"ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানে কাটানো কিছু মুহূর্ত"
নমস্কার
ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানে কাটানো কিছু মুহূর্ত:
বন্ধুরা,কিছুদিন আগে আমার একটি পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানিয়ে রেখেছিলাম একজন স্যারের রিটায়ারমেন্ট হবে।তো সেই অনুভূতিটাই আজ প্রকাশ করবো।অনেকদিন ধরেই ভাবছি এটা নিয়ে একটি পোষ্ট লিখবো কিন্তু লেখা আর হয়ে ওঠে না।যাইহোক তো চলুন শুরু করা যাক----
আমাদের হিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের একজন স্যারের 30-ই জুন শুক্রবার রিটায়ারমেন্ট হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু কলেজ শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকার কারনে সেটা পরিবর্তন হয়ে যায় এবং ডেট চেঞ্জ করে জুলাই মাসের 6 তারিখ নির্ধারণ করা হয়।স্যারকে আমরা আজিম্বর স্যার নামেই জানি।কিন্তু এর মধ্যে আমাদের ইন্টারনাল এক্সাম শেষ হয়ে প্রজেক্ট করার কাজ শুরু হয়ে যায়।প্রজেক্ট জমা দেওয়ার তারিখ 10 এবং 11-ই জুলাই।তো 6 তারিখ ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান ক্যান্সেল করে জুলাই মাসের 11 তারিখ মঙ্গলবার করা হয় ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে।
সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো পুরো হিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট মিলে অনুষ্ঠানটি পালন করা হবে।এখন অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ দায়িত্বই আমাদের 4 সেমিস্টারের মেয়েরাই নিল।তাই রিটায়ারমেন্ট উপলক্ষে আমরা 2nd year এর ছাত্রীরা স্যারকে একটা ছোট গিফট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। গ্রূপে লিখে সবাইকে জানানো হলো-অনুষ্ঠান উপলক্ষে যারা দিতে ইচ্ছুক তাদেরকে ৫০ টাকা করে জমা দিতে।বাকি সেমিস্টারের দায়িত্ব ও কয়েকজনকে দেওয়া হলো।
ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানটি ফার্স্ট সেমিস্টার রুমে বেলা 11 টায় করা হবে ।এছাড়া সবাইকে শাড়ি পড়ে আসার অনুরোধ করা হয়।তবে Dark colour এর শাড়ি ছাড়া সবাইকে Light colour এর শাড়ি পড়ে আসার কথা বলা হয়।
আবহাওয়া এখন যেহেতু ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয়।তার উপর আবার প্রজেক্ট জমা দেওয়ার চিন্তা।আমাদের বাড়ি থেকে কলেজ 20 কিলোমিটার দূরত্ব।তাই বাসে ট্রেনে করে যাতায়াত করার ফলে এতদূর থেকে শাড়ি পড়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না আমার জন্য।আমি একটু আগেই বের হলাম বাড়ি থেকে।তারপর 10 টার দিকে কলেজ পৌঁছে প্রজেক্ট এর সামান্য বাকি কাজগুলি কমপ্লিট করে জমা দিলাম ডিপার্টমেন্ট অফিসে।
অনেকেই শাড়ি পড়ে আসে আবার দূর থেকে যারা এসেছিল তারা জামা।যাইহোক 11 টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও 12 টায় অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।প্রথমে স্যারকে আহ্বান জানানো হয় মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য।তারপর স্যার নিজ হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেন।এরপর সকল স্যার-ম্যাম ও সিনিয়র দিদিদেরকে গোলাপ ফুল দিয়ে সম্মান জানানো হয়।প্রত্যেক স্যার-ম্যামদেরকে mio এর একটি করে মিডিয়াম সাইজের কেকের প্যাকেট দেওয়া হয়।এছাড়া আজিম্বর স্যারকে Mementoসহ অন্য একটি গিফ্ট দেওয়া হয়।
এরপর কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান হয়।তারপর একে একে আমরা সব স্যার ও ম্যামের মুখ থেকে স্যারের বিদায়ের অনুভূতি শুনি।সকল স্যার ম্যামের অনুভূতি শুনে আমাদেরও খুবই মন খারাপ লাগছিল।আমি অনুভব করছিলাম সেই সময়ে একজন স্যারের জন্য কতটা কষ্টের তার চেনা প্রতিষ্ঠান ছাড়া ,চেনা সহকর্মীদের ছাড়া এবং চেনা ছাত্রীদেরকে ছাড়া।কত স্মৃতি ঘিরে থাকে স্যারের সঙ্গে আমাদের।কিন্তু সময়ের কাছে সব কিছু হার মানতে হয়।
