ক্রিটিভ রাইটিংঃ ভালোবাসা এবং মায়া
আজ - বুধবার
আমরা যেহেতু সবাই মানুষ তাই আমাদের ভালোবাসা মায়া এ দুটোই রয়েছে। আমরা যদি কোন একটা জিনিসের সঙ্গে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সময় পার করে ফেলি তাহলে সেটা উপরে আমাদের একটা ভালোবাসার কাজ করে সেটা হোক জড় অথবা জীব। যেমন আর আমরা যদি একটা মোবাইল দীর্ঘদিন ব্যবহার করি তাহলে তার যদি ওই মোবাইলে চেয়ে একটা ভালো মোবাইল ক্রয় করতে চাই তাহলে ভালো মোবাইলটা তো ক্রয় করার সময় অন্যরকম একটা কিউরোসিটি কাজ করে কিন্তু যে পুরনো মোবাইলটা দুই বছর তিন বছর ব্যবহার করেছি সেটা ছাড়তে কিন্তু একেবারে মন চায় না। মনে হয় যে এটার সাথে এটাও থেকে যাক। আমার মনে হয় যে এমন সুন্দর, সুন্দর মানসিকতা এবং এই ভালোবাসা মায়ার জন্যই আমাদের জীবন তো এত সুন্দর। ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যেটা হয়তোবা লিখে প্রকাশ করা যাবে না কিন্তু এটা অন্যরকম একটা অদ্ভুত জিনিস যেটা প্রত্যেকটা মানুষের মধ্য থেকে যায়। ভালোবাসা অনেক ভালো হয়ে থাকে যেমন মা এবং ছেলের ভালোবাসা বাবা এবং ছেলের ভালোবাসা একজন সন্তান এবং সন্তানদের ভালোবাসা সেই সাথে একজন স্ত্রী এবং তার হাজবেন্ডের ভালোবাসা।
এবং ভাই বোনের ভালোবাসা সহ পৃথিবীতে অনেক রকম ভালোবাসা রয়েছে। এই ভালোবাসার চেয়ে উর্ধ্বে রয়েছে মহান সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা তিনি আমাদেরকে খুব অল্প পরিমাণ ভালোবাসা দিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কিন্তু বাকি সবটুকু ভালোবাসায় তার কাছে রয়েছে তাই আমাদের সব সময় তার শুকরিয়া আদায় করা উচিত। ভালোবাসা এবং আবেগ দুটো কিন্তু আলাদা জিনিস, আবেগে পরে মানুষ অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। কিন্তু যদি সেটা গভীর ভালোবাসা হয় সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তার নিজের স্বার্থ দেখে না তার ভালোবাসার মানুষটাকেই দেখে। ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যে একজন মানুষের জন্য অন্যজন জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। এজন্য হয়তোবা এমন দুর্ঘটনা ঘটে যায় যে একজন ছেলে বা একজন মেয়ে তার পার্টনারের ভালোবাসা না পাওয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছে। একটু সাধারণ জ্ঞান দিয়ে যদি চিন্তা করা যায় যে একটা মানুষের জন্য আরেকটা মানুষ জীবন পর্যন্ত দিতে পারে তাহলে বুঝতে পারবেন যে এটা কত বড় একটা স্যাক্রিফাইস যেটা সে করে থাকে আসলে এটা সবকিছুই ভালোবাসার জন্য।
ভালোবাসাটা আমার মধ্যেও বা মায়াটা আমার মত অনেক ভাবে কাজ করে যদি আমাকে প্রশ্ন করা যায় যে তুমি তার জন্য জীবন দিতে পারবা। তাহলে আমার প্রশ্ন সহজ শুধু হবে যদি আমার পরিবারের লোকের কথা উঠে তাহলে আমার জীবন সেখানে তুচ্ছ। একদিন ফেসবুকে ভিডিও দেখতে দেখতে একটা ভিডিও সামনে আসলো এটা দেখে সত্যিই আত্মাটা একবারে চমকে উঠল। একটা হরিণের বাচ্চা ভুল করে পানির ভিতরে নেমে গেছে এবং সে নদীর এই পার থেকে ওই পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু সে জানেনা যে এই পানিতে হিংস্র কুমির রয়েছে। কিন্তু যখন মা হরিণটি এই দৃশ্যটি দেখতে পেল তখন সে দ্রুত এসে পানির ভিতরে নেমে গেল এবং যখন কমিটির গুলো ওই বাচ্চাটার উপর আক্রমণ করতে আসলো তখন দ্রুত সাঁতরে গিয়ে ওই মা হরিণটা সামনে চলে গেল যাতে ওই মা হরিণ টাকে কুমিরগুলো খেয়ে নেয় এবং তার বাচ্চাটা একটু সুযোগ পাই পালানোর জন্য। এই ভালবাসা দেখে সত্যি চোখ দিয়ে যেন পানি চলে আসলো কারণ তারা জবানবিহীন প্রাণী হতে পারে কিন্তু তাদের মধ্যে ভালোবাসা রয়েছে। তখনই বুঝতে পারলাম যে একজন মা তার সন্তানের জন্য কি না করতে পারে? তার জীবন তুচ্ছ তার সন্তানের কাছে।
