দুঃসময় একটা ছাঁকনি যা তোমার প্রকৃত ও নকল বন্ধুকে পৃথক করে দেবে ।
আস্তে আস্তে আমরা কতটা নেমে যাচ্ছি ?নামতে নামতে তো তলদেশে এ ছুঁয়ে গেছে আমাদের অস্তিত্ব ।তারপর ও কি আমাদের ফেরার তাগিদ নেই ?সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে বিধাতা আমাদের যে সুযোগ দিয়েছে আমরা তার আর কত অপব্যবহার করবো !ছোটোবেলায় এলাকার বয়স্কের মুখে শুনতাম যে "আমাদের মাথার চুল বাতাসে পাকেনি ,অভিজ্ঞতায় পেকেছে ।আমরা কিছুটা হলে ও মানুষ চিনি ।"তখন তাদের এই কথার মানে ঠিক মতো বুঝতে পারতাম না ।ভাবতাম একদিন আমার ও চুল পাকবে আমার ও অভিজ্ঞতা হবে ।কিন্তু আজকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে পেরেছি তাদের সেদিনের সেই কথার মানে ।জীবনের প্রত্যেক মুহূর্তে আমরা মানুষ চিনে চলেছি ।কখনো মানুষ চিনে জিতেছি আবার হেরেছি তার চেয়ে অনেক বেশি ।আর এই হার ই অভিজ্ঞতা যা বয়সের সাথে সাথে সমানুপাতিক হারে বাড়ে ।জীবনের এই চলার পথে বহু মানুষের সাথে দেখা হয় পরিচয় হয় ।তাদের মধ্যে কতিপয় লোক বাকি জীবনের সাথে একটা অংশ হয়ে থেকে যায় ।বাকিরা সময়ের সাথে বিস্মৃতির তলদেশে হারিয়ে যায় ।এটাই জগতের নিয়ে ।জীবনে সব সম্পর্কের ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব ।
এই বন্ধুত্ব টিকে থাকে পারস্পরিক ভালোবাসা শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের উপর ।এর কোনোটি হারিয়ে গেলে সেই বন্ধুত্ব মেকি হয়ে যায় ।জীবনের এই চলার পথে প্রকৃত বন্ধু পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার ।আমি ব্যক্তিগত জীবনে ভালো মন্দ দুই বন্ধুরই দেখা পেয়েছি ।সেই সব ভালো বন্ধুর কাছ থেকে শিখেছি অনেক কিছু ।তারা আমার কাছে সম্পত্তি নয় মূল্যবান সম্পদ ।যাই হোক আজকে আমি একটু তিক্ততা নিয়েই কথা বলবো ।এটা অনেকটা পাতিলেবুর মতো যত কম চিপকানো যায় ততই ভালো ,বেশি চিপকালে তেঁতোই বেরোবে ।তো মাঝে মাঝে তিক্ততা বের করে দেয়া ও উচিত ।তাই আজকে কিছু লেখা শুরু করলাম ।কথায় আছে বিপদেই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় ।সুখের দিনে তো রাস্তায় চলমান কাউকে ডাকলে ও সে এসে তোমার সাথে আনন্দ করে যাবে ।ঈশ্বর আমাকে ও প্রকৃত ও নকল বন্ধু চেনার একটা সুযোগ করে দিলো ।গত বছর নভেম্বর মাসে হঠাৎ আমার বড় ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ে ,সে পেশায় একজন ডাক্তার এবং সরকারের বেশ বড় পদে দায়িত্বরত অফিসার।তখন আমাদের পরিবারে নেমে আসে বিনা মেঘে বজ্রপাত ।ঈশ্বরের কৃপায় ও ডাক্তারদের সুচিকিৎসায় আমার বড় ভাই মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠে কিন্তু তার কিডনি একদমই কাজ করছিলো না ।ডায়ালিসিস করা প্রয়োজন পড়ে ।দাদা যখন অসুস্থ হয় তখন একটা জিনিস প্রমাণিত হয় দাদা কত ভাগ্যবান যে সে প্রচুর প্রকৃত বন্ধু পেয়েছে ।যারা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক ফলে তাদের শত ব্যস্ততা থাকার শর্তেও তারা খবর শোনো মাত্র দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলো দাদার পাশে থাকার জন্য ।

Source
