মা বাবা (পর্ব ১)

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

20230410_201452_0000.jpg

ক্যানভা দিয়ে তৈরি,

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমাদের আশেপাশে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যেই ঘটনা গুলো অনেক সময় শিক্ষনীয় হয়ে থাকে। কখনো কখনো দুর্ঘটনা, আবার কখনো মর্মান্তিক ঘটনা। এজন্য আজকে আবার ও একটা কাহিনী নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আমার লেখাটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে। আজকে আবারো গল্পটার শেষ পর্ব নিয়ে আসলাম।

আমি আজকে আপনাদের মাঝে একটি ঘটনা শেয়ার করব। ঘটনা হতে হচ্ছে একটি ফ্যামিলি তাদের মা বাবাকে নিয়ে। ফ্যামিলিতে চারটি সন্তান আছে। বাবা অনেক কষ্ট করে এই চার ছেলেকে ছোট থেকে বড় করেছে। মোটামুটি ছেলে সবগুলোকে লেখাপড়া করালেন। ছেলেগুলো যখন ছোট ছিল তখন তাদের বাবা একটি মসজিদে চাকরি করতে এবং নিজের জায়গা জমি গুলো চাষ করতেন। চারটি ছেলেকে অনেক সুন্দর করে লেখাপড়া করে মানুষ করার চেষ্টা করলেন।

বড় ছেলে যখন পড়ালেখা শেষ করলেন এবং সরকারি চাকরি পেলেন। তার বাবা অনেক খুশি হলেন। তখন বাবা চিন্তা করলেন বড় ছেলের সরকারি চাকরি পেলেন তাহলে আমার কষ্ট একটু দূর হবে। এক বছর যাওয়ার পর বড় ছেলেকে দেখেশুনে শিক্ষিত একটি মেয়ে বিয়ে করালেন। ছেলের বউ আসার পর মনে হয় ফ্যামিলির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু না উল্টোটা হয়ে গেল। বিয়ের চার-পাঁচ মাস পর তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন। যে স্কুলে চাকরি করে ওখানে বাসা নিলেন বড় ছেলে।

এবং তার বাবা অনেক কষ্ট পেলেন এত কষ্ট করে বড় ছেলেকে মানুষ করলেন। এখন বিয়ে করার পর পর সে বউকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেল। তারপর বাবা মনে করল বাকি তিনটি ছেলে নিয়ে খুব সুন্দর ভাবে তার জীবন কাটাবে। বড় ছেলের পর ছোট ছেলেও যখন পড়ালেখা শেষ করে একটি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেলেন। তখন তার বাবা মনে করলেন মেজো ছেলেটা ভালো হবে। তাকেও দেখেশুনে খুব ভালো একটা ফ্যামিলিতে বিয়ে করালেন। কিছু মাস যাওয়ার পর মেজু ছেলের ওয়াইফ সারাক্ষণ শশুর শাশুড়ি সবার সাথে ঝগড়া করে।

মেজো ছেলের ওয়াইফ বলতে লাগলো তার স্বামীর টাকা ফ্যামিলির সবাই খাচ্ছে। তার বড় ছেলে ফ্যামিলিতে কোন টাকা দেই না বউকে নিয়ে চলে গেল। এখন মেজ ছেলে কেন ফ্যামিলিতে টাকা দেবে সবাইকে দেখবে। এবং মেজো ছেলের ওয়াইফ এত মিথ্যা কথা বলে যা বলে বোঝানো যাবে না। এরপর একদিন মেজো ছেলে বাবা মায়ের সাথে অনেক ঝগড়া করলেন এবং তাদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করলেন। এরপর বলতে লাগলো তারা মা বাবার সাথে থাকবে না ।তারা আলাদাভাবে বসবাস করবে। এরপর তারা নতুন বাড়ি করে ওখানে চলে গেলেন।

লোকটির বাবা একজন আলেম মানুষ কাউকে কিছুই বলে না শুধু চোখ দিয়ে তার পানি পড়ে। এরপর তাদের বাবা চিন্তা করতে লাগলেন দুটি ছেলেকে এত লেখাপড়া করালাম এবং সরকারি চাকরি করতে লাগলো তারা আমাকে আমার ফ্যামিলিকে দেখেনা। এরপর যখন ফ্যামিলির তিন নম্বর ছেলেটি ইন্টার পাশ করলেন। তখন তার বাবা বলতে লাগলো তিন নম্বর ছেলেটিকে আর পড়াবেন না। বলতে লাগলো ফ্যামিলিতে আমি একজন অর্ধশিক্ষিত লোক রাখতে চাই। এই তিন নম্বর ছেলেটি একদিন বাবা-মাকে দেখবে। ( চলবে )

JvFFVmatwWHRfvmtd53nmEJ94xpKydwmbSC5H5svBACH7xbS7ungTbMjNMsQ7fPnm8uUBT2bU8Azf8zCDQrq3tkzHjjCFyraxJQeY79tPTN45w8XxU9wtvaFmWRaLhgHSy5GYKQ6bg.png

IMG-20211226-WA0000.jpg

আমার নাম আকলিমা আক্তার মুনিয়া। আর আমার ইউজার নাম @bdwomen। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। বাংলা ভাষা হল আমাদের মাতৃভাষা আর আমি মাতৃভাষা বলতে পারি বলেই অনেক গর্বিত। আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং পেইন্টিং আঁকতে খুবই পছন্দ করি। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং এঁকে থাকি। আবার রঙিন পেপার এবং বিভিন্ন রকমের জিনিস দিয়ে নানা ধরনের কারুকাজ তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আবার নিজের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি সব ধরনের জিনিস কখনো না কখনো একবার করে করার জন্য। আবার বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসলে সেগুলো ও করার চেষ্টা করি।

