আজ- ০২ কার্তিক /১৮ অক্টোবর | ১৪২৯, বঙ্গাব্দ/২০২২ খ্রিস্টাব্দ| মঙ্গলবার | হেমন্তকাল |
আসসালামু-আলাইকুম।
কেমন আছেন বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আমি এসেছি হাওর ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে। প্রথম পর্ব শেষ করেছিলাম তাহিরপুর উপজেলায় আমার অফিসে পৌঁছানোর মাধ্যমে। যেখান থেকেই বলতে গেলে টাঙ্গুয়ার হাওরের শুরু। আমি আগে কখনো হাওর দেখিনি। তাহিরপুর উপজেলা সদরটি বলতে গেলে হাওরের মধ্যেখানে অবস্থিত। আর সেখানে আমাদের অফিসই একমাত্র সুউচ্চ ভবন যা কিনা চারতলা বিশিষ্ট। প্রথম দুই তলা অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তৃতীয় এবং চতুর্থ তলা গেস্ট রুম এবং ডাইনিং রুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমার রুমটি ছিল তৃতীয় তলায় অবস্থিত। সত্যি বলতে কি রুমের বারান্দায় গিয়ে যখন দাঁড়ালাম তখন আমার যাবতীয় পথের ক্লান্তি এক নিমেশেই দূর হয়ে গেল হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে। এ সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।


বর্ষাকালে নৌকাই হচ্ছে হাওর অঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ছবিতে যে নৌকাটি দেখতে পাচ্ছেন এ ধরনের নৌকাতেই সাধারণ মানুষজন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করে থাকে। তবে অন্যান্য অঞ্চলের নৌকাগুলোর চাইতে এখানকার নৌকাগুলোর একটু পার্থক্য আছে। গঠনগত দিক দিয়ে এ নৌকাগুলোর ছাউনি অনেক নিচু অর্থাৎ ভিতরে একজন মানুষ কোনভাবেই দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। আমাদের কাজের জন্য এই নৌকাটি সব সময় রিজার্ভ করে রাখা হতো। আর এই নৌকাটিতেই আমি তাহেরপুর উপজেলা থেকে জামালগঞ্জ উপজেলায় গিয়েছিলাম। নৌকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমি কখনোই নৌকার ভিতর বসে থাকবে পারিনা। আমার পছন্দ নৌকার ছাদ। প্রথমদিকে প্রচন্ড রোদের কারণে বাধ্য হয়েই কিছুক্ষণ ভেতরে বসে ছিলাম পরবর্তীতে পড়ন্ত বিকেলে নৌকার ছাদে গিয়ে যখন বসলাম হাওরের সৌন্দর্য আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করে নিল। দিগন্ত বিস্তৃত পানির মাঝে ভেসে থাকা গ্রামগুলো যেন এক একটা স্বপ্নপুরী। হাওরের বিস্তৃতি বিস্তীর্ণ এলাকার জুড়ে হলেও এখানে পানির গভীরতা খুবই কম। আর এই পানির মাঝেই মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে আছে হিজলের বন। যেখানে শীতের সময় অতিথি পাখিরা এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। এছাড়া হাওরের মাঝে প্রায় সর্বক্ষণই কোন না কোন জেলে নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। যারা হাওড়ে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করে ।


সমগ্র এলাকাটি টাঙ্গুয়ার হাওর নামে পরিচিত হলেও এখানে হাওর মূলত তিনটি। শনির হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর এবং আরেকটি হাওরের নাম আমার এই মুহূর্তে মনে নেই। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় সব জায়গা থেকে পানি নেমে গেলেও মূল হাওর গুলোতে সবসময় পানি থাকে। আমাদের অফিসের সবচাইতে কাছে ছিল শনির হাওর। কেন এবং কিভাবে এই নাম হয়েছে তা আমার জানা নেই তবে এই হাউর টি সত্যিই অনেক বড়। এক পাশ থেকে আরেক পাশে দৃষ্টি দিয়ে মাপা যায় না। তাহেরপুর তিন দিন অফিস করার পরেই আমাকে বদলি করে দেয়া হয় জামালগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে। এতদিন শুকনো জায়গায় দাঁড়িয়ে হাওর দেখার অভিজ্ঞতা হলেও সত্যিকারের হাওর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয় আমার জামালগঞ্জ ভ্রমণের মাধ্যমে। হাওর এলাকায় ভ্রমণ করতে গেলে সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক। যারা ভবিষ্যতে হাওর এলাকায় ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্যই আমার পরবর্তী পর্বে কিছু জরুরী পরামর্শ থাকবে। আশা করি সাথেই থাকবেন। আর প্রকৃতি আর পানি যাদেরকে আকর্ষণ করে তাদের জন্য গ্যারান্টি দিচ্ছি হাওর এলাকা ভ্রমণ নিঃসন্দেহে আপনার জীবনের সেরা একটা অভিজ্ঞতা হবে।


আজকের মতো এতোটুকুই। আবার কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনায় আজকের মত এখানেই শেষ করছি।
| Photographer | @ferdous3486 |
| Device | Samsung M21 |
| Location | Tahirpur, Sunamganj |
টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের মুহূর্তগুলো খুবই সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছেন। আপনার পুরো পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আসলে এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ অবস্থান করতে পারলে খুব ভালো লাগতো। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে বিশেষ করে হাঁস গুলো দেখে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আগামী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম । সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আজিম ভাই আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ সময় নিয়ে পুরো পোষ্টটি পড়ার জন্য। টাঙ্গুয়ার হাওর আসলেই অনেক সুন্দর জায়গা। সময় এবং সুযোগ হলে ঘুরো আসতে পারেন । আশাকরি আপনারো ভালো লাগবে।
আপনি টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ করে অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করে এনেছেন এবং তা খুবই সুন্দর ভাবে বর্ণনার সাথে উপস্থাপন করেছেন। অবশ্য এই স্থান সম্পর্কে অত বেশি অবগত ছিলাম না। আপনার এই পোস্ট পড়ে জানতে পারলাম এখানে মোট তিনটি হাওর রয়েছে। আরো জানতে পেরেছি বর্ষার সময় এই অঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এছাড়াও জেলে ভাইদের মাছ ধরা এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করলাম আপনার পোস্ট এর মধ্য দিয়ে।
হাহাহাহা। বোঝা যাচ্ছে ভাই আপনি সম্পূর্ণ পোস্টটাই পড়েছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার পোস্টটি পড়ে মন্তব্য শেয়ার করার জন্য।