ভুতুড়ে ঝাউ বাগানের গল্প।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

হ্যালো সবাইকে

কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকে আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করব। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব ভুতুড়ে ঝাউ বাগানের গল্প।আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।

IMG_20230331_142454.png

আজকে আমি আপনাদের সাথে একটি ঝাউ বাগানের গল্প শেয়ার করব যেটি আমার সাথে ঘটেছিল । অনেক বছর আগের একটি ঘটনা আজকে আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। অনেক দিন আগে আমাদের বাড়িতে আমরা বান্ধবীরা মিলে একটি ছোট্ট আয়োজন করলাম খাওয়া-দাওয়ার। আমরা সবাই মিলে বাজার থেকে মুরগী নিয়ে আসলাম এবং মুরগি গুলি কেটে সুন্দরভাবে পিজ করে রাখলাম।

আমাদের আয়োজনটি ছিল রাতের বেলায়। ভাবলাম সবাই মিলে রাতের বেলায় নির্দিষ্ট একটি কোলাহল মুক্ত জায়গায় রান্নাবান্না করব এবং সবাই মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করব । পরবর্তীতে আমরা সবাই আমাদের বাড়ির পাশে সুন্দর একটি জায়গা যেখানে অনেক গুলি ঝাউ গাছ রয়েছে। সেখানে পরিবেশ অনেক সুন্দর সবাই মিলে রাতের বেলায় ওখানে গেলাম রান্নাবান্না করার জন্য।

আমরা সবাই মিলে সেখানে একটি গর্ত করলাম এবং গর্তের তিন পাশে তিনটি ইট দিয়ে দিলাম যাতে ইটের উপর পাতিল বসানো যায়। পরবর্তীতে আমরা মাংসগুলোকে মসলা, লবণ, তেল,‌ হলুদ-মরিচ সবগুলি দিয়ে কষিয়ে নিলাম। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত রান্না করতে ছিলাম ততক্ষণ পর্যন্ত কোন আলাপ ছিলনা। চারিদিকে সব নিস্তব্দ ছিল পরিবেশ অনেক ঠান্ডা ছিল কিন্তু আমাদের যখনই রান্নাবান্না শেষ হলো তার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করে দেখলাম অনেক জোরে বাতাস আসতে লাগলো আশপাশের ঝাউ গাছগুলি মনে হচ্ছিল ভেঙে পড়বে আমাদের উপর। অথচ ওই মুহূর্তটা ছিল নিস্তব্ধ কোথাও কোন বাতাস ছিল না শুধুমাত্র আমরা যেখানে বসে ছিলাম ওখানে ঝাউ গাছগুলো শুধু নাড়াচড়া করতে ছিল।

আমরা ভাবছিলাম বৃষ্টি আসবে অথবা বাতাস আসতেছে এ ধরনের কিছু ভাবছিলাম কিন্তু আসলে বিষয়টা তা না। আমরা ঐ মুহূর্তে সবাই মিলে বসে খাওয়ার আয়োজন করে ফেললাম এবং এর আগে আমরা বাজার থেকে কিছু রুটি নিয়ে এসেছিলাম যেন রুটি দিয়ে মাংস দিয়ে খাওয়া যায়। পরবর্তীতে আমরা সবাই বসলাম ওই বাগানের ভিতর একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। আমরা যখন খাওয়া দাওয়া করতেছিলাম তখনও ঝাউ গাছগুলো অনেক নাড়াচড়া করতেছিল। মনে হচ্ছিল ডালপালা আমাদের গায়ের উপর ভেঙে পড়বে আমরা তেমনটা বুঝতেছিলাম না এখানে কি হচ্ছে। আমরা ভাবছিলাম বৃষ্টি আসবে বা বাতাস আসতেছে এটা ভেবে আমরা তাড়াতাড়ি করে খাওয়া দাওয়া করে চলে আসলাম।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আসার পর দেখতেছি ঝাউ গাছের ওইখানে যে বাতাস ছিল বা ঝাউ গাছগুলো নাড়াচড়া করছিল সব বন্ধ হয়ে আছে এবং চারিদিকে সব নিস্তব্দ পরিবেশ। কোথাও কোন বাতাস হয় নাই এবং অনেককে জিজ্ঞাসা করলাম কিছুক্ষণ আগে কি ঝড় আসছিল বা বাতাস হয়েছিল জোরে। সবাই বলতেছিল না কোন বাতাস হয়নি এবং কোন ঝড় আসেনি পরিবেশ অনেক ঠান্ডা ও নিস্তব্ধ ছিল। তখন আমাদের আর বুঝতে বাকি রইল না সেখানে কি হয়েছিল।

এরপর থেকে আর আমরা ওই জায়গায় কখনো রাতের বেলায় যেতাম না এবং ওইদিন গিয়ে অনেক কিছু দেখলাম এবং শিখলাম। এবং এই ঘটনা অনেককে বললাম যেন সবাই রাতের বেলা ওই জায়গায় কেউ একা না যায়। এটা ছিল আমাদের বান্ধবীদের সাথে একসাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীজেনারেল
ফটোগ্রাফার@fasoniya
ডিভাইসVivo Y15s
লোকেশনবাংলাদেশ


আমার পরিচয়

1664774022741.jpg

আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।


1 (1).png

IMG-20221013-WA0015.jpg

Sort:  
 3 years ago 

আপনার গল্প পড়ে বুঝতে পারলাম ঝাউ বাগানে খারাপ কিছু ছিল। আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে ঝাউ বাগানে কিন্তু রাতের বেলায় খারাপ কিছু থাকে। তবে আপনারা সবাই মিলে ছিলেন তাই খারাপ কিছু হয়নি। বাস্তব গল্পটি পড়ে কিন্তু ভয় পেয়ে গেলাম আপু।

 3 years ago 

তবে আপু ঝাউ গাছের মধ্যে রাতের বেলা না যাওয়াই ভালো। যাক বান্ধবীরা মিলে পাটি দিয়েছেন। হয়তো আপনারা জানতেন না ওই জায়গাটা খারাপ। জানলে আপনারা ওখানে রান্নাও করতেন না এবং খাবার গুলো খেতেন না। আমি তো প্রথম পোস্টটি পড়ে মনে করলাম আপনারা খাবারগুলো খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। তবে এইসব জায়গার মধ্যে না যাওয়াই উত্তম। আপনার পোস্টেটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

এরকম ঝাউ গাছ এবং তেঁতুল গাছের নিচে কিছু আছে অনেক শুনেছি। আপনারা বান্ধবীরা মিলে পার্টি দিয়েছেন হয়তোবা আপনারা জানতেন না এই ঝাউ গাছের মধ্যে কিছু আছে। তবে এইসব জায়গাগুলোর মধ্যে না যাওয়াই ভালো। তবে আমার মনে হয় আপনারা বান্ধবীরা অনেক সাহসী ছিলেন। নয়তো রাত্রেবেলা ঝাউ গাছের মধ্যে এত জোরে বাতাস হচ্ছে তারপরও আপনারা সেখানে রান্না করলেন। অনেক সুন্দর করে পোস্টে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।

 3 years ago 

আপু আপনাদের ভাগ্য ভাল ঐদিন আপনাদের সাথে খারাপ কিছু হয়নি। রাতের বেলা বাহিরে কিছু খেতে নেই। যদিঐদিন আপনারা কেউ একা বা দুইজন থাকতেন। তাহলে অনেক ভয় পেতেন। যায়হোক গল্পটা পড়ে ভয়ের সাথে ভালই লেগেছে। ধন্যবাদ আপু।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63986.79
ETH 1856.21
USDT 1.00
SBD 0.39