ঝালের ঝোল রেসিপি।
হ্যালো বন্ধুরা
সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি,সুস্থ আছি।
কলা গাছের দারুণ গুণ। কলা,কলার খোসা, কলার মোচা সবকিছুই খাওয়া যায়। কলার পুষ্টি গুণ সম্পর্কে অনেকে জানেন।কলা গাছের মোচা থোড় বা পাতার ডাটা যেটাকে কলার কাকনা বলে সবকিছুই খাওয়া যায়।কলার কাকনা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে যা অনেকেই জানেন না।আমরা ছোটবেলায় দেখতাম যখন জ্বর কিংবা অন্য কোনো অসুস্থতার কারনে যদি মুখের অরুচি আসে তখন মা কলার কাকনা,শিং মাছ বা টেংরা মাছ দিয়ে ঝালের ঝোল রান্না করে দিতো।বিভিন্নরকম মসলা দিয়ে রান্না করার কারনে যখন কাকনা গুলো মুখে দিয়ে চিবানোর সাথে সাথে যেনো নিমেষেই মুখের রুচি ফিরতো।
এই রান্নায় ঝাল বলতে শুধু গোলমরিচের ঝাল আর মসলার ঝাল এটাই মূল উপকরণ।এখানে কাঁচামরিচ বা শুকনা মরিচ কিছুই ব্যবহার করা হয় না।আমি তারপরও দুইটা শুকনা মরিচ ব্যবহার করেছি তার কারণ হলো গোলমরিচের ঝাল আমার মেয়েরা খেতে পারে না,তাই গোলমরিচ কম দিয়ে দুইটা শুকনা মরিচ যোগ করেছি।আমি অনেক বার খেয়েছি কিন্তু কখনো নিজে রান্না করিনি।হঠাৎ করেই কেনো জানি ঝালের ঝোল খেতে ইচ্ছে করছিলো তাই আমার হেল্পিং হ্যান্ড খালাকে কলার কাকনা এনে দিতে বলেছিলাম খালা কাকনা এনে দেওয়ার পর সাথে সাথে টেংরা মাছ দিয়ে ঝালের ঝোল রান্না করলাম।আর সেই রেসিপি টি শেয়ার করছি।
চলুন তাহলে রেসিপি টি জেনে নেওয়া যাক।
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| টেংরামাছ | ৫০০ গ্রাম |
| কলার কাকনা | পরিমাণ মতো |
| কাঁচা কলা | ২ টা |
| আলু | ২ টা |
| সোলাকচু | একপিস |
| বেগুন | ১ টা |
| কচুর ডাঁটা | ২ পিস |
| রাঁধুনি বিজ মসলা | হাফ চা চামচ |
| গোলমরিচ | ১০-১২ টা |
| কালোজিরা | হাফ চা চামচ |
| জিরা | হাফ চা চামচ |
| সরিষা | হাফ চা চামচ |
| রসুন | ৩ কোয়া |
| শুকনা মরিচ | ২ টা |
| লবণ | স্বাদ মতো |
| হলুদ | পরিমাণমতো |
| তেল | পরিমাণমতো |
ধাপ-১
প্রথমে কলার কাঁকনাগুলর উপরের খোসা গুলো তুলে নিয়েছি।তারপর ছোট ছোট টুকরো করে হলুদ জলে ভিজিয়ে রেখেছি যাতে কালো হয়ে না যায়।
ধাপ-২
এবার কাঁচা কলার খোসা ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে হলুদ জলে ভিজিয়ে রেখেছি।বাকি সবজিগুলো কেটে নিয়েছি।
ধাপ-৩
এবার সব মসলাগুলো শিলপাটায় মিহি করে বেঁটে নিয়েছি।
ধাপ-১
প্রথমে মাছগুলো লবন হলুদ মাখিয়ে ভালো করে ভেজে তুলে নিয়েছি।
ধাপ-২
এবার মাছ ভাজার তেলের মধ্যে আরো কিছুটা তেল দিয়ে কেটে রাখা আলু গুলো দিয়ে ভেজে নিয়েছি।তারপর সোলাকচু গুলো দিয়ে ভেজে নিয়েছি।তারপর কলার কাঁকনা গুলো দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে ভেজে নিয়েছি।
ধাপ-৩
এবার বাকি সবজিগুলো দিয়ে স্বাদমতো লবণ ও পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়া দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে ভেজে নিয়েছি।
ধাপ-৪
এবার বেঁটে রাখা মসলাগুলো দিয়ে নেড়েচেড়ে হালকা ভেজে নিয়েছি।তারপর সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে নেড়েচেড়ে কষিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৫
মসলা কষানো হলে পরিমাণ মতো ঝোল দিয়ে দিয়েছি।এখানে ঝোলের পরিমাণটা একটু বেশি দিতে হবে তার কারণ এই তরকারিটা ঝোল বেশি না হলে খেতে ভালো লাগে না।ঝোল ফুটে উঠলে ভেজে রাখা মাছগুলো দিয়ে দিয়েছি।মাছ গুলো দেওয়ার পরে বেশ কিছুক্ষণ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম যাতে সবজিগুলো ভালোভাবে সিদ্ধ হয়। কিছুক্ষণ জ্বাল দেওয়ার পরে তরকারি হয়ে আসলে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিয়েছি।
পরিবেশন
চুলা থেকে নামিয়ে একটা পাত্রে ঢেলে নিয়েছি আর এখন গরম ভাতের সাথে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে মজাদার ঝালের ঝোল রেসিপিটি।
