"অচেনা তৃষ্ণার্ত পথিক"

in আমার বাংলা ব্লগ5 years ago

নমস্কার

IMG_20210819_120950.jpg

আমার লোকেশন
এখনো পুরোপুরি লোকডাউন উঠে নি।আমাদের বাড়িটা 10 ফুটে কাঁচা রাস্তার পাশে।বাড়ি থেকে কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে মিনিট 2 হেঁটে গিয়ে পিচের রাস্তা পড়ে।সেই রাস্তা দিয়ে বাস,মালটানা লরি,অটো, টোটো, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন গাড়ি চলে। কিন্তু ওই পাকা রাস্তায় গিয়ে মিশেছে আমাদের কাঁচা রাস্তাটি।রাস্তাটি বড়ো মাঠ পেরিয়ে অন্য একটি 3 কিলোমিটার দূরে গিয়ে গ্রামে গিয়ে পড়েছে।রাস্তাটির একপাশে খাল,অন্য পাশে দূর গ্রামের মানুষের প্রকাণ্ড জমির মাঠ।তাই রাস্তা দিয়ে দূর গ্রামের লোক প্রতিনিয়ত জমির কাজে চলাচল করে।

IMG_20210819_120930.jpg

আমাদের বর্ধমান জেলা ধানের বা শস্যের ভান্ডার তাই এখানে দুই ফসলী ধান চাষ হয়।ফলে মাঠে শত শত মানুষের আনাগোনা প্রায় হয়েই থাকে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে।কাঁচা রাস্তার পাশ দিয়ে দুই একটি বাড়ি হয়েছে, তাদের মধ্যে একটি আমাদের।তাছাড়া কেউই বাড়িতে ঠিক -ঠাক না থাকায় নিজেরা জল খাওয়ার কল পাতেনি।সবাই বাইরের কাজের সঙ্গে জড়িত।কিন্তু আমরা যেহেতু সবসময় বাড়িতে থাকি তাই চাপকল বসিয়ে নিয়েছি।ফলে মাঠের মধ্যে শুধু আমাদের বাড়িতে কল থাকায় রাস্তার চেনা-অচেনা নানা মানুষ তৃষ্ণার্ত হয়ে জল নিয়ে যায়।এখন ও লোকডাউন পুরোপুরি শেষ হয়নি ।কিন্তু তৃষ্ণার্ত মানুষকে ফেরাতে নেই তাই আমরা অপরিচিত মানুষ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।বিভিন্ন পরিচিত-অপরিচিত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে কিন্তু মানুষ এতটাই বিমুখ যে, এই পরিস্থিতিতে মার্কস পড়ে না।অথচ তারা 4-5 স্টেশন দূর থেকে ধানের চারা রোপণ করতে আসে।এইজন্য আমাদের বাড়িতে জল নিতে আসলে যদিও বা মার্কস পরার কথা মাঝে মাঝে কাউকে বলি।কিন্তু তারা তো এটা মানতেই নারাজ।তারা বলে দেয় যেহেতু আমরা মাঠে-ঘাটে কাজ করি,ফলে করোনা আমাদের ছুঁতে ও পারবে না।এই হচ্ছে চিন্তাশীল মানুষরা।ফলে আমরা যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি তাদের।তাসত্ত্বেও গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে থেকে ও জীবনের ঝুঁকি কোথাও একটা থেকেই যায়।

ধন্যবাদ সবাইকে।সবাই এখনো করোনা পরিস্থিতিতে সাবধানে থাকবেন।

ক্যামেরা: poco m2
অভিবাদন্তে: @green015

Sort:  
 5 years ago 

আমাদের ভুল মানসিকতার কারনেই আমরা বেশী সমস্যায় পতিত হই, করোনা কাউকেই ছাড় দেয় না। সুতরাং আমাদের অবস্থান অবশ্যই সতর্কতার সাথে থাকতে হবে। ধন্যবাদ

 5 years ago (edited)

