গল্প // তিন মূর্তি //পর্ব-০১.

in আমার বাংলা ব্লগlast year



হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।



আজ সোমবার। ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৫ ইং।


আসসালামু আলাইকুম।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে আমি আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।

boys-1283786_1280.jpg

Source



আম গাছের ডালের উপর বসে কয়েকদিন যাবত কাক পাখিটা ডাকতেই আছে, কাক পাখির ডাক শুনেই রহিমের দাদির কলিজা কেঁপে উঠলো। রহিমের দাদি একেবারেই বৃদ্ধ বয়সের মহিলা। উনার মুখের সামনের দিকের উপরের ও নিচের দাঁত একটিও নেই। তাই তাহার সমস্ত কথা স্পষ্টভাবে অন্যান্যজন বুঝতে পারে না। অর্থাৎ তার কথাগুলো প্রায় অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই রহিমের দাদি নিজেই কষ্ট করে আম গাছ থেকে কাক পাখিটা তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বৃদ্ধ মহিলার ইশারায় কাক পাখিটা যেন কিছুই মনেই করছে না। এদিকে কাক পাখিটা আম গাছ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাউকে বাড়িতেও পাচ্ছে না রহিমের দাদি।

রহিমের দাদি বাড়িতে কোন মানুষকে কেনই বা পাবে, সকলেই তো নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। সকাল ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে রহিমের বাবা জমিতে লাঙ্গল দিতে গেছে, রহিমের মা একদিকে রান্নার কাজ সামলাচ্ছে এবং অন্যদিকে গাভী গরুর খাবার দিচ্ছে। এদিকে রহিম তার কলিজার দুই বন্ধু রাম ও রমজানের সাথে কোথায় যে খেলা খেলতে গেছে-- তার কোন হদিস নেই। রহিমকে একমাত্র খাবার খাওয়ার সময় এবং সন্ধ্যার সময় বাড়িতে পাওয়া যাবে। আর বাকি সময়টা পাওয়া যাবে তার দুই বন্ধুর কাছে। কাক পাখিটা তার ডাকাডাকি বন্ধ করেনি, মাঝেমধ্যেই কাক পাখিটা ডেকে উঠছে। এমন সময় আরো একটি কাক পাখি এসে রহিমদের আমগাছে বসলো।

কাক পাখির প্রতিটি ডাক শোনার সঙ্গে সঙ্গে রহিমের দাদীর মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা উদয় হতে লাগলো। বৃদ্ধ মহিলা ভাবতে লাগলো হয়তো কোথাও তাদের নিকটতম আত্মীয় মারা গেছে। এমন সময় দুপুর না হতেই রহিমের বাবা মাঠ থেকে বাড়িতে আসলেন এবং খাবার খেতে চাইলেন। রহিমের বাবা যখন খাবার খাওয়া শুরু করলেন ঠিক সেই মুহূর্তে কাক পাখিটা আবারো ডেকে উঠলো, সঙ্গে সঙ্গে রহিমের বাবা খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে কাক পাখিটির দিকে তাকালো। এমনকি বাড়ির সবাই হতবাক হয়ে কাক পাখিটির দিকে তাকালো। ঠিক এমন মুহূর্তে রঞ্জিত দৌড়াতে দৌড়াতে রহিমের বাবার কাছে এসে ধপ করে বসে পড়লো।

সবাই বুঝতে পারলো নিঃসন্দেহে খারাপ কোনো খবর আছে, কিন্তু সেই খারাপ খবরটা কেউ জানতে চাইলো না রঞ্জিতের হাপানো-ধুকানো দেখে। তারপরে রহিমের বাবা খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে যখনই রঞ্জিতের কাঁধে হাত দিল ঠিক তখনই রঞ্জিত উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলো। রহিমের বাবা তাকে জিজ্ঞেস করতেই, রঞ্জিত বলে উঠলো--ভাই আমাদের কি অপরাধ? আমাদের নাকি দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যেতে হবে? রঞ্জিতের কথা শুনে রহিমের বাবা বলে উঠলো-- এসব কথা তুমি কোথা থেকে জানতে পারলে? উত্তরের রঞ্জিত বললো, জাফর হুজুর আমার বাড়িতে এসে বলে গেল-- আমাদের দেশ নাকি ভাগ হয়ে গেছে, তাই জাফর হুজুররা আমাদেরকে এই দেশে থাকতে দিবে না।

রহিমের বাবা বললো, দেশভাগ হোক আর যাইহোক আমরা এই দেশের সন্তান, আমরা একত্রে এক জায়গায় বসবাস করছি, আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। রহিমের বাবা আরো বললো, আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা পর্যন্ত তোমাদেরকে কেউ তোমাদের ভিটা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না,,,,(গল্পটি চলমান থাকবে।)



আমার পরিচয়।

IMG_20220709_132030_108.jpg



আমার নাম মোহাঃ নাজিবুল ইসলাম (বিদ্যুৎ)। আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমি অতিশয় ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজন মানুষ। আমি মেহেরপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করি। আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে আমার স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হয়। আমার স্টিমিট আইডি নাম (#bidyut01). প্রথম প্রথম স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ কিছুই পারতাম না। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সম্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন এবং মডারেটরদের সার্বিক সহযোগিতায় খুব সহজেই স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারি ও শিখতে পারি। এরপর থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি সম্পর্কে আমার এলাকাতে আমি ব্যাপকভাবে প্রচার করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার এলাকার অনেকেই এখন আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সদস্য। যাহোক, এখন আমার মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি মাছের চাষাবাদ করা। আমার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার পরিবারের প্রধান হলো আমার বাবা ও মা। আমার পছন্দের কাজ সমূহ হলো-ছবি অঙ্কন করা, যেকোনো জিনিসের অরিগ্যামি তৈরি করা, বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরি করা, কবিতা লেখা, ভ্রমণ করা ও ফটোগ্রাফি করা। আর একটু সময় সুযোগ পেলেই পুরনো দিনের মুভি গুলো দেখতে আমি খুবই পছন্দ করি।

১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ।

Vs68WyhR4ueWguiqU5CbbyMd2eBafmyPRcYVv3LiYRs71UXq9fEqpbeAVPzHYduBype2HWE8Nhc1iC2fZdQmNHV5MZTGyeziTZ2mg568ZW...TRTB4jvHeRQc9AcbRtSb6rm2Xqo2rYeYVjEqeuuVpyH6LQKRAsoHRV9mDWTjypFu24ubjoTGKhcaV6dUT5n1EMEH1zuX4ai8pTKqaj72GU2WNBjYQqPAWdorH.webp

3CQ5eBKFPEFNa39hevVYBjMk22F7hc9Vsydt2d7L2Mik9X6X5XDn6V5u2tLTr2dsMToGQfqzwYnDY8ogMD1htpwkujtTUMvzXtseYduURP...a2yyG8GVQx6vvxVcY336ZYj3d1d5xFEqrZQfZEEkYhcRGM7bHvVEvLzrZBLspwHUL8v47KTKKCzFN7fdJzGJWiSWwSgEqSH8vmS1Tf4XCi1NMQAzp92NNYJUm.webp

3CQ5eBKFPEFNa39hevVYBjMk22F7hc9Vsydt2d7L2Mik9X6X5XDn6V5u2tLTr2dsMToGQfqzwYnDY8ogMD1htpwkujtTUMg9fm14EJD7JS...9kW1phpAKWFLkmE1VGrDefyUSZAwCuEv6icMCdKv9voU5sGwvV245HKg49QLeF3D3vEQP6JLpeY5oBtowhu45zXzzwEsLVqCLLfLAfLvs6zj5CzULF56tRLsf.webp



Sort:  
 last year 
 last year 

আজকের কাজ সম্পন্ন।

Screenshot_20250113-215943.jpg

Screenshot_20250113-215137.jpg

Screenshot_20250113-220301.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.096
BTC 62055.71
ETH 1734.96
USDT 1.00
SBD 0.39