"অনেকদিন পর বারাসাতের মালদ্বীপ ভ্রমণ"
নমস্কার
অনেকদিন পর বারাসাতের মালদ্বীপ ভ্রমণ:
বন্ধুরা,অনেকদিন পর কিছু কাজ সারতে আমাদের পরিচিত শহর বারাসাত গিয়েছিলাম।আর সেখানে আমার পরিচিত এক মাসির বাড়িতে ছিলাম।তাই বিকেলে মালদ্বীপ ভ্রমণে বের হয়েছিলাম গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।অনেকেই হয়তো মালদ্বীপ শব্দটি পড়ে চমকে যেতে পারেন।আসলে বারাসাতের ক্ষুদিরামবসু নগরের অনেক অলিগলি রয়েছে।আর একেবারে শেষ নয় নম্বর গলি দিয়ে ভিতরে ঢুকেই মাঠ পড়ে।সেই মাঠের জায়গার নাম মালদ্বীপ,তো আমাদের মতো অনেক মানুষ সেখানে ঘুরতে গিয়েছিল।আসলে বিকেলে মালদ্বীপের মাঠে অনেকেই ছবি তুলতেও যায় পাট বাগান ও তিল ফুলের ক্ষেতে।মাঠে ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছিল যেন মন ছুঁয়ে যাচ্ছিল।অনেক বয়সেরই মানুষ ছিল এখানে।বিকেলে অনেক মেয়েরা কোমল ঘাসের উপর বসে গল্পের আসর ও বসায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেমন বদলে যায় তেমনি অন্য সবকিছুও পাল্টে যায়।মালদ্বীপে অনেকটাই পরিবর্তন ঘটেছে ।যতই দিন যাচ্ছে ততই রাস্তার অনেকটা উন্নত হয়েছে।তাছাড়া যেখানে বাড়িঘর ছিল না সেখানে অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানুষ নতুন বাড়িঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করে দিয়েছে রীতিমতো।মালদ্বীপে আমার একটা বিষয় ভালো লাগে ক্ষেতের সৌন্দর্য্যগুলি দেখতে।কখনো সরিষা ফুলের ক্ষেত তো কখনো আবার তিল ক্ষেত।এখন অবশ্য মাঠে পাট বাগান ও তিল ক্ষেত রয়েছে।পাট পাতা খেতে অনেক ভালো লাগে।দূরের আম বাগানটি প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে।
মালদ্বীপে কিছুটা গিয়েই এতটা ঘাস যে হাটাই মুশকিল হয়ে
যাচ্ছিল।সবুজ ঘাসগুলি অনেকটাই বড় ছিল।তবুও হাঁটতে হাঁটতে আমরা কলাবাগানের পাশ দিয়ে পাট ক্ষেতে এসে পৌঁছালাম।মালদ্বীপের মাঠে যতগুলো আমবাগান, আখবাগান,পাটবাগানসহ বিভিন্ন জমিগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের।তবে এই জমির অনেকটাই তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।আমরা হাঁটতে হাঁটতে মধ্যমগ্রামের একটি রাস্তায় উঠেছিলাম।সেখানে রাস্তাটি অনেকটাই হয়ে গেছে আর তার একপাশে নতুন সুন্দর সুন্দর বাড়িঘরও রয়েছে।তো অন্যপাশে একটি ক্যানেল যাতে সারাবছর কচুরিপানা ভরে থাকে।যদিও লোকমুখে শোনা যায়, পরবর্তীতে মধ্যমগ্রামের এই রাস্তাটি মালদ্বীপের রাস্তার সঙ্গে জুড়ে যাবে।যেটা হলে মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে।
যাইহোক মধ্যমগ্রামের এই রাস্তায় এসে আমি বেশ অবাক হলাম।কারণ এখানে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।মধ্যমগ্রামের রাস্তাটি অনেক বড় ছিল।সেই রাস্তা ভেঙে কিছুটা খালের মধ্যে চলে গেছে তাই রাস্তাটি বেশ ছোট হয়ে গেছে।যদিও রাস্তাটি কাঁচা ছিল তবে পূর্বে যখন এসেছিলাম তখন অনেকটা বড় ছিল।আসলে ক্যানেলটি খনন করে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে।ছোট ছোট গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে ।যাইহোক ভ্রমণ শেষ করে সূর্য্যমামা যখন পশ্চিম আকাশে মুখ লুকাবে তখনই আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।তো এটাই ছিল বারাসাতের মালদ্বীপ ভ্রমনের অনুভূতি।
