আড়তে তেলাপিয়া মাছ বিক্রয়ের অভিজ্ঞতা।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ রবিবার । ২৭ ই আগস্ট, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে আমি আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, বর্তমানে আমি মোট সাতটি পুকুরে মাছের চাষাবাদ করি। আর আমার প্রতিটি পুকুরের প্রধান মাছ হলো পাঙ্গাস মাছ। পাঙ্গাস মাছের সাথে সাথী মাছ হিসেবে আমি তেলাপিয়া মাছ, রুই ও মৃগেল মাছ, জাপানি মাছ এবং অল্প পরিমাণে সিলভার কার্প ও অন্যান্য মাছের চাষাবাদ করি। আমার পুকুরের চাষ করা প্রায় সকল মাছ আমি পুকুর থেকে জেলেদের মাধ্যমে বিক্রয় করি। কিন্তু বর্তমান সময়ে মাছের বিভিন্ন আড়তে সব ধরনের মাছের দাম তুলনামূলক বেশি শোনা যাচ্ছিল। অবশ্য পুকুর থেকে জেলেরাও ভালো দামে বর্তমান সময়ে মাছ ক্রয় করছে। বর্তমানে ২০০ গ্রাম ওজনের তেলাপিয়া মাছগুলো পুকুর থেকে জেলেরা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত ক্রয় করছে। যেটা আমাদের মতো মাছ চাষীদের জন্য বেশ লাভজনক।
যাহোক, বেশ কিছুদিন যাবৎ শুনছিলাম যে মাছের আড়তে মাছের দাম সবচাইতে বেশি। আর মাছ চাষিরা যেখানে তার মাছগুলো বেশি দামে বিক্রয় করতে পারবে সেখানে তার মাছগুলো নিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমিও তার ব্যতিক্রম নয়। মাছের বেশি দাম পাবার আশায় আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম যে এক গাড়ি সমান ২৫০ কেজি মাছ আড়তে নিয়ে যাবো। আমাদের এলাকায় মাছের আড়ত আছে আমাদের গাংনী বাজারে এবং মেহেরপুর বাজারে। কিন্তু আমাদের এলাকার মাছের আড়তের থেকে কুষ্টিয়ার মাছের আড়ত এবং চুয়াডাঙ্গার মাছের আড়তে মাছের দাম সবচেয়ে বেশি। তাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম যে, কুষ্টিয়ার বল্লভপুর মাছের আড়তে আড়াইশো কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রয় করতে যাবো। তারপর নির্ধারিত দিনে সকাল ভোর বেলায় পুকুর থেকে তেলাপিয়া মাছ ধরে চলে গেলাম কুষ্টিয়ার বল্লভপুর মাছের আড়তে।
সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে কুষ্টিয়ার বল্লভপুর মাছের আড়তে পৌঁছে গেলাম। আড়তে পৌঁছে দেখতে পেলাম বেশ জমজমাট মাছের আড়ত। সকলেই মাছ বেচাকেনা করতে খুবই ব্যস্ত। একই সাথে সব রকম মাছের দাম খুবই ভালো। অর্থাৎ মাছের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি ছিল সেদিন। মাঝেমধ্যে কয়েকজন আমার মাছের গাড়িতে এসে আমার মাছগুলো দেখে চলে যাচ্ছিল। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা কেটে গেল। তেমন ভাবে গোছালো কোন ক্রেতা আমার মাছের গাড়ির কাছে আসছিল না। বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম মাছগুলো বিক্রয় করার জন্য। তারপর আড়তের কর্মচারীরা এসে যখন আমার তেলাপিয়া মাছগুলো বড় বড় গামলার মধ্যে ঢালতে শুরু করলো তখন এক মুহূর্তের মধ্যে মাছ ক্রেতাদের ভীড় হয়ে গেল। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই আড়াইশো কেজি মাছ বিক্রয় হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল মাছ নিয়ে মাছের ক্রেতারা কেমন যেন কাড়াকাড়ি লাগিয়ে দিয়েছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ ২০৪ টাকা থেকে ২১৩ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রয় করেছিলাম। আর ৬ থেকে ৭ কেজি তেলাপিয়া মাছ মরে গিয়েছিল। সেই মরা মাছগুলো বিক্রয় করেছিলাম ১৭৪ টাকা কেজি দরে।
কুষ্টিয়ার বল্লভপুর মাছের আড়তে তেলাপিয়া মাছ বিক্রয় করতে গিয়ে দারুন একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। অভিজ্ঞতাটি হলো--- আড়তে নিয়ে যাওয়া মাছগুলো যেন বেঁচে থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। একই সাথে মাছগুলো বাচিয়ে রাখার জন্য মাছের গাড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং মাছের গাড়িতে যেন আলো বাতাস চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর মাছের আড়ত যেহেতু কাঁচামাল ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান, তাই মাছের যখন বিশেষভাবে চাহিদা বেশি থাকে ঠিক তখনই মাছের আড়তে মাছ বিক্রয় করতে যাওয়া উচিত। যাহোক, মনে একটু সাহস নিয়ে মাছের আড়তে গিয়ে তেলাপিয়া মাছগুলো বিক্রয় করে আমি বিশেষভাবে লাভবান হয়েছিলাম।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আসলে ভাই প্রত্যেকটা জিনিস চাহিদার উপর তার দাম নির্ভর করে। আমাদের এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ পুকুর রয়েছে। সুতারাং মানুষের চাহিদা কম। আর ঐসব অঞ্চল গুলোতে পুকুর কম তাই তাদের চাহিদা বেশি। তেলাপিয়া মাছ গুলোর দামও অনেক বেশি। একসময় বল্লভপুরে অনেক মাছ দিয়েছি কিন্তু এখন আর দেওয়া হয় না। আড়তে মাছ বিক্রি করা অভিজ্ঞতাটা আমাদের মধ্যে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মাছের আরতে গিয়ে মাছ বিক্রি করার অভিজ্ঞতার গল্প পড়ে ভালই লাগলো। আসলে আপনি যখন আপনার নিজের বাড়ি থেকে কোন কিছু বিক্রি করবেন সেটা থেকে আপনি কোথাও বেশি লাভের আশায় বিক্রি করার জন্য গেলে যদি লস হয় তবুও অনেক অভিজ্ঞতা হবে। জীবনে অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকা দরকার । অনেক লাভবান হয়েছেন মাছ বিক্রি করে জেনে ভালো লাগলো।
আসলে দিন দিন সব জিনিসের যেভাবে দাম বাড়ছে তার মধ্যে আমাদের এদিকে বিশেষ করে মাছের দামটা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে। আপনি মাছের আড়তে মাছ বিক্রি করার অভিজ্ঞতা পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আপনি মাছের আড়তে মাছ বিক্রি করতে গিয়ে লাভবান হয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
বর্তমানে মাছের বাজার অনেক চড়া যা বাজারে গেলে দেখতে পাওয়া যায়।ভাইয়া মাছের চাষ বর্তমান খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। আপনি সাতটা পুকুরে মাছের চাষ করেন জেনে খুবই ভালো লাগলো।যে তেলাপিয়া মাছ আগে খুবই সস্তা দামে পাওয়া যেতো তা এখন ২শ টাকার উপরে ভাবা যায়।তেলাপিয়া মাছ আমার খুবই প্রিয় মাছ কাছাকাছি হলে অবশ্যই আপনার মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারতাম।😁আপনার ব্যবসা আরও উন্নত হোক এই প্রার্থনা করি।
কাছাকাছি থাকলে আপনাকে আমার পুকুরের রুই মাছের স্বাদ গ্রহণ করাতাম।চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপু।