দবির মিয়ার অন্তহীন সংগ্রাম (চতুর্থ পর্ব)।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


কারণ দবির মিয়ার ছেলেমেয়েরা ছোট মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ছোটো ছেলেটা। সে এই ছোটো মাছ একেবারেই খেতে চায় না। পাতে একটু মুরগির মাংস হলে খুব তৃপ্তি করে সে খাওয়া দাওয়া করে। দবির মিয়া তার স্ত্রীর কথা শুনে তাকে বলে ঠিক আছে দেখি কোথাও একটু কাজ-বাজ জোগাড় করতে পারলে একটা মুরগি কিনে আনবো। পরদিন সকালে উঠে দবির মিয়া চলে যায় সেই গৃহস্থের বাড়িতে। সারাদিন সে গাধার মত পরিশ্রম করার পর দিন শেষে তাকে ৩০০ টাকা দিলে তাতেই সে খুশি হয়ে যায়। কারণ তার হাত একেবারে খালি ছিলো।

Black and Gold Fancy New Year Card_20240828_213002_0000.png

টাকাটা নিয়ে প্রথমে সেই মুদি দোকানে চলে যায়। সেখানে তার যে বাকি হয়েছিল সেখান থেকে সে ২০০ টাকা পরিশোধ করে। ২০০ টাকা দিয়ে দোকানদারকে বলে বাদবাকি টাকা আর কয়েকদিন পরে দিচ্ছি। এই কথা শুনে দোকানদার বলে একটু তাড়াতাড়ি দিয়ে দিও। দবির মিয়া আর কোনো কথা না বলে সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে এসে সে গোসল করে খাওয়া দাওয়া করতে বসে। গ্রামের আর দশজন কৃষকের মতো দবির মিয়া এবং তার পরিবারেরও একই রকম অভ্যাস। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরেই খাওয়া-দাওয়া করে তারা ঘুমিয়ে পড়ে।

ঘুম থেকে উঠে একেবারে ভোরে। দবির মিয়া খাওয়া-দাওয়া শেষে শুয়ে পড়লেও সহজে তার ঘুম আসে না। এই দুর্ম্যুলের বাজারে কিভাবে সংসার চালাবে সেটাই সে চিন্তা করতে থাকে। এটা নিয়ে সে তার এলাকার আরো কয়েকজন কৃষকের সাথে ও আলাপ-আলোচনা করেছে। তাদের ভেতর কেউ কেউ বুদ্ধি দিয়েছে শহরে গিয়ে রিকশা চালাতে। তারা তাকে বলেছে শহরে রিক্সাওয়ালাদের ভালো টাকা ইনকাম। পরামর্শটা তার পছন্দ হয়েছিলো।
(চলবে)

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।




ধন্যবাদ

Sort:  
 2 years ago 

দুশ্চিন্তা করলে রাতে একেবারেই ঘুম হয় না। দবির মিয়া শহরে গিয়ে রিকশা চালালে,আশা করি তার পরিবার নিয়ে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলভাবে চলতে পারবে। দবির মিয়ার জন্য শুভকামনা রইলো।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 61300.19
ETH 1626.94
USDT 1.00
SBD 0.42