বর্ধমানের দুর্গাপূজা প্যান্ডেল: "মায়ানমারের স্বর্ণমন্দিরের কিছু ফটোগ্রাফি"
নমস্কার
বর্ধমানের দুর্গাপূজা প্যান্ডেল: "মায়ানমারের স্বর্ণমন্দিরের কিছু ফটোগ্রাফি"
বর্ধমান একটি ঐতিহাসিক শহর।কলকাতার পরেই তাই বর্ধমান শহরের নাম বলাই যায়।কারন এই বর্ধমান শহরের আলাদা একটা ঐতিহ্যও খ্যাতি যেমন রয়েছে তেমনি বেশ পরিচিতিও রয়েছে।বর্ধমান শহরে আগেকার দিনে অনেক জমিদার ও রাজ -রাজাদের বসবাস ছিল।বর্তমানে সেই জমিদারীত্ত্ব না থাকলেও তাদের কিছু বংশধর রয়েছে,আবার কোনো কোনো রাজা তার সম্পত্তি কলেজ কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দান করে গিয়েছেন।কোনো কোনো জমিদার বাড়ি আবার পরিত্যক্ত অবস্থায় পাখি কিংবা ছোট ছোট প্রাণীর বসবাসের স্থান হয়ে রইয়ে গেছে। যাইহোক আমি নবমীর দিনে বর্ধমান শহরের পূজা দেখতে বের হয়েছিলাম।আর ঘুরে ঘুরে মোট ছয়টি প্যান্ডেলের পূজা দেখেছি।প্রত্যেকটি প্যান্ডেল আলাদা আলাদা থিম ও বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি।তাই সবগুলো প্যান্ডেলের বর্ননা বা ছবি একটি পোষ্টে শেয়ার করা সম্ভব নয়।সেগুলো আমি আপনাদের সঙ্গে আলাদাভাবে শেয়ার করবো।তো চলুন দেখে নেওয়া যাক---
আলিশার ছোট্ট পূজা প্যান্ডেল দেখে আমরা আবারো হাঁটতে শুরু করলাম রোদ্রের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট।এরপর পৌঁছে গেলাম সবুজ সংঘ ক্লাবে।
সবুজ সংঘ ক্লাবের দুর্গামা দর্শন
◆থিমের নাম:(মায়ানমারের স্বর্ণমন্দির)
এটি হচ্ছে বর্ধমানের আকর্ষণীয় সবুজ সংঘ ক্লাব।আর এইবার সবুজ সংঘ ক্লাবের পূজা ৪০তম বর্ষে পদার্পন করেছে।পূজার থিম হচ্ছে মায়ানমারের স্বর্ণমন্দির।এই প্যান্ডেলটি মায়ানমারের স্বর্ণমন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে।প্যান্ডেলের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন টবে গাছের সমাহারে সুসজ্জিত করা হয়েছে।
শুধু স্বর্ণমন্দির-ই নয় ,তার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ছোট ছোট বৌদ্ধ মূর্তি ও প্যাগোডা।এই ক্লাবের সমস্ত সম্মানস্মারকগুলি সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাইরে। বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে ছোট ছোট মূর্তি ও মন্দিরগুলো গড়ে তোলা হয়েছে।মন্দিরের ভিতরে প্যাগোডার আকারে তৈরি করা হয়েছে অসাধারণ কারুকাজ।
মূল মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করেই বিরাট একটি বুদ্ধদেবের মূর্তি চোখে পড়ে।আর এই মূর্তিটিই হলো প্রধান।গৌতম বুদ্ধের মূর্তির ঠিক পিছনেই রয়েছে দেবীমায়ের অসাধারণ প্রতিমা।যেটা দেখে আসলেই সকলের মন ছুঁয়ে গেছে।মায়ের মূর্তিও অনেক বড় করে তৈরি করা হয়েছে এবং সাদা রঙের করে।মায়ের মূর্তিগুলো ছিল এককথায় অসাধারণ ও অনবদ্য।
এরপর প্যান্ডেলের দেওয়ালে বেশ কিছু মূর্তি তৈরি করা হয়েছে যেখানে বুদ্ধদেব ধ্যানে বসে আছেন।এছাড়া একজন নারী কেশ মেলে শায়িত অবস্থায় রয়েছেন।আসলে আমাদের দেশে প্যান্ডেল ও রাতের আলোকসজ্জাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় কিন্তু আমরা গিয়েছিলাম দিনের বেলা ভিড় এড়াতে।
এখানে বুদ্ধদেব তার অনুসারীদের বাণী প্রচার ও উপদেশ দেওয়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।এছাড়া তাকে সেবা করার জন্য এক নারীর উপস্থিতি ও তিনি আশীর্বাদ করছেন শিষ্যদের সেগুলোও কারুকাজের মধ্যে দিয়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।যেগুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
মায়ের মূর্তির সামনে অর্থাৎ বুদ্ধদেবের পিছনে একটি ড্রাগনের মূর্তি তুলে ধরা হয়েছে।এছাড়া বুদ্ধদেবের কোনো কোনো মূর্তি চোখ বন্ধ এবং কোনো কোনোটা আবার চোখ মেলে তৈরি করা হয়েছে।প্রতিটি মূর্তি-ই আলাদা আলাদা ধরনের ছিল।সবশেষে আমি একটা ছবি তুলে বাইরে বের হতেই ছোট প্রতিমাগুলির দর্শন করলাম।এই দেবীমায়ের প্রতিমাটি মেদিনীপুর থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।
আশা করি আপনাদের কাছেও অনেক ভালো লাগবে আমার আজকের প্যান্ডেলের ফটোগ্রাফি পোষ্টটি।সকলে ভালো থাকবেন ও সুস্থ থাকবেন।
পোষ্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | ফটোগ্রাফি পোষ্ট |
|---|---|
| বিষয় | বর্ধমানের দুর্গাপূজা প্যান্ডেল: "মায়ানমারের স্বর্ণমন্দিরের কিছু ফটোগ্রাফি" |
| ডিভাইস | poco m2 এবং redmi note 10 pro max |
| ফটোগ্রাফার | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান,বীরহাটা |
| আমার পরিচয় |
|---|
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।
টুইটার লিংক