আমার শৈশব জীবনের ঈদের স্মৃতি।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago



হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।



আজ বৃহস্পতিবার । ২০ ই এপ্রিল, ২০২৩ ইং।


আসসালামু আলাইকুম।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আজকে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের নিকট হাজির হয়েছি।

eid-mubarak-ga53fff633_1280.jpg

Source



সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আমি আপনাদের সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা "ঈদ মোবারক" জানিয়ে আমার শৈশব জীবনের ঈদের স্মৃতিগুলো আপনাদের নিকট শেয়ার করতেছি। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানে বিভিন্ন আত্মীয়দের সাথে দেখা সাক্ষাৎ, ঈদ মানেই নতুন পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো,আবার ঈদ মানেই ভালো ভালো খাবারে পরিপূর্ণ খাবারের ঘর। ছোটবেলায় আমি ঈদের দিন খুবই আনন্দ করতাম। বিশেষ করে আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের বাড়ির সদস্য সংখ্যা মোটামুটি একটু বেশি ছিল। কারণ তখন আমাদের পরিবারের মুরুব্বী হিসেবে ছিল আমার দাদা ও দাদী। একই সাথে আমার মা-বাবা ও ভাই তো আছেই। পাশাপাশি ঈদের কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ দিন আগেই আমার তিনটি ফুপু আমাদের বাড়িতে চলে আসতো। ফুপুদের সাথে আসতো তাদের ছেলেমেয়েরা। আর ঈদের দিন বিকেল বেলায় আসতো আমার জামাইয়েরা। তাই ঈদ উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে এক ধরনের হইহুল্য পড়ে যেত। বাড়ির সকল সদস্য একত্রে মিলিত হয়ে আমরা সকলে অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করতাম।



ঈদের কয়েকদিন আগেই আমার দাদি এবং আমার মা দু'জন একত্রে মুড়ি ও খই ভাজা শুরু করত। আমি এবং আমার ছোট ভাই ভাজা মুড়ি ও খই খাওয়ার জন্য খুবই আনন্দের সাথে অপেক্ষা করতাম। তারপর ঈদের একদিন আগে মুড়ি ও খই এর সাথে আখের গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হতো মুড়কি। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সাথে মুড়কি খাওয়ার মজা ছিল আলাদা। তারপর ঈদ উপলক্ষে যখন আমার ফুপুরা তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসতো তখন পরিবারের সকলকে একত্রে পেয়ে আমার দাদা খুবই আনন্দ করত। আমার আজও মনে আছে, একবার ঈদের মধ্যে আমার দাদা তার সকল নাতনি ও নাতি ছেলেদের সাথে করে নিয়ে কানামাছি খেলা শুরু করেছিল। আমাদের সাথে কানামাছি খেলার সময় আমার দাদা যেভাবে হেসেছিল, তার সেই হাসিমুখ খানা আজও আমার চোখে ভেসে ওঠে। সত্যিই শৈশবে ঈদ উপলক্ষ্যে যে পরিমাণ আনন্দ উল্লাস করেছি সেটা হয়তো আর কোনদিনও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।



আমার শৈশব বয়স থেকেই আমার পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল আমার আব্বা। ঈদ উপলক্ষে আমার পরিবারে আয়ের তুলনায় খরচের পরিমাণটা খুবই বেশি হয়ে যেত। বিশেষ করে পরিবারের খরচের পাশাপাশি আমার তিনটা ফুপু আসতো তাদের পরিবার নিয়ে, তাই আমার তিনটা ফুপুর সহ তাদের ছেলেমেয়েদেরকে এবং আমার জামাইদেরকে নতুন পোশাক দিতে হতো। তাই ঈদের সময় নতুন জামা, নতুন প্যান্ট এবং নতুন জুতা এই তিনটি উপকরণ একত্রে আমি পেতাম না। কোন ঈদে যদি আমার আব্বা নতুন প্যান্ট আমাকে কিনে দিত তাহলে নতুন জামা আর কিনে দিতে পারতেন না। আবার কোন ঈদে যদি আমার আব্বা নতুন জামা আমাকে কিনে দিত তাহলে নতুন প্যান্ট কিংবা জুতা কিনে দিতে পারতো না। ঈদ উপলক্ষে পরিপূর্ণ নতুন পোশাক না পেয়ে আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে যেত। কিন্তু ছোট ছিলাম, কখন যে খেলার ছলে সবকিছু ভুলে যেতাম আমি নিজেও জানতে পারতাম না। আমার শৈশবের সব কয়টি ঈদ প্রায় একই রকমের হয়েছিল। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে পরিপূর্ণ নতুন পোশাক না পেলেও আনন্দের কোনো ঘাটতি ছিল না। একই সাথে পরিবারের সকলের কাছ থেকে আমার আদর যত্নের কোন অভাব ছিল না। পুরো বাড়ি ভর্তি আপন লোকজনের সাথে ঈদ উদযাপন করার মজাই ছিল অন্যরকম।



ছোটবেলায় ঈদ উপলক্ষে আমার পরিবারের প্রায় সকলের কাছ থেকে কম বেশি টাকা পেতাম। ২০০০ সালের দিকে কথা, তখন ঈদের সালামি যে কি? কিছুই বুঝতাম না। শুধুমাত্র ঈদ উপলক্ষে যে আমাকে টাকা দিতে হবে, এই বিষয়টা খুব ভালোভাবে বুঝতাম। তাই ঈদের দিন আমার দাদা-দাদী, ফুপু এবং আমার মায়ের কাছ থেকে অনেকগুলো টাকা পেতাম। ওই সময় ঈদের দিন সর্বোচ্চ টাকা পেতাম পাঁচ টাকা। ৫ টাকা পেয়ে কি পরিমান যে খুশি হতাম সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আর ওই সময় ৫ টাকায় অনেক কিছু কিনতে পাওয়া যেত। বিশেষ করে ২০০০ সালের দিকে একটি চকলেটের মূল্য ছিল ১০ পয়সা। ঈদের দিন সকলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রায় ২৫-৩০ টাকার মতো হয়ে যেত আমার। সবথেকে মজার বিষয় ছিলো আমার আব্বা বাদে সকলের কাছ থেকে একটু জোর করে টাকা আদায় করে নিতাম। কিন্তু আমার আব্বার কাছে টাকা চাওয়ার সাহস পেলাম না। আমার আব্বা কিন্তু সব দিকে খেয়াল রাখতো। ঈদের দিন আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করত যে, কে কত টাকা আমাকে দিয়েছে। আমি টাকার পরিমানটা একটু বাড়িয়ে বলার সাহস করতাম কিন্তু বলতে পারতাম না। শেষ পর্যন্ত সত্য কথাটি বলে দিতাম। পরিবারের সকলেই আমাকে কত টাকা দিয়েছে সেই পরিমাণটা জেনে আমার আব্বা তার চেয়ে এক টাকা বেশি আমাকে দিতো। সকলের দেওয়া টাকার তুলনায় আব্বার দেওয়া এক টাকা বেশি পেয়ে আমি যে কি পরিমাণ খুশি হতাম সেটা বোঝাবার ভাষা আমার নেই। আর এজন্যই আমার শৈশবের ঈদের স্মৃতি গুলো এখনো মধুর হয়ে আছে।



ঈদ উপলক্ষে খাবার খাওয়ার বিষয়টা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো। কারণ ঈদ উপলক্ষে আমার দাদি এবং আমার মা খুবই সুস্বাদু খাবার রান্না করত। বিশেষ করে দাদীর হাতে রান্না করা ক্ষীর আমার খুবই পছন্দের একটি খাবার ছিল। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে দেশি মুরগি এবং হাঁসের মাংসের রান্না করা হতো। একই সাথে অবশ্য অন্য মাংসেরও ব্যবস্থা থাকতো। মাংসের মধ্যে দেশী মুরগির মাংসটি আমি খেতে খুবই পছন্দ করতাম। তখনকার সময় আমাদের বাড়িতে সব সময় গাভী গরু থাকতো। আমার দাদি বাড়ির গাভী গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে দুই ধরনের দই বসাতো বা তৈরি করতো। যথা, মিষ্টি দই এবং টক দই। আমি অবশ্য মিষ্টি দই খেতে খুবই পছন্দ করতাম। যাহোক বিভিন্ন সুস্বাদু খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা এবং পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আড্ডা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমার শৈশবের ঈদগুলো দারুন ভাবে উপভোগ করছি।



তাই এখনো ঈদ আসলে আমার শৈশবের ঈদের দিনের কথা গুলো খুবই মনে পড়ে। বিশেষ করে আমার দাদা-দাদির কথাগুলো এবং তাদের স্মৃতিগুলো আমার খুবই মনে পড়ে। দাদা-দাদির নিকট থেকে পাওয়া আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা সত্যিই কখনো ভুলে যাবার নয়। তাই এই রমজান মাসে আমি সবসময় আমার দাদা দাদির জন্য মহান আল্লাহর নিকট অসংখ্যবার দোয়া করি, মহান আল্লাহ যেন আমার দাদা-দাদিকে জান্নাত নসিব দান করেন, আমিন।।





১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ।



Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 58669.29
ETH 1573.84
USDT 1.00
SBD 0.38