বাতাস।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ মঙ্গলবার। ৩০ ই মে, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, জৈষ্ঠ্য মাসের এই প্রচন্ড রোদ ও গরমে আমরা সকলেই একরকম অতিষ্ট হয়ে উঠেছি। গরমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা কেউ এসি নিয়ন্ত্রিত ঘরে আশ্রয় গ্রহণ করছি, বিদ্যুৎ চালিত ফ্যানের নিচে আশ্রয় গ্রহণ করছি, আবার আমরা কেউ গাছের ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করছি। আমাদের সকলের প্রচেষ্টা একটাই প্রচন্ড গরম থেকে আমাদের শরীরকে কিছুটা হলেও প্রশান্তির মধ্যে রাখা। যাহোক, এই প্রচন্ড গরমের মধ্যে যখন আমাদের শরীরে ঠান্ডা বাতাস এসে লাগে তখন আমাদের শরীরটা এক ধরনের প্রশান্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমাদের শরীর থেকে গরম নিবারণ করার জন্য ঠান্ডা বাতাসের কোন বিকল্প নেই। আসলে বাতাস ছিল বলেই আমরা এখনো এই প্রচন্ড গরমের মধ্যে সুস্থ আছি এবং বেঁচে আছি।
আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং আমাদের মনকে তরতাজা রাখতে বাতাসের কোন বিকল্প নেই। একটি বছরে মাত্র দুইটি মাস (পৌষ ও মাঘ মাস) বাদে কম বেশি সব মাসে আমাদের বাতাসের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে, গ্রীষ্ম ঋতুতে আমাদের বাতাসের প্রয়োজনটা সবচাইতে বেশি হয়। এই গ্রীষ্ম ঋতুতে আমরা যদি একবেলা না খেয়ে থাকি তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু একবেলা যদি আমরা বাতাস অনুভব না করি, একবেলা বাতাস যদি আমাদের শরীরে না লাগে তাহলে আমরা খুবই অস্বস্তি বোধ করি। যেটা আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত করে। তাই সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে আমাদের সকলের জন্য বাতাসের কোন বিকল্প নেই।
আমরা তিনটি উপায়ে আমাদের শরীরে বাতাস লাগায় অর্থাৎ বাতাস অনুভব করি। প্রথমটি হলো, হস্ত চালিত পাখা ব্যবহার করে আমরা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করি। হাতপাখা ব্যবহার করে আমরা খুব সহজে বাতাস উৎপাদন করে আমাদের শরীরকে আরাম দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু হাত পাখা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের শারীরিক পরিশ্রমও হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও হাতপাখা ব্যবহার করে বাতাস উৎপাদন করে আমরা কিছুটা হলেও শান্তি অনুভব করি, গরমকে নিবারণ করতে পারি।
দ্বিতীয়টি হলো, আমরা বৈদ্যুতিক শক্তি এবং সৌরশক্তি ব্যবহার করে আমরা ফ্যানের মাধ্যমে বাতাস উৎপাদন করে আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করার চেষ্টা করি। বৈদ্যুতিক শক্তি এবং সৌরশক্তি ছিল বলেই আমরা এই প্রচন্ড গরমকে মোকাবেলা করার শক্তি পাচ্ছি। আসলে বর্তমান সময়ে আমরা প্রায় অধিকাংশ মানুষই বিদ্যুৎ চালিত ফ্যানের বাতাসের উপর নির্ভর করি। বিদ্যুৎ চালিত ফ্যানের বাতাস আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, আমাদের ভাতের হাড়িতে ভাত থাক বা না থাক, পরনে ভালো মনের পোশাক থাক বা না থাক, আমাদের ঘরে কিন্তু বিদ্যুৎ চালিত ফ্যান থাকে। আর এই বিদ্যুৎ চালিত ফ্যানের পিছনে আমরা প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করি না। আবার সৌরশক্তি ব্যবহার করার জন্য আমরা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আমাদের ঘরে সৌর প্যানেল স্থাপন করছি। আসলে বাতাসের প্রয়োজনে আমাদের একবারে এতগুলো টাকা খরচ করতে কোন দ্বিধাবোধ হয় না। আবার বিদ্যুৎ চালিত ফ্যান ব্যবহারের মধ্য দিয়ে প্রতি মাসে আমরা হাজার হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছি। শুধুমাত্র আরামে থাকার জন্য, গরমকে নিবারণ করার জন্য, শরীরে ও মনে প্রশান্তি আনার জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা। আহা! কি আনন্দ।
তৃতীয়টি হলো, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা বাতাস পেয়ে থাকি। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ঠান্ডা বাতাসে সৃষ্টির সকল প্রাণী প্রশান্তি পায়, সকল প্রাণী শারীরিকভাবে সতেজ হয়ে ওঠে।প্রাকৃতিক বাতাস হল অফুরন্ত। আমরা সবচাইতে বেশি আরাম অনুভব করি যখন প্রাকৃতিক বাতাস আমাদের শরীরে লাগে। প্রাকৃতিক বাতাস কেবল আমাদের শরীরকেই ঠান্ডা করে না বরং আমাদের চারপাশের পরিবেশকেও ঠান্ডা করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, ঠান্ডা আরামদায়ক প্রাকৃতিক বাতাসের জন্য আমাদের কিন্তু বিল দেওয়া লাগে না। কোন প্রকারের টাকা পয়সা খরচ করা লাগেনা। সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক আমরা এমনি এমনিতেই অফুরন্ত প্রাকৃতিক বাতাস অনুভব করতে পারি। কিন্তু আমরা কি কখনো অফুরন্ত প্রাকৃতিক বাতাস পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি? হয়তো আমরা হাতে গোনা কয়েকজন সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত, প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ঠান্ডা বাতাস আমাদের জন্য সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক একটি বিশেষ নেয়ামত। হস্ত চালিত পাখার বাতাস কেবলমাত্র একজন অথবা দুজন মানুষের শরীরকে ঠান্ডা করতে পারে। বিদ্যুৎ চালিত ফ্যানের বাতাস কেবলমাত্র একটি কক্ষের ভেতরে থাকা কয়েকজন মানুষের শরীরকে ঠান্ডা করতে পারে। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তার দান প্রাকৃতিক বাতাস পুরো সৃষ্টি জগতকে ঠান্ডা করে দেয়। তাই প্রাকৃতিক ঠান্ডা বাতাস আমাদের শরীরে লাগার সাথে সাথে আমাদের উচিত সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
জৈষ্ঠ্য মাসের এই প্রচন্ড গরমে ঠান্ডা প্রাকৃতিক বাতাসে আমাদের সকলের হৃদয় শীতলতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক, এমনটাই আমি প্রত্যাশা করি। আল্লাহ হাফেজ।