হাসপাতালের অভিজ্ঞতা। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাক এর জন্য।

in আমার বাংলা ব্লগ5 years ago

আজ- ১১ই অগ্রায়ন | ১৪২৮ , বঙ্গাব্দ | শুক্রবার | হেমন্ত-কাল |


আসসালামু-আলাইকুম। আশা করি সবাই ভাল আছেন।

আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব হাসপাতালে কাটানো আমার একটি দিনের অভিজ্ঞতা। আর সেইসঙ্গে আমার কিছু ব্যক্তিগত ধারণা।

হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু অভিজ্ঞতা আছে। কারো কাছে হয়তো এই অভিজ্ঞতা খুবই আনন্দের আবার কারো কাছে বেদনাদায়ক। হাসপাতালে একদিকে যেমন নবজাতক শিশুর জন্মের মাধ্যমে আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে চারিদিক আবার অন্যদিকে হয়তো স্বজন হারানোর বেদনায় কেঁদে বুক ভাসায় অনেকেই। যাই হোক ভালো বা মন্দ যাই বলি না কেন হাসপাতালে দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা আমার এখনো পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। আমার বাবা যখন মারা গেলেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে তখনও আমি তার পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি অন্য কোন আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু বান্ধবের জন্যেও কখনো হাসপাতালে থাকা হয়নি। সত্যি বলতে কি হাসপাতাল আমার কাছে সব সময়ই ভীষণ অ-পছন্দের একটি জায়গা কিন্তু মানুষ যা অপছন্দ করে তাই বোধ হয় তার কাছে বেশি বেশি আসে। ছোটবেলায় দেখেছি গ্রামের বাড়ির আত্মীয় স্বজন এমনকি গ্রামের বাড়ির পাড়া-প্রতিবেশীরা চিকিৎসার প্রয়োজনে আমাদের বাসায় এসে উঠতেন। আর আমার বাবা তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তার দেখাতেন বা হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন আমাদের বাসায় প্রতি মাসেই কেউ-না-কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকতে আসতেন। তার মৃত্যুর পর এই মানুষগুলোর আনাগোনা আমাদের বাসায় অনেকটাই কমে গেল। ব্যস্ত জীবনে খুব কাছের এবং গুরুত্বপূর্ণ লোক না হলে তার জন্য সময় দেয়ার মত সময় পাওয়া যায় না।যাই হোক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি নিজের প্রয়োজনে সুবিধা নিতে আসা মানুষগুলোর ব্যবহার থাকে অত্যন্ত নরম, মুখে থাকে তেলতেলে হাঁসি। কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

20211011_143717.jpg

এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক কয়েকদিন আগের ঘটনা। আমার এক নিকটাত্মীয়ের বাবা হবার সংবাদ পেলাম। পরিবারের সবাইকে নিয়ে যখন হাসপাতালে পৌঁছলাম দেখতে পেলাম আমার সেই আত্মীয়র হাসিমুখ। কোন একটি জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বাবা হতে পারছিলেন না। স্বভাবতই তিনি ছিলেন খুব বেশি আনন্দিত। তাকে অভিনন্দন জানানো সহ অন্যান্য আলাপ-আলোচনা চলাকালীন পাশের কেবিনে থেকে শুনতে পেলাম এক মহিলার আর্তচিৎকার। খোঁজ নিয়ে জানা গেল তার পেটের সন্তান গর্ভেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমার আনন্দের অনুভূতিটা খবরটা পাওয়া মাত্রই অনেকটাই কমে গিয়েছিল।একজন মা এত কষ্ট স্বীকার করে নিজের গর্ভে একটি সন্তানকে বড় করার পর যদি বাচ্চাটা মারা যায় এর চাইতে কষ্টের আর কি হতে পারে।

