একমাত্র ছেলের কারণে বাবা মায়ের অশান্তি। (শেষ পর্ব )
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমাদের আশেপাশে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যেই ঘটনা গুলো অনেক সময় শিক্ষনীয় হয়ে থাকে। কখনো কখনো দুর্ঘটনা, আবার কখনো মর্মান্তিক ঘটনা। এজন্য আজকে আবার ও একটা কাহিনী নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আমার লেখাটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে। আজকে আবারো গল্পটার শেষ পর্ব নিয়ে আসলাম।
এর কিছু মাস পর রিপনকে তারা বিদেশ পাঠিয়ে দিলেন। তারা চিন্তা করতে লাগল এইবার একটু শান্তি পাওয়া যাবে। এবং রিপন বিদেশ যাওয়ার পর সে বাড়িতে মা বাবার জন্য মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠাচ্ছে। এবং এই দিয়ে তার বাবা মা ও ওয়াইফ এবং ছেলে খুব ভালোই আছে। এভাবে রিপনের কয়টি বছর বিদেশ যেতে লাগলো। এবং অনেক সুন্দর করে বাড়ির মা বাবা ও চলতে লাগলো। রিপন যখন বিদেশ গেলেন তার বাবা দোকানটি করতেন এখনো দোকানটি করতে লাগলো।
ছেলের টাকা দিয়ে সে অন্য কিছু করতে লাগলো। এরপর তিন বছর পর রিপন বাড়ি আসলো। এদিকে রিপনের ছেলে স্কুলে যাচ্ছে। আর লিপির মেয়ে ও তাদের বাড়ি থেকে স্কুলে যাচ্ছে। এমন সময় রিপন বাড়িতে আসার পর লিপি এবং রিপন আবার কথা বলতেন। এই নিয়ে রিপনের ওয়াইফ তার মা-বাবাকে বলেন। কারণ রিপনের ওয়াইফ যাচ্ছে না রিপন লিপির সাথে কথা বলোক। এ নিয়ে তাদের ফ্যামিলিতে একটু ঝামেলা হচ্ছে। অন্যদিকে লিপির স্বামী ও ব্যাপারটি জানতে পারলেন।
এর কিছুদিন পর রিপন লিপিকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন। এদিকে এই নিয়ে এলাকায় অনেক কথাবার্তা চলতে লাগলো। কারণ রিপন বিয়ে করল তার ছেলেও আছে। অন্যদিকে লিপির একটি মেয়ে আছে। কারণ লিফি স্বামীর বাড়ি থেকে আসার সময় বলতে লাগলো বাবার বাড়িতে আসতেছে মেয়েকে নিয়ে। বাবার বাড়িতে না আসে এই রিফনের সাথে পালিয়ে গেলেন তার মেয়েকে নিয়ে। এদিকে লিপির হাসবেন্ড বলতে লাগলো তার মেয়েকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই আর লিপিকে রাখবে না।
এদিকে রিপনের ওয়াইফ অনেক চিন্তায় পড়ে গেলেন। তারপর রিফনের ফ্যামিলি তাকে অনেক খোঁজে বের করলেন। তখন রিপনের বাবা মা সবাই বলতে লাগলো লিপিকে ডিভেন্স দেওয়ার জন্য। রিপন বলতে লাগলো সে তার আগের ওয়াইফকে ডিভোর্স দেবে। আর লিপিকে তাদের ঘরে তুলে নেবে। এ কথা শুনে রিফনের ওয়াইফ অনেক কান্নাকাটি করলেন। তারপর রিপনের ওয়াইফকে তার মা-বাবা তাদের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। আর রিপন এখন বিদেশ যাচ্ছে না।
এদিকে রিফনের দ্বিতীয় ওয়াইফ তার মা বাবার সাথে সবসময় ঝগড়া করে। কারণ তাদের আর কোন ছেলে মেয়ে নেই। এবং তারা রিপনকে কিছু বললে সে তাদের কথা শুনেন না। রিফনের বাবা বলতে লাগলো এক সন্তান তার জন্য অনেক বিপদ হয়ে দাঁড়ালো। এর কিছু মাছ পর তার বাবা হঠাৎ করে স্টক করে মারা যান। আর এখন রিপন ও লিপির সংসারে আরো দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করল। কিন্তু রিপনের প্রথম ওয়াইফ প্রথম সন্তান নিয়ে এখনো তাদের বাপের বাড়িতে আছে। এবং রিপনের দ্বিতীয় ওয়াইফ আর বিয়ে বসলেন না।
