প্রয়াণ দিবস "বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়"।।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
অর্থ হলে মনে অহংকার আসবে, বিলাসের ইচ্ছা আসবে। এমন সুন্দর জায়গা থেকে হবে চির নির্বাসন। কথাটা একেবারে স্বাভাবিক মনে হতে পারে আপনাদের। কিন্তু এই কথাটা সুন্দরবনে সাত বৎসর গল্পে বলেছিল একজন ব্যক্তি যিনি কীনা লক্ষ লক্ষ টাকার মুক্তার মালিক ছিলেন। তবুও তিনি খাওয়ার কষ্টে, থাকার কষ্টে একটা জনমানবহীন দ্বীপে থাকতেন। তারপরও তার কাছে অর্থের থেকে বিলাসীতার থেকে বেশি পছন্দ ছিল সেই অনিন্দ্য সুন্দর সৌন্দর্য। এই কথাটা যদিও লেখক লিখেছিলেন। শুধু এটাই না। লেখার মাঝে বাঙালি গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার কথা আসলে উনি এককথায় অতুলনীয়। সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে উনার পথের পাঁচালি, অপরাজিত উপন্যাসে। আপনি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন। তাহলে উনার লেখা চাঁদের পাহাড় পড়েন। ঘুরে আসেন আফ্রিকা থেকে।
আপনি প্রকৃতি পছন্দ করেন তাহলে উনার লেখা আরণ্যক পড়েন। প্রকৃতির প্রতি এক অসম্ভব ভালোবাসা অনূভব করবেন আপনি। এতোক্ষণে হয়তো বুঝে ফেলেছেন আমি কার কথা বলছি। আমি বলছি লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর কথা। আজ এই মহান লেখকের প্রয়াণ দিবস। ১৯৫০ সালের ১ লা নভেম্বর উনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে জীবিত অবস্থায় উনি করেছেন অসংখ্য সাহিত্য রচনা। আর বিভূতিভূষণের লেখা মানেই অসাধারণ কিছু। আমার সবচাইতে ভালো লাগে উনার একেবারে সহজ সাবলীল ভাষার ব্যবহার। যেটা ঐসময়ের অন্য লেখকদের ক্ষেএে খুব একটা দেখা যায় না। নতুন পাঠকদের জন্য উনার লেখা পড়ে অনূভব করা বেশ সহজ। উনার বেশ কিছু উপন্যাস বেশ কিছু ছোটগল্প আমি পড়েছি। আজ উনার প্রয়ান দিবসে সেগুলো নিয়েই কথা বলব।
আমাকে যদি আমার পছন্দের বইগুলোর নাম বলতে বলা হয়। তাহলে সেই তালিকায় সবার উপরে থাকবে বিভূতিভূষণের আরণ্যক বইটা। এইটা একবার না আমি পুরো চার বার শেষ করেছি। এবং যতবারই পড়ি আমার ততটাই ভালো লাগে। আপনি যদি প্রকৃতি পছন্দ করেন মানুষের জীবনের বৈচিত্র্য অনূভব করতে চান তাহলে আরণ্যক বইটা আপনার জন্য। একবার একটা অনুষ্ঠানে ভারতীয় শিল্পী কবির সুমন বলেছিলেন শুধুমাত্র আরণ্যকের জন্যই বিভূতিভূষণের পাঁচটা নোবেল পুরষ্কার পাওয়া উচিত ছিল। আমি উনার কথার সাথে পুরোপুরি একমত। যারা পড়েননি উনার আরণ্যক উপন্যাস টা তারা বুঝবেন না। আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসে উনি মানুষের বড় হওয়ার যে ইচ্ছা যে উৎসাহ সেটা দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। একজন মানুষের ইচ্ছা থাকলে চেষ্টা থাকলে সে অনেক ভালো জায়গাই যেতে পারে। সেটাই উনি দেখিয়েছেন হাজারি ঠাকুরের মাধ্যমে।
উনার সবচাইতে আলোচিত উপন্যাস পথের পাঁচালি। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালি সিনেমার পরে সেটা বিশ্ব দরবারে হয়েছে পরিচিত। অপু দূর্গা দুই ভাই বোনের ছোটবেলা। তৎকালীন গ্রামীণ জীবনের দৃশ্য। সবকিছু দারুণভাবে নিজের পথের পাঁচালি উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন উনি। লিখেছেন চাঁদের পাহাড়ের মতো অসামান্য এক উপন্যাস। একজন বাঙালি হয়েও কখনও আফ্রিকা না গিয়েও চাঁদের পাহাড়ে এতো দারুণ ভাবে উনি আফ্রিকার পরিবেশ প্রকৃতি বিপদ সম্পর্কে লিখেছেন যেটা এককথায় অবিশ্বাস্য। এগুলো বিভূতিভূষণের দ্বারাই সম্ভব। উনার পরে এমন লেখক আর আসেনি। আর আসবেও না। বিভূতিভূষণ মানেই বাঙালি পাঠকদের কাছে এক আবেগের নাম। আজ তার প্রয়াণ দিবসে জানাই অনেক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
https://x.com/Emon423/status/1984527440971251805?t=NxKey8C1u780Ncr8VPy0ag&s=19
https://x.com/Emon423/status/1984527639726735420?t=Jfti6UvvFSf5Xf_qkPWuYg&s=19