আজ- ৮ জ্যৈষ্ঠ /২২ মে | ১৪২৮, বঙ্গাব্দ/২০২২ খ্রিস্টাব্দ| রবিবার | গ্রীষ্মকাল |
আসসালামু-আলাইকুম।
কেমন আছেন বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ সারা দিন কাটল প্রচণ্ড ব্যস্ততায়। পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কিছু জমি আজ বিক্রি করলাম। এজন্য দিনের প্রায় বেশিরভাগ সময়টাই থাকতে হয়েছিল সাব রেজিস্ট্রার অফিস ও তার আশেপাশে। যাদের এ সম্পর্কিত তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই তাদের জন্যই আমার আজকের এই লেখা।


কেউ যদি জমি বিক্রি করতে চায় তাহলে তার যে ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হবে তা হচ্ছে উক্ত জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশান সনদ, জমির পর্চা বা রেকর্ড এর কপি, যেখানে জমির দাগ নম্বর, পরিমাণ, মৌজা, জমির ধরন এবং মালিকের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির মিউটেশন বা নামজারির প্রয়োজন হয়। এছাড়া আরো যে ডকুমেন্টসগুলো আপনার প্রয়োজন হবে তা হচ্ছে জমির হালনাগাদ খাজনার রশিদ, ক্রেতা এবং বিক্রেতার জাতীয় পরিচয় পত্র। প্রত্যেকের এক কপি করে পাসপোর্ট সাইজ ফটো। উপরিউক্ত ডকুমেন্টসগুলো না থাকলে সাব-রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হবে না। অবশ্য জমি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়। এর বাইরে আছে অফিস খরচ নামক একটি নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের ব্যাপার। যেটা অনেকটা অবশ্য পালনীয় নিয়মের মধ্যেই দাঁড়িয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমার আগেই ছিল তবে আজ আবার নতুন করে উপলব্ধি করলাম।

Source

মানুষের জীবনে অর্থ বা সম্পদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আমরা যতই বলি "মরলে সঙ্গে যাবে না কোন কিছু" কিন্তু তারপরেও যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন আমাদের আকাঙ্ক্ষা আর প্রয়োজন মেটাতে দরকার এই অর্থ-সম্পদের। স্বাভাবিক প্রয়োজন মেটাতে একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এগুলো উপার্জন ঠিক আছে। তবে কেউ কেউ সম্পদের নেশায় বদ্ধ উন্মাদ এ পরিণত হয়। সামান্য জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদে ছেলে বাবাকে, ভাই ভাইকে, চাচা ভাতিজা কে হত্যা করার নজির আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়। সম্পদ মানুষকে সুখ দিতে পারেনা। সম্পাদের উপার্জন এবং ব্যয় হওয়া উচিত কেবল মানুষের কল্যাণে। কারণ জীবন জীবনের জন্য, মানুষ মানুষের জন্য। এই সত্যটি যারা উপলব্ধি করতে পারে তারাই প্রকৃত মানুষ।