এবং ধর্মমতে রিপন সে ওয়াইফকে ডিভোর্স দেই নাই। কিন্তু রিপন আগের সন্তান ও ওয়াইফের কোন খোঁজ খবর রাখে না। এদিকে রিপনের আগের ছেলেটি ও এখন একটু বড় হয়েছে। মাঝেমধ্যে সে তার দাদুর সাথে দেখা করতে আসে। কিন্তু রিপন সেই ছেলেকে কিছুই বলে না। এবং ছেলেটি আসলে লিপি সব সময় ছেলেটির সাথেও তার শাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এবং রিপন তার মায়ের ঠিকমতো খোঁজখবর রাখতে রাজি না। এই হল রিফনের কাহিনী। তাদের একটিমাত্র সন্তান শেষ পর্যন্ত তাদেরকে অনেক সমস্যায় ফেলেছে। এবং রিপনের মা বলতে লাগলো তার যদি আরেকটি ছেলে মেয়ে থাকতো তাহলে এই দশা হতো না।
আমার নাম আকলিমা আক্তার মুনিয়া। আর আমার ইউজার নাম @bdwomen। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। বাংলা ভাষা হল আমাদের মাতৃভাষা আর আমি মাতৃভাষা বলতে পারি বলেই অনেক গর্বিত। আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং পেইন্টিং আঁকতে খুবই পছন্দ করি। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং এঁকে থাকি। আবার রঙিন পেপার এবং বিভিন্ন রকমের জিনিস দিয়ে নানা ধরনের কারুকাজ তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আবার নিজের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি সব ধরনের জিনিস কখনো না কখনো একবার করে করার জন্য। আবার বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসলে সেগুলো ও করার চেষ্টা করি।
রিপনের প্রথম স্ত্রী এবং তার বাবা-মায়ের জন্য খুবই খারাপ লেগেছে। তার একটি ছেলে থাকার সত্ত্বেও অন্য মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল তাও তার আগের প্রেমিকার সাথে। ওই মেয়েটির ঘরেও একটি মেয়ে ছিল। ভেবেছিলাম রিপন বিদেশ যাওয়ার পর সবকিছুই ঠিক হয়ে গিয়েছে পরে এই ব্যাপারটি শুনে সত্যিই খারাপ লাগার কথা। তার বাবাও স্টক করে মারা গিয়েছে। এবং মার সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রী খারাপ ব্যবহার করে। এরকম মানুষ তো আমাদের সমাজে এখন অহরহ দেখা যাচ্ছে। যাই হোক শেয়ার করলেন দেখে ভালো লাগলো।
আসলে কিছু কিছু মানুষ আছে তারা সহজে পরিবর্তন হয় না। আপনার মন্তব্য শুনে খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে রিপন এত কিছুর পরও চেঞ্জ হলো না। আপনার পোস্টটি পড়ে বুঝতে পারলাম রিপনের প্রথম ওয়াইফ ভাল হয়েছিল। তারপরও সে তার প্রথম প্রেমিকের সাথে কথা বলে এবং তাকে লাস্ট পর্যন্ত বিয়ে করে ফেললেন। এদিকে তার প্রথম মোবাইল কে ডিভোর্স দিলেন না এবং তার খোঁজ খবরও রাখেন না। সবচেয়ে বড় কথা রিপন তার বাবা মারা যাওয়ার পরও তার মায়ের সাথে ঠিকমতো ভালো ব্যবহার করে না। এই কারণ হয়তো তাদের আফসোস রয়ে গেল আরেকটি ছেলে অথবা মেয়ে হলে তাদের ভালো হতো।
হয়তো তাদের একটি মাত্র ছেলে মা বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করে নাই এই কারণে তারা এই কথা বললেন। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।