যাইহোক যেকোনো স্যার ও ম্যাম স্কুল/কলেজ থেকে অবসর নিলেও শিক্ষার্থীদের মন থেকে কখনো অবসর নেন না বলে আমার বিশ্বাস।
এরপর আমাদের ক্লাসের মেয়েরা সমবেত গান,নৃত্য পরিবেশন করে।এতে সিনিয়র দিদিরাও অংশ নিয়েছিল।অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার বক্তব্য রাখেন সংক্ষিপ্তভাবে।আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার খুবই রসিক একজন মানুষ।তারপর তিনি দুই লাইন আধুনিক গান খালি কণ্ঠে আমাদেরকে শোনান।যেটা আমাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছিল।
সবশেষে আমরা আলাদা সেমিস্টারের মেয়েরা মিলে স্যার-ম্যামদের সঙ্গে ছবি উঠি।শেষের ছবিটি আমাদের সেমিস্টারের মেয়েদের নিয়ে।এরপর আজিম্বর স্যার নিজ পক্ষ হতে আমাদের সবার জন্য দুপুরের জলখাবারের আয়োজন করেন।জলখাবারের মধ্যে ছিল চিলি চিকেন, ফ্রাইড রাইস এবং একটি মিষ্টি।ফ্রাইড রাইসটি অসম্ভব সুন্দর ছিল খেতে।তো এটাই ছিল ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানে কাটানো কিছু মুহূর্ত।
আশা করি আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের পোষ্টটি ভালো লাগবে।সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন ও সাবধানে থাকবেন।
💐💐ধন্যবাদ সকলকে💐💐
পোস্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| ফটোগ্রাফার | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
টুইটার লিংক
ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান আমার সত্যি অনেক কষ্ট লাগে। নিজের প্রিয় জায়গা ছেড়ে তাদেরকে চলে যেতে হয়। আপু আপনি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন দেখে ভালো লাগলো। আপনার নিজের অনুভূতি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ঠিক বলেছেন আপু,ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান খুবই কষ্টের মুহুর্ত।ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানে কাটানো কিছু মুহূর্ত পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সত্যি আপু এমন সময় গুলো শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে এক সময়।আর এটা সত্যি দূর থেকে শাড়ি পড়ে যাওয়া অসম্ভব। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কাটানো মূহুর্তে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু,এইগুলো স্মৃতি হয়ে রইয়ে যাবে।ধন্যবাদ আপনাকেও।
আপু আপনার স্যারের ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠানে কাটানো মুহূর্ত পড়ে অনেক ভাল লাগলো। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে খুব সুন্দর ভাবেই অনুষ্ঠানটি সফল করেছেন। ধন্যবাদ আপু।
ঠিক ধরেছেন ভাইয়া, সম্মিলিতভাবে অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে।ধন্যবাদ আপনাকে।
দারুন একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন আপু। যেখানে আমি লক্ষ্য করে দেখলাম নৃত্যের পাশাপাশি বক্তব্য ব্যবস্থা ছিল। আর এ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করতে বেশ ভালো লাগে,সুন্দর একটা মুহূর্ত থাকবে। অন্যান্য মানুষের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়ে থাকে এবং নতুন কিছু জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়ে থাকে। যাইহোক আপনার এই দারুণ মুহূর্তটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে অনেক অনেক খুশি হলাম।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া খুবই সুন্দর মুহূর্ত কেটেছিল।আপনার দারুণ মতামতের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।