গল্পের মিশেলে: "এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন"(পর্ব -১)
নমস্কার
কেমন আছেন বন্ধুরা?আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন।আমিও মোটামুটি ভালোই আছি।আজ আমি কোনো রেসিপি, diy ,কবিতা কিংবা অঙ্কন নিয়ে আসিনি।আজ আমি হাজির হয়েছি নতুন একটি বিষয় নিয়ে।মাঝে মাঝেই নিজের সঙ্গে ঘটা অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে আমার ভালোই লাগে।আশা করি আপনাদের কাছেও ভালো লাগবে।
এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন:
টয়লেটের পিছন সাইডে মাটি দিয়ে গাঁথনী করা।তো আমি গেলাম টয়লেটের পিছন সাইডে শনতু আছে কিনা দেখতে।যেইনা মুখ বাড়িয়ে আয় আয় করে ডেকেছি।ওমনি চোখ পড়লো ঘাস জন্মানো মাটির গাঁথুনির দিকে।এক বিঘেত পরিমাণ ইয়া বড় কেউটে সাপের মাথা গর্ত থেকে বের হয়ে আছে সবে।আমার ডাক শুনেই গর্তে আবার ঢুকে গেল।আমি তখন এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে ,চিৎকার করে এক লাফে দৌড়ে পালিয়ে আসলাম ঘরের ভিতরে।শরীরের ভিতর শিরশির করতে লাগলো।কারন আমি ভুতের ভয় না পেলেও সাপের ভয় বেশ পাই।তারপর ও সাপের মাথাটি এতটাই বড়ো ছিল যে, আমি পূর্বে কখনো দেখিনি এত বড় সাপ।যদিও আমি পুরো শরীর দেখতে পায়নি গর্তে থাকার কারণে।তবুও মাথা এত বড় ছিল যে কিছুটা আন্দাজ করতে পারছি।এই রকমের সাপ আমি মুভিতে দেখেছি।কালো রঙের উপর সাদা বিন্দু বিন্দু দাগ,মাথা পুরো ভোঁতা টাইপের।ফনা ধরলে এক বিঘেত পরিমাণ চওড়া ডালা হবে নিশ্চিত।আমার কথা শুনে আমার পরিবারের সবাই গেল টয়লেটের পিছন সাইডে দেখতে।সাপ নিয়ে খুবই কথাবার্তা চলছে।এমনিতেই বিষাক্ত সাপের উপদ্রব আছে আমাদের বর্ধমানে।ধানের জায়গা বলে কথা।
অনেক সাপুড়ে আমাদের এখানে সাপ ধরতে আসেন।তবে আমরা যেহেতু মনসা তলায় পূজা দিই তাই বাড়ি/ভিটের উপর থেকে সাপ ধরতে দিই না কাউকে।এমনকি নিজেরাও মারি না কখনো।কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো তখনই যখনই সাপ নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম।হয়তো ভগবানের লিখন ছিল এটা।
একপর্যায়ে মা বলে উঠলো--- যদি সাপুড়ে আসতো তাহলে খুবই ভালো হতো।
বলতে না বলতেই সাপুড়ের হাঁক ভেসে উঠলো আমাদের পথে গেটের সামনে থেকে---কি ওখানে সাপ নাকি?
বাবা বললেন --- হ্যাঁ।তারপর বাবা সাপুড়েকে আসতে বললেন।
আসার আগে অবশ্য বাবা বারবার জিজ্ঞাসা করে নিয়েছিলেন যে ----আপনারা সাপ মেরে ফেলবেন না তো?
উত্তরে সাপুড়ে বললো ---- না,আমরা শুধুই সাপ ধরি মারি না।
যদিও আগে থেকেই উত্তরটি আমাদের জানা।কারন আগে বহু সাপুড়ে বাড়ির পাশ থেকে বিষাক্ত সাপ ধরে নিয়ে গেছে।এমনকি আমাদের বাড়ি থেকে ও ধরতে চেয়েছে ।আমরা না বলে দিয়েছি।তবে এইবার বাবা কেন আসতে বললেন সাপ ধরতে,প্রশ্নের ঝড় আমার মনে!
