দারিদ্রতা নিয়ে কিছু কথা।

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

হ্যালো সবাইকে

কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। দারিদ্রতা এই কথাটি নিয়ে কিছু আলোচনা আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।

B612_20240119_185012_034.jpg

দারিদ্রতা অনেক কঠিন একটি শব্দ। এই শব্দের আসল মানে তারাই বুঝে যারা একবার দারিদ্রতার মধ্যে জীবন কাটিয়ে এসেছে। আমাদের বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। কিন্তু তার মধ্যেও কিছু প্রকারভেদ হয়েছে যেমন কিছু কিছু দারিদ্র্য রয়েছে যারা অন্তত নিজের খাবারটুকু আয়োজন করতে পারে। কিন্তু সমাজে এমনও দারিদ্র রয়েছে যারা নিজের খাবার ও যোগাতে পারে না। সাধারণ যে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সেগুলো প্রয়োজন সেগুলোও ব্যবস্থা করতে পারে না। আমাদের দেশে এমনও অনেক মানুষ রয়েছে যারা রাতে ঘুমানোর জন্য মাথার উপরে চাল টুকু পর্যন্ত জোগাড় করতে পারে না।

আর তারা সব থেকে বড় প্রমাণ হলো আমাদের আশেপাশে রাস্তার পাশে অনেক মানুষ রয়েছে যারা দিনশেষে রাস্তার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে ফুটপাতে ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ তাদের ঘর নেই বাড়ি নেই তারা যেখানেই সেখানেই নিজের ঘর বাড়ি তৈরি করে ফেলে এবং সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে। আর সেই বিষয় বিবেচনা করলে আমি বলতে পারি জীবন নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। জীবনে কোন অভাব নেই দারিদ্রতা নেই কারন তাদের থেকে অনেক বেশি ভালো রয়েছে প্রয়োজনের যতটুক সব পাচ্ছি। বেশ কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও দেখেছি সেখানে একটা বাচ্চা শীতের মধ্যে একটা বস্তা গায়ে দিয়ে রাস্তার পাশে শুয়ে আছে। বাচ্চাটার গায়ে কোন জামা কাপড় নেই খালি গায়ে সে বস্তা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে ঠান্ডায় জড়সড় হয়ে রয়েছে।

বাচ্চাটা না আছে একটা মাথার উপর ছাদ আছে শীত নিবারণের জন্য কোন জামাকাপড়। রাস্তার ধারেই ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে দেখলে খুবই কষ্ট লাগে যারা প্রয়োজন মত তাদের খাবার জামাকাপড় কিছুই পাচ্ছে না। এই বাচ্চাটার অবস্থা দেখে মনে হল যে আমি অনেক ভালো আছি। আজকে আরও একটি ভিডিও দেখলাম যেখানে একটা অল্প বয়সের ছেলে আমাদের সবার প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে যারা ঘুরতে যায় তাদের মাথায় তেল মালিশ করে দেয়। একটা লোক তার মাথা মালিশ না করার জন্য বলার পরও ছেলেটা মাথা মালিশ করে দিল। লোকটা বলল তুমি যে আমার মাথা মালিশ করছে আমি কিন্তু কোন টাকা দিব না কারণ আমি বলিনি। তখন ছেলেটা বলল সমস্যা নেই আপনার যদি মন চায় তাহলে টাকা দিবেন। আমার অনেক খিদে পেয়েছে এখনো সকাল থেকে খাওয়ার টাকাটা যোগাড় করতে পারিনি।

সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল ছেলেটা এখনো সকালের নাস্তার টাকা পর্যন্ত জোগাড় করতে পারেনি। খালি পেটে চারদিকে ঘুরছে একটু কাজ করলে মানুষ যদি টাকা দেয়। আর ছেলেটার পরিবার ও তার দিকে তাকিয়ে থাকে ছেলেটা ইনকাম করে তার মাকে কিছু দিলে তাদের সংসার চলবে। এই ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে দেখলে খুবই কষ্ট লাগে যারা বাস্তবতার দুনিয়া ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই বোঝেনা কিন্তু এই বয়সে তাদেরকে নিজের টাকা নিজে ইনকাম করে খেতে হচ্ছে পরিবার চালাতে হচ্ছে। এই মানুষগুলোকে দেখলে খুবই খারাপ লাগে এবং ইচ্ছে করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করি কিন্তু সেটাও করার পথ থাকে না।

এই মানুষগুলো জীবন সম্পর্কে জানলে মনে হয় অনেক বেশি ভালো আছি ।জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি মা-বাবার সুন্দরভাবে সবকিছু দিয়ে প্রয়োজন মিটিয়ে মানুষ করেছে। এরপরও আমাদের সব চাহিদা পূরণ হওয়ার পরও আমাদের অভিযোগ থেকে যায় জীবনের কাছে যে জীবন এটা করতে পারেনি ওটা করতে পারিনি। কিন্তু এই মানুষের জীবন কাহিনীর কাছে মনে হয় যে খুবই সুন্দর একটা জীবন কাটিয়েছে জীবনের কাছে কোন অভিযোগ নেই কারণ তিনবেলার খাবার, প্রয়োজন মতো জামা কাপড় থেকেও অনেক বেশি পেয়েছি ।যেটা চেয়েছি সেটাই পেয়েছি এর থেকে বড় কিছু হতে পারে না ।এই ছোট ছোট বাচ্চারা তো সেটাও পাচ্ছে না তারপর এই ছোট বয়সে কষ্ট করছে। যাই হোক দরিদ্রতা খুবই কঠিন একটা জিনিস এটা যার জীবনে আসে সেই বলতে পারে। আশা করি আজকের আমার এই লেখাগুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীজেনারেল
ফটোগ্রাফার@fasoniya
ডিভাইসVivo Y15s
লোকেশনবাংলাদেশ


