রেসিপি।। বৃষ্টির দিনে ভাপা পিঠা খাওয়ার অনুভূতি।।
হ্যালো বন্ধুরা
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনারা সবাই কেমন আছেন? আমি @biplob89 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ(০৪/১০/২০২৩) রোজ: বুধবার।
আসলামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধুগণ আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আমি @biplob89 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি বৃষ্টির দিনে ভাপা পিঠা খাওয়ার অনুভূতি। আসলে বৃষ্টির দিনে সারাদিন ঘরে বসে থাকতে হয়। কারণ কোথাও বের হওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না। তবে বৃষ্টির দিন ঘরে বসে থেকে নতুন কোন খাবার না খেলে মনের মধ্যে একটা অতৃপ্ত থেকে যায়। আর আজকে সকাল থেকেই অঝরে বৃষ্টি পড়েছিল। তাই মাকে বললাম আজকে ভাপা পিঠা তৈরি করো। মা আমার কথায় রাজি হয়ে গেল এবং খুবই দ্রুত ভাপা পিঠা তৈরি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে আজকের ভাপা পিঠা তৈরির রেসিপি টা শেয়ার করা যাক।
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চাউল | ১ কেজি |
| চিনি | পরিমাণ মতো |
| লবণ | পরিমাণ মতো |
| পানি | পরিমাণ মতো |
| নারিকেল | ১টি |
| বড়োসারা | ১টি |
| ছোটসারা | ১টি |
| মাঝারি হাড়ি | ১টি |
| পিঠার ছাঁচ | ১টি |
| পাতলা জাল | ৪টা |
| মাঝারি গামলা | ১টি |
| পাটা | ১টি |
| নোড়া | ১টি |
| প্লেট | ১টি |
| পোস্ট তৈরি | @biplob89 |
তবে ভাপা পিঠা তৈরি করার জন্য আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে সেটা হচ্ছে সিদ্ধ চাউল পানির মধ্যে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। আসলে আপনারা অনেকেই মনে করতে পারেন চাউল ভিজিয়ে রাখার কি দরকার ময়দা দিয়ে করলেই তো হয়ে যায়। তবে তাও হয় কিন্তু এখানে মজার একটা ব্যাপার আছে। আর মজার ব্যাপারটি হচ্ছে পিঠার স্বাদের তারতম্য রয়েছে। কারণ চাউল বেটে ময়দা তৈরি করে পিঠা বানালে এই পিঠা খেতে খুবই স্বাদ লাগে। তাই আমি এখানে চাউল প্রথমে ভিজিয়ে রেখেছি। তারপরে চাউল থেকে পানি আলাদা করে কিছুক্ষণ একটা ঝুড়িতে রেখেছি যাতে ভেজানো চাউলে আর কোনো পানি না থাকে। উপরের ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই চাউল গুলো প্রথমে পানিতে ভেজানো হয়েছিল । পরে পানি থেকে আলাদা করে এমন অবস্থায় আনা হয়েছে।
উপরের ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি চাউল গুলো খুব সুন্দর ভাবে পাটায় বেটে একদম পিষে ময়দার মতো করে নিয়েছি। আসলে আজকে সারাদিনই বাসায় ছিলাম। তাই ভাবলাম মায়ের কাজের কিছু সহযোগিতা করি। এজন্য ভেজানো চাউল আমি নিজ হাতে পাঠাই বেটে দিয়ে মায়ের একটু সাহায্য করলাম।
উপরে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন নারিকেলের ঝুরি। আসলে পিঠায় নারিকেল না দিলে সেই পিঠায় একটা স্বাদ হারিয়ে যায়। আসলে যে কোনো পিঠাই নারিকেল দেওয়ার ফলে সে পিঠার স্বাদ আরো বেড়ে যায় এবং খেতে খুবই ভালো লাগে। তাই আমি খুব সুন্দরভাবে নারিকেল গুলো কুরে নিয়েছি।