(চলবে----)
আশা করি আমার আজকের লেখা গল্পের অভিজ্ঞতাটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।
টুইটার লিংক
ওরা খুব অল্প দিনেই আমাদের প্রিয় হয়ে গেছে ভাইয়া।গুইলটা কি?ধন্যবাদ আপনাকে।
দিদি আমার মনে হয় ওটা কেউটে সাপ নয় ৷ কেউটে সাপ তো কোনো ক্ষতি করে না ৷ তবে আমাদের হিন্দু সমাজ মনসা পূজা করে বলে ৷ কেউ সাপ মারে না ৷ আমরাও তো কখনো মারি না ৷ তবে আমাদের আশে পাশের অন্য ধর্মের মানুষ জন সাপ দেখতে পেলেই মেরে ফেলে ৷
যা হোক দিদি সাপুড়ে কি তখন সাপ ধরেছিল ৷
দাদা,ওটা কেউটে সাপ।আর কে বলেছে কেউটে সাপ ক্ষতি করে না সুযোগ পেলেই ছোবল।তাছাড়া হিন্দু ধর্মের ও অনেকেই সাপ মেরে ফেলে।যাইহোক আমি পরে ইউটিউবে দেখে স্পষ্ট হয়েছি।ধন্যবাদ আপনাকে।
কেন দিদি কেউটে সাপ তো ছোট চিকন না ৷ এতো সহজে ক্ষতি করে না তো ৷ অনেকে মেরে ফেললেও আমরা মারি না ৷
আমরাও কোনো সাপ মারি না,আর সহজে কিছুই ক্ষতি করে না ।দাদা আমি যে সাপটি দেখেছি ওটা অনেক বড় সাইজের।ধন্যবাদ😊
আপু আপনার সাপের কথা শুনেই আমার শরীর কেমন জানি করছে। আমিও আপনার মত সাপকে অনেক ভয় পায়। তবে আমাদের দিকে বর্তমানে সাপ নাই বললেই চলে। আপনার শনতু আর মিনিকে দেখে ভালই লাগলো। তাদেরকে সাবধানে রাখবেন। সাপ যেন আবার তাদের কোন ক্ষতি না করে। আর আপনারাও সাবধানে থাকবেন। সাপকে বিশ্বাস নেই। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদা আপু।
ভাইয়া, শনতু আর মিনি তো সাপকে ঘরের দিকে আসতেই দেয় না উল্টে তাড়িয়ে মারে ওদের।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
শনতু আর মিনি দেখছি বেশ আপন হয়ে উঠেছে ডাক দিলেই দৌড়ে চলে আসে। আমিও দিদি সাপ ভীষণ ভয় পাই, আর যে বর্ননা দিলেন সাপের তাতো রিতিমত ভয়ের কারণ। তবে সাপুড়ে এসেছে বাড়িতে। দেখা যাক কতবড় সাপ বের হয়। অপেক্ষার রইলাম শোনার জন্য।
হি হি, হ্যাঁ ভাইয়া অল্প দিনেই ওদেরকে আমরা সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার বিড়াল দুইটার নাম ভীষণ সুন্দর। বিশেষ করে ওদের দুজনকে দেখতে ভীষণ কিউট। আর আপনি এত বড় সাপের মাথা দেখেছেন শুনে আমার নিজেরও ভয় লাগছে। বিশেষ করে আপনি এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আপনার কথাগুলো শুনে আমার গা শিওরে উঠল। কিন্তু আপনারা সাপুড়েদেরকে সাপ ধরতে দেন না এটা শুনে ভালোই লাগলো। কিন্তু এবারে আপনার বাবা কেন সাপুড়েদেরকে ডাকলো ? এই বিষয়টা আমারও একটু খটকা লাগতেছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
সত্যিই আপু,একহাত দূরে থেকেই ভাগ্যিস দেখেছিলাম।নাহলে তো আমিও ঘাস টপকে গেলে কি হতো কে জানে!আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু।