জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ ভ্রমণ:-পর্ব-০৩(শেষ পর্ব)।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ মঙ্গলবার। ২৭ ই জুন, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজ নতুন একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের নিকট হাজির হয়েছি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ থেকে যখন আমি বের হয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমি সমাধি সৌধের প্রধান গেটের ডান দিকের দেওয়ালে জাদুঘর ও পাঠাগার লেখাটি দেখলাম। তারপরে দেখলাম খুবই সুন্দর একটি ঘর। ঠিক তখনই ভাবলাম এটাই হয়তো আমাদের জাতির জনকের বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাতির জনকের লেখা বিভিন্ন ধরনের বই সংরক্ষণ করে সুন্দর একটি জাদুঘর এবং পাঠাগার তৈরি করা হয়েছে। তাই দেরি না করে জাদুঘর ও পাঠাগারের দিকে রওনা হতে লাগলো। জাদুঘরের সামনের পরিবেশটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে সুন্দর ফুলের বাগানের কারণে জাদুঘর ও পাঠাগারের সামনের পরিবেশটা অত্যন্ত মনোরম ছিল। জাদুঘর ও পাঠাগারের প্রধান প্রবেশপথে বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক ব্যক্তি ছিলেন। তারা প্রথমে আমার পুরো শরীরটা পরীক্ষা করে দেখলেন যে কোন ধরনের অবৈধ জিনিস আমার কাছে আছে কি-না। তবে নিরাপত্তা প্রদানকারী ব্যক্তিদের আচরণটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল। তারপর আমি জাদুঘর ও পাঠাগারে ভিতরে প্রবেশ করলাম।
জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করে আমি তো সম্পূর্ণরূপে অবাক হয়ে গেছি। কারণ আমার বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী এবং সকল শিক্ষিকাগণ অনেক আগে থেকেই জাদুঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্রগুলো তারা স্বচক্ষে দেখতে এবং পাঠাগারের বিভিন্ন বই পত্র গুলো তারা পড়তেছে। আসলে জাতির জনকের সমাধিতে অনেকটা সময় দেওয়ার কারণে জাদুঘরে আসতে আমার দেরি হয়ে গেছে। আর এখানে যে জাদুঘর ও পাঠাগার আছে এটা অবশ্য প্রথমে আমার জানা ছিল না। তাই জাদুঘর ও পাঠাগারের ভিতরে সকলকে দেখে ভালো লেগেছিল আমার। জাদুঘরে প্রবেশ করে প্রথমে আমি জাদুঘরের বিভিন্ন ছবি এবং সংরক্ষিত জিনিসপত্র গুলো দেখতে শুরু করলাম। প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কফিনটা আমার চোখে পড়লো। তাই সেখানে কিছুটা সময় অতিবাহিত করলাম। তারপর জাদুঘরের দেয়ালে খুব সুন্দর ভাবে টাঙানো ছিল জাতির জনকের বিভিন্ন ফটোগ্রাফি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের জাতির জনকের সুন্দর সুন্দর ছবিগুলো দেখে খুবই ভালো লেগেছিল আমার।
এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের সাথে ছবি তোলা বিভিন্ন ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে লাগলাম। সকল ফটোগ্রাফি গুলো জাদুঘরের দেওয়ালে খুবই সুন্দর ভাবে টাঙ্গানো ছিল। একই সঙ্গে জাতির জনকের সাথে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎকার সময়ের ফটোগ্রাফির ছবিগুলো দেখে গর্বে আমার বুকটা ভরে গেল। আসলে আমাদের জাতির জনকের সাথে বিশ্বের বড় বড় নেতাদের খুবই সুসম্পর্ক ছিল। আর জাদুঘরের টাঙ্গানো ছবিগুলোয় তার বাস্তব প্রমাণ। এরপর জাদুঘরে থাকা সুন্দর একটি নৌকা দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছিল। তবে নৌকাটি কত বছরে পুরনো সেটা সেখানে কোথাও লেখা নেই।
জাদুঘরের ভিতরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন স্মৃতি বিজড়িত ছবিগুলো দেখার পর আমি খুব দ্রুত পাঠাগারে চলে গেলাম। তারপর পাঠাগারের কয়েকটি বই নাড়াচাড়া শুরু করেছিলাম। ইচ্ছে ছিল জাতির জনকের লেখা কয়েকটা বই পড়বো। কিন্তু পাঠাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ম্যাডাম এসে আমাকে বললেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঠাগার বন্ধ হয়ে যাবে। আসলে তখন প্রায় সন্ধ্যার কাছাকাছি সময় চলে গিয়েছিল। তাই পাঠাগারের বই পড়া বাদ দিয়ে আবারো শুরু করলাম জাদুঘরের দেয়ালে টাঙ্গানো বিভিন্ন ধরনের ছবিগুলো দেখতে। জাদুঘরে আমাদের জাতির জনকের বিভিন্ন ধরনের ছবিগুলো আমি যতই দেখছিলাম ততই মুগ্ধ হয়েছিলাম। আসলে আমাদের জাতির জনক ছিল একজন বিশ্বমানের নেতা এবং আমাদের দেশের একজন মহান নেতা। আর আমাদের এই মহান নেতার বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবিগুলো যেমন আছে ঠিক তেমনি আছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করার অসংখ্য ছবি। জাদুঘরে টাঙিয়ে রাখা এ সমস্ত ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের জাতির জনকের মহত্বের দিকটি দারুন ভাবে ফুটে উঠেছে।
জাদুঘর ও পাঠাগারে আরো কিছুটা সময় থাকার খুব ইচ্ছে আমার ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সকল মানুষেরাই জাদুঘর থেকে আস্তে আস্তে বের হয়ে যাচ্ছিল। তাই শেষ মুহূর্তে এসে জাদুঘরের ভিতরে থাকা ছবিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র গুলো দেখার চেষ্টা করেছিলাম। তারপর জাতির জনকের একটি ছবির নিচে দাঁড়িয়ে আমার একটি সেলফি তুলেছিলাম। আসলে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজাড়িত জাদুঘর ও পাঠাগারে আমার একটি স্মৃতি করে রাখার জন্য সেলফিটি তুলেছিলাম। তারপর জাদুঘর ও পাঠাগারে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আদেশে জাদুঘর থেকে বের হয়ে গেলাম।
আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সকল কাজের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য এই জাদুঘর ও পাঠাগারটি নির্মিত হয়েছে। আমি মনে করি, এই জাদুঘরে থাকা অবস্থায় প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট আমার অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সত্যিই আমাদের জন্য গর্ব এবং অহংকার। যতদিন এই পৃথিবীর বুকে আমাদের বাংলাদেশ টিকে থাকবে ঠিক ততদিনই সকল বাঙালির হৃদয়ে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থাকবে, এমনটাই আমি প্রত্যাশা করি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
অসাধারণ একটি পোস্ট আজ আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইজান আপনার এই পোস্ট থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম, কারণ এখানে আমি কখনো যাইনি তাই এ বিষয়ে আমার ধারণা অনেক কম ছিল। এই স্থানে যেয়ে আপনি অনেক সুন্দর করে কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন এবং তা সম্পর্কে অনেক সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন দেখে খুশি হয়েছি।