বিশ্ব বাবা দিবস ও কিছু কথা। 10% লাজুক শিয়ালের জন্য।
আজ- ৫ আষাঢ় /১৯ জুন | ১৪২৯, বঙ্গাব্দ/২০২২ খ্রিস্টাব্দ| রবিবার | বর্ষাকাল |
আসসালামু-আলাইকুম।
কেমন আছেন বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। শুরুতেই সবাইকে জানাই বিশ্ব বাবা দিবসের শুভেচ্ছা। বর্তমানে দিবসের কোনো অভাব নেই। বাবা দিবস, মা দিবস, বন্ধু দিবস, ভালোবাসা দিবস, শ্রমিক দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ বা গুরুত্বহীন বিভিন্ন দিবস আমরা পালন করে থাকি। হিসাব করলে দেখা যাবে বছরে 365 দিনে দিবস পালিত হয় হয়তো এর চাইতে আরো বেশি। কোন কোন দিনে দুইটি বা তিনটি দিবস ও পাওয়া যাবে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু দিবসে যেমন আসলেই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি আবার কিছু কিছু দিবসকে আমার কাছে নিছক খামখেয়ালী বলেই মনে হয়। তবে দিবস উদযাপনের গুরুত্ব যে একেবারেই নেই তা কিন্তু নয়। অনেকেই বলে থাকেন বাবা বা মায়ের জন্য আলাদা করে কেন দিবস পালন করতে হবে। তাদের জন্য ভালোবাসা থাকবে প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন, প্রতিটি বছর। যাইহোক আজ অন্যান্য দিবস বাদ দিয়ে শুধু বাবা দিবসের কথাই বলি।
বাবা হচ্ছে বটবৃক্ষ, আশ্রয় স্থল। এই আশ্রয়স্থল এর নিচে যতদিন থাকা যায় ততদিন বাইরের কোন ঝড়ঝাপটা কাউকে স্পর্শ করতে পারে না। যার বাবা নেই শুধু সেই জানে বাবা হারানোর কষ্ট। শৈশবে আমাদের বাবা-মা কত কষ্ট আর ত্যাগ স্বীকার করে আমাদেরকে বড় করে তোলেন। এরপর বড় হয়ে একসময় নানা কর্মব্যস্ততার ভিড়ে আমরা আমাদের পিতা-মাতার অবদান ভুলে যাই। ব্যস্ত হয়ে পড়ি যার যার নিজের জীবন নিয়ে। একটা সময় আসে যখন এই মানুষগুলো শক্তিহীন অথর্ব হয়ে পড়ে। তখন দায়িত্ব পালনের সময় সন্তানের। যারা প্রকৃত মানুষ আর পিতা-মাতার সু-সন্তান তারা শেষ দিন পর্যন্ত তাদের বাবা-মার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে থাকেন। আর আছে কিছু মানুষরূপী কুলাঙ্গার। যাদেরকে আমরা হরহামেশাই দেখতে পাই পিতামাতাকে ঘর থেকে বের করে দেয়া বা বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসার মত ঘটনা ঘটাতে। একসময় বাংলাদেশ যৌথ পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন ঢাকায় পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিরা এক ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে অন্তত তাদেরকে কেউ ঘর থেকে বের করে দিত না বা খাওয়া পড়ার ব্যাপারে কষ্ট করতে হত না। গুরুজন কে সবাই সম্মান করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ায় গঠিত হয়েছে অনু পরিবার। যেখানে স্বামী স্ত্রী এবং তাদের সন্তানাদি ছাড়া আর সবাইকে বাইরের মানুষ মনে করা হয়। ফলে একসময় যে বাবা-মা ছিল তাদের আশ্রয়স্থল, সবকিছু। তাদের বৃদ্ধ বয়সে তাদেরকে ফেলে রেখে শহরে পাড়ি জমাতে তাদেরই সন্তানাদির এতোটুকু পিছুটান বাধেনা।