ঠিক বলেছেন ভাইয়া, কিন্তু গ্রামের মানুষের মধ্যে কোথাও একটা একঘেয়ে স্বভাবটা বিরাজমান।যাতে তারা ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও আমলে দিতে চান না।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া,আপনার সুচিন্তিত মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।এভাবেই পাশে থাকবেন ভাইয়া।সাবধানে থাকবেন।

 5 years ago 

অনেক সুন্দর লিখেছেন আপু ধন্যবাদ

 5 years ago 

ধন্যবাদ ভাইয়া, সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে সাথে থাকার জন্য।

 5 years ago 

খুবই সুন্দর একটি দিকটি তুলে ধরেছেন। আমরা অনেকেই গ্রামের মানুষের বিশ্বাস করি, আমরা অনেক মাঠে-ঘাটে কাজ করি তাই করোনা আমাকে ছুঁতে পারবে না। এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা ধারণা। আমাদের সবাইকে করোনা থেকে সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে টিকা নিতে হবে।

 5 years ago 

আপনি সঠিক বলেছেন ভাইয়া, কিন্তু গ্রামের মানুষরা এখনো কিছুটা আদিম যুগের ধারার পড়ে রয়েছে।ধন্যবাদ আপনার গঠন মূলক মন্তব্যের জন্য।

 5 years ago 

দিদি খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। যেখানেই থাকি না কেনো, যতই কঠোর পরিশ্রম করিনা কেনো করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সেফ রাখতে হবে। সচেতন হতে হবে। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য❤️।

 5 years ago 

অনেক ধন্যবাদ আপু,বিষয়টি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।সাবধানে থাকবেন।☺️

 5 years ago 

ভালো লিখেছো বোন, গ্রামের মানুষ অনেক পরিশ্রমী, তারা কাজ করে বলেই শহরের মানুষেরা ভাল থাকে।

 5 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু।অনেক ধন্যবাদ, আপনার সুচিন্তিত মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।ভালো থাকবেন😊।

 5 years ago 

অনেক সুন্দর লিখেছেন! আপনার জন্য শুভকামনা রইল! ধন্যবাদ আপনাকে🥳

 5 years ago 

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার সুন্দর মন্তব্যের মাধ্যমে সাথে থাকার জন্য।☺️

 5 years ago 

এরকম একটা ব্যতিক্রম বিষয় তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ

 5 years ago 

তোমাকে ও ধন্যবাদ দাদা।

আমরা যে যেখানে যেভাবপ আছি। আমাদের সবার উচিত নিজ নিজ সুরক্ষা নিজের নিয়প রাখার। অনেক সুন্দর হয়েছে পোষ্টটা বোন। শুভ কামনা রইল।

 5 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া, আমাদের নিজের নিজের সুরক্ষা নিজেদেরকেই করা উচিত।অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া, সুন্দর মতামত ব্যক্ত করার জন্য।সাবধানে থাকবেন।

ধন্যবাদ বোন।

 5 years ago 

আগে পাড়ার মোড়ে মোড়ে কলস বসানো থাকতো। তবে জলের কল না থাকলেও জল চাইলে নিশ্চই পাওয়া যাবে

 5 years ago 

এখন আর কলস কেউ তেমন যথাযথ ব্যবহার করেই না।সবাই এখন বোতলবাবু।আর মাঠের মধ্যে আমাদের বাড়িতে কল থাকায় সবাই নিজের মতো জল খেয়ে তৃষ্ণা মেটাই।ধন্যবাদ দাদা।

 5 years ago 

আমিও প্লাস্টিকের বোতল আর স্টিলের। তবে এটা মনে আছে কলসের জল খুবই ঠান্ডা হয়। তোমরা টিউবওয়েল বসিয়েছ বলেই সবাই জল পাচ্ছে। ঠাকুর যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন

 5 years ago 

হুম,ঠিক বলেছেন দাদা।

 5 years ago 

চমৎকার লিখেছেন আপু আসলে করোনা কাউকে ছেড়ে দিলেও ছাড় দেয় না সেই সাথে
আমার মানসিকতার ও পরিবর্তন দরকার। ধন্যবাদ।

 5 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু।ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.085
BTC 60738.44
ETH 1602.69
USDT 1.00
SBD 0.42