একমাত্র ছেলের কারণে বাবা মায়ের অশান্তি। (পর্ব ১)
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমাদের আশেপাশে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যেই ঘটনা গুলো অনেক সময় শিক্ষনীয় হয়ে থাকে। কখনো কখনো দুর্ঘটনা, আবার কখনো মর্মান্তিক ঘটনা। এজন্য আজকে আবার ও একটা কাহিনী নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আমার লেখাটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।
ঘটনাটি হচ্ছে আমাদের বাড়ির পাশের একটি ঘটনা। আমাদের বাড়ির পাশে রফিক মিয়া নামে একটি ভদ্রলোক বসবাস করে। তার একটিমাত্র ছেলে ছেলেটির নাম হচ্ছে রিপন। তাদের আর কোন ছেলেমেয়ে নেই। সেই কারণে তার মা-বাবা রিপনকে অনেক আদর করেন। রিপন জীবনে যা চায় তাকে সেই জিনিসটি নিয়ে দেয়। এই কারণে রিপন সব সময় উগ্র মেজাজে থাকতেন।
যখন তাদের বাড়ির সামনে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতেন। সেই ঠিকমত মাদ্রাসায় যেতেন না। এদিক ওদিক পালিয়ে থাকতেন। একদিন তার মার কাছে টাকা চাইলেন। প্রথমে তার মা বলল টাকা নেই। পরে দেবে এই কথা বললেন। ওই সময় রিপনের বয়স ১৫ বছর হয়ে গেল। এমন সময় রিপন সামনের রুমে আলমারির মধ্যে এমন জোরে একটি হাত দিয়ে আঘাত করলো। আলমারির গ্লাস গুলো সব ভেঙে গেল। এমন সময় তার মা দেখতে পারলো তার হাত দিয়ে অনেক রক্ত পড়তেছে।
ছেলের এই অবস্থা দেখে সাথে সাথে তার মা ওখানে অজ্ঞান হয়ে গেল। এরপর বাড়ির লোক গুলো এসে তার হাতটি দেখতে লাগল কিন্তু অনেকখানি কেটে গেল। এমন সময় তাড়াতাড়ি করে ফেনী হাসপাতালে নিয়ে গেল। ডাক্তার বলতে লাগল তার হাতের রগ কেটে গেল। তাকে তাড়াতাড়ি চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলতে লাগলো। এরপর ওখান থেকে ব্যান্ডেজ করে দিলেন এবং চট্টগ্রামে নিয়ে গেল রিপনকে। তারপর ওখান থেকে ডাক্তার তার চিকিৎসা করলেন। অনেক মাস পর তার হাতটি মোটামুটি ভালো হলো।
ভালো হওয়ার পর তার মা-বাবা মনে করল রিপন এইবার ভালো হয়ে যাবে। কারণ জেদ করে সে তার জীবনে অনেক বড় ক্ষতি করল। এর কিছু মাস যাওয়ার পর শোনা যায় সে তার বাড়ির মধ্যে এক চাচাতো বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তার মা-বাবা তার বাড়ির চাচাতো বোনের সাথে সম্পর্ক কোনমতে মানতে রাজি নয়। এদিকে মেয়েটির নাম হচ্ছে লিপি। লিপির মাও বাবা রিফনের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি নয়। কারণ তাদের প্রেমের সম্পর্ক কেউ মানতে চায় না।
এই নিয়ে দুই ফ্যামিলির মধ্যে অনেক ঝগড়া সৃষ্টি হল। এমন সময়ই রিফনের মা লিপির মাকে বলতে লাগলো তোর মেয়ের বিয়ের আগে আমার ছেলেকে আমি বিয়ে করাবো। এদিকে লিপির মাও বলতে লাগলো তোমার ছেলের আগে আমার মেয়েকে আমি বিয়ে দেব। এরপর রিপনের বাবা শুনে এক সপ্তার মধ্যে রিপনকে বিয়ে করাবেন। কারণ রিপনের বাবার বন্ধুর মেয়েকে রিপনকে বিয়ে করালেন। এর কিছু মাস পর লিপিকে অন্য জায়গা দেখে ভালো ফ্যামিলিতে বিয়ে দিলেন। এদিকে লিপির মা এবং রিপনের মা মনে করলে তাদের জিদে তারা অনেক জিতে গেল।
এভাবে প্রায় একটি বছর হয়ে গেল তাদের বিয়ের বয়স। প্রায় এক বছর পর রিপনের একটি ছেলে সন্তান হল। অন্যদিকে লিপিরও একটি মেয়ে হয়েছে। এভাবে তাদের দিন যাচ্ছে। রিপন আর লিপি কেউ কারো সাথে কথাই বলেনা। এবং রিপনকে নিয়ে তার মা বাবা চিন্তা করতে লাগলো তাদেরও বয়স হয়ে গেল। এই কারণে রিপনকে তারা বাইরে কোন রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিবে। কারণ এখন তাদের একটি মাত্র সন্তান। এখন নিজেই বিয়ে করল এবং তারও একটি সন্তান আছে পরিবারের খরচ একটু বেশি। কারণ রিপনের বাবা ছোট একটি দোকান করে। (চলবে)