আর যদি মায়ের ভালোবাসার কথা বলি তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে অদ্ভুত যে ভালোবাসাটা রয়েছে সেটা হচ্ছে মা এবং সন্তানের ভালোবাসা। এই ভালবাসার মত না আছে কোন স্বার্থ না আসে কোন হিংসা বা হিংসা শুধু রয়েছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। আর সৃষ্টিকর্তা এভাবেই মানুষকে হয়তোবা সৃষ্টি করেছেন যেমন আপনি আপনার সন্তানকে যেমন ভালোবাসেন ঠিক তেমনি ভাবে আপনার বাবা-মা আপনাকে ভালোবাসে। যদিও এখনো বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই তবে আশেপাশে যে দৃশ্যগুলো দেখি সেখান থেকেই বুঝতে পারি যে তাদের ভালোবাসাটা কতটা নিঃস্বার্থ এবং কতটা সুন্দর। আসলে ভালোবাসা জিনিসটা এমন যদিও এর ভিতর কোন স্বার্থ না থাকে তাহলে সেটা সুন্দর আর যদি তার ভিতরে স্বার্থ ছাড়া চলে আসে তাহলে সেটার রং বদলাতে থাকে। বর্তমানে অনেক ভালোবাসা রয়েছে যা শুধু মুখের ভালোবাসা বিশেষ করে এখন যে তরুন তরুনী গুলো রিলেশন করে এবং তারা দাবি করে যে এটা তাদের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে এটা ভুল। যদি ঠিকভাবে চিন্তা করা যায় তাহলে দেখবেন যে শুধুমাত্র একে অন্যের প্রয়োজনীয়তা এর বেশি কিছু নয় তবে অনেক ক্ষেত্রে এই কথাটা সঠিক নয়।
এখনো পৃথিবীতে অনেক মানুষ রয়েছে যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে আজকে পোস্ট শেষ করছে। ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষন পাশে থেকে ব্লগ উপভোগ করার জন্য আবারো খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে নতুন কোন পোস্ট এবং সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।
| ব্লগার | @emonv |
|---|---|
| ডিভাইস | Infinix note 11 pro |
আমার নাম মোঃ ইউনুস আলী ইমন। বর্তমানে আমি সিরাজগঞ্জ মৎস ইনস্টিটিউট এর একজন ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছি। এছাড়া পরিচয় দেওয়ার মতো এখনো কিছু করে উঠতে পারেনি তবে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং ক্যারিয়ারের উপরে কাজ চলমান......। আমি নিজেকে ভেঙে চুড়ে নতুন করে আবিষ্কার করতে অনেক পছন্দ করি এবং আমি মানুষকে সাহায্য করতে অনেক ভালোবাসি। আমি প্রায়শই নিজেকে আবিস্কার করি। কেননা এটা আমার কথায় এবং লিখাতে নতুন স্বাদ যুক্ত করে, যার ফলে আমি নিজের সবথেকে ভালো টুকু আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে পারি। আমি প্রতিদিন একবার নিজের সাথে কথা বলি, কারণ এটা আমার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়। আমি ভ্রমণ করতে এবং ফটোগ্রাফি করতে অনেক পছন্দ করি। আমি প্রতিনিয়ত নতুন ,নতুন মানুষদের সাথে মিশে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার ভালোটুকু আমার জীবনে বাস্তবায়িত করতে পছন্দ করি। আপনাকে স্বাগতম আমার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হওয়ার জন্য। ভালোবাসা রইলো অবিরাম সবাইকে 💝।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy
![]()
ভালোবাসা ও মায়া দুটিই অনেক কঠিন। আসলে ভাইয়া সত্যিকারে ভালোবাসার মধ্যে আলাদা একটা প্রশান্তি রয়েছে। আর পৃথিবীতে একেক জনের ভালোবাসা একেক ধরনের। তবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকে শুধু বাবা মায়ের। ধন্যবাদ আপনাকে।
আজকে আপনি অনেক সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে পোস্ট শেয়ার করেছেন। এই জাতীয় লেখাগুলো আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমি মাঝেমধ্যে ডিসকভারি চ্যানেলে এমন হরিণের ঘটনাগুলো দেখে থাকি। বেশ মায়া লাগে এই সমস্ত ঘটনা দেখলে। কিন্তু কি আর করার সৃষ্টিকর্তা এভাবে সৃষ্টি করেছে একটি পশু আর একটি পশুকে শিকার আহার করবে। তবে বলতে পারি সর্বোপরিবেশ ভালো লাগলো পোস্ট পড়ে।