স্বরচিত গল্প: "হিসেব"
নমস্কার
হিসেব
গণ্যমান্য ব্যক্তির একমাত্র মেয়ের অহংকার থাকাটা স্বাভাবিক।কিন্তু অহংকারটা তার বাইরের মানুষের সঙ্গে নয়,নিজেরই ঘরোয়া কাকার ছেলে-মেয়েদের জন্য।সেই অহংকারী মেয়েটির নাম হিয়া।বাড়িতে সারাদিন নানা লোকের আনাগোনা।তাই বিভিন্ন কারণে বাবা কাকাদের মধ্যে বনিবনা ও ঠিক ছিল না।কারন নাম ও অহংকারের কারণে হিয়ার বাবা বাইরের লোকের খেয়াল করলেও বাড়ির লোকের মানুষের খেয়াল রাখত না।বরং রক্তের ভাইদের দরিদ্র ও অভাব দেখেই সে মজা পেত।ঠিক তেমনি এক স্বরস্বতী পূজার দিন চলে এলো।হিয়াদের বাড়িতে অনেক বান্ধবী এলো ।তাই তাদের নিয়ে সে নিজেদের বাড়ির পূজা শেষ করে অন্যদের বাড়ি গেল অঞ্জলি দিতে।আগেই বলে রাখি গ্রামের দিকে কোনো এক জায়গায় মানুষ অঞ্জলি দিত না।মেয়েরা শাড়ি পড়ে 3-4 জায়গায়ও স্বরস্বতী পূজায় অঞ্জলি দিত।
বান্ধবীদেরকে সাথে নিয়ে সে পাশের এক বাড়ি অঞ্জলি দিতে গেল।কিন্তু স্থানটি ছোট ছিল তাই নানা মানুষ ততক্ষনে অঞ্জলি দিতে বসে পড়েছিল।তাদের মধ্যে তার কাকার ছোট ছেলে-মেয়েও ছিল।তার মধ্যে থেকে ও তাকে জায়গা বের করে দেওয়া হলো অঞ্জলি দেওয়ার জন্য।কোনো রকমে বান্ধবীদের নিয়ে সে বসে পড়লো তার ছোট ভাই-বোনের পিছনে।আগেই বলেছি নিজেরই কাকার ছেলে মেয়েদের সঙ্গে সে হিংসা করতো।যতই তারা বয়সে ছোট হোক,সেই অনুযায়ী অঞ্জলি দেওয়ার এক পর্যায়ে হাটু দিয়ে হিয়া ও তার বান্ধবীরা গুতা দিতে লাগলো তার কাকার ছেলে-মেয়েদেরকে।কিন্তু তার ভাই-বোনেরা কিছুই না বলে মা স্বরস্বতীর কাছে বিচার দিল চোখের জলে।
কিছুদিন পর হিয়ার বিয়ে হয়ে গেল।এক থেকে দেড় বছর পর একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিল সে।আস্তে আস্তে বাচ্চাটি বেড়ে উঠলো।দিন গড়িয়ে যায় কিন্তু হিয়ার মেয়ের কথা ফোটে না।অনেক ডাক্তার,কবিরাজসহ বিভিন্ন ঝারফুঁক করা হলো কোনো কিছুতে কোনো কাজ হলো না।দিন যতই গড়াতে থাকে হিয়ার মেয়ের অবস্থা বেগতিক হয়ে পড়ে তার রাগ বেড়ে যেতে থাকে।কোনো মানুষকে দেখেই হঠাৎ করেই মারতে শুরু করে।যেটা হিয়াকে যন্ত্রণা দেয় এবং ভবিষ্যতেও দেবে।সেদিনের সেই হিসেবটা হয়তো হিয়াকে এভাবেই দিতে হচ্ছে।
আশা করি আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা গল্পটি ভালো লাগবে।পরের দিন আবারো নতুন কোনো ব্লগ নিয়ে হাজির হবো।ততক্ষণ সকলে ভালো থাকবেন ও সুস্থ থাকবেন।
টুইটার লিংক
এজন্যই বাংলায় একটা প্রবাদ বাক্য আছে ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়।।
মানুষকে কখনো ছোট ভাবা যাবে না অবহেলা করা যাবে না সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে।
কাউকে উপকার করতে না পারলেও অপকারে মনোনিবেশ করা যাবে না।
অতীত থেকে এবং বাস্তবতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে ভালো কাজ গুলো করতে হবে।।
ঠিকই বলেছেন ,প্রবাদটি একেবারেই সত্যি।আপনার সুন্দর মন্তব্য এর জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
সবার উপরে যখন মানুষ সত্য তখন আমরা কেন জানি না মানুষের প্রতি অহংকারী করি ৷ বলে না বেশি অহংকার সর্বনাশা ডেকে আনে ৷ সেটা একদিন একদিন হবেই ৷ যা ঘটেছে হিয়ার ক্ষেত্রে ৷
তাই যতটা সম্ভব মানুষ কে শ্রদ্ধা সম্মান দেওয়া উচিত ৷
অহংকার করলে পতন হবেই,ধন্যবাদ দাদা।
