অলৌকিক আত্নার গল্প (শেষ পর্ব)

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

হ্যালো সবাইকে

কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। একটা ভূতের গল্প আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।

B612_20231117_211500_600.jpg

অলৌকিক আত্নার গল্পটির কিছু অংশ আপনাদের মাঝে গত সপ্তাহে শেয়ার করেছি। আজকে অলৌকিক আত্নার গল্পটির বাকি অংশ আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। গত সপ্তাহে আমরা ছিলাম তারা দুজনে স্বামী স্ত্রী নতুন বাসায় চলে এসেছে। নতুন বউ এর সবার কথা শুনে এই নতুন বাড়িতে থাকতে খুবই ভয় লাগছে।যাই হোক তারা বাসায় উঠলো।রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার সময় খুবই মন কেমন কেমন করছে।তারপর কোনো ভাবে তারা নতুন বাড়িতে রাতটা কাটিয়েছে। এরপর দিন সকাল বেলা তার স্বামী সকালের নাস্তা করে অফিসে চলে যায়।তার বউ নতুন বাড়িতে একাই ছিল।তার স্বামী অফিস যাওয়ার পর বাড়ির দারোয়ান আসল এবং নতুন বউকে বাড়ির সম্পর্কে অনেক কথাই বলছিল।

দারোয়ান এর কথা বললেন শুনে নতুন বউ আরও অনেক বেশি ভয় পেয়ে যায়।তার কাছে এই একা বাড়িতে থাকতে খুবই ভয় লাগছে। তার ঘা ছমছম করছে তখন সে ভয় পেয়ে কি করবে বুঝতে না পেরে তার মাকে কল দেয়।তার মায়ের সাথে কথা বলার পর সে কিছুটা সাহস পায়।এরপর সে ও তার কাজে লেগে যায় নতুন বাড়িতে এসেছে ঘর গুছানো এবং রান্না করে।দিন শেষে তার স্বামী ও বাড়িতে ফিরে আসে কাজ শেষে। এরপর দুজনে রাতের খাবার খেতে বসে।তখন সে তার বউ এর সাথে সারাদিন কি কি করল সব কিছুই বলছিল। কিন্তু অন্য দিনের তুলনায় তার বউ তার সাথে তেমন কোনো কথা বলছিল না। তখন সে চিন্তা করে এবার আপন জনকে ছেড়ে একা বাড়িতে থাকে তার মন খারাপ সেজন্য তেমন কিছু বলছে না।

এই কথা চিন্তা করে তখন তার বউকে তেমন জোর করে নিয়ে কথাবার্তা বলার জন্য। এরপর তারা একইভাবে ঘুমিয়ে পড়ে তারপর কোন কথাবার্তা বলছিল না। পর দিন সকালবেলা নাস্তা করে বাইরে চলে যায় কাজের জন্য। এরপর দিন শেষে আবার বাড়িতে ফিরে আসে বাড়িতে ফিরে আসার সময় তার জন্য তার প্রিয় একটা খাবার নিয়ে আসে। আগের দিন তার মন খারাপ ছিল সেজন্য তাকে নিয়ে খাবারটা দেওয়ার পর সেই প্রিয় খাবারটা খাইনি। তখন তারা স্বামীর মনে কেমন জেন লাগলো তার এরকম অদ্ভুত আচরণ দেখে। সেদিনটা কোনভাবে কেটে যায় পরদিন সকালবেলা সে অফিসে গিয়ে তার অফিসের বন্ধুর সাথে বিষয়গুলো শেয়ার করে।

