দায়িত্ব এবং দূর্ঘটনা।
"হ্যালো বন্ধুরা"
সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি,সুস্থ আছি।
দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যপরায়ণতা আমাদের সকলের থাকা উচিৎ । আমাদের সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, ততই সমাজের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কমে যাচ্ছে । এগুলোর মূল কারণ হলো নৈতিক অবক্ষয় । দায়িত্ব পালনে আমরা অনেকেই সফলকাম হই আবার অনেকেই এই দায়িত্ব কে ঝঞ্ঝাট ভেবে দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যেতে চাই।প্রকৃতপক্ষে দায়িত্ব গ্রহণ করা একটি উত্তম গুণাবলীর মধ্যেই পড়ে। দায়িত্বশীল মানুষদের সমাজে চাহিদা ব্যাপক থাকে। তেমনি একজন দায়িত্বশীল মানুষের কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
আমরা চার ভাইবোন তার মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলাম আমি,আর ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট যে তার নাম সজল কুমার বকসী।আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও গম্ভীর স্বভাবের ও, আমরা যেমন খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশতে পারি অনেক গল্প করি ছোড়দা তা নয়,ও খুব কম কথা বলে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা কখনো বলেনা।এটার যেমন ভালো দিক আছে ঠিক তেমনি খারাপ দিকও আছে।ওর মনমানসিকতা অনেক উন্নত কিন্তু কম কথা বলার জন্যই ওকে অনেকেই পছন্দ করে না সবাই মনে করে ও খুব অহংকারী কিন্তু আসলে তা নয় ও ছোটবেলা থেকেই এরকম কিন্তু মানুষ তা বুঝতে চায় না।
ছোড়দা পড়াশোনায় মোটামুটি ভালোই ছিলো তাই ওর জীবনের সবগুলো পরীক্ষায় সাফল্যের সহিত উত্তীর্ণ হয়।এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ট্রাইফিক সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করে।দীর্ঘদিনের ট্রেনিং শেষ করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ পোস্টিং হয়।তারপর শুরু হয়ে যায় ওর জীবনের সবচেয়ে দায়িত্বশীল অধ্যায়।সেখানে অনেক দিন খুবই সুনামের সহিত নিজের দায়িত্ব পালন করে।এভাবেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য অনেক ভাবে পুরস্কৃত হয়।পর পর শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে অনেক পদক তার ঝুলিতে এসে জমা হয়।
২০১৯ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে চলে যায়, এক বছরের জন্য।১০২০ সালে দেশে ফেরার কথা কিন্তু তারমধ্যে গোটা বিশ্বে শুর হয়ে যায় করোনা মহামারি আর তাই ওর দেশে ফেরা অনিশ্চিত পড়ে।এভাবে আরও একটা বছর পার হয়ে যায়।তাতে করে অবশ্য ওর অনেক লাভ হয়েছে,একবছরে যা টাকা পাওয়ার কথা ছিলো তার দ্বিগুণ টাকা পেয়েছে।দেশে ফেরার আগেই প্রোমোশন হয়।দেশে ফিরেই ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করে।তখন ওর দায়িত্ব আর কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমি জানুয়ারি মাসে ওর বাসায় ঘুরতে গেছিলাম তখন গিয়ে দেখি খাওয়া ঘুম এসবের কোনো ঠিক নেই কখন কোথায় ডাক পড়ছে আর সাথে সাথেই সেখানে ছুটে যেতে হচ্ছে।পরিবার পরিজন এসব দেখার মতো সময় হাতে নেই বললেই চলে।