আর আমার মনে হয় এই হাসপাতালগুলোতে আনন্দের চাইতে দুঃখের ঘটনাই বেশি ঘটে। আমার সেই আত্মীয়র সঙ্গে গল্প করতে করতে যখন হাসপাতাল থেকে একটু বের হয়েছি তখনই এক ভদ্রলোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসলেন, জানতে চাইলেন আমরা কোথায় ভর্তি হয়েছি, কোন কিছু লাগবে কিনা? তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বললেন, তিনি হাসপাতালের একজন মার্কেটিং অফিসার। উনার সাথে আলাপ শেষ করার পর একই পেশায় নিয়োজিত আরো বেশ কয়েকজন ভদ্রলোক আমাদেরকে বিভিন্ন অফার গ্রহণের প্রস্তাব দিলেন। সবশেষে আমি বুঝতে পারলাম এই ভদ্রলোেরা সাধারণভাবে দালাল নামে পরিচিত। এরা বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগী ধরে এনে হাসপাতালে ভর্তি করেন আর তার বিনিময় কিছু কমিশন পান। প্রসঙ্গত বলে রাখি আমার আত্মীয় যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এটি একটি বেসরকারি হাসপাতাল। যথেষ্ট পরিমাণে টাকা খরচ করতে পারলে এখানে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এই হাসপাতালের ঠিক সামনেই ছিল একটি সরকারি হাসপাতাল। যেখানকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার আত্মীয় মারফত জানতে পারলাম সরকারি হাসপাতালে তদবির বা বাড়তি টাকা ছাড়া সহজে কেবিন পাওয়া যায় না। আর জরুরি প্রয়োজনে ডাক্তারদের ডেকে ডেকে হয়রান হতে হয়। যাই হোক ভালো মন্দ মিলিয়ে হাসপাতালে একটি পূর্ণ দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা হল।

সবশেষে আমার পাঠকদের জন্য বলতে চাই চিকিৎসা সেবা একটি মহান পেশা এই পেশার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের উচিত যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করা। একজনের সামান্য অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি যেন অন্যের জীবন মরণের সমস্যা হয়ে না দাঁড়ায়। আজকের মতো এতোটুকুই। আবার কথা হবে অন্য কোনো সময়ে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। ততদিন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

বিঃ দ্রঃ কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা আমার লেখার উদ্দেশ্য নয়। তাই ছবির লোকেশন এবং স্থানের নাম উল্লেখ করলাম না।
Photographer@ferdous3486
DeviceSamsung M21

Sort:  
 5 years ago 

আসলে ভাইয়া হাসপাতলে যদি যাওয়া হয় তাহলে সেখানে হাসিখুশি থেকে কষ্টটা অনেক বেশি দেখা যায়। কিন্তু কেউ কেউ খুশিতে থাকে আবার কারো হয়তো কষ্টের অভাব থাকে না। আরেকটি কথা আসলে প্রথম বাবা হওয়ার অনুভূতিটা অনেক বেশি।

 5 years ago 

আমিও আপনার সাথে একমত। আমার অনুভূতিটাও একই রকম ছিল। হাসপাতলে যাওয়া হয়তো ভালো লাগেনা কিন্তু প্রত্যেককেই যাওয়া উচিত। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য

আসলে হাসপাতালে গেলেই বোঝা যায় মানুষ এর কত রকম বিপদ থাকতে পারে, তার সাথে নিজের তুলনা করলেই বোঝা মহান আল্লাহ তায়ালা কত ভালো রেখেছেন আমাদের। আর সরকারী বেসরকারী হাসপাতালের এই মহৎ কর্মকান্ড কেন জানি আমি আজও বুঝে উঠতে পারিনি। হাসপাতাল সম্পর্কে আমার ও একটি মন্দ অভিজ্ঞতা আছে। আপনি বলেছেন তার সাথে অনেক মিল আমার। যাই হোক ভালো থাকবেন ভাই সবসময় সচেতন থাকবেন। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য।

 5 years ago 

জি ভাই আপনার মন্তব্যটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো।আসলে অসুস্থ না হলে আমরা বুঝতেই পারিনা যে আমরা কতটা ভালো আছি।

 5 years ago 

আসলে ভাইয়া হাসপাতলে কেউ ইচ্ছা করে যায় না। যেতে বাধ্য হয় মানুষ। সত্যি ভাইয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যত বেশি টাকা খরচ করা যাবে সেখানে সেবার মান টা ভাল হয় আর সরকারি হাসপাতলে শুধুমাত্র হয়রানি হওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই। ভাই আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

 5 years ago 

আমাদের দেশের হাসপাতালের সেবার মান এত খারাপ বলেই মানুষ এখন কিছু হলেই ভারত যেতে চায়। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যের জন্য

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64279.30
ETH 1870.28
USDT 1.00
SBD 0.36