কিন্তু আমার এক বন্ধু যাকে আমি স্টিমিট এ এনেছিলাম এবং নিয়মিত সাপোর্ট দিয়ে ছিলাম ।সে ২০১৭-২০১৮ সালে যখন স্টিমিট এর দুই টোকেনের দাম আকাশ ছুঁয়ে গেছিলো তখন সে জমিদারি জীবন যাপন শুরু করলো ।যার কাছে একটা টুথ ব্রাশ কেনার নগদ টাকা থাকতো না সে লক্ষ টাকার ল্যাপটপ ছাড়া ব্যবহার করে না ।সেটা ভালো ,করো অবস্থার উন্নতি হোক সেটাই আমাদের কাম্য ।কিন্তু যাকে আমার পরিবারের অন্দর মহলে allow করেছি এবং এই অনলাইন ইনকাম জগৎ চিনিয়েছি সে যে কাজটা করলো না মানুষের পক্ষকে একটু কঠিন ।আমার অন্যান্য বন্ধুদের তখন পরীক্ষা চলছে তাই আমি সাহায্য চেয়েছিলাম শুধুমাত্র সেই ছেলেটির কাছে ।তার নাম দেবাশীষ হীরাই [প্রকৃত নাম নয় ]।সে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছে ফরেক্স করে কোটি কোটি টাকা কামানোর অলীক স্বপ্নে ।দাদা ভেল্লোরে যাবে চিকিৎসা করাতে সরাসরি তার কর্ম স্থল থেকে আর আমি যাবো কলকাতা থেকে ।একাই যাবো ।কিন্তু পরিবার থেকে বললো কাউকে নিয়ে যেতে ।কারণ দাদার চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি আমি ।তাই নতুন জায়গা একটা সিকিরিটি ইস্যু থাকে ।সেই আমার নকল বন্ধুকে বললাম যে আমার দাদার দুটো কিডনি damaged আমার সঙ্গে তোকে যেতে হবে এবং দু দিন পরেই তোকে প্লেন এ করে বাড়ি পাঠিয়ে দেব ।কিন্তু সে জানালো তার পরিবার তাকে না করে দিয়েছে সে যেতে পারবে না ।এই পরিবার এতটাই অকৃতজ্ঞ যারা তোদের ছেলেকে এত বড় সুযোগ করে দিয়েছে তাদের বিপদে ও পাশে দাঁড়াতে বারণ করিস ।পরে আমার অন্যান্য বন্ধুরা সব শুনে রেগে যায় তার বলে তাদের পরীক্ষা থাকা শর্তে ও তারা যেত, কেন আমি তাদের বলিনি ।সেই নকল বন্ধুটি কিছুদিন আগেও আমার মেজো দাদার কাছে আসতো কখনো বার্গার নিয়ে কখনো বা পিজ্জা নিয়ে ।সে বিগত কোনো বছরেই কোনোদিন কোনো খাবার নিয়ে আসে নি ।সে কেন এই সব নিয়ে আসছে ।দাদকে প্রশ্ন করাতে জানতে পারলাম সে দাদার কাছে স্টিমিট এর থেকে ২ লক্ষ পাওয়ার ডেলিগেশন চাইছে ।লোভ মানুষকে কোথায় নামিয়ে দেয় ।“সত্যিই সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!

Support @amarbanglablog by Delegation your Steem Power
| 100 SP | 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP |
Beauty of Creativity. Beauty in your mind.Take it out and let it go.Creativity and Hard working.Discord- https://discord.gg/RX86Cc4FnA

বন্ধু আমি তোমার পুরো পোস্ট টা পড়লাম। আজব পৃথিবী তে কত বিচিত্র মানুষের বসবাস। আমি খুবই মর্মাহত , কথা গুলি শুনে আমি ভীষণ ভীষণ ভাবে মনের কষ্ট পেয়েছে এই কারণে যে একটা পরিবার জীবনে আমাদের চলার পথকে সহজ করার জন্য স্টিমিট দ্বারা অনেক টা এগিয়ে দিয়েছে। সেখানে মানুষ বার বার একই ভুল করে কেনো বুঝি না। মানুষের কাছে বিনয়ী থাকা উচিত , বিনয়ী একটা গুন বলে আমি মনে করি। মানুষের মধ্যে নূন্যতম কৃতজ্ঞতা বোধ তো থাকা উচিত। যাদের জন্য আজ এই স্টিমিট জার্নি করছি আমরা তাদের কে ভুলে গেলে আমি মনে করি সেটা আমাদের পাপ হবে। আমি নাম উল্লেখ করবো না। যে বন্ধুটি কে এত বড় সুযোগ দিলে , যে বিলাস বহুল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়লো, সে শুধুই এক ঘেয়ামী সহযোগিতা নিয়ে যাবে তার জন্য কৃতজ্ঞতা বোধ তো দূরে থাক , শুধুই নিজের প্রয়োজনে বার বার তোমাদের কাছে যাওয়া। এটা খুবই খারাপ লক্ষণ বলে আমি মনে করি। ছোট্ট একটা এই জীবনে আমাদের ভুল ত্রুটি থাকবে। বন্ধুদের মধ্যে সেটা আবার মিটে যাবে নতুন ভাবে আবার পথ চলা শুরু হবে। কিন্তু এক তরফা তো হলে পৃথিবী ই হাসবে , সমাজের মানুষ তাকে কি বলবে সবাই জানে। তোমাদের বিপদের সময় কথা দিয়ে , যাওয়ার কথা বলে গেলো না। আবার শুধুই নিজের প্রয়োজনে তোমাদের ওখানে আবার হাজির হচ্ছে ,সত্যিই বন্ধু আমি খুবই মর্মাহত। আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি তোমাদের দাঁরাই এই স্টিমিট ঢুকে এখনো ও জার্নি চালিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি মানুষ হিসাবে বিপদের সময় সহযোগিতা করতে না পারলেও তাদের পাশে থাকা ,খোঁজ খবর নেয়া উচিত।