সড়কের অতন্দ্রপ্রহরী ট্রাফিক পুলিশ। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই ট্রাফিক পুলিশের ব্রত।আর এই ব্রত পালন করতে গিয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখার কোনো সময় পায়নি।আগেরদিন সারাদিন ডিউটি করেছে এবং রাত ১টা পর্যন্ত ডিউটি করে বাসায় ফিরেছিলো।বৌদি বাসায় ছিলোনা রাতে কি খেয়েছে না খেয়েছে তার কোনো ঠিক ছিলো না হয়তো বা সারাদিনের ক্লান্তি মেটাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলো এবং পরেরদিন সকালে কোনোরকমে ঘুম থেকে উঠে গায়ে ইউনিফর্ম চাপিয়ে নিজ দায়িত্বে বেড়িয়ে পড়ে।খাওয়া-দাওয়া করার সময় কোথায় দায়িত্ব পালন সবার আগে তারপর নিজের জীবন এই ভেবেই হয়তো আর খাওয়ার সময় টুকু বের করতে পারেনি।
হঠাৎ করেই দুপুরে বাইক থেকে নামতে গিয়ে ডান পায়ের শিরায় টান পড়ে তখন তার মনে পড়ে যে সকাল থেকে পেটে কিছু পড়েনি তাই শরীর দূর্বলের কারনে শিরায় টান পড়েছে।তাই ঐ অবস্থায় কোনোরকমে পাশে একটা হোটেলে গিয়ে কোনোরকমে কিছু একটা খেয়ে আবারও ডিউটি পোস্টে গিয়ে দাঁড়ায়।আস্তে আস্তে পায়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকে কিন্তু তারপরও নিজের দায়িত্ব ঠিক রাখতে হবে তাই এরকম অবস্থা নিয়েই নিজের দায়িত্ব পালন করে।কিন্তু শরীর তো আর দায়িত্ব বোঝে না সে তার নিজের গতিতেই চলে বিকেলের দিকে গিয়ে পায়ের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে তখন তার এক ব্যাচমেট আছে তাকে বিষয় টি জানায়।শোনার সাথে সাথেই পরাগদা তার ডিউটি রেখেই চলে আসে এবং পরিস্থিতি খারাপ দেখে ছোড়দাকে হসপিটালে নিয়ে যায়,ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।পায়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে কিছুটা রক্ত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে বের করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পা প্লাস্টার করে দেয়।সাতদিন পর MRI করতে বলছে,তারপর বোঝা যাবে অন্য কোনো সমস্যা আছে কি-না।
যার আজ গোটা রংপুর শহর কন্ট্রোল করার কথা ছিলো সেই এখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন কাটাচ্ছে।এটা দেখা সত্যিই অনেক কষ্টদায়ক।আমার মনে হয় দায়িত্বশীল হওয়া ভালো কিন্তু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোকিছু করা মানেই বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।যখন অল্প সমস্যা ছিলো তখন যদি সাথে সাথে অফিসে জানিয়ে ছুটি নিয়ে রেস্ট করতো তাহলে হয়তো-বা এমনটা নাও হতে পারতো,এটা আমার ধারণা।এখন ঈশ্বরের কাছে একটাই চাওয়া ছোড়দা যেনো খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।🙏🙏
আপনারা সকলেই আমার ছোড়দার জন্য অনেক অনেক আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন।সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশা করেই শেষ করছি।
বড়দি লেখাটা পড়ার পর কি বলা উচিত আমি নিজেই বুঝে পাচ্ছি না একদম। আসলে সব পুলিশ যে একরকম নয় এটা দাদার কথা শুনে বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারলাম। এরকম দায়িত্বপরায়ণ এবং কর্তব্যশীল মানুষ আছে বলেই পুরো সমাজ ব্যবস্থা এখনো জেগে আছে। তবে দাদার এমন অসুস্থতায় ভীষণ খারাপ লাগছে। একটু হলেও গুরুত্ব দিয়ে যদি রেস্ট নিতো তাহলে হয়তো এমন দিন দেখতে হত না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। ভগবান অবশ্যই তার মঙ্গল করবেন।
হ্যাঁ ছোড়দা সব পুলিশ একরকম হয়না এটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আমার ছোড়দা।আমার ছোড়দার জন্য আশীর্বাদ করবেন যাতে করে ও খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে।অনেক অনেক ধন্যবাদ ছোড়দা।🙏❤️