আসলে প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই সত্য। কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে কোনো না কোনো ভাবে তার ফল নিজেকে এক সময় না এক সময় ভোগ করতেই হয়। হিয়ার সাথে হয়তো তাই হয়েছে তার কাকাতো বোনদের সঙ্গে হিংসা করার কারণে তার নিজের মেয়েরই এই অবস্থা হয়েছে। গল্পটি বেশ বাস্তবধর্মী এবং খুব সুন্দর ভাবে লিখেছেন। ভালো লাগলো পড়ে।
একদম আপু,আসলেই প্রকৃতির উপর কারো হাত নেই।সে নিজের নিয়মেই চলে, ধন্যবাদ আপনাকে ও।
বাহ্ বেশ সুন্দর একটি গল্প আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। কথাই তো আছে প্রকৃতি সময় মত সবার পাওনা ফিরিয়ে দেয়। হিয়াও কিন্তু তাই পেল। পড়ের জন্য কোয়া খুড়লে সেই কোয়ায় নিজেকে পড়তে হয়। যাই হোক বেশ বাস্তবধর্মী একটি গল্প ছিল আপু।
অনেক গঠনমূলক একটি মন্তব্য করেছেন আপু।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ও।
কথায় আছে না অহংকার পতনের মূল। এভাবে অহংকার করে কখনো কেউ সুখে থাকতে পারে না অন্যকে হিংসা করে কেউ ভালো থাকতে পারে না। হিয়া তার কাকার ছেলেমেয়েদেরকে ভীষণ হিংসা করত। অঞ্জলি দেওয়ার সময় হিয়া এবং তার বান্ধবীরা পা দিয়ে গুতা দিতে লাগলো কিন্তু তার কাকার ছেলেমেয়েরা তাদেরকে কিছুই বলেনি। তারা মা স্বরস্বতির কাছে বিচার দেয় চোখের জলে। হিয়ার মেয়ের এরকম ব্যবহার তাকে এখন শাস্তি জিতেছে সব কাজের জন্য। ভালোই লিখেছেন সম্পূর্ণটা। ভালো লাগলো পড়ে আমার কাছে।
ভাইয়া,আপনার সুন্দর মতামত তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
অহংকার আমার একটা জিনিস যে বেশি অহংকার করে সে একসময় প্রতন হয়ে যায়। আপনার গল্পের মেয়েটি অহংকার বেশি করত। সেই কারণে কাউকে সেই দাম দিত না। অথচ তার বিয়ের পর তার মেয়েটির যেভাবে তাকে যন্ত্রণা দিতে লাগতেছে। সে হিসেবে সে বুঝে গেছে সে মানুষের সাথে আগে কেমন ব্যবহার করেছে। তবে আপনার গল্পের মধ্যে অনেক কিছু বোঝা গেল। অনেক সুন্দর করে গল্পটি শেয়ার করেছেন আমাদের মাঝে।
ভাইয়া যে বোঝার নয়,সে কখনো পরিণাম ভুগে ও বোঝে না।ধন্যবাদ আপনাকে ও।
জীবনে সব কিছুরই হিসাব আছে। আমি যদি কখনো কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি সেটার জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে একদিন আমারও সেই সময় আসতে পারে। হিংসা ও অহংকার মানুষের জীবনে সর্বনাশ ডেকে আনে। যা হয়েছে হিয়ার ক্ষেত্রে। গল্পটি বেশ সুন্দর ছিলো ভালো লাগলো পড়ে।
সবই সময়ের খেলা ঠিক বলেছেন আপু।ধন্যবাদ আপনাকে ও।
বেশি অহংকার করতে নেই তার বিচার একদিন হয়। আর সব কিছুরে একদিন হিসাব হয়ে থাকে। তবে হিয়া যেভাবে অহংকার করল আসলে তা একদম ঠিক নয়। মানুষের সাথে অহংকার ভালো নয়। তার বিয়ের পরে তার মেয়েটি যেভাবে আচার-আচরণ করতেছে আসলে এটি তার জন্য অনেক কিছু। আপনি পোস্টটি অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
অহংকার কখনো সুফল বয়ে আনে না,সুন্দর মন্তব্য করেছেন।ধন্যবাদ আপু।
অহংকারের পতন হয় কথাটা চিরন্তন সত্য ৷ আর এই গল্পে তারই দৃশ্যে ফুটে উঠেছে হিয়ার থেকে ৷ যাই হোক গল্প বেশ ভালো লাগলো ৷ সুন্দর লিখেছেন ৷ ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য
আপনার কাছে গল্পটি ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ।