আমার প্রতিদিনের ইফতার সামগ্রী।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ বুধবার । ১৯ ই এপ্রিল, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আমরা দেখতে দেখতে রমজান মাসের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে গেছি। আর কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। যাহোক, রমজানের এই শেষের দিকে এসে আমি আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে ব্যবহারিত আমার প্রিয় কিছু খাবারের সাথে আপনাদের পরিচিত করে দিব। অর্থাৎ যে খাবারগুলো দিয়ে আমি প্রতিদিন ইফতারির কার্যক্রম সম্পন্ন করি ঠিক সেই খাবারগুলোই আজ আপনাদের নিকট উপস্থাপন করতেছি। সারাদিন রোজায় থেকে ইফতারিতে অনেক কিছুই খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ইফতারের সময় কয়েক গ্লাস ঠান্ডা জল এবং সাথে কিছু খাবার খাওয়ার পরে আর কোন কিছুই যেন খেতে ইচ্ছে করে না। শুধু মাঝেমধ্যে পানি আর শরবত পান করতে ইচ্ছে করে। সারাদিন রোজায় থাকার পরে ইফতারিতে এবং ইফতারির পরের সময় শরবত এবং পানি পান করে যেন তৃপ্তি মেটে না। অন্যান্য খাবার খাওয়ার তুলনায় শরবত এবং পানি বেশি পান করা হয়ে যায়। যাহোক, চলুন দেখে আসি আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে ব্যবহৃত খাবারগুলো। আমার প্রতিদিনের ইফতারির প্রধান খাবার হল ক্ষীর খেজুর এবং বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি। এই খাবারটা অবশ্য ইফতারির সময় সকল মুসলমানদেরই প্রধান একটি খাবার। প্রতিদিনের ইফতারিতে ক্ষীর খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করা আমাদের ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে সওয়াবের একটি কাজ। যাহোক, আমি ইফতারের সময় ক্ষীর খেজুর এবং পানি পান করার মধ্য দিয়ে এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক শান্তি পায়। তাই আমি প্রতিদিনের ইফতারিতে ৭ থেকে ১০ টি ক্ষীর খেজুর খায় এবং পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ পানি পান করি। রোজা থাকা অবস্থায় সারাদিনের ক্লান্তি এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে বেলের শরবত এবং টেস্টি স্যালাইন পান করা আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তাই আমি আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে টাটকা বেলের শরবত কমপক্ষে দুই গ্লাস এবং টেস্টি স্যালাইনের পানি এক গ্লাস পান করি। বেলের শরবত এবং টেস্টি স্যালাইনের পানি পান করার পর আমার শরীরের সকল ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায়। একই সাথে আমার শরীর এবং মন সজীবতায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শরীরের পানি শূন্যতা দূর করতে বিশুদ্ধ পানি ও শরবত পান করার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি পরিমাণ টেস্টি স্যালাইন পানি পান করতে পারলে আরো ভালো হয়। তাই আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে বেলের শরবত এবং টেস্টি স্যালাইন দ্বিতীয় আবশ্যিক খাবার হিসেবে আমি ব্যবহার করি। আমার ইফতারির তৃতীয় অবশ্যিক খাবার হিসেবে আমি পেয়ারা ও শসার চাটনি খায়। পেয়ারা ও শসার সাথে হালকা লবণ মাখিয়ে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। পেয়ার এবং শসার চাটনি খাওয়ার পরে যে কোন খাবার খাওয়ার জন্য মুখে যথেষ্ট পরিমাণ রুচি ফিরে আসে। একই সাথে আমার শরীর এক ধরনের শক্তি অনুভব হয়। পেয়ার এবং শসার চাটনি খাওয়ার পরে আমি খেয়াল করে দেখেছি যে আমার হজম শক্তিটা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই আমি প্রতিদিনের ইফতারিতে পেয়ারা এবং শসার চাটনি একটু বেশি করেই খাওয়ার চেষ্টা করি ইফতারিতে চতুর্থ খাবার হিসেবে আঙ্গুর ফল আমার খুবই প্রিয় একটি খাবার। আমি আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে আঙ্গুর ফলের পাশাপাশি তরমুজ এবং আনারস ফল পরিমাণ মতো খায়। এই তিনটি ফলই শরীরের পানির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সাথে শরীরের নানা ধরনের ঘাটতি পূরণ করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে আঙ্গুর ফল, তরমুজ ও আনারস ফল। সারাদিন রোজা থাকার পরে ইফতারির সময় আঙ্গুর ফল, রসালো তরমুজ ও রসালো আনারস খাওয়ার মজাই আলাদা। তবে তীব্র এই গরমের সময়ে শরীর থেকে গরম দূর করতে আনারস খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। ইফতারের সময় আঙ্গুর ফল, তরমুজ এবং আনারস খাওয়ার পরে সারাদিনের পানি পিপাসার জ্বালা এবং ক্ষুধার জ্বালাটা দারুন ভাবে মিটে যায়। ইফতারির সর্বশেষ খাবার হিসেবে আমি সিদ্ধ ছোলার ঘুগনি খেতে খুবই পছন্দ করি। বিশেষ করে কয়েক ধরনের ফল এবং শরবত পান করার পরে ঝালমুখ করার জন্য আমি সিদ্ধ ছোলার ঘুগনি খায়। ইফতারের সময় খুবই অল্প পরিমাণ সিদ্ধ ছোলার ঘুগনি খেয়ে আমি মাগরিবের নামাজ পড়তে চলে যায়। তারপর নামাজ শেষ করে এসে ইচ্ছেমতো সিদ্ধ ছোলার ঘুগনি খেতে থাকি। ছোলার ঘুগনি খাওয়ার মুহূর্তটুকু আমার জন্য খুবই আনন্দের হয়। কারণ ছোলার ঘুগনি খাওয়ার সময় আমি ডিসকর্ড জেনারেল চ্যাটে বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে গল্প করি। বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে গল্পের সাথে সাথে আমি খুবই তৃপ্তি সহকারে ছোলার ঘুগনিগুলো খেতে পারি। একই সাথে ছোলার ঘুগনি খাওয়ার কথা গুলো আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারি। তাই ইফতারির সর্বশেষ সুস্বাদু খাবার হিসেবে আমি প্রতিদিন একই সময়ে ছোলার ঘুগনি খায়। সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে কোন ধরনের তেলে ভাজা খাবার রাখি না। এমনকি কোন ধরনের মিষ্টি খাবারও রাখি না। কারণ তেলে ভাজা খাবার এবং মিষ্টি খাবার আমার খুবই অপছন্দের খাবার। আর মূল কথা হলো, তেলেভাজা ও মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলো খেলে আমি অসুস্থ এবং অস্বস্তি বোধ করি। তাই পুরো রমজান মাস নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য আমি এ ধরনের খাবারগুলো এড়িয়ে চলি। যাহোক, আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে ব্যবহারিত খাবার গুলো হয়তো আপনাদের থেকে ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু ইফতারিতে আমি আমার পছন্দের খাবারগুলো খেয়ে খুবই তৃপ্তি পায় এবং শারীরিকভাবে স্বস্তি অনুভব করি। তাই রমজান মাসের শেষ মুহূর্তে এসে আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে ব্যবহৃত খাবারগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আমি আশা করি আমার প্রতিদিনের ইফতারিতে ব্যবহৃত খাবারগুলো আপনাদের নিকট অনেক ভালো লেগেছে।
https://twitter.com/bidyut01/status/1648715203801128960?t=MnMFy9BQMsIYsI3bxIEdMQ&s=19
মাশাল্লাহ দেখে অনেক ভালো লেগেছে আপনি খুব পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত অনেকগুলো খাবার নিয়ে ইফতারি করেন। প্রতিটি খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। অনেক ভালো লেগেছে আপনার ব্লগটি পড়ে ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন রোজার সময় ইফতার করলে আর কিছু খেতে মন চায় না। আপনি তো দেখছি অনেক রকমের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ইফতার করে থাকেন। ইফতার খাওয়ার পর শুধু পানি আর তরল জাতীয় জিনিস খেতে মন চায়। তবে আপনার পছন্দের ইফতার গুলো আমারও খুব পছন্দের ইফতার। অনেক সুন্দর করে ইফতারগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
রোজা রেখে ইফতার খেতে খুব ভালো লাগে। তবে ইফতারের সময় পানি এবং তরল জাতীয় খাবার গুলো বেশি খেতে মন চায়। তবে আপনি অনেক পুষ্টিকর ইফতার করেছেন। ইফতারের আগ মুহূর্ত মন চায় সব খেয়ে ফেলতে। ইফতার খাওয়ার পর আর কিছুই মন চায় না খাওয়ার জন্য। আপনি অনেক সুন্দর করে পোস্টে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
Hi, @bidyut01,
Thank you for your contribution to the Steem ecosystem.
Your post was picked for curation by @rex-sumon.
Please consider voting for our witness, setting us as a proxy,
or delegate to @ecosynthesizer to earn 100% of the curation rewards!
3000SP | 4000SP | 5000SP | 10000SP | 100000SP