আসলে পিঠাই যদি সব ঠিকঠাক দিয়ে চিনি না দেয়া হয় তাহলে কিন্তু পিঠার স্বাদ আর পাওয়া যাবে না। বাসায় চিনির পরিমাণ খুব একটা বেশি ছিল না তাই মা টাকা দিয়ে বললো দোকান থেকে এক কেজি চিনি কিনে আনো। আসলে তখনো বৃষ্টি হয়েছিল তাই ছাতা নিয়ে দোকানের দিকে রওনা দিলাম চিনি কিনার উদ্দেশ্যে। এরপরে দোকানে গিয়ে চিনি কিনলাম এক কেজি চিনির দাম নিয়েছিলাম আমার থেকে ১৪০ টাকা।
উপরের ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ময়দা আর নারিকেল আলাদাভাবে রেখে দিয়েছি।
এবার আমি ময়দা আর চিনি একসাথে মিক্সার করে নিয়েছি।
এবার আমি পিঠা বানানোর একটি ছোট সারা নিয়েছি।
এবার আমি পিঠার পিঠার শ্বাসের নিচের অংশে মাখানো ময়দা দিয়েছি। এবং উপরের অংশ ফাঁকা রেখেছি।
এবার আমি উপরের ফাঁকা অংশে নারিকেলের ঝুরি দিয়েছি।
এরপরে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন উপরে কিছুটা অংশ ফাঁকা আছে ফাঁকা অংশটি আবার ওই ময়দা দিয়ে পূরণ করে দিয়েছে।
এবার পাতলা একটা তেনা বা জাল দিয়ে পিঠাটা চুলার উপরে বসাতে হবে। তবে চুলার উপরে বসানোর পূর্বে চুলায় পানি গরম করে নিতে হবে। এবং গরম করা পানির হাঁড়ির উপরে পিঠার সাচটি বসাতে হবে।
এবার আমি পিঠার ছাচে পাতলা জাল জড়ানো পিঠা গুলো বসিয়ে দিয়েছি।উপরের ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি চারটা পিঠা একবারে চুলার উপরে বসিয়ে দিয়েছি ।কারণ আমার এই ছাঁচে চারটা পিঠা একসাথে তৈরি করার নকশা করা আছে।
এবার আমি ছাচে বসানো পিঠাগুলো বড় একটা সারা দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়েছি। যাতে উপরের ভাপটা বেরিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং কিছুক্ষণ এভাবে চুলার উপরে রাখতে হবে।
এবার আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি পিঠাগুলো চুলা থেকে নামিয়ে নিয়েছি।
ফাইনালি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ভাপা পিঠা তৈরি হয়ে গিয়েছে । আসলে এই ভাপা পিঠাগুলো খেতে খুবই স্বাদ লাগে। আর বর্ষার দিনে ভাপা পিঠাগুলো খেতে তো দারুন লাগে। আসলে এভাবে আপনারাও ভাপা পিঠা তৈরি করে খেতে পারেন । আশা করি খেতে খুবই ভালো লাগবে।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি
আশা করি পোস্টটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য আমার পক্ষ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ
রেসিপি বৃষ্টির দিনে ভাপা পিঠা খাওয়ার
বৃষ্টির সিজন আসলে সব সময় ঘরে বসে থাকতে হয়। আর এর জন্য বিভিন্ন ধরনের জিনিস খেতে ইচ্ছা করে। আর খাওয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পিঠা। ছোট ভাই বৃষ্টির এই দিনে খুব চমৎকার একটি ভাপা পিঠা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছো। গ্রাম অঞ্চলে এই পিটার খুব কদর রয়েছে। পিঠা তৈরি ধাপ গুলো খুব সুন্দর করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছো। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার মন্তব্যটি শেয়ার করার জন্য।
এখনো শীত আসে নাই তবুও আসে পাসে দেখেছি অনেকেই পিঠা বানিয়ে বিক্রি করছে।আজকে আপনি খুব সুন্দর একটি রেসিপি পোস্ট শেয়ার করেছেন অনেক সুন্দর হয়েছে ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে ভাইয়া বৃষ্টির দিনে ভাপা পিঠা খেতে দারুন লাগে তাই বানিয়ে খেয়ে নিলাম।