আমি মনে করি বিশ্ব বাবা দিবসের একটি তাৎপর্য হচ্ছে, সারা পৃথিবীর মানুষ বছরের এই একটি দিনে অন্তত তাদের বাবাকে স্মরণ করবে, ভালবাসবে আর তাদের ভালোবাসা ছড়িয়ে দেবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে বছরের অন্যান্য দিনগুলোতে বাবার আর কোন খবর নিতে হবে না। আমাদের ইসলাম ধর্মেও পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলা করার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তাই প্রত্যেকটি সুসন্তানের উচিত পিতা-মাতা জীবিত থাকতেন তাঁদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করা। বিশ্ব বাবা দিবস এর এই দিনে তাই আসুন আমরা সকলে স্মরণ করি আমাদের বাবাকে। ভালবাসি ঠিক ততটাই যতটা তারা আমাদের ভালোবাসেন। আর নিজেরাও একজন ভালো বাবা হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। শুভকামনা সকল বাবাদের জন্য।
আজকের মতো এতোটুকুই। আবার কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনায় আজকের মত এখানেই শেষ করছি।
বাবা মানেই বটবৃক্ষ। যার হাতটি ধরেই পথচলা, বেড়ে উঠা। বাবারা একটু অন্য টাইপের হয় এই যেমন এক জুতো দিয়েই বছর পার করে দেয় অথচ সন্তানদের ঈদ আসলেই নতুন জুতা, জামা কিনে দেয়। বাবাদের কথা বললে হয়তো শেষ হবেনা। শুধু এটাই কামনা করি বেচেঁ থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা। ❤️
জি ভাই আমার মনের অনুভূতির কথা গুলোই আপনি বেশ সুন্দর গুছিয়ে কমেন্ট করেছেন। অন্তর থেকে ভালোবাসা রইলো পৃথিবীর সকল বাবাদের জন্য।
বাবা এক ভরসার নাম। বাবা এক আস্থার নাম। যার বাবা নেই সেই বোঝে বাবা থাকার গুরুত্ব। বছরের প্রতিটা দিন আমরা বাবাকে ভালোবাসবো। ভাই আপনার পোস্টটা অনেক ভালো লেগেছে। আপনার জন্য শুভকামনা।
আসলেই বাবা হয়েছে পৃথিবীতে এক বটবৃক্ষ। যে বৃক্ষ যখন থাকেনা তখনই এর প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা যায়। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
বাবা হলো আমার কাছে বটবৃক্ষের মতো, যার ছায়া তলে এখনো প্রান জুড়ায়। যতদিন বাবার হোটেলে ছিলাম ততদিন জীবন বেশ রঙিন ছিল। এখন সন্তানদের ছায়া দিতে গিয়ে নিজের পিঠ রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভেজে। যাক আজ একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
ভালো উপস্থাপনা করেছেন ভাই।
পৃথিবীর সকল বাবার জন্য দোয়া রইল।
যেহেতু আপনি নিজে একজন বাবা তাই বাবা কি জিনিস আপনাকে আর বুঝিয়ে বলার দরকার নাই। দোয়া করি আপনি একজন সার্থক বাবা হয়ে উঠুন।
সকল বাবাই প্রতিটি সন্তানের জন্য সুপারহিরো। শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের গড়ে তোলার বটবৃক্ষ হলেন বাবা। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি ব্লগ শেয়ার করার জন্য।
ব্যতিক্রম যে নেই তা কিন্তু না। মাঝে মাঝেই আমরা পশুরূপী কিছু বাবার কথা শুনি। যদিও এদের সংখ্যা হাতে গোনা যায়। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য
হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান না তেমনি মানুষ সবাই সমান না। ভালোর মাঝে খারাপও বিদ্যমান। তবে হ্যাঁ তারা সংখ্যায় অতি নগন্য ধন্যবাদ।
আমার কেন যেন মনে হয় ভাই, মা বাবার জন্য দিবসটা একই দিনে হওয়ার দরকার ছিল। দুজনই তো বুকের বাম পাশ আর ডান পাশ। খুব চমৎকার করে লিখেছেন পুরোনো আর নতুন ধাঁচে। আজকের এই দিনে একটাই কথা বলবো শুধু, পৃথিবীর প্রতিটা বাবা যেন ভালো থাকে ,পৃথিবীর প্রতিটা মা যেন ভালো থাকে। আর পৃথিবীর প্রতিটা সন্তান যেন তার মা-বাবার আস্থার স্থান হয়ে পাশে দাঁড়ায়।
ঠিক বলেছেন ভাই, একসাথে হলে খারাপ হত না। কারণ পৃথিবীতে সন্তানের জন্য কারো অবদান কেই ছোট করা যাবে না। ধন্যবাদ আপনার অসাধারণ মন্তব্যের জন্য।
বাবা দিবস উপলক্ষে কিছু কথা লেখার মাধ্যমে অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন । আসলে বাবা দিবস মানে আমরা একটি দিনকে ভাবিনা।বাবার পাশে সব সময় থাকা বাবার ভালোবাসা নেওয়া ও দেওয়াই হচ্ছে প্রকৃত ভালোবাসা। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে অনেক মূল্যবান কথা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যা পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
সার্থক বাবা হওয়া খুবই কষ্টের। তবে বাবা-মা নেই একা আশ্রয় স্থল, একটা ভরসা। সবার উচিত শুধুমাত্র এই দিবসে নয় সারা বছর তাদের বাবাদের টেক কেয়ার করো। ধন্যবাদ আপু
সুন্দর মন্তব্য করে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ ভাই।
বাবা দিবসে আপনি আজ অনেক সুন্দর কিছু কথা লিখেছেন আমাদের মাঝে। আসলে বাবারা হচ্ছে আমাদের মাথার ছায়া। আমরা সন্তান বাবাদের যত অবহেলায় করি না কেন একটু হাসি মুখ দেখলেই বাবারা সব ব্যথা ভুলে যায়। তবু কেন যেন আমরা বৃদ্ধ বয়সে বাবাদের অবহেলার চোখে দেখি। কেন আমাদের মন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু যারা এই কাজগুলো করে এক সময় তারা ও তাদের সন্তানদের কাছ থেকে এমন আচরণে পাবে।
ঠিক বলেছেন শৈশবে যে বাবারা আমাদের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করে। বার্ধক্যে সেই আমরাই তাদের কথা একেবারেই ভুলে যাই। যা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। ধন্যবাদ
চিরন্তন সত্য কথা বলেছেন ভাই। বাবা হচ্ছে বট গাছের মতো। সন্তান কে সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। আজকে বিশ্ব বাবা দিবসে সকল বাবাদের জানাচ্ছি অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ভাল কিছু লেখা পড়লাম আপনার দ্বারা। ধন্যবাদ আপনাকে
শুধু লেখা পর্যন্তই। আসলে আমিও একজন ব্যর্থ মানুষ। নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারিনি। তাই আজ বেশ আফসোসের সঙ্গেই লেখাগুলো লিখেছি। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
প্রথমেই আপনাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাবা হল একটি পরিবারের দেওয়ালের মত। দেওয়াল না থাকলে যেমন ঘরের কোন মূল্য থাকে না ঠিক তেমন বাবা না থাকলেও কোন পরিবারের তেমন মূল্য থাকে না। আপনি আজকে এত সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ দারুন একটি মন্তব্যের মাধ্যমে অভিমত ব্যক্ত করার জন্য.।শুভকামনা রইল।
বাবা মানে হাজার সকাল আমার ছেলে বেলা। প্রতি দিন আমার ছেলে সবার আগে ঘুম থেকে উঠে তার কচি হাত দিয়ে আমায় আদর করে যখন আমার মনটা আনন্দের উল্লাস ভেসে উঠে। দুপুরে যখন খেতে যাই অফিস থেকে , তার মুখ খানা দেখে মন ভরে যায় আমার এবং কি আমার ছেলে আর যখন বিকেলে বাসায় ফিরে তার সামনে দাড়াই ও মনে হয় কতটা যে খুশি হবে তা ভেবে পায় না। ঠিক এত টুকু আমিও অনুভব করি আমার বাবাকে নিয়ে । ভালো থেকে বাবা সারাজীবন । দোয়া করি তোমার জন্য । আর দোয়া রইল প্রতিটি বাবার জন্য। শুভকামনা
দারুন লিখেছেন ভাই। আসলে এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আপনার মত আমিও সকল বাবাদের জন্য জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।