আশা করি আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের ভ্রমণের অনুভূতি ও ছবিগুলো ভালো লাগবে।সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ও সাবধানে থাকবেন।
💐💐ধন্যবাদ সকলকে💐💐
পোস্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | ভ্রমন |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| ফটোগ্রাফার | @green015 |
| লোকেশন | বারাসাত |
আপু গরমের কথা আর কি বলবো,এতো গরম সহ্যকরা কঠিন হয়ে পড়েছে তারপর আবার বিদ্যুৎ থাকে না।তবে আমাদের করার কিছুই নেই বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হব।যাইহোক আপু বারাসাতের মালদ্বীপ ভ্রমন করে সুন্দর একটা সময় পার করেছেন জেনে অনেক ভালো লাগলো।আর এটা সত্যি বর্তমান সবকিছু পরিবর্তন শীল। তবে রাস্তা গুলো ছোট হয়েছে জেনে খারাপ লাগল। যাইহোক সুন্দর একটি সময় কাটিয়েছেন জেনে অনেক ভালো লাগলো। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপু,ওখানে খাল খনন করার জন্য রাস্তা ছোট হয়ে গিয়েছে ।কিন্তু অন্য জায়গায় ঠিক আছে, ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু প্রকৃতির মাঝে খুব সুন্দর একটা জায়গায় ঘুরতে গিয়েছেন আপনি। বিশেষ করে জায়গাটির নাম আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। ইন্ডিয়ায় বসে মালদ্বীপ থেকে ঘুরে আসলেন। হা হা হা। তাছাড়া নদী বা খালের পাশে রাস্তাগুলো থাকলে অনেক সময় ভাঙ্গনের শিকার হয়। এই রাস্তাটি অনেকটা সেরকম হয়েছে দেখছি। জায়গা গুলো দেখে মনে হচ্ছে যে শীতল একটি পরিবেশে গিয়েছিলেন। খুব ভালো লাগলো আপনার ভ্রমণ কাহিনী পড়ে।
আপু আসলেই ,ওখানে মাঠের মধ্যে তাই সবাই এই মজার নামটি দিয়েছে।☺️☺️ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেকদিন পর বারাসাতের মালদ্বীপে ঘুরতে গিয়ে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন।ঠিকই বলেছেন এই গরমে জীবন যায় যায় এমন একটি অবস্থা।আপনার ফটোগ্রাফি গুলো খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে আমি সবসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসি। সুন্দর কিছু প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফি আমাদের উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
অনেক গুছিয়ে মন্তব্য করেছেন,ধন্যবাদ ভাইয়া।
এরকম গরমের মধ্যে প্রকৃতির মাঝে ঘুরাঘুরি করতে পারলে বেশ ভালোই হয়। সত্যি কথা বলতে আমি কিন্তু মালদ্বীপ জায়গাটার নাম শুনে অনেক বেশি অবাক হয়েছিলাম। যাই হোক পরে বুঝতে পারলাম জায়গাটা সম্পর্কে। এরকম প্রাকৃতির মাঝে ঘুরাঘুরি করার মধ্যে অন্যরকম একটা আনন্দ রয়েছে। খুব সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করেছেন আপনি, যেগুলো দেখে আরো বেশি ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে খুব চমৎকার একটা পোস্ট ছিল।
অবাক হওয়ারই কথা,ওখানে মাঠের মধ্যে এই মজার মালদ্বীপ নামটি দিয়েছে।☺️☺️ধন্যবাদ ভাইয়া।
অনেক সুন্দর ভ্রমণ কাহিনী আজ আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আজ আপনার এই ভ্রমণ কাহিনীর মধ্য থেকে নতুন স্থান সম্পর্কে অবগত হতে পারলাম এবং নতুন কিছু জানতে পারলাম। ভালো লেগেছে আপনার এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা দেখে।
আপনার অনুভূতি জেনে আমার ও ভালো লাগলো, ধন্যবাদ ভাইয়া।