গরম ভাতের সাথে খেতে খুবই মজাদার হয়েছিলো।কিন্তু তারপরেও কোথাও যেনো কেমন একটা কমতি ছিলো।কারণ মায়ের হাতের সেই ঝোলের ঝালের স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে তাই আমার তৈরি রেসিপিটি খেয়ে মনে হলো কোনো একটা কিছু কমবেশি হয়েছিলো তাই স্বাদে একটু তারতম্য মনে হয়েছিলো।আসলে আমরা যতই ভালো রান্না করি না কেনো মায়ের হাতের রান্নার স্বাদের মতো কিছুতেই হবে না।
আমাদের উইটনেস কে সাপোর্ট করুন।
OR
আপু আপনার কাছ থেকে আজ একদম ভিন্ন ধরনের রেসিপির নাম জানতে পারলাম। এই রেসিপি কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ ইউনিক রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিলো।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য।
খুবই সুস্বাদু মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার রেসিপির পরিবেশন দেখে খুবই ভালো লাগলো। এত মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমাদের এলাকায় গোলমরিচ সাধারণত মাংস রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যাইহোক টেংরা মাছের সমন্বয়ে বেশ মজাদার একটি রেসিপি তৈরি করেছেন আর নামটা একদম ভিন্ন ধরনের ছিল। লোভনীয় রেসিপিটি তৈরি করে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি।
গোলমরিচ আমিও মাংস এর মধ্যে দেই তাতে করে মাংসের স্বাদ অনেক গুণ বেড়ে যায়।ধন্যবাদ ভাইয়া।
তোমার রেসিপি পোস্ট গুলোর মাধ্যমে ইউনিক ইউনিক অনেক খাবারের রেসিপি দেখছি দিদিভাই। শহরে থাকা হয় বলে হয়তো এসেব উপকরণ সহজে পাওয়া যায় না আমার জন্য, তোমার রেসিপি গুলো দেখে ভীষণ লোভ লাগে! কারণ তোমার রান্না তো খেয়েছি, তাই জানি তোমার রান্না যথেষ্ট মজার হয়।
হ্যাঁ শহরে থাকলে কলার গাছের অংশ গুলো পাওয়া যায় না।এগুলো খেতে খুবই ভালো লাগে এবং শরীরের জন্য অনেক উপকারী।লোভ লাগলে চলে আসো তাহলে খেতে পারবে।😅ধন্যবাদ মনা।
দারুন এক রেসিপি।ঠিক বলেছেন মুখের রুচি ফেরাতে দূরান্ত কাজ করে।বাড়িতে শিং কিংবা টেংরা মাছ হলেই প্রথমেই ঝালের তকরারি রান্নার কথা মাথায় আসে। কলার কাগনা গুলো চিবিয়ে খেতে তো অসাধারণ লাগে।সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন এবং পরিবেশ করেছেন।ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ রুচির জন্য এটা খুবই উপকারী একটি তরকারি।আমাদের বাড়িতে এটা খুবই চলে তাই না!কালকে অর্থী ২১ পিস কলার কাকনা চিবিয়ে খেয়েছে।😅তোমাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আপু আপনার রেসিপিটি একদম ভিন্ন রকম হয়েছে। আপনি অনেক সুন্দর করে টেংরা মাছ ও আলু এবং কলার কাকনা আর কলা দিয়ে রেসিপি তৈরি করেছেন। তবে ঠিক বলেছেন কলা গাছের মধ্যেও অনেক গুন আছে। কলা গাছের কমবেশ সবকিছু খাওয়া যায়। যাইহোক খুব সুন্দর করে রেসিপিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তৈরি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জ্বি ভাইয়া কলা গাছের সবকিছুই খাওয়া যায় আর খেতেও অনেক সুস্বাদু লাগে।অসম্ভব সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন ভাইয়া তার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
তবে ঠিক বলেছেন আপু কলা গাছের অনেক গুণ আছে। টেংরা মাছ আলু কলার কাকনা এবং কাঁচা কলা দিয়ে খুব সুন্দর রেসিপি করেছেন। আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক মজা হয়েছে। সত্যি বলতে আপনি চমৎকার রেসিপি করতে পারেন। আর টেংরা মাছ দিয়ে যে কোন রেসিপি করা হয় সেটি খেতে অনেক মজাই লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর করে রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
টেংরা মাছ আমারও খুব পছন্দের মাছ আপু,তাই টেংরা মাছ দিয়ে যেকোনো রেসিপি আমারও খুব ভালো লাগে।ধন্যবাদ আপু।