Source

সকাল দশটায় সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয় এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় ফেরত আসলাম বাড়ীতে। এই দীর্ঘ সময় কি ভাবে কাটালাম বলতে গেলে রাত পার হয়ে যাবে। তাই আজকের মতো এতোটুকুই। আবার কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনায় আজকের মত এখানেই শেষ করছি।
জমি জমা সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো আমাদের সবার জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনও মাথা ঘামায়নি। তবে এগুলো জেনে রাখা দরকার। আপনি কিছু বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন যা পড়ে আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। ধন্যবাদ আপনাকে
একটা সময় আসবে যখন এগুলো আপনাকে বাধ্য হয়েই জানতে হবে। তবে আগে থেকে জেনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ধন্যবাদ ভাই আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য।
কথাটা চরম সত্য। তবু আমাদের বেঁচে থাকার তাগিদে সব কিছুই দরকার আছে। আপনার পোস্ট পড়ে জমি সংক্রান্ত অনেক অজানা তথ্য জানলাম। এটা একটা ভিন্ন ধর্মী পোস্ট ছিলো ভাই। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
সারাদিন চলে গেল এগুলো করতেই। তাই অন্য কিছু পোস্ট করার সময় পাইনি। ভাবলাম এটা দিয়েই আজ কাজ চালিয়ে দেই। ধন্যবাদ ভাই
জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না ভাই। আমার বাবাকে জমি কিনতে দেখেছি। তবে এত বিস্তর আলোচনা কখনো কারো মুখ থেকে শুনি নাই। খুব ভালো লাগলো ভাই জমি জমা সংক্রান্ত খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আপনি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। সুন্দর করে আলোচনা করেছেন সবকিছু। ধন্যবাদ আপনাকে এরকম সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আমাদের সামনে শেয়ার করার জন্য। শুভকামনা রইল ভাই।
আসলে এ সম্পর্কে লিখতে গেলে অনেক বড় একটি পোষ্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পাঠকের সংখ্যা হয়তো শুন্যে গিয়ে দাঁড়াবে। তাই খুব বেশি বড় করার রিস্ক নেইনি। ধন্যবাদ ভাইপাশে থাকার জন্য
সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে আপনার লেখায়। সত্যি জমি সংক্রান্ত জটিলতা আজ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেনি আমাদের দেশ। মারা মারি হানাহানি তো রয়েছেই। সঠিক কাগজ পত্র থাকার পরও অনেকেই দূর্বল লোকের জমি দখল করে নেয় গায়ের জোরে। এমন নজির বাংলাদেশ সৃষ্টির আগ থেকেই রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে আমরা আধুনিক হচ্ছি এবং এক একটা ভূমি দস্যু রাক্ষসে পরিনত হচ্ছি। সুন্দর লেখনী ভাল লেগেছে। ভাল থাকবেন ভাই। ধন্যবাদ।
আমাদের দেশের আইন হচ্ছে একটা। আর তা হচ্ছে জোর যার মুল্লুক তার। কবে যে এই আইনের পরিবর্তন হবে উপরওয়ালাই জানে। ধন্যবাদ ভাই
ভাইয়া, সরকারি কাজগুলোর মধ্যে যে নিয়মগুলো বেঁধে দেয়া হয়েছে সেই নিয়মগুলো মেনে চলতেই হবে এটা যেনো আমাদের জনগনের একবারে মূল দায়িত্ব হিসেবে করতে হয়।আর আমাদের যে কাজগুলো গুলো সরকার কতটা দায়িত্ব সহকারে করে সেটা আমি জানি না।তবে একবার জমি সংক্রান্ত একটি ব্যাপার নিয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে সেখানে অবস্থা দেখে বুঝতে পারলাম তারা যে কত অবহেলা করে কাজ করে। জমি সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপার অনেক ক্রিটিকাল ব্যাপার অনেক সময় লাগে। যেমনটি আপনি সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় আসলেন এবার বুঝুন ভাইয়া কি অবস্থা ওখানকার।যাইহোক ভাইয়া আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে।।
আপনার যেহেতু অভিজ্ঞতা আছে তাই আপনাকে আর বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। ভূমি অফিস গুলোর কর্মচারীরা হা করে বসে থাকে কিভাবে বারতি পয়সা ইনকাম করা যায় এই ধান্দায়। আর এজন্যই যত রকম ভাবে সম্ভব তারা কালক্ষেপণের চেষ্টা করে। ধন্যবাদ আপু
একদম সত্যি কথাই বলেছেন। সচ্ছল ভাবে জীবনযাপন করার জন্য সকলেরই নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের দরকার আছে।
কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে তার কি কি কাগজপত্র দরকার হবে সে সম্বন্ধে খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। আপনার এ পোস্টের মাধ্যমে অজানা অনেক কিছু জেনে নিলাম। অনেকেরই এতে উপকার হলো। খুব সুন্দর উপস্থাপনা ছিলো। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনি মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার পোস্টটি পড়েছেন এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আসলে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সবারই ধারণা থাকা উচিত। তাহলে প্রয়োজনের সময় কাউকেই ঠকতে হবে না।