"দেরিতে হলেও শিক্ষক দিবস পালনের অনুভূতি"
নমস্কার
দেরিতে হলেও শিক্ষক দিবস পালনের অনুভূতি:
আমাদের দেশে শিক্ষক দিবস পালিত হয় 5 ই সেপ্টেম্বর। এদেশের প্রতিটি শিক্ষাক্ষেত্রে মহা সমারোহের সঙ্গে এই দিনটি পালন করা হয়।বলা হয়,পিতা-মাতার পর শিক্ষকদের অবস্থান।একজন শিক্ষক তার ছাত্রছাত্রীদেরকে সুপথে চালনা করেন, সুন্দর দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন এবং জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেন।তাই সকল শিক্ষককে জানাই মন থেকে অনেক শ্রদ্ধা ও সম্মানভরা শুভেচ্ছা।
এইবার আমাদের শেষবার শিক্ষক দিবস পালন।তাই এটা দেরিতে হলেও আমরা পালন করার চেষ্টা করেছি।যদিও মুহূর্তগুলি দীর্ঘদিন আমাদের মাঝে জীবিত থাকবে স্মৃতির পাতায় মোবাইলের ফটোফ্রেমে।
মূলত 5 ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা হলেও এইবছর আমাদের অনার্সের ফাইনাল এক্সাম পড়েছিল 7 ই সেপ্টেম্বর থেকে।তাই সবাই পড়া নিয়েই ব্যস্ত ছিল বাড়িতে।এটা আমাদের পড়ার ব্যাচের শিক্ষক দিবস পালন।তাই আমরা নিজেদের মতো দিন বাছাই করে নিয়েছি এক্সাম শেষ হওয়ার পর।আসলে ইনি আমাদের কলেজের হিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের স্যার ছিলেন।কিন্তু কয়েকদিন আগে রিটায়ারমেন্ট হয়েছেন যেটি আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন।কিন্তু স্যার আমাদের অন্তরে রইয়ে গেছেন।
আমরা স্যারের বাড়িতেই পড়তে যাই ,তাই সবাই মিলে শিক্ষক দিবস পালন করার জন্য 60 টাকা করে তোলা হলো।তারপর সেই টাকা দিয়ে কেক,বেলুন,জামা,মিনি কেক ও ফটো ফ্রেম কেনা হলো একটি।প্রথমে আমরা পড়া শেষ করি অল্প কিছু সময়।তারপর দুই থেকে তিনজন কেক বা অন্যান্য জিনিস আনতে বাজারে চলে যায়।যদিও আগে থেকেই বলা ছিল তবুও বেশ দেরি হলো।তারপর সবাইকে বেলুন দেওয়া হলো ফুলানোর জন্য, সবাই বেলুন ফুলাতে ব্যস্ত।
এরপর বেলুনগুলি দেওয়ালে সাজানো হলো।স্যার এসে কেক কাটলেন, মজার বিষয় হচ্ছে স্যার কেক কেটে খাওয়ার সময় মেঝে পড়ে গেল।কারণ স্যার হাত দিয়ে না খেয়ে কাটা জিনিস দিয়েই কেক খেতে যাচ্ছিলেন।তখন আমাদের একজন বন্ধু স্যারকে কেক খাইয়ে দিল।এরপর স্যারকে সবাই মিলে একটি জামা,একটি পেন,মিনি কেকের প্যাকেট ও একটি ফটো ফ্রেম উপহার দেওয়া হলো।আসলে সব জিনিস কেনার পর কিছু টাকা বেঁচে গিয়েছিল তাই ফটো ফ্রেমটি নিয়ে আসা হয়।স্যার তো প্যাকেট খুলতে পারছিলেন না তাই একজন প্যাকেট খুলে ফটো ফ্রেমটি স্যারের হাতে দিলেন সাবধানে।কারন ফটো ফ্রেমটি কাঁচের ছিল,স্যার তো খুবই খুশি হলেন।তারপর সবাই মিলে স্যারের পদধূলি নিলাম।
এরপর শুরু হলো ফটো তোলার পর্ব।একবার ছেলেরা জড়ো হয়ে ছবি তোলে তো একবার মেয়েরা জড়ো হয়ে ছবি তোলে আলাদাভাবে।বাইরে জানালা থেকে আলোর রশ্নি পড়াতে ছবিগুলো তেমন ভালো হয়নি ,ঝাপসা এসেছে।তারপর স্যারের বাড়িতে ডক্টর আসবে বলে স্যার আগে থেকেই আমাদের জন্য খাবার এনে রেখেছিলেন।স্যার আমাদের জন্য কচুরি,সবজি তরকারি আর একটি করে মিষ্টির প্যাকেট দিয়েছিলেন।প্যাকেটের মধ্যে চার রকমের মিষ্টি ছিল।একটি করে লাড্ডু,সন্দেশ,কালোজামুন ও সাদা মিষ্টি।