এরপর তার বন্ধু তাকে বলেছে বাড়িতে যাওয়ার পর তার বউ কি করছে না করছে তাছাড়া আচরণ ভালো করে খেয়াল করার জন্য। তখন সে তার বন্ধুর কথা মত তার বউ এর আচরণগুলো খুবই ভালোভাবে খেয়াল করতে থাকে এবং সে দেখেছে তার বউ খুবই অদ্ভুত ভাবে খাওয়া দাওয়া করছে। তার চাল চলন গুলো খুবই অদ্ভুত ছিল। সে মতো সুন্দর থাকে না অগোছালোভাবে অপরিষ্কার হয়ে থাকে বাড়ি। আর সেই নোংরা বাড়ি ঘরের মধ্যে থাকতে খুবই পছন্দ করে। এরপর আবারো একদিন বাড়ির মধ্যে বাড়ির দারোয়ান আসে। দারোয়ান এর কাছে তার এমন আচরণ দেখে খুবই অবাক হয়। পরবর্তী তার বউ এর এরকম আচার আচরণ এর কথা শুনে বন্ধু বলে একটা হুজুর ডেকে তার বউকে দেখাতে।

সেদিন আবার বাড়িতে ফেরার পথে তার সাথে দারোয়ান করে এবং তারপর এসব অদ্ভুত আচরণের কথা বলে এবং বলেই বাড়িতে অনেক আগে একটা মহিলা আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিল। সে মহিলারা আত্না এখানে আছে আপনাদের তো বাড়িতে উঠার সময় নিষেধ করেছিলাম কিন্তু আপনি আমার কথা শুনেন নাই। এখন সেই মহিলারা তো আপনার বউয়ের উপর ভর করেছে। আপনি খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা আপনাদের বাসায় আমি গিয়েছিলাম আপনার বউয়ের আচার-আচরণ আমার ঠিক লাগেনি। আপনাদের উচিত এই বাসা থেকে চলে যাওয়া। পরবর্তীতে সে তার মনের কথা শুনে নি তার বন্ধুর কথা শুনে একটা হুজুর ডেকে নিয়ে আসে। হুজুর তাকে চেষ্টা করেন আত্না দূর করার কিন্তু পারেনি। পরবর্তীতে হুজুর বলে বাসা ছেড়ে চলে যেতে তাহলে এই আত্মা তার বউকে ছেড়ে দিবে। পরবর্তীতে তার এই বাসা ছেড়ে চলে যায়। এরপর ভালো একটা বাসায় যায় আর ওই বাসা ছাড়ার পর তাকে আর ওই আত্না ধরে নি।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীজেনারেল
ফটোগ্রাফার@fasoniya
ডিভাইসVivo Y15s
লোকেশনবাংলাদেশ


আমার পরিচয়

1664774022741.jpg

আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।


1 (1).png

IMG-20221013-WA0015.jpg

Sort:  
 3 years ago 

অলৌকিক আত্মার গল্পের প্রথম গল্পটা পড়া হয়েছিল, যার কারণে শেষ পর্ব পড়তে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। যে মহিলাটি আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিল, ওনার আত্মা বাড়িটাতে ছিল, আর ওই নতুন বউয়ের মধ্যে ভর করেছিল। শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে তারা বের হয়ে গিয়েছিল, যার কারণে ওই আত্মাটাও চলে গিয়েছিল। তাদের শুরুতেই উচিত হয়নি ওই বাড়িতে যাওয়া।

 3 years ago 

এই গল্পের প্রথম পর্ব করেছেন এবং শেষ পর্বটিও পড়েছেন দেখে খুবই খুশি হলাম ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

এই ধরনের ভুতুড়ে গল্পগুলো করতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। নতুন বউয়ের শরীরের মধ্যে ওই ভূতটা ভর করেছিল। যার কারণে সে এরকম ব্যবহার করেছিল নিজের হাজবেন্ডের সাথে। তারা যদি প্রথমে অন্যদের কথা শুনে ওই বাড়িতে না যেত এবং ওই বাড়িটা ভাড়া না নিতো, তাহলে হয়তো এরকম ঘটনার সম্মুখীন হওয়া লাগতো না। শেষ পর্যন্ত বাড়িটা থেকে চলে যাওয়ার পরে ওই আত্মাটা চলে গিয়েছিল দেখে ভালো লাগলো।

 3 years ago 

আপনি আমার গল্পটি পড়ে সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.099
BTC 62848.28
ETH 1779.86
USDT 1.00
SBD 0.38