কাকতাড়ুয়ার গল্প ........!!! আমার বাংলা ব্লগ
আজ - ১লা বৈশাখ |১৪৩০ বঙ্গাব্দ, | গ্রীষ্ম-কাল |
নমস্কার - আদাব। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভালো আছেন।
প্রথমেই সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। নতুন বাংলা সন সবার মনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসুক এমনকি প্রতিটি দিন কাটুক আনন্দ সুখের মাঝে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
যা হোক প্রতিদিনের মতো আজও আপনাদের মাঝে হাজির হলাম নতুন একটি ইউনিক ব্লগ নিয়ে ।নতুন দিনে নতুন ব্লগ সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। তবে আজকের ব্লগে একটু ভিন্নধর্মী কিছু উপস্থাপন করতে চলেছি । হয়তো বা নিশ্চয়ই পোষ্টের হেডলাইন দেখে বুঝতে পেরেছেন।
আজকে বিকেলের ই ঘটনা সবাই তো জানেন । যে পহেলা বৈশাখ মানেই হলো পান্তা ভাত। বিশেষ করে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ইলিশ মাছ না হোক। তবে পান্তা ভাতের সাথে পেঁয়াজ কাঁচামরিচ এছাড়া শুটকি ভর্তা সবার ঘরে ঘরে যেটা বেশি জনপ্রিয় । আর গ্রামের অধিকাংশ মানুষের তেমন কোন আয় রোজগার বা টাকা পয়সা নেই যে ইলিশ মাছ এনে এই পহেলা বৈশাখ কি এক সুন্দরভাবে উদযাপন করার। তবে তাদের সেই সামান্য পেঁয়াজ মরিচের মাঝে যে ভালোবাসা সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আসলে সুখ টাকা দিয়ে কেনা যায় না। সুখ এমন জিনিস যেটা সাধারণ আর ছোট্ট কিছু দিয়ে হলেও অনুভব করা যায়।
মূলত বিকেলবেলা আজকে মরিচ খেতে গিয়েছিলাম মরিচ ছেড়ার জন্য । কারণ আজকের রাতটা পোহালেই কালকের সকালের গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে চলবে পান্তা হাতের আয়োজন । আর তাইতো আমিও আমাদের মুরিচ জমি হতে মরিচ আনতে গিয়েছিলাম।
আর মরিচের জমিতে বাবা কাকতাড়ুয়া বেঁধে রেখেছে সেটা জানতাম না। তবে আজকে বিকেল বেলা গিয়েই চোখে পড়ল লাল টকটকে মাথায় একটি মাটির তৈরি হাড়ি বসিয়ে রং করে বেশ সুন্দর করে মাঝখানে সাজিয়ে রেখেছে । দেখতে বেশ ভালই লাগছে আজ বিকেলে বেলার সেই মুহূর্ত টা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে চলেছি।
বিকেলবেলায় এমন সুন্দর পরিবেশে সময়টা বেশ ভালই লেগেছে। বলতে গেলে আজকে অনেকদিন পর নিজস্ব জমি ক্ষেত্রে দেখতে এসেছি । যদিও খুব একটা এসব বিষয়ে আগ্রহতা করি না ।কারণ সবকিছুই বাবা মা দেখাশোনা করে থাকে।
এ কাকতাড়ুয়া নিয়ে ছোট্টবেলার কাহিনী গুলো ছিল বড়ই চমৎকার আর মধুর । যেগুলো এখনো মনে পড়ে আমি তো কাকতালকে দেখে অনেক ভয় পেয়েছিলাম সেই ছোট্টবেলায়। যখন কালো কুচকুচে কাপড় পড়ে রাস্তার ধারে কিংবা কোনো জমি খেতে দাঁড় করিয়ে রাখে। কি অদ্ভুত রকমের ।
মূলত এ কাকতাড়ুয়া গ্রামের মানুষ কৃষি জমিতে বেশি ব্যবহার করে থাকে । কারণ গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে যে এই কাকতাড়ুয়াকে দাঁড় করিয়ে রাখলে জমিতে থাকা ফসল গুলো নষ্ট থেকে বিরত থাকবে । যেমন ধরুন বিভিন্ন রকমের পশু পাখি কী পতঙ্গ বিভিন্ন রকম পোকা যা জমির ফসল কে রক্ষা করে থাকে । আর এই মর্মে গ্রামের প্রতিটি মানুষ তার কৃষি জমিতে এই কাকতাড়ুয়া বানিয়ে জমির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রাখে।
শেষে মরিচ ছিরে নেয়ার পর কাকতাড়ুয়া বন্ধুর সাথে দুটি সেলফি। বিকেল বেলার মরিচ ছিঁড়তে গেলে না গেলে হয়তো এমন সুন্দর কাকতাড়ুয়া বন্ধুরা দেখায় পেতাম না। বিকেল বেলা মরিচের ক্ষেতের জমিতে অনেক সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করেছি ৷ আর তাইতো এই শুভ নববর্ষের দিনে কাকতারুড়া বন্ধুকে নিয়েই আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করলাম ৷
প্রিয় বন্ধুরা আজকে আপনাদের কাছে এখানে বিদায় নিচ্ছি ৷ আবার নতুন কোন ইউনিক ব্লগ নিয়ে হাজির হবো৷ এমন প্রত্যাশা আশা আকাঙ্ক্ষা রেখে এখানেই শেষ করছি৷
ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন৷
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @gopiray |
| ডিভাইস | realme 12 |
https://twitter.com/gopiray36436827/status/1646905850899087361?t=-jxeyiVuH_BFXZVdMjEZHA&s=19
জি ভাইয়া ঠিক বলেছেন। গ্রামের প্রতিটি মানুষ তার কৃষি জমিতে এই কাকতাড়ুয়া বানিয়ে জমির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রাখতো। আমি তো ছোট বেলায় এগুলো নিয়ে ভীষণ মজা করতাম। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
জি ভাই গ্রামের প্রতি টি কৃষক তার কৃষি জমিতে এসব কাকতাড়ুয়া বানিয়ে রাখে ৷
আমরাও পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ কিংবা কাঁচা মরিচ কিংবা অন্যান্য ভাজি ভর্তা দিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে থাকি বেশ ভালো লাগে খেতে। তবে এবারের রমজান মাস হওয়ায় এবং পরিবারের ছোট বাচ্চার অসুস্থ তাই আমার বেশি আগ্রহ হয়নি। আপনি কাকতাড়ুয়ার সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন দেখে অনেক ভালো লেগেছে। আপনাদের মরিচ ক্ষেত দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে।
ভাইয়া কাকতাড়ুয়া নিয়ে খুবই সুন্দর গল্প শেয়ার করেছেন। আমার কাছে মরিচঁ খেতের ফটোগ্রাফি গুলো ধারুন লেগেছে। আমাদের দিকেও খেতের মধ্যে ইদুঁর বা পাখি তাড়ানোর জন্য এমন কাকতাড়ুয়া দিয়ে থাকে। ধন্যবাদ ভাইয়া।