আমি @bristy1, আমার বাংলা ব্লগ এর একজন সদস্য। আর আমার এই প্রিয় কমিউনিটির প্রিয় বন্ধুগণ, আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি৷সবার সুস্থতা কামনা করেই আজকের পোস্টটি শুরু করতে যাচ্ছি।

আজ আপনাদের সাথে একটা রেসিপি শেয়ার করব বলে এলাম। রেসিপিটা মূলত আমাদের সবার প্রিয় @rme দাদা এবং @hafizullah ভাইয়ার অনুপ্রেরণায় তৈরি করলাম।সেদিন হ্যাংআউট চলাকালীন সময়ে দাদার সাথে ডিস্কোর্ডে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে মুলার ভর্তার কথা উঠেছিল।আর তখন দাদা আমাকে বললো যে মুলার হালুয়া করতে।এদিকে আবার হাফিজ ভাইয়াকে বললাম এই কথা,তখন তিনিও বললেন যে করার কথা।সেই জন্যই মূলত অবশেষে তৈরি করলাম এই রেসিপিটি।

এটা সত্য কথা আমাদের মধ্যে অনেকেই মুলা একদমই পছন্দ করে না। এর কারণ মূলত একটাই মুলার একটা তীব্র ফ্লেভার অনেকের ভালো লাগে না।কিন্তু আমি আবার অপছন্দও করি না।কারণ শীতকালীন সময়ে শোলমাছ দিয়ে রান্না করা মুলা একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে।যাইহোক রেসিপিটি যে মুলার হালুয়া সেটা কেউ বুঝতেই পারবে না।এলাচ আর দুধ এর ফ্লেভারে হালুয়া জাস্ট অসাধারণ হয়েছে। যারা মুলা খায় না, তাদের যদি না জানিয়ে এটা খেতে দেয়া হয় তাহলে কেউই বুঝতে পারবে না।দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও খুব মজার ছিল।একবারভস ট্রাই করেই দেখুন,,তাহলে শুরু করি রেসিপিটি।
আজকের রেসিপির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ |
| উপকরণ | পরিমাণ |
| মুলা | ১টি |
| তরল দুধ | হাফ লিটার |
| গুড়ো দুধ | হাফ কাপ |
| লবণ | হাফ চা চামচ |
| চিনি গুড়ো | হাফ কাপ |
| ঘি | ১টেবিল চামচ |
| কাঠবাদাম কুচি | ৬/৭ টি |
| কিসমিস | ১০ টি |

প্রথমে আমি মুলার খোসা ছাড়িয়ে নিলাম।তারপর গ্রেটারের ছোট সাইজ দিয়ে গ্রেট করে নিলাম।

এরপর গ্রেট করা মুলাকে হাত দিয়ে চিপে মুলার রস বের করে আলাদাভাবে নিয়ে নিলাম।

একটি কড়াইতে পানি দিয়ে দিলাম ৩ কাপ।তারপর গ্রেট করে পানি ঝরিয়ে নেয়া মুলা দিয়ে দিলাম। প্রায় ৩-৪ মিনিট ভাপিয়ে নিলাম।তারপর পানি ছেঁকে নিলাম।

এখন কড়াইতে ১টেবিল চামচ পরিমাণ ঘি দিয়ে দিলাম।ঘি এর মধ্যে এবার ভাপানো মুলা দিয়ে দিলাম।এভাবে কিছুক্ষণ ভেজে নেব।সাথে ফ্লেভারের জন্য ২টো এলাচ দিলাম।এভাবে ভেজে নিলে মুলার স্মেল লাগবেনা।

এই পর্যায়ে হাফ লিটার দুধ দিয়ে নেড়েচেড়ে দিলাম।তারপর দিয়ে দিলাম কুচানো বাদাম আর কিসমিসের অর্ধেক অংশ।কারণ এতে করে বাদাম নরম হবে আর খেতেও ভালো লাগবে।বাকি কিসমিস বাদাম ডেকোরেশন এর সময় ছিটিয়ে দেব তাই রেখে দিলাম।

কিছুক্ষণ পরপর বাকি উপকরণ দিলাম আর নাড়াতে থাকলাম।এক্ষেত্রে প্রথমে চিনি,তারপর একটু লবণ দিয়ে নাড়লাম।শেষ পর্যায়ে হালুয়া যখন ঘন হয়ে আসবে তখন গুড়ো দুধ ধাপে ধাপে দিয়ে মেশাতে থাকলাম।এরপর ঘন হয়ে এলেই নামিয়ে নিলাম।

এইতো তৈরি হয়ে গেল মুখে লেগে থাকার মত একটি মজাদার রেসিপি।





আজকের রেসিপিটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে তা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।সবার মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।
সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। সবার জন্য আন্তরিক ভালোবাসা রইল। সম্পূর্ণ পোস্টে আমার ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। |

আমি তাহমিনা আক্তার বৃষ্টি। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাংলায় কথা বলি,আমি বাংলায় নিজের মনোভাব প্রকাশ করি। আমি নিজের মত করে সবকিছু করার চেষ্টা করি। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি বিভিন্ন জিনিস আঁকতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকা, রঙ করা, নতুন নতুন কিছু তৈরি করা আমার পছন্দের কাজ। তবে রান্নাবান্না আমার ভালোলাগা, চেষ্টা করি সবসময় নিজে নতুনভাবে কিছু রান্না করার। ভ্রমণপ্রেমীদের মত আমিও ঘুরতে পছন্দ করি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

💦
💦 BRISTY 💦
💦

বাহ্! আমাদের হাফিজ ভাইয়ের প্রিয় মূলা দিয়ে চমৎকার একটি রেসিপি তৈরি করেছেন আপু। আমি নিশ্চিত যে, এই রেসিপিটা সবার কাছে বেশ ইউনিক লাগবে। গাজরের হালুয়া অনেক খেয়েছি, তবে মূলার হালুয়া কখনো খাওয়া হয়নি। এই রেসিপিটা বাসায় তৈরি করে খেতে হবে। রেসিপিটা সত্যিই বেশ লোভনীয় লাগছে দেখতে। নিশ্চয়ই এই রেসিপিটা সবাই মিলে বেশ মজা করে খেয়েছেন। যাইহোক এতো মজাদার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ওয়াও, আমি জাষ্ট মুগ্ধ হয়ে গেলাম, মনে হচ্ছে চোখ বন্ধ করে দারুণ স্বাদরে সুঘ্রাণ পাচ্ছি। দেখেই কিন্তু বুঝা যাচ্ছে বেশ স্বাদের হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ আপু, দারুণ একটা ব্যতিক্রম রেসিপি এতো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য। এরপর আমার সিরিয়াল, অবশ্যই চেক করবো রেসিপিটি।
অবশ্যই ভাইয়া,একবার এভাবে ট্রাই করলে বারবার খাবেন কথা দিলাম।
এটা সত্যি মুলা সবজি অনেকেই পছন্দ করেন না। কিন্তু এই সবজির অনেক উপকারীতা রয়েছে।আপনার তৈরি মুলার হালুয়া খুবই লোভনীয় হয়েছে দেখতে।খেতে ও দারুন হয়েছে বলতে পারি।আর মুলা গরম পানিতে ভাপ দিয়ে পানি ফেলেছেন তাই বাজে ফ্লেভারটা এখন আর নেই।এরপর ঘি, দুধ দিলে এটাতো মজার একটি রেসিপি হয়েছে বলতে হয়।অনেকটা দুধ লাউ রেসিপির মতোই।আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে আপনার এই রেসিপিটি। ধন্যবাদ আপনাকে আপু একটু কষ্ট হলেও মজার এই রেসিপিটি করে সবাইকে খাওয়ানোর জন্য।
মুলার হালুয়া দেখলে তো হাফিজ ভাই ভীষণ খুশি হবে। এভাবে কখনো খাওয়া হয়নি আপু। আপনার কাছে থেকে নতুন একটি রেসিপি শিখতে পেরে ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।
মুলা সবজি দিয়ে যেকোনো মাছের রেসিপি করলে খেতে আমার কাছে দারুন লাগে। আমাদের কমিউনিটিতে হাফিজ ভাই এবং দাদা মুলা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জুস হালুয়া এবং অনেক মজার মজার কথাবার্তা বলে থাকে। সত্যিই ভালো লাগে আপনি দেখছি সেটা বাস্তবে রূপ দিলেন। মুলা দিয়ে হালুয়া রেসিপি তৈরি খুবই সুন্দর হয়েছে। দাদা এবং হাফিজ ভাই আমাদের জন্য পাঠিয়ে দিয়েন পার্সেল করে একটু টেস্ট করে দেখব কেমন সুস্বাদু হয়েছে হাহাহা।😋😋
চমৎকার সুন্দর মুলার হালুয়া রেসিপি শেয়ার করেছেন আপু।সত্যি লোভ লেগে গেলো মুলার হালুয়া গুলো দেখে।ভীষণ লোভনীয় হয়েছে এই হালুয়া গুলো।খেতে যে ভীষণ সুস্বাদু হয়েছে তা তো বুঝতেই পারছি।দাদার কথায় হালুয়াটি বানিয়েছেন জেনে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর হালুয়া রেসিপিটি বানিয়ে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
জীবনে প্রথম খেলাম মুলার হালুয়া।তবে এত অল্প বানানোর কারনে বেশি খেতে পারলাম না।হাফিজ ভাই মনে হয় এই কারনেই মুলার জয়গান করে সব সময়।ধন্যবাদ তোমাকে ইউনিক একটি রেসিপি করে খাওয়ানোর জন্য।
বাহ অনেক মজাদার এবং ইউনিক রেসিপি প্রস্তুত করেছেন তো।
মুলাদি অনেক কিছু খাওয়া হয়েছে কিন্তু মোলা দিয়ে কখনো এরকম ভাবে হালুয়া প্রস্তুত করে খাওয়া হয়নি।
আপনার রেসিপির ফটোগ্রাফি দেখেই লোভ হচ্ছে ইচ্ছে করছে তুলে খেতে শুরু করি।
সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন ভাবগুলো সম্পর্কে শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য।
আসলেই আপু আপনি তো দেখছি অনেক লোভনীয় একটা জিনিস তৈরি করে ফেলেছেন মুলা ব্যবহার করে। মূলা ব্যবহার করেও যে এমন লোভনীয় জিনিস তৈরি করা যায় সেটা আমি কোন সময় ভাবতে পেরেছিলাম না।