35FHZ8gBpndbrF88KC8i6DmfoqNdVfSnhzJshZCJksDJs27YpCCUjp1oaP6ko3mLJbQtLE76ZKc5r3aFXKh8EK2Xg2XbxHP97436Dksrat...K3RRDcGvdyC6bx3TE39Zctd2ho1pJ1hm9nj6RC6gfhhSEVDEf6zHmiqsgBwDTEDG8onxfxrWKe5ZMmiwAvtnX6XvsCqykCT5aFqMFBq2wcdKNs74j1RgTuza3g.png

A5tMjLhTTnj4UJ3Q17DFR9PmiB5HnomwsPZ1BrfGqKbjde9gvbjDSDFUe2t87sHycAo9yh4cXNBQ2uKuZLC2jPzA8Qx5HRSqkJDxCm2F1P...XMCuWWrUK8WEzc1spvbtGymKcxp9cSaiY7YD7nmGv2yy3TJjQK1R5Bx6mMsJqHLdPZ4gBXB1M3ZGWR3ESWZxh8hd9tvb68pfdL8xHrioiqDnHuRUqd8FYt5aog.png

ধন্যবাদ সবাইকে

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 3 years ago 

আপু আপনার গল্পটা পড়ে অনেক ভালো লাগল। সত্যি আপু এটা আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র। বাবা মা ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাই, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করলে ছেলে বউকে নিয়ে আলাদা হয়ে যায় আর মেয়ে চলে যায় শশুর বাড়ি। যাইহোক সব ছেলেরা তো আর এক নয়,দেখা যাক তৃতীয় ছেলে কি করে।তবে আপু প্রথম পর্ব লিখতে গিয়ে শেষ পর্ব লিখেছেন আশাকরি ঠিক করে নেবেন।ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

তবে অনেক শিক্ষিত ছেলে আছে যারা মা-বাবাকে দেখাশোনা করে না। আপনার মন্তব্য শুনে ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

এই লোকটি তার প্রথম ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন তার বড় ছেলে তার পরিবারের সব দায়িত্ব নেবে। এই বলে ওনাকে বিয়ে করানো হয়েছিল। কিন্তু ওনার স্ত্রী কয়েক মাস পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন ওনাকে নিয়ে। তারপরে মেজ ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে শিক্ষক বানালেন। তিনিও একই কাজ করেছিলেন বড় ভাইয়ের মতো। তারপরে সেজো ছেলেকে পড়াশোনা করাবেন না চিন্তা করেছিলেন। তিনি যেন সংসার দেখাশোনা করতে পারেন সেজন্য। যাই হোক পরের পর্বে কি হবে তা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি শেয়ার করবেন।

 3 years ago 

হয়তো তার বাবা চিন্তা করল দুটি ছেলে সরকারি চাকরি করে বিয়ে করার পর বউকে নিয়ে আলাগ হয়ে গেল। এই কারণে তৃতীয় ছেলেকে তেমন পড়ালেখা করলো না। অপেক্ষায় থাকেন পরে পরবে কি হয়।

 3 years ago 

খুবই দু:খজনক ঘটনা। তবে এটাই বাস্তবতা বর্তমান যুগের। যৌথ পরিবার গুলো ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠছে।বাবা মায়ের জায়গা হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।খুব খারপ লাগল গল্পটি পড়ে।

 3 years ago 

মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে

 3 years ago 

এসব ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ৷ আর যা আমাদের বাস্তব সমাজে এখন প্রায় দেখা যায় ৷ সর্বোপরি বাবা মা সত্নান কে নিয়ে যতটা স্বপ্ন দেখে ৷ একটা সময়ে কেনো যেন তা আর হয়ে উঠে না ৷ জানি না এ কেমন শিক্ষিত ছেলে ৷ যে তার জন্মদাতা বাবা মাকে ছেড়ে দুরে চলে যায় ৷
যা হোক ঘটনা ঠেকানোর জন্য সমাজ সোসাইটি ঠিক করা খুবই জরুরি ৷

 3 years ago 

এখনকার সমাজে এরকম পরিস্থিতি অনেক মা-বাবার হয়। অনেক শিক্ষিত লোক আছে যারা মা-বাবাকে দেখাশোনা করে না। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

এখনকার সমাজে এরকম সন্তান কম বেশি দেখা যায়। বড় ছেলে পড়ালেখা করে সরকারি চাকরি করে বিয়ে করার পর বউকে নিয়ে অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া করেছে। অথচ দ্বিতীয় ছেলেটি পড়ালেখা করে সরকারি চাকরি করে। বিয়ে করার পর বউ সব সময় ঝগড়া করে শুনে সত্যিই অনেক খারাপ লাগলো। তবে আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারতেছি মনে হয় তৃতীয় ছেলেটি ভালো করবে। যেটি তার মা-বাবা অদ্রশিক্ষিত রেখেছেন। দেখা যাক পরে পরবে কি ঘটে অপেক্ষা রইলাম।

 3 years ago 

আশায় থাকেন দ্বিতীয় পর্বে কি ঘটে। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপু ঘটনাটি পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। একজন আলেম মানুষ কত কষ্ট করে ছেলেদের পড়া শুনা করিয়েছেন। ভেবেছিলেন শেষ জীবনে হয়তো একটু সুখ পাবে। কিন্তুু কি হলো দুই জনই বিয়ে করে বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেল। যায়হোক ছোট ছেলেটা কি করে দেখা যাক। ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

আমার মনে হয় ছেলেদের ইনকাম খাওয়া মা বাবার ভাগ্যর ব্যাপার হয়ে গেছে। মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.100
BTC 63838.91
ETH 1916.53
USDT 1.00
SBD 0.37