গরম গরম ভাপা পিঠা খেতে দারুণ লাগে। এই বৃষ্টিতে বারান্দায় বসে সবাই একসাথে আড্ডা দেওয়া আর পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। আপনার পিঠা দেখে খুব খেতে ইচ্ছে করছে। ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আমার পিঠা দেখে যেহেতু আপনার খেতে ইচ্ছে করছে তাহলে বানিয়ে খেয়ে নিন। ধন্যবাদ আপু
বৃষ্টির দিনে গরম গরম ভাপা পিঠা খুব দারুণ জমে গেছে। ভাপা পিঠা ময়দা দিয়ে হয় না
চালের গুড়ি দিয়েই করতে হয়। আপনার ভাপা পিঠার রেসিপিটি খুব মজাদার হয়েছে। ধাপে ধাপে সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ
ধন্যবাদ আপনাকে।
বৃষ্টির দিনে ভাপা পিঠা খেতে ভালো লাগে। তবে তার চেয়ে বেশি ভালো লাগে শীতের দিনে। কিছুদিন আগে আমাদের পরিবারে বানিয়েছিল। তবে পিঠা দেখে মনে হলো তিরাইল বাজারে মুহূর্তে ভাপা পিঠা কিনে খাওয়ার সেই অনুভূতি। বেশ সুন্দর হয়েছে ভাপা পিঠাগুলো
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার মন্তব্যটি শেয়ার করার জন্য।
বাহ চমৎকার একটি খাওয়া দাওয়া করলেন আপনি। আপনি তো শীতকাল আসার আগে ভাপা পিঠা খেয়ে নিলেন। তবে এখন যেহেতু বৃষ্টির দিন ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদারে খেতে খুব ভালোই লাগবে। কিন্তু পিঠা দেখে তো লোভ লেগে গেল।
পিঠা দেখে আপনার যেহেতু লো ভ হয়ে গেল তাই বানিয়ে খেয়ে নিন আশা করি ভালো লাগবে।
বৃষ্টির দিনে পিঠা খেতে ভীষণ ইচ্ছে করে। আপনার তৈরি ভাপা পিঠা দেখে তো ভীষণ খেতে ইচ্ছে করছে। তবে ভাপা পিঠা চিনি না দিলে খেতে ইচ্ছে করেনা। আমার তো মনে হয় এই পিঠা তৈরি করতে একটু বেশি চিনি লাগে। যাইহোক আপনার রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে ভীষণ সুস্বাদু হয়েছে।
জি চিনি তিনি তো অবশ্যই দিতে হবে তবে নারিকেল দেওয়ার কারণে চিনি খুব বেশি পরিমাণে না দিলেও এটি খেতে অনেক স্বাদ লাগে। ধন্যবাদ আপনার মতামত চেষ্টার করার জন্য।
শীতের সময় গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। শীত আসার আগে ভাপা পিঠা তৈরি করে খেয়ে নিলেন। আপনার বাপা পিঠাগুলো দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে। তৈরি করার ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। মজাদার একটি পিঠা তৈরি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর একটা মন্তব্য শেয়ার করার জন্য।
ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। আজকে আপনি বর্ষার দিনে ভাপা পিঠা তৈরি করেছেন। ঠিক বলেছেন বৃষ্টির সময় কোথাও তেমন বাহির হওয়া যায় না। আপনার মাকে বলার সাথে সাথে সে রাজি হয়ে ভাপা পিঠা তৈরি করার জন্য সব কিছু রেডি করতেছে। সত্যি বলতে আপনার ভাপা পিঠা তৈরি দেখে আমার নিজেরও খেতে মন চাইতেছে। তবে ভাপা পিঠা তৈরি করতে অনেক টাইম লাগে বিশেষ করে সব কিছু রেডি করে তৈরি করতে হয়। ধন্যবাদ আপনাকে খুব সুন্দর করে ভাপা পিঠা তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
জি আপু সবকিছুই রেডি থাকে সবসময় ইনশাআল্লাহ। তাই মাকে বলার সাথে সাথেই পিঠা তৈরি করে দিলো। আপনার মন্তব্যটি পড়ে আমার ভালো লাগলো ধন্যবাদ।