আমার পরিচয়

1664774022741.jpg

আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।


1 (1).png

IMG-20221013-WA0015.jpg

Sort:  
 2 years ago 

আসলেই রাস্তার পাশে যে মানুষগুলোকে দেখা যায় সেই মানুষগুলোর সাথে নিজেকে তুলনা করলে মনে হয় আমরা কত ভালো আছি। কথাগুলো বাস্তব, বর্তমান টপিক নিয়ে সুন্দর কিছু কথা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।

Posted using SteemPro Mobile

 2 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু রাস্তাঘাটে এরকম ছোট ছোট ছেলে মেয়েকে দেখলে খুবই খারাপ লাগে। তারা সারাদিন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ইনকাম করে নিজের অথবা পরিবারকে চালানোর জন্য। আমরা ঘরে বসে সবকিছু পেয়েও আমাদের কমপ্লেইনের শেষ থাকে না। আসলে সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে আল্লাহর শুকরিয়া করা উচিত। ভালো লাগল লেখাটি পড়ে।

 2 years ago 

জীবন খুবই কঠিন ৷ রাস্তার পাশে এই শীতের মাঝেও ফুটপাতে শুয়ে থাকা মানুষ গুলোকে দেখলে বোঝা যায় জীবন আর দারিদ্রতা কতটা কঠিন ৷ কিছু মানুষকে দেখলে আসলে নিজের জীবন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে না ৷ আমরা তো তাও আছি বেশ ভালোই ৷ তবে আমাদের আশেপাশে এই মানুষ গুলো আসলেই ভীষণ অসহায় দারিদ্রতার কাছে ৷

Posted using SteemPro Mobile

 2 years ago 

আপনার পোস্ট টি পড়ে খুব খারাপ লাগলো আপু।আসলে বাস্তবতা ও দারিদ্র্যতা ভীষণ কঠিন এবং নির্মম। শুধু তারাই বুঝতে পারে যারা এই সময়টা দিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার ধারে ছাদহীন,না খেতে পারা মানুষদের দেখলে ভীষণ খারাপ লাগে।সত্যি ওদের কে দেখলে নিজের জীবনের প্রতি কোন অভিযোগ থাকে না।এসব দেখে দেখে কষ্ট পাওয়া ছারা কিচ্ছু করার নেই কারণ আমাদের সাধ্য অনুয়ায়ী হয়তো একদিন তাদের দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা আছে কিন্তুু দিনের পর দিন তাদের দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা নেই।

 2 years ago 

আপনার এই পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। খুব ভালোভাবে আপনি দারিদ্রতা নিয়ে কিছু কথা তুলে ধরেছেন৷ আসলে রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় যে সকল মানুষগুলো কষ্ট পেতে থাকে তা দেখলে আমাদের জীবনের আর কোন অভিযোগ থাকে না৷ তারা যেভাবে কষ্ট করে তাদের দারিদ্রতার মাধ্যমে তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন তা দেখলে খুবই কষ্ট লাগে।

 2 years ago 

আপনি দারিদ্রতা নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন। এটি ঠিক যারা দারিদ্রতা জীবন পার করেছে তারা বুঝে দারিদ্র কি জিনিস। আর বাংলাদেশও অনেক মানুষ দারিদ্রতা সীমার নিচে বাস করে। যারা রাস্তা কাটে ফুটপাতে ঘুমায় তাদের থাকার কোন জায়গা নেই। সে হিসেবে অনেক মানুষ বিবেচনা করতে পারে তাদের তুলনায় আল্লাহর রহমতে ভালো আছে অনেকে। দারিদ্রতা শব্দটি অনেক কষ্টের। ধন্যবাদ আপনাকে খুব সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

আসলে রাস্তার ফুটপাতে ছোট ছোট অসহায় ছেলেমেয়ে দেখতে খুবই খারাপ লাগে। ছোট ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করে বিক্রি করে থাকে। আসলে সত্যি তাদের জীবন খুব কষ্টের। আর আমরা তাদের থেকে অনেক অনেক বেশি ভালো আছি। এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া করা উচিত । আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। বেশ সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

একবেলা খাবারের জন্য কিছু মানুষ যতটা কষ্ট করে এই ছবিটা সামনে থেকে যখন দেখি, তখন মনে হয় কতটা ভালো আছি আমি। আবার এই আমাদের মাঝেই অনেকে আছেন যারা রেস্টুরেন্টে খাবার নষ্ট করাকে ফ্যাশন হিসেবে মনে করে। আমি অবাক হয়ে যাই এইসব মানুষের বিবেক দেখে। আমরা যদি আমাদের চিন্তা ভাবনা কে একটু বড় করতে পারতাম, সবাইকে নিয়ে যদি একটু ভাবতে পারতাম, তাহলে হয়তো পুরো সমাজটা বদলে যেত। ভালো লাগলো আপনার লেখাটা আপু।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.087
BTC 59880.51
ETH 1574.21
USDT 1.00
SBD 0.42