যাদের মধ্যে দিয়ে এত বড় প্লাটফর্ম পেলাম , তাদের প্রতি বিনয়ী এবং কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ।সেটা সর্বক্ষেত্রে থাকা উচিত বলে মনে করি। বার বার একটি ব্যক্তি কে একই ভুল বার বার করলে ক্ষমা করা উচিত নয়,এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত ।সেটা যদি যে কেউ হতে পারে , এমনকি আমিও হলে আমাকে ও না। কারণ একটা লিমিট তো থাকা উচিত। ভুল করার লিমিট থাকা উচিত। যায় হোক ।বন্ধু আমার লেখার মধ্যে কোন ভুল কথা বললে ক্ষমা করো আমায়। দুঃখ মানুষের আসে হয়তো মানুষ চেনার জন্য। আমি বিশ্বাস করি , ভগবান আমাদের মাঝে মাঝে পরীক্ষা নেন।ধন্যবাদ তোমার জীবনের একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছো।
আমাদের বিপদের দিনে তোমরা সর্বদা খোঁজ খবর নিয়েছো।দুঃসময়ে বন্ধু ও আত্মীয়ের মানসিক support ও খুব জরুরি।ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুক।
আমার পরিবার সবসময় তোমাদের পরিবারের জন্য মঙ্গল কামনা করি। সবাই যেনো সুস্থ থাকো। ধন্যবাদ বন্ধু।
বিপদেই আমারা প্রকৃত বন্ধুদের চিনতে পারি।
একদম সঠিক কথা।।
খুবই চমৎকার এবং বাস্তবধর্মী কথা ভাই, মাঝে মাঝে দুঃসময় আসাটা আমাদের জন্য ভালো সব কিছু নতুনভাবে চেনার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ধন্যবাদ
বিপদ আমাদের matured করে তোলে।ধন্যবাদ ভাই।
সত্যিই বিচিত্র এই পৃথিবী। বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। সত্যি খুব শোচনীয় বিষয়। জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। মানুষ কে ভালোভাবে চেনা। পোস্ট পড়ে আমি অনেক কিছু শিখলাম।খুব খারাপ ও লাগলো। মানুষ এমন হতে পারে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আসলে এটাই জীবন ,আর জীবন এভাবেই এগিয়ে যায়।
"জীবনের এই চলার পথে বহু মানুষের সাথে দেখা হয় পরিচয় হয় ।তাদের মধ্যে কতিপয় লোক বাকি জীবনের সাথে একটা অংশ হয়ে থেকে যায় ।বাকিরা সময়ের সাথে বিস্মৃতির তলদেশে হারিয়ে যায় ।এটাই জগতের নিয়ে ।জীবনে সব সম্পর্কের ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব ।" যথার্থ। শুভেচ্ছা রইল ভাই।
আমাদের সব কিছুর মধ্যেও জীবনকে খুঁজে নিতে হবে।এগিয়ে যেতে হবে নব উদ্যমে।ধন্যবাদ
।
অসাধারন, অসামান্য, অনাবদ্য।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা নেবেন।
বন্ধু মানেই হাসি,মজা,একটু ভুল বোঝাবুঝি, অটুট বিশ্বাস ও গভীর ভালোবাসার বন্ধন থাকবে।সবকিছু মিশেই বন্ধুত্ব।কিন্তু সেই ভুলটাকে পুনরায় সংশোধন করে নেওয়া ,আবার একবন্ধু অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও অন্য বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অসুস্থ শরীরে বেরিয়ে পড়া ।হয়তো বা এটাই বন্ধুত্বের প্রতি বন্ধুত্বের অপরিসীম ভালোবাসার টানে একে অপরের বিবেক কেঁদে ওঠা।
তাছাড়া একজন ভালো বন্ধুর পাশাপাশি বন্ধুর পরিবারের প্রতি ও কিছু দায়বদ্ধতা থেকে যায়।যেখানে একটা আত্মার বন্ধন সৃষ্টি হয়।তাই বন্ধুর কোনো বিপদে সাহায্য করতে না পারলেও দূর থেকে তাঁকে সান্ত্বনা বাক্য দিয়ে একটা মানসিক মনোবল বৃদ্ধি করা যায়।এরকম বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।
দাদার পোস্টটি পড়ে খুবই খারাপ লাগলো।তবে দুঃসময়ে যে কোন বন্ধু আসল ও কোন বন্ধু নকল এটা প্রকৃতভাবে স্পষ্ট হয়ে যায় এতে সন্দেহ নেই।এটাই জীবন থেকে শিক্ষার।ধন্যবাদ দাদা।
সঠিক কথা বলছো।
ভাইয়া আপনার কথাগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবিক। ধন্যবাদ ভাইয়া
শুভেচ্ছা নেবেন।।