প্যাকেট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তো আমার বন্ধুরা কেউ কেউ খাওয়া শুরু করে দিলো।যদিও আমরা সবাই ওখানে বসেই দুটি করে কচুরি ও সবজি তরকারি খেয়ে নিয়েছিলাম।তরকারিটি অনেক মজার ছিল খেতে।কালো জামুন খেতে আমি বরাবরই ভালোবাসি আর সাদা মিষ্টির টেস্ট ও দারুণ ছিল।আমি অবশ্য বাড়ি এসে প্যাকেট খুলেছিলাম।তাই বাড়ির সবাই মিলে খেলাম মিষ্টিগুলি।আর শেষ ছবিটি আমরা মজা করে বান্ধবীরা মিলে তুলেছিলাম যখন কেক আনতে দেরি হচ্ছিল তখন।তো এই ছিল শিক্ষক দিবস পালনের কিছু মুহূর্ত।দেরিতে হলেও এটা পালন করতে পেরে আমাদের সকলের খুবই ভালো লেগেছে।
আশা করি আমার আজকের পোস্টটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।
পোস্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
| আমার পরিচয় |
|---|
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।
আপনাদের শিক্ষক দিবস পালনের অনুভূতি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো রীপা আপু! আসলেই বাবা মায়ের পরেই শিক্ষকদের অবস্থান। আমরা যা, তার পেছনে বাবা মায়ের যেমন অবদান আছে, শিক্ষক দেরও তেমনই অবদান রয়েছে। আপনাদের সকলের শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা দেখে খুবই ভালো লাগলো যে পরীক্ষা থাকার কারণে যথাসময়ে সেলিব্রেশন করা হয় নি, কিন্তু পরীক্ষার শেষে আয়োজন করে শিক্ষকদিবস পালন করলেন।
আপনার মন্তব্য পেয়েও ভালো লাগলো তিথি আপু!ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু দেরিতে হলেও শিক্ষক দিবস পালন করতে পেরেছেন এটা জেনে বেশ ভালো লাগলো। যেহেতু এবার আপনাদের শেষবারের মতো শিক্ষক দিবস পালন করছেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে এটা আপনাদের কাছে কতটা মূল্যবান এই সময়টা। বন্ধু-বান্ধবী শিক্ষক মিলে সবাই বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই শিক্ষক দিবস পালন করেছেন দেখেই বোঝা যাচ্ছে। শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা এবং শিক্ষকরা ছাত্র প্রতি ভালবাসা এটাই হলো মহত্ব। এই সুন্দর মুহূর্তটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
যদিও তাড়াহুড়োর মাঝে অসময়ে জাকজমকপূর্ন করে পালন করতে পারিনি তবে সময়টা দারুণ উপভোগ্য ছিল ভাইয়া।ধন্যবাদ আপনাকে।
যেহেতু আপনাদের পরীক্ষা ছিল সে জন্য প্ল্যানটা পরীক্ষার পরে করে ভালোই করেছেন। পরীক্ষার মধ্যে যদি এরকম কিছু করতেন তাহলে আপনাদের পড়ায় ব্যাঘাত ঘটতো অনেক বেশি। আপনারা সবাই মিলে অনেক বেশি মজা করেছিলেন যা দেখে বুঝতে পারছি। আপনাদের কাটানো মুহূর্তটা সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন দেখে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। স্যারকে আপনারা অনেক কিছু উপহার দিয়েছিলেন সবাই মিলে, নিশ্চয় তিনি অনেক খুশি হয়েছিলেন।
হ্যাঁ আপু,আমাদের সামান্য উপহার পেয়ে স্যার অনেক খুশি হয়েছিলেন।যেটা আমাদের জন্য অনেক বেশি আনন্দের ও তৃপ্তিদায়ক।
দিদি এক্সামের কারনে সময় মতো শিক্ষক দিবস পালন করতে না পারলেও এক্সামের শেষে খুব সুন্দর আয়োজন করলেন।আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। আসলে মা-বাবার পরই আমাদের শিক্ষকদের অবস্থান।আপনারা সবাই মিলে খুব সুন্দর ভাবে পালন করলেন।ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু,সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।