,খেয়ে দেখবেন একদিন।অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
থানকুনি পাতার মজার ঝোল রেসিপি দেখে খুব লোভ লাগছে আপু। কারণ থানকুনি পাতা দিয়ে চিংড়ি মাছের এত সুন্দর ঝোল রেসিপি আমি এর আগে কখনো খাইনি। আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে থানকুনি পাতার ঝোল রেসিপি খেতে খুবই সুস্বাদু ও মজাদার হয়েছিল। আপু আপনার তৈরি রেসিপি দেখে আমার কাছে ভিন্নধরনের একটি রেসিপি মনে হচ্ছে। যাকে বলে এক কথায় অসাধারণ। আর এই অসাধারণ সুন্দর রেসিপি থানকুনি পাতার ঝোল রেসিপি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার গঠনমূলক সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
থান কুনি পাতা দিয়্র যে এতো সুন্দর ঝোল রেসিপি করা যায় আপু।আগে জানা ছিল না সত্যি এটা ইউনিক ছিল আমার জন্য।অনেক সুন্দর হয়েছে রেসিপিটা মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হবে।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাইয়া, এটি খুবই সুস্বাদু খেতে।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে দিদি থানকুনি পাতা সব সময় আলু দিয়ে কাঁচা ভর্তা করে খেয়ে এসেছি, কিন্তু আপনি যেভাবে আজকে রেসিপিটি শেয়ার করেছেন এভাবে কখনো খেয়ে দেখি নাই। তবে আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছে, অবশ্যই বাসায় একদিন এভাবে রেসিপি তৈরি করে খেয়ে দেখব স্বাদটা কেমন লাগে। অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে সম্পূর্ণ নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমি কখনো থানকুনি আলুর সঙ্গে খাইনি।কিন্তু কাঁচা ভর্তা প্রায় খাই।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার সুন্দর অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য ভাইয়া।
থানকুনির পাতা অনেক ঔষধি গুণসম্পন্ন।থানকুনির পাতা অনেকে খেয়েছি কিন্তু এইভাবে রেসিপি তৈরি করে খাওয়া হয়নি।আপনার কাছ থেকে নতুন রেসিপি আজকে শিখলাম। শুভকামনা রইল আপনার জন্য
অনেক মজার খেতে এটি,খেয়ে দেখবেন একদিন।অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
থানকুনি পাতা অনেক রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক পুষ্টিকর। আপনি চমৎকারভাবে থানকুনি পাতার ঝোল রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
ঠিক বলেছেন, অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
থানকুনি পাতার মজার ঝোল আপনার এই থানকুনি পাতার মজার ঝোল রেসিপিটি খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে। আপনার উপস্থাপনা যথেষ্ট ভালো ছিলো। তাই খুব ভালো লেগেছে। ধাপে ধাপে খুবই সুন্দর করে রেসিপিটি বানিয়েছেন। সব দিক থেকেই বেস্ট ছিলো। শুভেচ্ছা রইলো
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য।
ভেষজ ঔষধ হিসেবে আমাদের এলাকায় থানকুনি পাতার কদর আছে অনেক আগে থেকেই। কিছুদিন আগে যখন করোনা শুরু হলো তখন শুনেছিলাম সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতা খেলে করোনা হয় না। এরপরে রাতারাতি দেখি সব থানকুনি পাতা উধাও হয়ে গেছে। এভাবে চিংড়ি মাছ দিয়ে কখনও থানকুনি পাতা খাওয়া হয়নি। রেসিপিটি অনেক ভালো লাগলো।
এমনিতেই ছোটবেলা থেকেই আমি শুনে আসছি ,খালি পেটে থানকুনি পাতা খেলে অনেক উপকার হয়।কিন্তু করোনা হয় না এটি আপনার কাজ থেকে শুনলাম, আসলে করোনার সময় মানুষ সব ধরনের ঔষুধি গাছের প্রয়োগ করেছিল আরকি!অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।