আমার নাম আকলিমা আক্তার মুনিয়া। আর আমার ইউজার নাম @bdwomen। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। বাংলা ভাষা হল আমাদের মাতৃভাষা আর আমি মাতৃভাষা বলতে পারি বলেই অনেক গর্বিত। আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং পেইন্টিং আঁকতে খুবই পছন্দ করি। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং এঁকে থাকি। আবার রঙিন পেপার এবং বিভিন্ন রকমের জিনিস দিয়ে নানা ধরনের কারুকাজ তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আবার নিজের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি সব ধরনের জিনিস কখনো না কখনো একবার করে করার জন্য। আবার বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসলে সেগুলো ও করার চেষ্টা করি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
সন্তান যেমন বাবা মায়ের সুখের কারন তেমনি দু:খের ও কারন হয়ে দাঁড়ায়।এজন্য ছোট থেকেই সন্তানদের এক সাথে আদর ও শাসন দুটিই সমান ভাবে করা উচিৎ। রিপন কে ছোট থেকে শাসন করলে সে হয়ত এমন উগ্র হত না। আর এখানে রিপন আর লিপি দুজনের মা বাচ্চাদের মত আচরণ করেছে।পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনি ঠিক বলেছেন এক সন্তানকে আদরও করতে হয় শাসনও করতে হয়। অনেক সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
একমাত্র ছেলে হলেও এভাবে ছোট থেকে বেশি আদর দিয়ে বড় করলে একটু বেশি খারাপ হয়ে যায়। যদি ছোট থেকে বাবা-মা দুজন তাদের একমাত্র ছেলেকে কিছুটা হলেও শাসন করতো তাহলে এরকম বড় হলে তাদের ছেলে আর হতো না। ছেলেমেয়েদেরকে কিছুটা হলেও শাসন করা দরকার। আমি তো ভাবছি পরের পর্বে কে আসবে। সত্যি অধীর আগ্রহে বসে আছি পরের পর্বে কি আসবে তা দেখার জন্য। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি শেয়ার করবেন।
আসলে প্রত্যেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের শাসন করা দরকার। আশা থাকবেন খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করবো ধন্যবাদ।
আসলে বর্তমান কোন যুগের হাওয়া জানি না ৷ এই যুগে এখন এসব ঘটনা অনেক ঘটছে আমাদের চোখের সামনে ৷ বিশেষ করে টিনেজ বয়সে বেশি ৷ তাই আমি মনে করি এই বয়স গুলো সন্তানের খুব ভালো ভাবো দেখা শোনা করে রাখা উচিত ৷
যা হোক ধন্যবাদ গল্পটি উপস্থাপনা করার জন্য ৷
খুব সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য শুনে খুব ভালো লাগলো।
একমাত্র ছেলে হওয়ার কারণে বাবা-মা অনেক আদর যত্নে ছেলেকে মানুষ করেছে কিন্তু তারা কখনো ভাবেনি এরকম বেশি আদর করলে সন্তানরা অনেক খারাপ হয়ে যায়। রিপন এর ভালোবাসার ব্যাপারটি তার বাবা-মা এবং যে মেয়েটিকে ভালবাসত তার বাবা-মা কিছুতেই মানতে পারেনি তাই তাদের দুজনকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। আমি তো প্রথমেই ভেবেছিলাম তার হাত কেটে যাওয়ার পর তার পাগলামি গুলো কমে যাবে কিন্তু দেখি আরো বেশি বেড়ে গিয়েছে।
রিপনের মেজাজ অনেক গরম। এই কারণে সে হাত কেটে ফেলেছেন। খুব সুন্দর মন্তব্য করাই ধন্যবাদ আপনাকে।