আজ- ২৪ মাঘ | ১৪২৮ , বঙ্গাব্দ | সোমবার | শীতকাল |
আসসালামু-আলাইকুম।
কেমন আছেন বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব দেশি জাতের টক বরই দিয়ে তৈরি টক-ঝাল-মিষ্টি সুস্বাদু একটি আচারের রেসিপি। একটা সময় ছিল যখন শীতের এই সময়টিতে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রচুর টক জাতের দেশি কুল পাওয়া যেত কিন্তু বাসস্থানের প্রয়োজনে মানুষ এখন এই গাছগুলো প্রায় সবই কেটে ফেলেছে। আর বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা লাভজনক না হওয়ায় কেউ এগুলো রোপণও করতে চায়না। গত কয়েকদিন যাবত বাজারে এই টকজাতীয় কুলগুলো সন্ধান করলেও পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ এক বৃদ্ধ চাচাকে দেখতে পেলাম ভ্যানে করে বাসার সামনে দিয়ে এইগুলো বিক্রি করতে। দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেললাম বেশকিছু কুল। রাতে সহধর্মিনীর সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করে ফেললাম এগুলোর উপযুক্ত ব্যবহার কি হতে পারে। সত্যি বলতে কি এই আচার এর রেসিপি সম্পূর্ণই ওই ভদ্রমহিলার। আমি শুধু তার নির্দেশ মত কাজ করে গিয়েছি হাহাহাহা। আসুন তাহলে দেখা যাক কিভাবে বানানো যায় এই সুস্বাদু রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
| উপকরণের নাম | পরিমাণ |
| দেশী কুল | আধা কেজি |
| শুকনা মরিচ | ৪/৫ টি |
| চিনি/গুর | ১ কাপ |
| শুকনা মরিচের গুড়া | পরিমাণ মতো |
| লবণ | পরিমাণমতো |
| সরিষার তেল | ১ কাপ |
| ভিনেগার | পরিমান মত |
প্রস্তুত প্রণালী
ধাপ ১ঃ
প্রথমেই একটি পরিষ্কার ফ্রাইপ্যান বা কড়াইয়ে পাচফোরন গুলো ভালোভাবে ভেজে নিয়ে একটি বাটিতে উঠিয়ে রাখি।
ধাপ ২ঃ
এবার ফ্রাই প্যানে এক কাপ পরিমাণ সরিষার তেল গরম করে তার মধ্যে একে একে রসুন, তেজপাতা, শুকনা মরিচ আর ভেজে রাখা পাঁচফোড়ন দিয়ে নাড়তে থাকি।
ধাপ ৩ঃ
এ পর্যায়ে কুলগুলো হতে বোটা ছাড়িয়ে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ফ্রাইপ্যানে দিয়ে দিতে হবে। সঙ্গে পরিমাণ মত লবণ এবং চিনি দিয়ে ভালোভাবে মেশাই।
ধাপ ৪ঃ
সামান্য ভিনেগার এবং পানি দিয়ে কুলগুলোকে ভালোভাবে সিদ্ধ হবার জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেই। কিছুক্ষণ পর কুলগুলো সিদ্ধ হয়ে গেলে ফ্রাই প্যান এর মধ্যে ফেটে যেতে থাকবে।
ধাপ ৫ঃ
শেষ ধাপে পানি শুকিয়ে আসলে সামান্য পরিমাণ গুড়া মরিচ এবং টেস্টিং সল্ট ছিটিয়ে দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলি। আচারগুলো ঠান্ডা হয়ে আসলে কাঁচের বয়ামে ভরে সংরক্ষণ করা যাবে অনেক দিন।
আজকের মত এ পর্যন্তই। আবার কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনায় আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।
বিঃ দ্রঃ আপনারা চাইলে কুলগুলো আগে সিদ্ধ করে পরেও মসলাগুলো যোগ করতে পারেন। এক্ষেত্রেও সাদের তেমন কোনো হেরফের হবে না।
ভাইয়া আপনার বরই আচার দেখে তো আমার মুখে পানি চলে আসলো। বরই আচারটি দেখতে বেশ লোভনীয় লাগতেছে। বরই আচার আমার খাইতে বেশ ভালো লাগে। ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর ঘোরোয়া পরিবেশে আচারটি তৈরি করেছেন। সত্যি অনেক সুন্দর হয়েছে ভাইয়া। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আপনার মতামত জানতে পেরে আমারও খুব ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে।
একটু টেস্ট করে দেখলে ভালো হতো🤭 অনেক লোভনীয় লাগছে দেখতে। ইচ্ছে করছে এখনই খেয়ে ফেলি😋😋 খুব সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার জন্য অনেক শুভকামনা রইল।💕
মতামতটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আমি যতগুলো আচার খাই তার মধ্যে ভরে আচার আমার সবথেকে বেশি প্রিয়। আপনি আমার প্রিয় একটি আচারের রেসিপি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন তা দেখে আমি অনেক আনন্দিত। রেসিপিটি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল।
আপু আমার কাছেও এই আচারটি ভীষণ প্রিয়। মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাই এটা কি দেখালেন আপনি? জিহ্বাকে তো আর মুখের ভিতর আটকে রাখতে পারছি না, দৌড় দিতে চাচ্ছে হা হা হা হা। খুব সুন্দর করে তৈরী করেছেন, দেখেই লোভ বেড়ে যাচ্ছে খাওয়ার জন্য। ধন্যবাদ
ভাই লোভকে সংবরণ করতে শিখুন আর তা না হলে ভাবিকে এখনই বলুন বানিয়ে দিতে। আমার কাছে ভুলেও চাইবেন না কিন্তু হা হা হা। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য
মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া
বরইয়ের আচার খুবই পছন্দের আমার। শীতকাল আসলে আমাদের বাড়িতেও এমন আচার তৈরি করে। আশার গুলো আপনি খুব সুন্দর করে তৈরি করেছেন অনেক লোভনীয় দেখাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর করে আচার এর রেসিপিটি উপস্থাপন করার জন্য।
😋🤤আমার তো জিবে জল চলে এল। বরই আচারে গুড় দিলে আহা যে লোভনীয় স্বাদ হয়। যখনই সুযোগ পাই, খেয়ে ফেলি বরই এর আচারটা। ভাই-বোনদের থেকে চুরি করে খেতে আরো বেশি ভালো লাগে। ধন্যবাদ একটি লোভনীয় রেসিপি আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য, আরো বেশি খুশি হতাম যদি বাস্তবে খেতে পারতাম।😋
চলে আসবেন অবশ্যই খাওয়াবো। মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
জিবে জল আনার সব থেকে সহজ উপায়।দারুন আচার রেসিপি করেছেন আমার তো জল এসেই গেছে জিবে।খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল আপনার জন্য
দেশি টক বরই এর আচার পদ্ধতি টি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন দেশি টক দই খেতে খুবই ভালো লাগে প্রথমে টকটক লাগলেও পরে মিষ্টি লাগে দেশি টক বরই এর আচার কথা শুনে জিভে পানি চলে আসলো কি যে টেস্ট অসাধারণ এক টেস্ট। ধন্যবাদ ইউনিক রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপনার আন্তরিক মন্তব্যটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল আপনার জন্য
আচার হল সবচেয়ে লোভনীয় একটি খাবার যা দেখলে এমন কোন লোক নেই যে তার জিব্বা তার মুখের ভিতর থাকতে চায়। আপনি আজকে আপনার বডরইর আচার এর রেসিপি কি খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যা দেখে খেতে লোভ লাগছে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর এই মন্তব্যটি শেয়ার করার জন্য