ফ্ল্যাশব্যাক (১০% টু শাই-ফক্স)
আসসালামু আলাইকুম,
আশা করি সবাই ভালো আছেন।আলহামদুলিল্লাহ,আমিও ভালো আছি।আর্জেন্টিনা তিনটা স্টার বানিয়ে নিলো অথচ আমি তা নিয়ে কিচ্ছু লিখিনি,বিষয়টা হজম করতে পারছিলাম না।তাই আজ অনেক দেরিতে হলেও ভাবলাম একটু লিখেই ফেলি।আপনাদেরও কিছু স্মৃতির রোমন্থন হলো আর আমার আত্মতৃপ্তিটাও হলো।
খেলা শুরুর আগে এটা ভেবেই আমি চিন্তিত ছিলাম যে কে চ্যাম্পিয়ন হবে!মানে ভিতরে যে কি পরিমাণ এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল তা বলে বোঝানোর মতো না। খেলা তো ছিল রাত ৯ টা থেকে তবে আমরা বিকেল থেকেই বাঁশি আতশবাজি নিয়ে একদম একাকার হয়েছিলাম।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সবাই ভাবছিলাম কখন ৯ টা বাজবে আর কখন সে মহারথ শুরু হবে!
সচারচর পর্দায় খেলা দেখতে যাই আর সেদিনও তার বিপরীত হয়নি।ফাইনাল ম্যাচ হওয়ায় সেদিন লোক সংখ্যা বেশ অনেক বেশিই ছিল,মোটামুটি এতটা ভিড় ছিল যে নিজের দাঁড়ানোর মত জায়গা পাচ্ছিলাম না।
অবশেষে ঘড়িতে ৯টা বাজলো এবং ঐদিকেও খেলা শুরু হয়ে গেল।চরম এক্সাইটমেন্ট নিয়ে খেলা দেখতে বসা দর্শকগুলো যখন দেখলাম প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা দুইটি গোল করে ফেলেছে তখনই আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে আমরা বিনা যুদ্ধে জিতে যাব কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে যে এমবাপ্পে এরকম নাটকীয় খেলা দেবে তা ছিল আমাদের ধারণার বাইরে। ৯০ সেকেন্ডের দুইটি গোল পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আমাদের দুর্বল হার্ট নিয়ে এভাবে খেলার পর অবশেষে আর্জেন্টিনা যখন জয়টা পেল তখন আমাদের একেকজনের স্বস্তি নিশ্বাস বের হয়েছিল।
ম্যাচ জেতার পরে একদম সবাই মিলে দল বেধে রাস্তায় নামা হয়েছিল ব্যান্ড পার্টি নিয়ে আনন্দ উল্লাস করার জন্য।সবাই মিলে নাচানাচি করতে করতে গিয়েছিলাম সাতমাথায়।সেখানে গিয়ে দেখি সবদিক থেকে লোকজন এসেছে।কম করে হলেও ১০০০ লোক তো হবেই।
ছোট্ট একটা ভিডিও রেখে দিলাম আপনাদের জন্য।
প্রায় ২০/২৫ মিনিট ওখানে থাকার পর দেখি প্রায় ১ টা বেজে গেছে।ভাবলাম আর বেশিক্ষন থাকা ঠিক হবেনা,চারজন মিলে মেসের রাস্তা ধরলাম।
আসতে আসতে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে কিছু ছবিও তুলেছিলাম আর আমার ব্রাজিল সাপোর্টার বন্ধুদের দেখানোর জন্য একটা সেভেন আপের সাথে ছবি তুলেছিলাম।
সময়টুকু খুবই ভালো কেটেছিল,আসলেই মনে রাখার মতো।চার বছর চতুর্থ স্টার লাগানোর পরে ইনশাল্লাহ আবার এমন সেলিব্রেশন হবে।তৃতীয় স্টারের কাহিনি নিয়ে অন্য পোস্টে আসবো।
বাংলাদেশে যে ফুটবল নিয়ে এতোটা পাগলামি হয় তা আমি এবার বুঝেছি।কোন লেভেলের ভক্ত হলেও জমি বিক্রি করে ফেভারিট টিমের পতাকা বানাইতে পারে!!এমন আরো কত ঘটনা যে দেখেছি, ভাই রে ভাই।যাইহোক,দিনশেষে এটা কেবোল বিনোদনের একটা মাধ্যম,সুতরাং বিনোদন হিসেবে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন।
.
.
Cc.@farhantanvir
Shot on. Oppo f19 pro
Location
Date.24/12/22
বাংলাদেশে ফুটবল খেলা নিয়ে অনেক বেশি পাগলামি হয়ে থাকে। আমার ও আপনার মতো প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার খেলা আমার ভীষণ ভালো লাগে। আপনার অনুভূতি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। ভিডিও দেখে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম ভাই।
আমারও প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। প্রথমে যদিও আমার কাছে আর্জেন্টিনার গোল দেওয়াতে ভালো লাগলেও খেলাটা জমে ওঠেনি, কিন্তু শেষের মুহূর্তগুলো একেবারে টানটান উত্তেজনার ছিল। খুব খুশি লেগেছে আর্জেন্টিনা জিতেছে দেখে। কিন্তু অতিরিক্ত মাতামাতি কেন জানি ভালোলাগেনা ভাইয়া। প্রিয় দল এভাবে জিতে গেলে আসলে সবাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়।
আমি অবশ্য আপনার বিপরীতে,মাতামাতি জিনিসটা ছাড়া আমার কাছে লাইফটা পানসে।
আপনাদের আবেগ দেখে নিজেদের সময়টার কথা মনে পড়ছে। ঠিক একইভাবে এইভাবে বাইক নিয়ে আমার ভাইয়েরা বড় পতাকা নিয়ে সারারাত ঘুরে বেড়িয়েছে।আমাদের বাড়ির সবাই আর্জেন্টিনা। একমাত্র ছোট কাকু জার্মানি আর ন কাকু এবং মেজ কাকু ব্রাজিল। তাদের তো খুব করে খেপানো হয়েছিল।এই মুহূর্তগুলো সত্যি ক্যামেরাবন্দি করার মতনই। কিন্তু পুরোটা বিশ্বকাপ জুড়ে আমি এটা এখনো জানতে পারিনি যে ব্রাজিল কে সেভেন আপ কেন বলা হয়? 😒
ঘটনাটা ২০১৪ সালের,টিম ব্রাজিল তখন জার্মানির কাছে ৭ টা গোল খেয়েছিল।তাই ভালোবেসে সেভেন আপ বলে ডাকা হয়।