শৈশবের গল্প: "আলু খেল সাপের তাড়া"
নমস্কার
আলু খেল সাপের তাড়া:
আলু নাম শুনেই কেমন অবাক লাগছে আপনাদের কাছে তাইনা।তো চলুন সেই আলুর গল্পটি শুরু করা যাক---
শ্রাবণ মাসের শেষ দিন। গ্রামে সকলের বাড়িতেই একরকম তোড়জোড় চলে মনসা পূজা নিয়ে।সবাই পুরোহিত ডেকে আড়ম্বর করতে না পারলেও নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করে ভোগ দেওয়ার জন্য।গ্রামে কমবেশি সকল বাড়িতেই মনসা গাছ রয়েছে।তাই সবাই সকালে উপোস রেখে স্নান সেরে মনসা গাছ তলায় সুন্দর মাটি দিয়ে থান তৈরি করে।তারপর কলার খোল কেটে তাতে দুধ-কলাসহ টুকিটাকি উপকরণ আর ভোগের ব্যবস্থা করে থাকেন মনসা দেবীকে খুশি করার জন্য।যাতে সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।তবে ভোগের প্রধান উপকরণ কাঁচা গরুর দুধ ও কলা।সেইদিন ও তার ব্যতিক্রম হলো না।
আলু আসলে গ্রাম সম্পর্কে আমার এক দাদার ছেলে।ডাক নাম আলু হলেও তার আসল নাম অমিত।কিন্তু আমরা গ্রামের সবাই তাকে আলু বলেই ডাকতাম।সকলে যখন মনসা তলায় দুধ-কলা দিতে ব্যস্ত,তখনই আলু একটি অঘটন ঘটিয়ে বসলো।একজনের মনসা তলায় দেওয়া কলা আলু লোভ সামলাতে না পেরে চুরি করে খেয়ে ফেললো।তখনই বাধলো মুশকিল,মনসা পূজার দিন সাপ বের হয় এমনিতেই।তারপর আবার দাঁড়াল সাপগুলো বাড়ির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে।যেই না আলু পূজাতে দেওয়া কলা খেয়ে ফেললো ওমনি দাঁড়াল সাপে আলুকে দিল তাড়া।আলু প্রানপনে ছুটতে ছুটতে নদীর চড়ে নেমে পড়লো।দাঁড়াল সাপও তার পিছে পিছে ছুটছে।এক পর্যায়ে আলু ভয়ে আমাদের একটি কেওড়া গাছে উঠে ডালে গিয়ে বসলো।সাপ ও হাল ছাড়ার পাত্র নয়,তার পিছু নিতে নিতে কেওড়া গাছের নিচে এসে পৌঁছালো।তারপর ঠাঁই সেই গাছের নিচে উঁকি দিচ্ছে সাপটিও।
এরপর আলু তো কান্নাকাটি শুরু করে দিল।গাছের নীচে ও নামতে পারছে না,তারপর সে হাত জোড় করে বললো-----"মা আমি তোমার দুধ-কলা আর কোনোদিন খাবো না,আমাকে ক্ষমা করো"।
কয়েকবার বলার পর ধীরে ধীরে দাঁড়াল সাপ চলে গেল সেখান থেকে।আমি আর বাবা তখন বড় রাস্তায় এসে দেখি আলু তখনো আমাদের কেওড়া গাছের ডালে বসে আছে।মানে বেশ অনেক পথই সে তাড়া খেয়েছে।এদিকে গ্রামে আলুর এই কীর্তির কথা ছড়িয়ে পড়েছে।এক পর্যায়ে আলুর কাকা এসে তাকে গাছ থেকে নামিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়।আর আলুকে বলে-----"আর কখনো পুজোয় দেওয়া কলা খাবি"।
আশা করি আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা গল্পটি ভালো লাগবে।সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ও সাবধানে থাকবেন।
💐💐ধন্যবাদ সকলকে💐💐
পোস্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| বিষয় | শৈশবের গল্প: "আলু খেল সাপের তাড়া" |
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
টুইটার লিংক
আসলে এই ধরনের নিক নেম অনেকেরই আছে ।আমারও এরকম অনেক স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা রয়েছে। আপনার গ্রামের চাচাতো ভাইয়ের আলু নামের রহস্যময় ঘটনাটি জানতে পেরে ভালো লাগলো। সাপের দাবড়ে গাছে উঠেছে কিন্তু নামতে পারছিল না দারুন ছিল।
ভাইয়া,গ্রাম সম্পর্কে আমার এক দাদার ছেলে আলু।ধন্যবাদ আপনাকে।
অমিত মনে হয় আলু খুব পছন্দ করে এবং আলু অনেক খায়,সেজন্য বেচারার নাম হয়ে গিয়েছে আলু। যাইহোক পূজোর কলা খাওয়ায় দাঁড়াল সাপ আলুকে যেভাবে তাড়া করেছে, আলু আর জীবনেও পূজোর থালা থেকে নিয়ে কিছু খাবে না। প্রচন্ড ভয় পেয়েছে আলু। গল্পটি পড়ে হাসতে হাসতে আমি শেষ। খুবই ভালো লাগলো গল্পটি পড়ে। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া, অমিত আসলে গোলগাল দেখতে একটি ছেলে ছিল তাই তাকে সবাই আলু বলে ডাকতো।আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো, ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক ভালো লাগলো আপু আপনার আলু খেলো সাপের তারা গল্পটি পড়ে। আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম আলো আবার কিভাবে সাপের তারা খায়। যখন বুঝলাম আলু একটি মানুষের নাম যার ভালো নাম অমিত। তখন গল্পটি পড়তে আরও উৎসাহ পেলাম। পুজোর কলা খেয়ে অমিত সাপের তারা কে গাছে উঠে পড়ার বিষয়টা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপু।
আপনাকে ও অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া, সময় নিয়ে গল্পটি পড়ার জন্য।
আপু আপনার শেয়ার করা আলুর খোসা সাপের তাড়া খাওয়ার গল্পটি সত্যি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের টাইটেল দেখে আমি একটু প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আপু আলু এভাবে আর কখনো পুজোর থালা থেকে নিয়ে খাবেন না। গল্পটি পরিবেশ মজা পেলাম ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া, আলুর খোসা নয়।এছাড়া আপনার মন্তব্যে আরো বানান ভুল রয়েছে, যাইহোক ধন্যবাদ আপনাকে।